রাস্কিন বন্ডের প্রবন্ধ

পাহাড়ের ভূতের গপ্পো

অনুবাদ: গৌরব বিশ্বাস

এ-দুনিয়ায় যেখানেই আপনি যান, সব অঞ্চলেই কোনো-না-কোনো অলৌকিক কাহিনির খোঁজ পাবেন। সিমলা পাহাড়ে যেমন ভূতুড়ে রিক্সা। ল্যান্সডাউনের স্কন্ধকাটা ঘোড়সওয়ার, তেমনি আমাদের মুসৌরির ভূত আন্টি। এমন অদ্ভুত নাম দিয়েছে এ অঞ্চলের স্থানীয় ট্যাক্সি ড্রাইভাররা। ওরা ভূত আন্টিকে বেশ ভয় ভক্তি করে। মুসৌরির পাহাড়ি রাস্তা ধরে রাত-বিরেতে গাড়ি চালিয়ে গেলে ভূত আন্টি আপনাকে একবার-না-একবার দর্শন দেবেই। সাদা শাড়ি পরে পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে বসে থাকে আন্টি। আপনি যদি তাকে মানুষ ভেবে লিফট দিতে যান, তাহলেই সব্বনাশ। জ্বল জ্বলে চোখে আপনার দিকে তাকাবে। কিংবা আপনার অলক্ষ্যেই গাড়িতে চেপে বসবে। এর ফল যে খুব সুখকর নয় তা বলাই বাহুল্য। ট্যাক্সি ড্রাইভাররা বলে, রাত বিরেতে পাহাড়ি রাস্তায় যে-সব গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটে সে-সব নাকি ভূত আন্টির কারসাজি।

বেশ কয়েক বছর আগে, ভূত আন্টিকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। দেরাদুনে গিয়েছিলাম একটা কাজে। ফিরতে বেশ রাত হল। পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগিয়ে চলেছে আমাদের গাড়ি। আমার সাথে গণেশ শৈলী আর ওর স্ত্রী আভাও ছিল। গাড়ি চালাচ্ছিল গণেশ। হঠাৎই হেড লাইটের আলোতে দেখলাম রাস্তার ধারে সাদা শাড়ি পরে এক মহিলা বসে। গণেশ সরল মনের মানুষ। সে মহিলাকে লিফট দেওয়ার জন্য গাড়ি থামাল। আভা ভাগ্যিস আন্দাজ করতে পেরেছিল ব্যাপরটা। ও চিৎকার করে উঠল— ‘আরে করছ কী!! থামিয়ো না গাড়ি থামিয়ো না। আরে তাকিয়ো না ওদিকে চলো চলো…।’ গণেশ কিছু বুঝতে না পেরে স্টার্ট দিল গাড়ি। কিছু দূর এগিয়ে পিছনে ফিরে তাকালাম। দেখি ভূত আন্টি হাড় হিম করা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে আমাদের দিকে। সে-যাত্রায় জোর বেঁচেছিলাম। পরে শুনেছিলাম আমাদের ঠিক পর পরই ওই রাস্তায় একটা ট্যুরিস্ট গাড়ির এক্সিডেন্ট হয়েছে।

আমার প্রতিবেশী মিস রিপ্লি বিনের কাছে একটা অলৌকিক কাহিনি শুনেছিলাম। মিস বিনের পরিবার নাকি মৃত‍্যুকে প্রত্যক্ষ করে। ওদের পরিবারের কেউ মারা যাওয়ার আগে পরিবারের কোনো সদস্যকে মৃত‍্যু এসে জানান দিয়ে যায়। কয়েক মুহূর্তের জন্য এক পচা গলা নরমুণ্ডের আবির্ভাব ঘটে। ওঁর মা মারা যাওয়ার আগে নাকি ওর ভাই এমনটা দেখেছিল। ওদের বাবা মারা যাওয়ার আগেও ঠিক অমনটা ঘটেছিল। ওদের বাবা তখন লখনৌতে থাকতেন। ওনারা দুই বোন থাকতেন মুসৌরিতে। একরাতে দুই বোন ঘুমাচ্ছেন। হঠাৎ এক বিশ্রী খস খস শব্দে ঘুম ভেঙে গেল দু-জনার। কাপবোর্ড থেকে আসছে আওয়াজটা। বিড়াল-টিড়াল ঢুকে পড়ল নাকি! মিস বিনের বোন উঠলেন ব্যাপরটা দেখতে। কাপবোর্ড খুলতেই সেই ভয়ংকর নরমুণ্ডের আবির্ভাব। মেদ মাংস পচে গলে ঝুলছে তার থেকে। অমন দৃশ‍্য দেখে দুই বোনই আতঙ্কে শিউরে উঠলেন। পরমুহূর্তেই নরমুণ্ড বেমালুম অদৃশ‍্য! পরদিন লখনৌ থেকে খবর আসল, ওনাদের বাবা ইহলোক ত্যাগ করেছেন।

যাঁরা কিপলিং সাহেবের গল্প পড়েছেন, তাঁরা জানেন, কিপলিং সাহেব ভূতের গল্প লেখায় সিদ্ধহস্ত। ওনার বেশির ভাগ ভূতের গপ্পেরই প্রেক্ষাপট এদেশের ঔপনিবেশিক সময়কাল। ‘ইমরে’স রিটার্ন’, ‘দ্য মার্ক অফ দ্য বিস্ট’, ‘দ্য এন্ড অফদ্য প্যাসেজ’ আহা কী সব গল্প। তবে কিপলিং সাহেবের মন কেড়েছিল এ-দেশের পুরোনো ডাকবাংলোগুলো। এই কিপিলিং সাহেবই ইংলন্ডে নিজের দেশে ফিরে পড়লেন এক ভূতুড়ে ডাকবাংলোর পাল্লায়। স্মৃতিচারণায় ছোট্ট করে লিখেছেন সে কথা— ‘৯৬-এর (১৮৯৬) বসন্তে ইংল্যান্ডের টর্কোতে একটা বাড়ির খোঁজ পেলাম। বেশ ছিমছাম এলাকা। বেশ বড়ো বড়ো ঘর। দিব্যি হাওয়া বাতাস খেলে। সকালের আলোতে ভরে ওঠে ঘরগুলো। জানতে পারলাম, আমরা আসার আগে এ-বাড়িতে তিন বৃদ্ধা থাকতেন। প্রায় ত্রিশ বছর ছিলেন তাঁরা।

কিন্তু আমরা এ-বাড়িতে বেশিদিন থাকতে পারলাম না। যতক্ষণ থাকতাম ঘরে, এক অদ্ভুত বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন থাকত সমস্ত সত্তা। এক বুক চাপা কষ্ট। কীসের এত কষ্ট এত হতাশা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারতাম না। দিব্যি করছি সব কাজকর্ম। ঘরে হাওয়া আলো খেলে বেড়াচ্ছে আগের মতোই। তবুও এক বিষণ্ণ ছায়ামূর্তি যেন বিরাজ করছে ঘরময়। বিষণ্নতা একটু একটু করে যেন জাগ্রত করছে মৃত‍্যুচেতনাকে। না, সে-বাড়ি শেষকালে ছেড়েই দিলাম। একপ্রকার পালিয়েই এলাম। প্রায় ত্রিশ বছর পর ঢুঁ মেরেছিলাম সে-বাড়িতে। কিচ্ছুটি পালটায়নি একটুও। এমনকী সেই গভীর বিষণ্নতা বোধটিও অমলিন।’

কিপলিং সাহেবের এই লেখা পড়তে পড়তে একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল। দেরাদুনের একটা পুরোনো বাড়িতে ঠিক একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার। সে বহু বছর আগের কথা। তখন আমি যুবক। এমন একটি পোড়ো বাড়ির খোঁজ পেয়ে একবার ঢুঁ মেরে আসার নেশা চেপে বসল আমায়। এ-বাড়ির ইতিহাস আছে একটা। সেটা সাতচল্লিশ সালের ঘটনা। এ-দেশ সবে স্বাধীন হয়েছে। ইংরেজরা তড়িঘড়ি এদেশ ছাড়তে ব্যস্ত। এ-বাড়িতে সে-সময় এক বৃদ্ধ ইংরেজ দম্পতি থাকতেন। দেশে ফিরে যাওয়ার মতো আর্থিক সঙ্গতি তাঁদের ছিল না। সাহেবরা তখন যে যার দেশে ফেরা নিয়ে ব্যস্ত। এই বৃদ্ধ দম্পতির দিকে নজরই পড়েনি কারো। শেষকালে নিদারুণ অর্থাভাব খাদ্যাভাব অসুস্থতায় নিঃসঙ্গতায় মারা যায় দু-জনে। বাইরে বেরিয়ে একটু সাহায্য চাওয়ার মতোও পরিস্থিতি তাঁদের ছিল না। বহুদিন পর এক স্থানীয় ছোকরা বন্ধ ঘরে তাঁদের কঙ্কাল দুটোর খোঁজ পায়।

বাড়িটাতে আমি যখন ঢুকি একেবারেই ভগ্ন দশা তার। দেওয়াল খসে পড়েছে। দরজা জানলার জায়গায় বড়ো বড়ো ফাঁকা। আসবাব যা ছিল তাও ঝুরঝুরে হয়ে গেছে। সেই সঙ্গেই এক অদ্ভুত মনখারাপ গ্রাস করল আমায়। যেন কতদিনকার কান্না জমে আছে এর ইঁট-পাথরে। খুব হতাশ লাগছিল আমার। এক দম বন্ধ করা কষ্ট। ভাবলাম বড়ো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি বোধহয়। এর দিনকয়েক পর আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধু জয় শংকরকে নিয়ে গিয়েছিলাম সে-বাড়িতে। ও এ-বাড়ির ব্যাপারে কিছুই জানত না। আমিও ওকে আগেভাগে কিছু বলিনি। কিন্তু বাড়িতে পা রেখেই ও কেমন গুম মেরে গেল। একটু বাদে ধরা গলায় বলল— ‘মনটা ভালো লাগছে না রে একেবারে। এখান থেকে ফিরে চল।’ দু-জনেরই এক অভিজ্ঞতা! কী আশ্চর্য!

ওই বাড়িটাতে এখন সরকারি অফিস বসেছে। গোর্খা চৌকিদার ছাড়া রাতে ও বাড়িতে কেউ থাকে না। তবে একটা কথা চুপি চুপি বলে রাখি, ওই গোর্খা চৌকিদার আমায় বলেছে— রাত বিরেতে ও-বাড়িতে কারা যেন চলে ফিরে বেড়ায়। বিশ্রী গোঙানির শব্দ আসে ভিতর থেকে।

আমার বাড়ির পিছনের কটেজে যে-বৃদ্ধ থাকেন, ওনার নাম মিস্টার জেকব। কমবয়সে স্থানীয় মিশন হাসপাতালের মর্গের আ্যটেনডেন্ট ছিলেন। পাহাড়ের উপরে একটা আউট হাউসকে সে-সময় মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হত। মিস্টার জ্যাকবকে কতবার দেখাতে বলেছি সে-বাড়িখানা। মিস্টার জেকব ভয়ে শিউরে উঠেছেন। কী হয়েছিল তাঁর সাথে? অনেক সাধ্যসাধনার পর মিস্টার জেকব শুনিয়েছেন সে-গপ্পো— ‘সে-সময় আমার কাঁচা বয়স। ভয় ডর নেই বললেই চলে। মর্গের অ্যাটেনডেন্টের চাকরি নিলাম। তাও আবার নাইট ডিউটি।

একদিন সন্ধ্যায় সবে এসেছি ডিউটিতে, পুলিশের লোকেরা একটা মরা নিয়ে এল। একটা যুবকের লাশ। ল্যান্ডেরের নদীতে মিলেছে। লাশ ফুলে ঢোল হয়ে গেছে। এতরকম মড়া দেখেছি আগে, এ-সব দেখে আর ভয়টয় করে না। মর্গের টেবিলে মরা তুলে কাপড় মুড়ে রেখে বেশ যুত করে বসলাম বেঞ্চিতে। রাত আর কাটে না কিছুতে। আমার এক বন্ধুকে বলে রেখেছিলাম। ও রাতে আসবে। গল্পগুজব করে কেটে যাবে রাতটা। কিন্তু তারও আসার নাম নেই। কিছুক্ষণ গুনগুন করে গান ভাজতে ভাজতে এদিক ওদিক পায়চারি করলাম। বিরক্ত লাগছিল বড়ো। আবার এসে বসলাম বেঞ্চিতে। অন্যদিনের থেকে সেদিনের রাত যেন বড়ো বেশি নিঝুম। একটা শিরশিরানি ভাব বাতাসে। মাথায় কতরকম বিচিত্র চিন্তা আসতে লাগল। একটু আগেই যে-ছেলেটার লাশ টেবিলে রেখে এলাম, কেন সে এমন কাজ করল। কি দুঃখ তার? ঘণ্টা খানেক আগেও তো বুকের ভিতরের যন্ত্রখানা ধুকপুক করছিল! শরীরটা গরম ছিল। আর এখন সব নিস্তব্ধ। ওই শরীর বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেছে এখন। ভয় ঠিক না। কেমন একটা অস্বস্তি হচ্ছিল আমার। যে-সময়ের কথা বলছি সে-সময় মর্গে তখনও ইলেকট্রিসিটি আসেনি। কেরোসিন ল্যাম্পই ভরসা। সেটাও দপদপ করছে। একটু বাদে সেটা নিভে গেল। নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। উঠে গিয়ে পকেট থেকে দেশলাই বার করে সেটা জ্বালালাম। বেঞ্চে এসে সবে বসেছি ওমনি আবার নিভে গেল ল্যাম্পটা! ঠিক সেই মুহূর্তেই মনে হল একটা ছায়ামূর্তি স্যাৎ করে সরে গেল আমার পাশ থেকে। এক তীব্র আতঙ্ক চেপে বসল আমায়। সাহসী বলে যে মিথ্যে অহংকার ছিল আমার, কর্পূরের মতো এক মুহূর্তে তা উবে গেল। মৃদু এক পায়ের শব্দ পেলাম। সেই অন্ধকারে মেঝের উপর কেউ যেন খালি পায়ে চলে বেড়াচ্ছে। আতঙ্কে আমার কলজে যেন ফেটে বেরিয়ে আসবে। দু-পা অস্বাভাবিক রকমের ভারী হয়ে উঠেছে। চিৎকার করতে গেলাম। গলা থেকে স্বর বেরোচ্ছে না। ঠিক সেই সময় একটা হাতের স্পর্শ অনুভব করলাম কাঁধের উপর। হিমশীতল বরফ ঠান্ডা স্পর্শ। এতদিনের মরা ঘাঁটার অভিজ্ঞতায় জানি, এ-স্পর্শ কোনো জীবিত মানুষের হতে পারে না। একটু করে সে-স্পর্শ কাঁধ ছাড়িয়ে উঠে আসছে গলায়, তারপর মুখে… তারপর কিছু মনে নেই আর।

জ্ঞান ফিরে দেখি মেঝেতে শুয়ে আমি। আমার বন্ধুটি চিন্তাগ্রস্ত মুখে শুশ্রূষা করছে আমার। লাশ রয়েছে টেবিলেই। ভাবলাম মনের ভুল। কিন্তু কাঁধের উপর চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম। কাঁধের জামার উপর পাঁচ আঙুলের ভেজা ভেজা দাগ। ভেজা ভেজা পায়ের দাগ মেঝের এদিক ওদিক ছড়িয়ে। আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, জলে ডোবা ছেলেটির লাশের সাথে সে পায়ের ছাপের আকার হবহু মিলে যায়।’
এ-ঘটনার পর মিস্টার জ্যাকব মর্গের নাইট ডিউটি ছেড়ে দেন।

বছর ত্রিশ আগে একবার চাকরাতায় গিয়েছিলাম। পাওনতা থেকে কালসি হয়ে যে- রাস্তাটা উপরে উঠেছে ওই রাস্তা ধরে গেলেই চাকরাতায় পৌঁছানো যায়। চাকরাতা রেসট্রিক্টেড এলাকা। খুব বেশি ট্যুরিস্ট ওখানে থাকতে পারে না। এক সরকারি আমলার সাথে চেনাজানার সুবাদে আমার একরাত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল।
আমি উঠেছিলাম নতুন রেস্ট হাউসে। পুরোনো একটা রেস্ট হাউসও আছে। ওটা এখন পরিত্যক্ত। চৌকিদার বলল— ‘সাহেব ওটা ভূতে পাওয়া। তাই তো ওটায় কেউ থাকে না।’ ‘তুমি দেখেছ নাকি ভূত’ জিজ্ঞেস করি আমি। ‘দেখিনি আবার!’ চোখ বড়ো বড়ো করে উত্তর দেয় সে। ‘এক রাত্রে ফরেস্টের এক সাহেব এসেছিলেন ওই গেস্ট হাউসে। সন্ধ্যের পর আমি কাঠকুটো জ্বালিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করছি, হঠাৎ দেখি একটা ইয়া বড়ো কালো বিড়াল এসে হাজির। আমি ভাবলাম কারো পোষা হবে হয়তো। তাড়াতে গেলাম ওটাকে। বিড়ালটা আমার দিকে মুখ তুলে চাইল। দেহটা বিড়ালের। কিন্তু মুখটা ভয়ংকর একটা পেত্নীর। চোখ দুটো মরা মানুষের মতো স্থির। জন্তুটা একবার গর্জন করে বেমালুম ভ্যানিশ হয়ে গেল!’ ‘তুমি কী করলে তারপর?’ জিজ্ঞেস করি আমি। ‘এরপর কী আর ওখানে থাকা চলে সাহেব!’ উত্তর দেয় চৌকিদার।

আমার অবশ্য নতুন গেস্ট হাউসে কোনো অসুবিধে হয়নি। দিব্যি ঘুমিয়েছিলাম রাত্রে। শুধু একটা ধেড়ে ইঁদুর মাঝে মধ্যে এক আধবার একটু জ্বালাতন করেছিল।

ধেড়ে ইঁদুর নিয়েই একটা আজব গল্প শুনিয়েছিলেন মিস কেলনার। এক যুবক নাকি একবার এক সুন্দরী মেয়ের প্রেমে পড়েছিল। মেয়েটি অবশ্য তেমন পাত্তা দিত না। যুবক কিন্তু নাছোড়বান্দা। একদিন মেয়েটি বিরক্ত হয়ে একটা মড়া ইঁদুর দেখিয়ে বলল— ‘তুমি এই ইঁদুরটাকে বিয়ের যোগ্যও না’। এই অপমান সহ‍্য করতে পারল না যুবক। সে আত্মহত্যা করল। তারপর কী আজব ব্যাপার। দিনে রাতে একটা ধেড়ে ইঁদুর মেয়েটিকে নানাভাবে বিরক্ত করতে থাকল।

এ-দেশের পুরোনো ডাকবাংলো ফরেস্ট রেস্ট হাউসগুলো ঘিরে কতই না আজব গল্প-গাথা! আর পাহাড়ি এলাকা! সেখানে তো সব জ্যান্ত ভূতের বাস! অবশ্য এইসব ভূতেরা আছে বলেই আমার মতো ভূতের গপ্পো লিখিয়েরা খেয়ে পরে বেঁচে আছে। তবে যারা ল্যান্ডর মুসৌরিতে বেড়াতে আসতে চান তাঁদেরকে স্বাগতম। নির্ভয়ে আসুন তাঁরা। বিদেশে কিন্তু ঘোস্ট ট্যুরিজম বেশ লাভজনক ব্যবসা। তা, আমরা যদি আমাদের ঘোস্ট আন্টিকে এ-ব্যাপারে প্রমোট করি, সেটা কি খুব খারাপ আইডিয়া? আপনারা কী বলেন?

রাস্কিন বন্ডের প্রবন্ধ

আমাদের নতুন বই