অনুবাদ

ডোনাল্ড বার্থেলমে

রেবেকা

ভাষান্তর: ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ

রেবেকা লিজার্ড তার নামের— কুচ্ছিৎ, সরীসৃপীয়, একেবারে অগ্রহণযোগ্য— শেষের অংশটুকু বদলানোর চেষ্টা করছিল।

‘লিজার্ড’, বিচারক বললেন। ‘লিজার্ড, লিজার্ড, লিজার্ড, লিজার্ড। আপনি যদি এটুকু অনেকবার উচ্চারণ করেন তাহলে এতে আর কোনো সমস্যা থাকে না। এ-সব তুচ্ছ উপদ্রবে আপনি আদালতের ক্যালেন্ডার তছনছ করে দিতে পারেন না। অনেকেই সম্প্রতি তাদের নাম বদলেছে। নাম পরিবর্তন টেলিফোন কোম্পানি, বিদ্যুৎ কোম্পানি এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সর্বোচ্চ স্বার্থের সাথে যায় না। প্রস্তাবটি নাকচ করা হল।’

লিজার্ড কেঁদে ফেলল। নাকের নীচে চেপে ধরল চন্দ্রমল্লিকার সুবাস মাখা ক্লিনেক্স টিস্যু।

‘দুর্বল মহিলা’, একজন বলল, ‘আপনি কি স্কুলশিক্ষক?’

অবশ্যই তিনি একজন স্কুলশিক্ষক, নির্বোধ কোথাকার। দেখতে পাচ্ছ না, বেচারি ভেঙে পড়েছেন? তাকে একলা থাকতে দিচ্ছ না কেন?

‘আপনি কি সমকামী লেসবিয়ান নারী? এই কারণেই কি আপনি কখনো বিয়ে করেননি?’

ওহ্ যিশু, হ্যাঁ, তিনি সমকামী লেসবিয়ান নারী, তুমি যেমনটি বললে। তুমি কি তোমার মুখটা একটু বন্ধ করবে?

রেবেকা জঘন্য এক চর্মবিশেষজ্ঞের কাছে গেল (নতুন এক জঘন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ), কিন্তু তিনিও আগের বিশেষজ্ঞদের মতো একই কথা বললেন। ‘সবুজাভ’, তিনি বললেন, ‘ত্বকের হালকা সবুজ, এটা বংশগত অস্বাভাবিকতা, কিছুই করার নেই, আমার শঙ্কা হচ্ছে মিসেস লিজার্ড।’

‘মিস লিজার্ড।’

‘কিছুই করার নেই মিস লিজার্ড।’

‘ধন্যবাদ ডাক্তার। বিরক্ত করার জন্য কি আমি সামান্য কিছু আপনাকে দিতে পারি?’

‘পঞ্চাশ ডলার।’

বাড়ি ফিরল রেবেকা। মেইলবক্সে পেঁচিয়ে থাকা বাড়িভাড়া বাড়ানোর নোটিস তার জন্য অপেক্ষায় ছিল। বর্ধিত এই ভাড়া আবার আগের মাসগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ব্যাপারটা একেবারে ধর্মঘটী নাছোড় শিক্ষার্থীদের মতো।

অবশ্যই আরও কিছু ক্লিনেক্স লাগবে। কিংবা একটা পিএইচডি। কোনো উপায় নেই আর।

চুলায় মাথা ঢুকিয়ে রাখার কথা ভাবল সে। কিন্তু তারটা তো ইলেক্ট্রিক ওভেন।

রেবেকার প্রেমিকা হিল্ডা ফিরল দেরি করে।

‘কেমন কাটল?’ দিনটা কেমন ছিল তাই জানতে চাইল হিল্ডা।

‘বিচ্ছিরি।’

‘হুমম’, বলল হিল্ডা। চুপচাপ সে দু-জনের জন্য কড়া একটা পানীয় তৈরি করল।

হিল্ডা দেখতে খুব সুন্দরী। রেবেকাও সুন্দরী। তারা একে-অপরকে ভালোবাসে— আমরা যেমন জানি, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও সুনিপুণ ব্যাপার। হিল্ডার চুল সুদীর্ঘ ও সোনালি, একটু ছায়াময়তা সেই সোনালি চুলের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রেবেকারও আছে ধ্রুপদী এবং আবেদনময় গঠন। যেই দেখে সেই তার প্রশংসা করে।

‘দেরি করলে কেন’, বলল রেবেকা, ‘কোথায় ছিলে?’

‘স্টেফানির সাথে একটু পান করছিলাম।’

‘স্টেফানির সাথে পান করলে কেন?’

‘সে আমার অফিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এসে বলল।’

‘কোথায় গিয়েছিলে তোমরা?’

‘বার্কলেতে।’

‘স্টেফানি কেমন আছে?’

‘সে ভালো আছে।’

‘স্টেফানির সাথেই তোমার পান করতে হবে কেন?’

‘আমিও একটু পান করতে চাইছিলাম।’

‘স্টেফানি হালকা সবুজাভ নয়, তাই তো? চমৎকার, গোলাপি রং স্টেফানির?

হিল্ডা উঠে গেল। সিঅ্যান্ডডব্লিউ-র চমৎকার একটা অ্যালবাম চালিয়ে দিল রেকর্ড প্লেয়ারে। এটা ড্যাভিড রজার্সের ‘ফেয়ারওয়েল টু দ্য রায়মান’ আটলান্টিক এসডি সেভন টু এইট থ্রি। এতে আছে ‘ব্লু মুন অব কেন্টাকি’, ‘গ্রেট স্পিকেল্ড বার্ড,’ ‘আই এম মুভিং অন’, এবং ‘ওয়াকিং দ্য ফ্লোর ওভার ইউ’-র মতো জনপ্রিয় গানগুলো। ন্যাশভিলের সেরা সব ব্যক্তিত্বের সমাবেশ ঘটেছে এই রেকর্ডে।

‘গোলাপি রংটাই সব কিছু নয়’, বলল হিল্ডা। ‘এবং স্টেফানি কিছুটা বিরক্তিকরও। তুমি তো তা জানো।’

‘এতটা বিরক্তিকর নয় যে, তুমি তার সাথে পান করতে যেতে পারো না।’

‘স্টেফানির ব্যাপারে আমার কোনো আগ্রহ নেই।’

‘আদালত থেকে বেরিয়ে আসার সময়’, রেবেকা বলল, ‘একটা লোক আমার জিপার খুলে ফেলেছিল।’

ড্যাভিড রজার্স গাইছেন ‘ওহ্, প্লিজ রিলিজ মি, লেট মি গো।’

‘কী পরে ছিলে তুমি?’

‘এখন যা পরে আছি।’

‘তাহলে তো বলতে হয়’, হিল্ডা বলল, ‘পাছার ব্যাপার লোকটার ভালোই রুচি আছে।’

রেবেকাকে সে সোফায় ফেলে জড়িয়ে ধরল। ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’, বলল সে।

‘সরো’, ঠান্ডা গলায় বলল রেবেকা। ‘যাও, স্টেফানি সাসারের সাথে সময় কাটাও গিয়ে।’

‘স্টেফানি সাসারের ব্যাপারে আমার আগ্রহ নেই’, দ্বিতীয়বারের মতো বলল হিল্ডা।

কেউ যেটাকে সবচেয়ে বেশি আঁকড়ে ধরতে চায় সেটাকেই আবার প্রায়শ ‘দূরে ঠেলে’ দেয়, ঠিক প্রেমিকের মতো। খুবই সাধারণ ব্যাপার, কিন্তু খুব পীড়াদায়ক, মনোস্তাত্ত্বিক ব্যাপার। এক্ষেত্রে (আমার মতামত) এমন এক ব্যাপার ঘটে যে, যা প্রকাশ করা হল তা যেন ‘বিশুদ্ধভাবে’ প্রকাশ করা হল না। যেন ছোটো একটা ক্ষত থেকে গেছে তাতে, থেকে যায় কোথাও মারাত্মক কোনো একটা জায়গা। এমনকী, ঘটতে পারে ভয়ংকর কোনো কিছু।

‘রেবেকা’, হিল্ডা বলল, ‘আমি আসলেই তোমার এই হালকা সবুজ রংটা পছন্দ করি না।’

‘লিজার্ড’ শব্দটি টিকটিকি, গুইসাপ, গিরগিটি, আঞ্জিনার মতো নানা কিছুর সাথে যুক্ত। ‘লারোস এনসাইক্লোপিডিয়া অব অ্যানিমেল লাইফ’-এর তথ্য অনুযায়ী এই ধরনের প্রাণীর অন্তত বিশটি পরিবার এখনও বিদ্যমান। বিলুপ্ত হওয়া আরও চারটির কথা জানা যায় জীবাশ্ম থেকে। এই প্রাণীগুলোর রয়েছে অন্তত আড়াই হাজার প্রজাতি। এরা হাঁটা, দৌড়ানো, আরোহন করা, গর্ত খোঁড়া— এই ধরনের নানা অভিযোজনে সক্ষম হয়েছে। অনেকগুলোর আবার আকর্ষণীয় নামও আছে। যেমন— রঙিন টিকটিকি, চ্যাটালো পা টিকটিকি, কটিবন্ধ টিকটিকি, দেওয়াল টিকটিকি।

‘বেশ কয়েক বছর ধরে আমি সেটা এড়িয়ে গেছি, কারণ, আমি তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু আমি আসলে এটা খুব একটা পছন্দ করি না’, হিল্ডা বলল। ‘এটা কিছুটা—’

‘জানি আমি’, বলল রেবেকা।

রেবেকা বেডরুমে গেল। কোনো একটা কারণে চালিয়ে দিল রঙিন টেলিভিশনটা। সবুজ একটা আভা ছড়িয়ে ‘গ্রিন হিল’ ছবিটা তখন টিভিতে শুরু হচ্ছে মাত্র।

আমি অসুস্থ, আমি অসুস্থ।

আমি এক চাষী হব।

আমাদের ভালোবাসা, আমাদের যৌনপ্রেম, আমাদের সাধারণ প্রেম!

হিল্ডা বেডরুমে ঢুকল। বলল, ‘খাবার রেডি আছে।’

‘কী খাবার?’

‘পর্ক আর রেড ক্যাবেজ।’

‘আমি এখন মাতাল’, বলল রেবেকা।

আমাদের নাগরিকদের অনেকেই মাঝে মাঝে এমন একটা সময়ে মাতাল হয় যখন আসলে তাদের মাথা ঠান্ডা রাখা দরকার। এই যেমন রাতের খাবারের সময়টায়। মাতাল হলে ঘড়ি কোথায় রাখতে হয়, চাবি কোথায় থাকবে, মানি ক্লিপটা কোথায় রাখবে— এ-সব তোমনে থাকে না। অন্যের সুস্বাস্থ্য, প্রশান্তি, প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি সংবেদনশীলতা কমে যায়। অতিমাত্রায় অ্যালকোহল নেওয়ার কারণগুলো অ্যালকোহলের প্রতিক্রিয়ার মতো তত পরিষ্কার নয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সাধারণত মনে করেন যে, মদ্যপান খুব গুরুতর সমস্যা হলেও কিছু ক্ষেত্রে তার চিকিৎসাও আছে। বলা হয়ে থাকে, এক্ষেত্রে অ্যাঅ্যা (মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং চিকিৎসা সংস্থা ‘অ্যালকোহলিক্স অ্যানোনিমাস’) বেশ জনপ্রিয় ও কার্যকর। আসল ব্যাপার হচ্ছে ইচ্ছাশক্তি।

‘এখন উঠো’, হিল্ডা বলল। ‘যা বলেছি তার জন্য আমি দুঃখিত।’

‘তুমি তো সত্যিই বলেছ।’

‘হ্যাঁ, তা সত্য’, স্বীকার করল হিল্ডা।

‘কিন্তু শুরুতেই এই সত্যটুকু তুমি আমাকে বলোনি। শুরুতে তুমি বলেছ আমার এই রংটা সুন্দর।’

‘শুরুতে আমি তোমাকে সত্যটাই বলেছিলাম। আমি মনে করেছিলাম যে তা সুন্দর। তখন।’

হিল্ডার সংক্ষিপ্ত তিনটি বাক্যের মধ্যে এই ‘তখন’টা চরম শব্দ। যখন শব্দটি এভাবে ব্যবহৃত হয় তখন এটি মানুষের শব্দভাণ্ডারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা উস্কে দেওয়া শব্দ। বিগত হয়ে যাওয়া সময়! সেই সময়ের সাথে বিগত হয়ে যাওয়া অবস্থা! মানুষের যন্ত্রণাকে কীভাবে পরিমাপ করা হবে? কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে, হিল্ডা এই অবস্থায়ও রেবেকার প্রতি ভালোবাসা অনুভব করছে, কিন্তু, পাঠক, হিল্ডার এই অবস্থানকেও ঈর্ষণীয় বলে বিবেচনা করা যায় না, সত্য হচ্ছে, বের্গসঁ যেমন জানতেন, এক কঠিন আপেল কঠিনই, তা সে কেউ ধরুক আর কেউ ছুঁড়ুক।

‘তাহলে আর কী?’ পাথরকণ্ঠে বলল রেবেকা।

‘তারপরও আমি তোমাকে ভালবাসি—’

তোমার এই তারপরও যে-ভালোবাসা সেটি কি আমি চাই? তুমি চাও? কেউ কি তা চায়? তারপরও আমরা কি কিছুটা তেমনই নই? আমাদের সবার মধ্যেই কি এমন ব্যাপার নেই যা বলতে গেলে আমাদের অতীতের দিকে ফিরে তাকাতে বাধ্য করে। আমি তোমার কিছু বিষয় দেখেও দেখি না, তুমি একইভাবে আমার কিছু দিককে নজরের বাইরে রাখো, আর এই কিছু বিষয়ে আমাদের পরস্পরের অন্ধ থাকা, এই বন্ধ রাখা চোখের চোখাচোখি, ১৯৬০ দশকের শুরু থেকে এই অভিব্যক্তির ব্যবহার, আমরা আমাদের কড়কড়ে আর সুরভিত জীবনযাপন বজায় রেখে চলেছি, নিশ্চয়ই এটাকে বলে ‘সেরাটা করা’। যেটিকে আমি বরং সবসময় বিবেচনা করেছি আমেরিকার আদর্শের ম্যাড়ম্যাড়ে ধারণা হিসেবে। আমার এই সমালোচনাকে অন্যদের পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখতে হবে। উদাহরণ হিসেবে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ম্যাকিনলের কথা বলা যায়। যিনি মেনে চলতেন যে, সবসময় হাসিখুশি থাকা সম্ভব না হলেও ভালো মেজাজ বজায় রাখাটা মূল্যবান এবং সঠিক।

রেবেকার মাথায় হাত রাখল হিল্ডা।

‘তুষার পড়তে শুরু করেছে’, বলল সে। ‘তুষারপাতের মৌসুম আসছে শিগগিরই। আগের সেই তুষারের দিনগুলোর মতোই আবার আমরা একসাথে। আগুনের পাশে বসে বাস্টহ্যাড পান করা। সত্য হচ্ছে এক বদ্ধ ঘর। যে-ঘরে দরজায় মাঝে মাঝেই আমরা ঠকঠক করি এবং সেটি বন্ধই থেকে যায়। আগামীকাল তুমি আমাকে আবার দুঃখ দেবে এবং আমি তোমাকে আবার বলব যে, তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ এবং তারপর আবার দুঃখ দেবে, তারপর আবার। জাহান্নামে যাক। এসো হে নীলচে সবুজ রঙের বন্ধু আমার, এসো আমার সাথে বসে রাতের খাবার খাও।’

তারা একসাথে খেতে বসল। তাদের সামনে রাখা পর্ক আর রেড ক্যাবেজ থেকে ভাঁপ উঠছে। তারা ম্যাককিনলে প্রশাসন নিয়ে ধীরে ধীরে আলাপ করছে। সংশোধনবাদী ইতিহাসবিদরা বিষয়টি সংশোধন করছিলেন। কাহিনি এখানেই শেষ। এই কাহিনি লেখা হয়েছে বিভিন্ন কারণে। কারণগুলোর মধ্যে নয়টিই গোপন। দশমটি হচ্ছে, মানব প্রেমের বিষয়ে— যা সবসময়ই ভীষণ এবং সোনালি— বিবেচনা কখনোই বন্ধ করা উচিত নয়, উষ্ণ ত্বকের পাতায় যে রং আর নকশার উল্কিতেই তা খচিত থাকুক না কেন।

অনুবাদক: ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ

জন্ম ১৯৭৭; ময়মনসিংহ। পেশায় সাংবাদিক। প্রকাশিত বই : আলো অন্ধকারে আলো অন্ধকারের যাত্রা [গল্প; ঐতিহ্য, ২০০৪] বিপন্ন সিরিয়ার কথাকার জাকারিয়া তামেরের গল্প [অনুবাদ; মেঘ, ২০১৫] মওদুদিপুত্রের জামায়াত-বিরোধিতা [অনুবাদ ও সম্পাদনা; প্রকৃতি, ২০১৭], ‘খুলির নীরবতা: কো উনের কবিতা’ [অনুবাদ ও সম্পাদনা, প্রকৃতি, ২০১৮], কোরিয়ার গল্প [অনুবাদ ও সম্পাদনা, উজান, ২০২০] ই-মেইল : soroishwarja@gmail.com

ডোনাল্ড বার্থেলমে

মার্কিন লেখক ডোনাল্ড বার্থেলমেকে (১৯৩১-১৯৮৯) কেউ কেউ বলেন পোস্টমডার্ন ছোটোগল্পের জনক। যাঁরা তাঁর প্রশংসা করেন তাঁরা বলেন— বার্থেলমে খুব সরস, সুশৃঙ্খল, সুগভীর ও পরাবাস্তবিক। যাঁরা তাঁর নিন্দা বা উপহাস করেন তাঁরা বলেন— বার্থেলমের লেখা অর্থহীন, প্রাতিষ্ঠানিক পোস্টমডার্ন। কেউ কেউ বলেন— আমেরিকার ইতিহাসে বার্থেলমে হচ্ছেন সবচেয়ে প্রভাবশালী, কিন্তু সবচেয়ে অপঠিত লেখক। কেউ বলেন— লেখায় তিনি ধর্ষমর্ষকামী। কেউ বলেন— তিনি বিশ শতকের উৎকণ্ঠার স্বর। আমরা বলি— বার্থেলমে প্রথাবিরোধী, বিদ্রূপাত্মক, তীর্যক ও তীক্ষ্ণ। ভাষা নিয়ে খেলতেন তিনি, ভাঙতেন শব্দ ও বাক্যকে, ভাঙতেন গল্পের গঠনকেও; যেমন ভেঙেছেন এই গল্পে। তাঁর গল্পগুলো কাচের টুকরো জুড়ে জুড়ে গড়া ভাস্কর্যের মতো। কখনো অর্থহীনও তিনি। কারণ, শিল্পের শক্তি সমাজ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, আধুনিকতার এই বিশ্বাসেই হয়তো তাঁর ভক্তি ছিল না। এ-সব কারণে বার্থেলমের গল্পের থৈ পাওয়া, খেই পাওয়া, ভিনভাষীদের জন্য কঠিন বটে। ডোনাল্ড বার্থেলমে বিয়ে করেছেন চারবার। তাঁর জীবনী লিখেছেন (তাঁর মৃত্যুর পর) দ্বিতীয় স্ত্রী ২০০১ সালে। প্রথম কন্যাসন্তান মিলেছে তৃতীয় স্ত্রীর কাছ থেকে। দ্বিতীয় কন্যাসন্তান চতুর্থ স্ত্রীর কাছ থেকে। চতুর্থ স্ত্রীর সাথেই ছিলেন আমৃত্যু। গলার ক্যান্সারে মারা যান বার্থেলমে। গল্প লিখেছেন শতাধিক। উপন্যাস চারটি। বাদবাকি কিছু গদ্যের বই আছে তাঁর। মেয়ের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছেন একটি শিশুতোষ বই। ডোনাল্ড বার্থেলমের ‘সিক্সটি স্টোরিজ’ সংকলন-গ্রন্থ থেকে ‘রেবেকা’ গল্পটি অনুবাদের জন্য গৃহীত (১৯৭৬ সালে প্রকাশিত ‘অ্যামেচার্স’ গ্রন্থে গল্পটি প্রথম অন্তর্ভুক্ত, প্রথম প্রকাশিত হয় সম্ভবত নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ সংখ্যায়)। বার্থেলমের এই গল্পটির অনুবাদ ‘ডোনাল্ড বার্থেলমের নির্বাচিত গল্প’ পাণ্ডুলিপি থেকে এখানে প্রকাশিত হল।

আমাদের নতুন বই