সম্পাদকীয়

পথ আর গলি নয়, হয়ে উঠেছে রাস্তা। রাস্তার ঠিক কোন জায়গাতে দাঁড়িয়ে তা অনুধাবনযোগ্য কিনা জানি না। তবুও যেতে হবে। এতটা দূর যেতে হবে যেখানে নিজের ছায়াকে মনে হবে একটা বট গাছ, যার ঝুরি ধরে ঝুলতে ঝুলতে পৌঁছে যাওয়া যাবে আমাদের শৈশবে। একমাত্র শৈশব পারে আমাদের না-কাদামাখা পা’কে ভীষণভাবে চুমু খেতে।

যাতায়াত জুড়ে এত কাদা, এত কাঁটা! মনে পড়ে সেই শুরুর দিনগুলি। পত্রিকার মেসযাপনের দিনগুলি। কত মেস ঘুরে ঘুরে আদরে, অনাদরে, অবহেলায় বেড়ে উঠেছে। সেই দিনের সুতো আজও বেঁধে রাখে। আরও উড়িয়ে নিয়ে যায়।

উড়তে উড়তে বয়স বেড়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে বছরে একটি করে বিশেষ সংখ্যা। ‘নৌকা’, ‘বাংলার কুটির শিল্প’ এ ধরনের লোকসাহিত্য কাজ করার স্পর্ধা হয়ত ছিল না। তবে সংখ্যাগুলি প্রকাশের পর এতটা পাঠক সমাদর পায়, আমরা ভাবতেই পারিনি। ‘গোপাল ভাঁড়’-এর লোকমিথ নিয়েও আমরা কাজ করছি। পত্রিকার পাশাপাশি শুরু হল প্রকাশনীর কাজ। তবুও প্রয়াস পত্রিকার মতো প্রকাশনীও চেষ্টা করে চলেছে আড়ালে থাকা প্রতিভাবান লেখকদের সামনে আনার। সেইসঙ্গে হারিয়ে যাওয়া লোকসাহিত্যকে তুলে ধরার।

সব কাজই এগোচ্ছে। দরকার ছিল একটি ওয়েবসাইটের। এই ডিজিটাল দুনিয়ায় হেঁটে বেড়াচ্ছি অথচ নিজেদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না! প্রিন্ট মিডিয়ার কোনো তুলনা নেই। তবে অস্বীকার করা যায় না ওয়েবদুনিরার ব্যাপকতাকে। নানাদিক বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আমরাও ই-ম্যাগাজিন করব। আর এমন একটা ওয়েবসাইট বানানো হবে পত্রিকার সঙ্গে প্রকাশনীর কাজকর্ম নিয়মিত আপডেট করা যাবে। বানানো হল। লেখা নেওয়া হল অধিকাংশ নতুন ছেলেমেয়ের। ইচ্ছেও আছে প্রত্যেকবছর বাছাই লেখা নিয়ে একটি সংকলন বানানো হবে। এখন শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষার ধূসর গায়ে যত্নের কারুকার্য…

তাহলে, এই যে আত্মপ্রকাশ, এই যে গুটিগুটি পায়ে নতুনভাবে চলা শুরু, বন্ধুরা পাব তো সেই শক্ত হাতে যাকে ওই বটগাছ মনে হবে?

সেলিম উদ্দিন মণ্ডল

সম্পাদকীয়

আমাদের নতুন বই