বইমেলার ডায়েরি: সেলিম মণ্ডল

০৫/০২/১৯

মনটা আজ খুব এলোমেলো। ল্যাদ খেতে খেতে সকাল গড়িয়ে গেছে। বেজে গেছে আড়াইটে। যে মানুষটার একটা মানে একটা বা দু-টো মানে দু-টো, সেই মানুষটি, অরূপদা আজ আসবে না। কিন্তু মেলায় ঢোকার আগে যদি এমন ফোন আসে— ‘এটা তবুও প্রয়াস? আপনারা আজ বসবেন না?’ তখন সমস্ত বিষণ্ণতাকে কষিয়ে এক চড় বসানো যায়। নিজের ভিতর অপরাধের বুদ্‌বুদ ফুটতে থাকে।
শতানীক সুখী, আদুরে ছেলে ওঁর দ্বারা টেবিল সামলানো বা সাজানো সম্ভব নয়। এই প্রথম সব বইপত্র সাজিয়ে টেবিলে বসেছিলাম অনেকক্ষণ। বেশ হ্যাপা এই প্রথম দিকটা। দেরিতে আসার ফলে এমনিতেই বেশ ভিড় হয়ে গেছিল। দেবোত্তম আরো দেরিতে আসবে। অরূপদার মন খারাপ করছে। বারবার ফোনে খোঁজ নিচ্ছে। বিষণ্ণতাকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছি, সে দুধের শিশু মতো বারেবারে চ্যাঁ চ্যাঁ করে উঠছে।
সন্দীপদা আমায় কেন এত ভরসা করে জানি না। প্রত্যেকবার মেলাগুলোতে এসে, সেলিম যা যা ভালো বই করেছিস আমার জন্য বিল কর। কেন জানি না, মনে হয় সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে এই আলো-আধারির জীবনে ঢুকে পড়াটা খুব একটা ভুল হয়নি। এমন ভালোবাসা কি অন্য কোথাও পেতাম? কে জানে!
তন্ময়, দেবোত্তম এসে গেছে। আমি মুক্ত। আজ উড়তে পারছি না। নিজের ডানায় কয়েক-শো কুইন্ট্যাল পাথর বেঁধে আমি যেন ঝিমোচ্ছি।
সময়ের ঘষা লেগে এই শিলালিপি কি ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাবে? আমি তো কিচ্ছু চাইনি, কিচ্ছু চাইনি আজীবন…

বইমেলার ডায়েরি: সেলিম মণ্ডল

আমাদের নতুন বই