Categories
আত্মপ্রকাশ সংখ্যা

রাহুল ঘোষের গুচ্ছকবিতা

কথামুখ

আমি কাল সারাদিন স্নান করতে ভুলে গিয়েছি।
সকালে কাকভোরে
কয়েকবার মেঝে থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে
সোফায় শুয়ে-বসে এসেছি এবং এঁকেছি একটা ছবি।

জীবনের সঙ্গে রোগ ওতপ্রোত হয়ে গেছে আমার।
তবু আমি হাঁটছি আমি ক্লান্ত বক নই
ধানক্ষেতে ইঁদুর ধরছে শৃগাল
দেখেও আমি চুপ করে আছি।

চুপ থাকার সময় এটা।
আমাদের কবিতা প্রসব বেদনায় ছটফট করছে।
হঠাৎ শুনলাম সে বাজা হয়ে গেছে।
কাল রাত্তিরে পাশের বাড়িতে ভীষণ মেঘ করেছিল।

একটি ঝড়ের মৃত্যু

একদিন আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে।
সকাল দেখতে পাব না।

নবজন্মের শিশুরা আমার চোখের সামনে।
আমার মাথায় চিন্তা
রুদ্র বসে বসে তামাক চিবোচ্ছে
সামনেই ওর বিয়ে তিন নদীর সাথে।

আসার কথা ছিল বৃষ্টির…
রাঢ়ে এল শুধু মেঘ। এখানে মেঘ উঁচু।

চোখ থেকে চশমা খুললেই আমি কিছু দেখতে পাই না।
সেইসময় আমি বাড়ির আমগাছের দিকে তাকিয়ে থাকি।
দেখি— নীল আকাশের ডানা,
আলোর রোশনাই সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে
আমার মুখে ধরা দেয়…। ধরা দেয় জন্মহীন বুকে।

আমার বাড়ির ছাদে ঈশ্বর আছেন

বাড়ির পাশের লোকেরা সবসময় মাকে বলে
আমাদের বাড়ির ছাদে মধ্যরাতে কেউ লাঠি নিয়ে ঘোরে।

আমাদের বাড়ির ছাদে কেউ ঈশ্বর আছেন সবসময় থাকেন
সৃষ্টি নিয়ে, বৃষ্টি নিয়ে, নিয়ে কালবৈশাখী।

মায়ের অসুস্থতার পর থেকে বাবা মা হয়ে গেছে।
রাস্তায় সেই শিশুদের দেখলাম, যাদের বয়সি ছিলাম একদিন।
আমিও একদিন বন্ধুদের নিয়ে দোকানে দোকানে যেতাম
চকলেট কেনার নাম করে।

পৌর্ণমাসী সেই রাতে তোমার শাঁকালুর মতো শুভ্র স্তন
আমি সুন্দর চোখে দেখেছিলাম বলেছিল মনের শ্যামল।
আমার জীবন— সেই বুধগ্রহের প্রাণী যা জ্বলন্ত সূর্যের
প্রিয়নাথ অঙ্গার জেনেও নিজের চোখে মাখে।

অনেকদিন খাটে শোওয়ার ইচ্ছা নষ্ট করেছি। বাতাসের সাথে করেছি রঙ্গ।
মৃত্যুর মুখে চুমকুড়ি দিয়ে সে শুয়ে আছে ডানকুনি জংশনে।

ছাতাজীবন

আর্জির সাথে সাথে লাথি খাওয়ার শখ হয়েছিল লোকটার।
বারবার বলত লোকটা মেয়েরা… মেয়েরা… মেয়েরা আকাশ।
ওখানে মেঘের আড়ালে সূর্যের ঘোড়া আছে চুপ।
সূর্যের রথ আছে হিংস্র হয়ে।

সূর্যের রথ ফাঁকি দেয়: বৃষ্টি নেমে আসে ঝম ঝম করে।
এমনই বর্ষার দিনগুলোতে প্রতিবার
বাবার কাছে আবদার করতাম: রঙ্গিন নতুন ছাতা কেনার।
নক্সাযুক্ত আমাদের ছাতা রোদবৃষ্টিঝড় আটকায়।

তবু কেন সুখের দিনে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বারবার বলেন মা—
আমাদের সবার ভিতর রাক্ষস আছে।
আসলে মা কোনোদিন রামায়ণ মহাভারত পড়েনি
মা আমাকে শ্লোক শোনায়।

গবেষণার বিষয়

তুমি দিন দিন কোয়ান্টাম কণা হয়ে যাচ্ছ। খাতা খুলে লিখছি অক্ষর—
উভয় দিকেই আগুন আছে রাতের কথায়।

কোনদিন হয়তো দেখব খিদেয় গল্প লিখতে হবে:
গল্পে থাকবে একজন পুরুষ
যিনি নারীর ভিতর দিয়ে প্রবেশ করিয়ে আনতে পারবেন
বিরাট পাহাড়।

ভলু রুটি খেতে ভালবাসে খুব
মা যখন রান্নাঘরে রুটি ছাঁকে
তখন ওর মুখ মায়ের হাতের দিকে থাকে। এ দৃশ্য আমার কাছে খুব সুখের।
ওর যেন খিদের কষ্ট আমাদের মতো না হয়; কবিরা বেকারত্ব নিয়ে এবার একটু গর্জে উঠুন।

প্রেমিকার সাথে মাঝে মাঝে কথা বন্ধ হয় প্রেম নতুন হয়… নতুন প্রেম আসে।
আবার এই যে যে শব্দের ছবি নিয়ে আমি গবেষণা করছি—
রানারের পিঠ ভারী ও বেঁকা হয় হ্রস্ব ই-এর মতো সোজা নয়
এইসব পরিবর্তন করা কবিদের ভব অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *