শুভম চক্রবর্তীর কবিতা

বাড়ি

মেঘের ঈশ্বর আমি
ঈশ্বরের মেঘমুক্ত বাড়ি
বিষাদটোটেম ছুঁড়ে
ঘরছাড়া করি; তবে ছাড়ি!

সুজাতার মেলে দেওয়া
অবিভক্ত ব্যথার ফার্মেসি
নির্মিত আড়াল থেকে লেখাজোঁখা
তার চেয়ে বেশি, কিছুই হলো না আর
এ জীবনে সকলের মতো
দুখজাগানিয়া, তুমি, ঘুমভাঙানিয়া এসো
খুলে দাও ক্ষত
সুজাতা সম্পর্কে যত
আগুনের সর্বনাম দেখি
ছিটকে পাঁজর ভাঙে
নেশাতুর সমস্ত প্রতীকী
ঈশ্বর মহান, মাইরি…
হোক তবে আজ থেকে আড়ি
আমার বুকের ব্যথা জমাটিয়া মেঘ হয়
ঝরে পড়ে ভেসে যায়
ঈশ্বরের বাড়ি

নির্বেদ

অমুককে না পেলে আমি মরে যাব
তমুক না দিলে আমি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকব
আদিগন্ত বালিস্তূপ এবং কাদায়
অমুক অমুককে দেখে হাসে কাঁদে খেলা করে
সে খেলা প্রাণের
এভাবেই ক্রমাগত সংখ্যা বাড়ে অথচ মরি না
তখন বিচ্ছিরি লাগে ধুত্তোর মৃত্যুকে এক হিন্দি নায়িকার গোপনাঙ্গ— চুল মনে হয়
অতিকায় স্পর্ধা নিয়ে যাকে আমি ছুঁতেও পারব না

কেশাগ্র স্পর্শহীন অসহায়তার কাদাজল
অমুক তমুক আর শামুকেও শান্তি রাখা নেই

অস্তরাগ

পোড়া মাটির শূন্য দেউল কান ভাঙাল বলে
আমি দিগন্তঢেউ নিংড়ে সাদা অন্ধকারের কোলে
যে জন জলের ভেতর থাকে ভাসে রিক্ত দুটি বাহু
স্নায়ু অতি উদার হলে পথে খই ছড়িয়ে পড়ে
সবাই অশ্রুধ্বনি করে পথও ফোঁপায় একা একা
পথে আরাম থাকে হোঁচট থাকে তবু প্রধান দেখা
দেখা ভালো সহজ চোখে আর সর্বনেশে হাওয়া
পাথর গড়তে থাকে ভাঙতে থাকে দিন ফুরিয়ে যাওয়া

বাহ্যজ্ঞান

সামনেই খলবল করছে, কিন্তু আমি…
ধরতে পারছি না
দেখেছি তুলিনে আমি গাভিন তুলোয় মোড়া হাতি
অশ্বের প্রবল বেগে ধাবমান আছাড়িপাছাড়ি
ধুর ধুস আহা উহু বাহ্যজ্ঞান চোরাগোপ্তা আলো
গভীরে গড়গড়া টানছে
এত ধোঁয়া চিনতেই পারছি না
গড়াচ্ছে রগড় করছে লুটোচ্ছে পুটোচ্ছে ঝোপেঝাড়ে
নীল দৈবঅভিজ্ঞতা ল্যাতানো সাপের ফণা ভেঙে
চলে গেল… ঝোপেঝাড়ে… কোন ঝোপ চেনাই যাচ্ছে না
তিনটি অযৌন অঙ্গ হেঁটে যাচ্ছে গ্রামীণ বাতাসে
লাবডুব লাবডুব শব্দে
কোথায় যে চলছে সে, বোঝাই যাচ্ছে না

উন্মোচন

সাজানো প্রচ্ছদচিত্র
রং ও রেখায় কত নশ্বরতা নড়াচড়া করে
প্রত্যেকে নিজেকে ডাকে
সমান্তরাল কোনও স্বপ্নের নিকষ আড়ালে
যৌনতা বিস্তার পায়
পাতার গভীর অনুমানে
যে যার নিজের দিকে
মুখ ঘুরে থুতু ছুড়ে দেয়
একটি অমোঘ গান; থেমে যায়
দূরে আরও দূরে
দিগন্তের সারাগায়ে, কোমরেও আঁকিবুকি কাটি
রং ও রেখায় নয় নখে দাঁতে জিভে ও আঙুলে
সাজানো প্রচ্ছদচিত্র ক্রমশই খুলে যাচ্ছে… খুলে…

Spread the love

6 Comments

  • খুব একটা ভালো লাগেনি সত্যি কথা বলতে। অন্যান্য গুচ্ছ কবিতা গুলো যে পরিমান মানের তার সাথে এটা তেমন মনে লাগলো না।।

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়,
    • অনেক ধন্যবাদ। এই সৎ মতামতই প্রয়োজনীয়।

      subham chakraborty,
  • প্রতিটি কবিতাই অন্যরকম লাগল। তথাকথিত ভাল কিংবা খারাপে যাচ্ছি না। কারণ ভাল বা খারাপ এই মন্তব্যের মানে নেই। আমার যেটি গুরুত্বপূর্ণ লাগছে তা হল নির্দিষ্ট কমফর্টেবল ছাঁচ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কবিতা এগুলি। নিজেকে রিপিট করা নয়। এই নিজের থেকে অন্যরকম হওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় এমন আরও বেশ কিছু লেখা একসঙ্গে পড়লে আমার পাঠক হিসেবে ভাল লাগবে।

    Hindol,
  • আমার সম্পূর্ণ অন্যরকম লাগল।
    এই কবিতাগুলিতে তুমি বেরিয়ে পড়েছ আগের লেখাগুলির থেকে।
    লেখাগুলির রচনাকাল জানলে ভাল হত।
    কিন্তু কমফর্ট জোন থেকে বেরোনও একজন কবির জীবনীশক্তি৷

    Hindol,
  • ভাল লাগলো।ভাবনার তরঙ্গোচ্ছাস কুশলী ভাষায় ও ব্যঞ্জনায় বিন্যস্ত।

    Bikash,
  • সুজাতা সম্পর্কে যত আগুনের সর্বনাম দেখি ❤️❤️

    শীর্ষা,
  • Your email address will not be published. Required fields are marked *