অনুপম মুখোপাধ্যায়ের গুচ্ছকবিতা

চল এগোই

ওই যে ধানক্ষেত      ওই যে পথ       চল এগোই

১দিন আমাদের সমস্ত জীবন ঘাসের জমির মতো সাংসারিক হবে
আগুন থেকে বেরিয়ে আসবেন নিস্তব্ধ গ্রামীণ কাকিমা

কী যে ঘটেছিল      বিচারসভায় কী যে ঘটে গিয়েছিল

মানুষ যত শক্ত হয় তত তার বুক থেকে খসে যায় অমঙ্গলের চাঙর

তাই নিজে ভয়াবহ হই
দুঃখ থেকে পালাতে পালাতে অশুভকে ছাড়িয়ে যাই আরও পিছনে

আকাশ ফুটো করে বৃষ্টি নামাতে
সূচনার বর্ষা পেরেছে       সমাপ্তির বর্শা পারেনি

***

ওয়ার অ্যান্ড পিস

জীবনের নরম জিভ জীবনের হাঁটু চেটে নেয়
হাজার হাজার বছর       লক্ষ লক্ষ প্রচ্ছদের স্তূপ

সমস্ত হিংস্রতা ছুঁয়ে হাওয়া বয়
হাওয়া বয়

হাওয়ার অত জোর নেই জীবনের সব পাতা উলটে দিতে পারে

আশা ফোটে        ফেটে যায় পোচের মতন
যেন কোনো চামচের নিষ্করুণ আঘাত লেগেছে

জীবনের সারা গায়ে মেখে যায় আশা      চ্যাটচেটে আশা

দাঁত এসে দেখা দ্যায় জাদুঘরের কিউরেটরকে
জীবনের ইতিহাস নাকি দাঁতেরই আবহমানতা

ডলফিনের ইতিহাস কেন নয়
কেন নয় জ্যান্ত কিছু মৌরলার ইতিহাস

মৌরলার জীবনী ১টা      আয় লিখতে বসি

গ্রীষ্মের নরম জল গরমের হাঁটু চেটে নিক

***

১ লম্বা লোক

১ লম্বা লোক      ১ টানা লম্বা লোক
গাছের চেয়ে লম্বা

অসাধারণ লম্বা

মাথায় প্রচুর মেঘ ঠেকে আছে

প্রত্যয়ে      বিস্ময়ে      মতামতে
ওর আকাশকে হাওয়ায় ঘিরে আছে

***

আমি কেন আস্তিক

উজ্জ্বলতার ধারণা নিয়ে ১-১টা অন্ধকারকে জানলা মনে হয়

সারা হোটেলে আমিই প্রথম ১ তলায় নামলাম ব্রেকফাস্ট সারতে

অনেক দূরে অনেক দূরে জাহাজের ইমেজ নিয়ে দিগন্ত তখন খেলছে

সারা জীবন ইস্কুলের প্রার্থনা সংগীতকে আমি সিরিয়াসলি নিয়েছি

ঘণ্টার শব্দ শুনে চোখ তুলে দেখেছি মন্দির খুলেছে

***

একলা মানুষের চড়ক

এই সমাজ      এই সময়      নিকুচি করেছে
আকাশটা সাদা হলে আমাদের এই গাছটাকে আরও সবুজ লাগত

নিকোনো উঠান      ধোলাই খাওয়া জামা
কেউ কি নেই নতুন টি-সার্ট পরে আমার সঙ্গে চড়কের মেলা দেখতে যাবে

আকাশটা সাদা হলে মেলায় যাওয়ার পথটাকে আরও লাল লাগত

কত শুকনো হয়ে গেছে পাতা      কী মিষ্টি গন্ধই না আসছে
কালচে ডাল থেকে মানুষের আনন্দের সুযোগ ঝরে পড়ছে

হাওয়ায় উড়িয়ে দিই লজেন্সের মোড়ক
নিজের সঙ্গে মেলা দেখে আসি

Spread the love
By Editor Editor কবিতা 16 Comments

16 Comments

  • লিরিক- যা কিনা অনুপম মুখোপাধ্যায়ের কবিতার সুর নয়- তা-ই কবিতাগুলোকে অনবদ্য ভিজিয়ে রেখেছে। সঙ্গে নতুন সব দৃশ্যের মেকিং। একদম নতুন জামার গন্ধ আর উজ্জ্বল।

    প্রীতম বসাক,
    • ‘আমি কেন আস্তিক’ অসাধারণ !

      দেবাশিস বিশ্বাস,
      • আমার মনের কবি তুমি অনুপম…খুব ভালো…সুরগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে গেল…আহা “আমি কেন আস্তিক”শেষ দুই পংক্তিতে দারুণ….ভালোবাসা হে অনুজ

        রামকিশোর ভট্টাচার্য,
        • প্রতিটি কবিতা প্রতিটি পঙক্তি প্রতিটি শব্দ প্রতিটি স্পেসকে নমস্কার জানাই।
          কুর্নিশ কবিকে।

          Ranajit,
      • এই শব্দ, পঙক্তিগুলোর সঙ্গে বহু বহুক্ষণ থাকতে ইচ্ছে করে। কুর্নিশ ও প্রণাম কবিকে।

        সঞ্চালিকা,
    • কবিতাগুলো প্রান্ত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও মর্মে আলোড়িত এক প্রতিধ্বনি। অপূর্ব শব্দের ব্যবহার ও ইমেজের ক্রমান্বয় গতিময়তা আমাকে আকৃষ্ট করল। বর্ষা ও বর্শা শব্দের ব্যবহার, আশা ফোটে ও চামচের নিষ্করুণ অঘাত ক্রিয়ার অভিনব প্রয়োগ, লম্বা শব্দের পুনঃ পুনঃ অভিক্ষেপ, জাহাজের ইমেজ নিয়ে দিগন্তের খেলা অপূর্ব নির্মিতি ও কারুকাজ কবিতাগুলোকে অসাধারণ করে তুলেছে ।

      Taimur Khan,
  • পাঁচটি কবিতাই পরলাম। আঙ্গিক ও কথনে নতুনত্বের স্বাদ আছে। মন ভরে গেল….

    কৌশিক সেন,
  • কবিতাগুলো প্রান্ত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও মর্মে আলোড়িত এক প্রতিধ্বনি। অপূর্ব শব্দের ব্যবহার ও ইমেজের ক্রমান্বয় গতিময়তা আমাকে আকৃষ্ট করল। বর্ষা ও বর্শা শব্দের ব্যবহার, আশা ফোটে ও চামচের নিষ্করুণ অঘাত ক্রিয়ার অভিনব প্রয়োগ, লম্বা শব্দের পুনঃ পুনঃ অভিক্ষেপ, জাহাজের ইমেজ নিয়ে দিগন্তের খেলা অপূর্ব নির্মিতি ও কারুকাজ কবিতাগুলোকে অসাধারণ করে তুলেছে ।

    Taimur Khan,
  • এমন লেখা তো তোমার আগে পড়ি নাই। সত্যি বলি, আসলে তুমি মর্মেও বিঁধতে জানো। ভেজাতেও জানো। সত্য ডলফিনের ইতিহাস কই। মোড়লার?

    আরো একবার বলি। এই গুচ্ছ কবিতা দশবছর পরেও মনে থাকবে।

    prolay,
  • অসামান্য দর্শনবোধ না থাকলে এমন লেখা যায় না। কবিকে পাঁচজনের থেকে আলাদা করে রাখবে এমনসব লেখা।

    অভিষেক নন্দী,
  • প্রতিটি কবিতা প্রতিটি পঙক্তি প্রতিটি শব্দ প্রতিটি স্পেসকে নমস্কার জানাই।
    কুর্নিশ কবিকে।

    Ranajit,
  • প্রতিটি কবিতা প্রতিটি পঙক্তি প্রতিটি শব্দ প্রতিটি স্পেসকে নমস্কার জানাই। কবিকে আমার কুর্নিশ।

    Ranajit Adhikari,
  • গতি চিরকাল মানুষকে আকর্ষণ করে। গতিহীন স্থবির জীবনে মানুষের শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। মানুষের নিয়মই এই। সে এগোবে বেশি কিন্তু কম সময়ে। আমি তোমার কবিতাগুলো পড়ছি আর ভাবছি এ কিরকম কবিতা! কি রকম! কবিতা গুলো যত পড়ি তত অবাক হই। ওদের দৃষ্টি, শব্দ, বাক্যবাণে বিদ্ধ হতে থাকি। আমার বিস্ময়ের ঘোর কাটে না। আমি ওদের ঘোরে ডুবে থাকি। ওদের স্বপ্নে মগ্ন হই। ওদের ভালবাসা ও বেদনা আমাকে ছুঁয়ে থাকে। আমার ইচ্ছে করে ওদের ছুঁয়ে দেখি। ছুঁয়ে বলি তোমাদের বড় ভালবাসতে ইচ্ছে করে। আমি এমন আশ্চর্য স্নিগ্ধ সুন্দরের পাশে ঘনিষ্ঠ কখনও বসিনি।

    Arunava Bhowmick,
  • “১দিন আমাদের সমস্ত জীবন ঘাসের জমির মতো সাংসারিক হবে।”
    আলাদা করে একটা পঙ্ক্তি কোট করা মানে পুরো কবিতাটার প্রতি অন‍্যায় করা হলো। এই বিপর্যয়কালীন আবহাওয়ায়, পুরো কবিতাটা পড়েই
    কেমন যেন মনে জোর পেলাম। ব‍্যাখ‍্যা করতে পারবো না। আমি কেবল সংক্রমণে বিশ্বাসী। যে কবিতা পড়ে হৃদয় সংক্রামিত হয় লেখার জন্য, আমার সীমিত চিন্তায় তাই আমার কাছে ভালো কবিতা।

    সুকৃতি সিকদার,
  • বারবার পড়ি। বারবার ফিরে আসতে হয় অনুপমের কবিতার কাছে। আপ্লুত।

    Bidisha Sarkar,
  • ভাল লাগল লম্বা মানুষ আর আস্তিক। তোর লেখা বদলে যাচ্ছে। এটা আরও ভাল লাগল।

    অংশুমান কর,
  • Your email address will not be published. Required fields are marked *