Categories
কবিতা

উমাপদ করের গুচ্ছকবিতা

ওলটপালট চাঁদমারি


পাবলিকের আর ষোলোকলা চাঁদ দেখা হয় না, বেচারা
       ছিলিম আর মিছিল শব্দ দুটো চোখ ঠারাঠারি
গাঁজা টানা চাঁদ বেঁকে থাকে আর কল্প-দড়ি ওঠাতে চায় বারবার
       পালবিক-মিছিল ব্যারিকেডে হুমরি
           জলকামান থেকে ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের বাষ্প
              টিয়ারগ্যাসের কোনো উইল খুঁজে না-পেয়ে
পাবলিকের পালক খসে বিন্দু বিন্দু ঘাম, ব্যারিকেডে আয়েশ
              পাবলিক স্বস্তিতে অস্বস্তি মিশিয়ে ফেরে

প্রতিবাদকে দেদার ধমক দিচ্ছেন যারা, তাদের ছাদে পূর্ণচাঁদ
              গাঁজা ছেড়ে কাজু-কিসমিস হয়ে আছে পাত্রে
                        পাশেই গ্লাস ভেজা নেশা নিয়ে চাঁদের প্রতিবিম্ব দেখছে
                            আনমনা তরলে

চাঁদকে পাবলিক মন্ত্রী-প্রধান বলে জানে
              যার ছাদের মালিকানা ভাগ-বাঁটোয়ারায় চন্দ্রমল্লিকা ফোটাতে থাকে…

০৪/০৩/২০২০


ঘর নেই, বাসর জেগে হাসির ঝলক ঘরের ভেতরে
        আঁতুড় নেই, বাসর জমেছে গানে নাচে
           ঘরের বারান্দায় মৃতদেহ রাখার জায়গাটায় ধূপকাঠি পোড়ে
        বাসর ভোরঘুম থেকে হাই তুলছে
                আজ কালরাত্রি

ঘরের খোলস পড়ে আছে উঠোনে
        বাসরের ছবি ভাইরাল
     আঁতুড় নেই তো মৃতদের শ্মশানই গোটা রঙ্গভূমি…

ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় মেঘেদের মণ্ড নেমে এসে কালো করছে, আজ কালরাত্রি

০৫/০৩/২০২০


জ্বলছে নিভছে আলোটা রাতের রাস্তা গুলিয়ে দিয়ে
        দিনে এই রাস্তায় কত রকমের মিছিল
           কালো কাপড়, লাল কানি, সবুজ লংক্লথ

শহরটা ধোঁয়া নির্মিত, মনের আগুন ময়দানব
        খুলিসমাচারে এক বালিকার বমি রেস্টলেস
            তারজন্য হাসপাতালের ফ্লোর-বেড হয়তো প্রস্তুত

ঘুম আসে না ছোট্ট আর্শির, বন্ধ ঘরের বিছানার ছটপটানি
        জুলুম প্রবেশ করানোয় মুখচাপা গোঙানি,
            জবরদস্তি গলায় ঢেলে দেওয়া কী একটা…

বাইরে ছেটানো লোটা আধপোড়া কম্বল জখমি বাস্তুসাপ
        সাদা-কালো ছবি আজকের দৈনিকে প্রথম পৃষ্ঠা হতে পারত
            হাতকাটা দিলীপ ভেঙেছে লেন্স

আসুন, দাওয়ায় বসুন, নিমগাছটা এদিকেই কোথাও একটা ছিল
        আসুন, ঘরে ঢোকা যাবে না এখন
            আসুন, বসে থাকি, যতক্ষণ না কালো ভ্যানটা আসে…

রাতে একটা মিছিল হতেই পারে, জ্বলা-মোম গলে গলে পড়তে পারে বুড়ো আঙুলে

০৭/০৩/২০২০


যারা গলা ফাটিয়েছিল খুব, রক্ত ওঠে ওঠে
        তাদের ছায়া দেখতে পাচ্ছি
     সূর্যের ঢলে দীর্ঘ হতে হতে ঝপাস
            অন্ধকার বোতল খুলল

ছায়াদের একই হাত মুঠো ভরতি চকলেট আর বোম ছড়ালো
        রণ-পায়ে দাঁড়িয়ে বয়মের সাপগুলোকে
            নেড়েচেড়ে আদরও করল, শীতঘুম জাগিয়ে ছাড়া হবে
        চুমু খেয়ে এক ছায়া নীলকণ্ঠ, নমুনা প্রয়াস

ফ্রেমটা ভাঙবে প্রত্যাশায় থেকে নিজেই নিজের ছায়া ভাঙছে
        কোণ বদলে যাচ্ছে, এক-আধটা সরলরেখা নিখোঁজ
      চৌকো, ত্রিভুজ, গোলমতন, পাগলপারা হাসি
                পলাশ-ঠোঁট থেকে

সারাদিন ছায়ারা ডেকেছে আমাকে সঙ্গী হতে
        আমি কি ছায়া হতে পারি!
            রক্ত তুলিনি গলায়
                কলমের কালি বমি করেছি শুধু
        ও-আর-এস শান্ত করতে পারেনি ঘুম ফিরিয়ে,
                কার্বোলিক আসিড উধাও বাজার থেকে…

১০/০৩/২০২০


হাতের বিরুদ্ধে হাত যেতে পারে, যায়
        লাঠির মোকাবিলায় তেল চকচকে রাম-দা

কণ্ঠের বিপরীতে কণ্ঠ বাজপাখি হতে পারে
        দুই যুক্তির মল্লযুদ্ধ ভুষোমাটিতে, রেফারি ছোট্ট করতে গেছে

মৃতের কাহিনি উঠে আসে জীবিতের রেফারেন্সে
        মুখ আর মুখোসের এত জানিচিনি

আগুনের প্রতিপক্ষ দমকল এসে দম হারায়
        অনেক সংখ্যার নিরিখে নুলো-সংখ্যা পুড়তেই পারে

ইজমে ইজমে রাঙা দেয়ালের মধ্যে কোনো এক পক্ষের ফাঁকা সাদা বক্স
        তালা-চাবি সংগতে ওস্তাদ যাদুকর গেয়ে যেতে পারে দেশ-রাগ

ওরা কী-সব গায় মহান অবতার! স্বরে সুরে মেলে না, অপরদেশি সুতরাং
        সওয়ালের বিরুদ্ধে সওয়াল ঝ্যান-চাক নাচতেই পারে কাঠপুতলির ফ্লোরে

দেগে দেওয়া কামান বুকে ছাপ হতে পারে বাচ্চেলোগ, থোড়া সামহালকে
        হাতের বিরুদ্ধে হাতি কণ্ঠের বিরুদ্ধে ঘণ্টা আর যুক্তির বিরুদ্ধে যাদু

শিস দিতে দিতে রাষ্ট্র, শক্তির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে আলোর ঝরনাকে…

১১/০৩/২০২০

3 replies on “উমাপদ করের গুচ্ছকবিতা”

উমাদার কবিতা মানেই অন‍্যমাত্রা যোগ হওয়ার কথা। এখানে সেটাই বিদ‍্যমান। খুব ভালো লাগল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *