কেদারনাথ সিং-এর গুচ্ছকবিতা

ভাষান্তর: শানু চৌধুরী

দুপুর

একটা কবিতার পঙ্‌ক্তি
রোদ আর পাতার কথাবার্তায়
ডুবে গ্যাছে

প্রখর সূর্য
আর ঢাল থেকে নেমে আসা মানুষের মাঝে
কেবল একটা পাতার দূরত্ব রয়ে গেল

এই সময়ের রাস্তায়
এমন কেউ নেই
যে সবার সমকালীন

***

নগ্ন পিঠ

চলে যাচ্ছে যে মানুষটা, তাঁর নগ্ন পিঠ
রোদের আলোয় চকমক করছিল

একটা কুকুর তাঁকে দেখে
প্রচন্ড ডাকল
তারপর আমাকে শুঁকতে শুঁকতে
আমার গন্তব্য অবধি সে এল

এরপর আমরা দু’জন
একটা কথায় সহমত হলাম
যে মানুষের নগ্ন পিঠ তাঁর চেহারার থেকে আকর্ষণীয়
এবং তর্কসংগত

***

সূর্যাস্ত

আমি জল দেখলাম
সুন্দর টলটলে জল

তারপর আমি নিজেকে বললাম
জলের অর্থ হলো কথা বলা
মানুষের দাঁড়িয়ে থাকাও জলের অর্থ

শুধু গাছের সবুজ হওয়া
জলের অর্থ হতে পারে না

একঝাঁক পাখি আমার মাথার উপর থেকে উড়ে গেল

আমি বললাম কাল
কাল এখানেই দেখা হবে
যদি সময় থাকে
আমার জল আমার শরীরের সাথে যদি থাকে

এখানেই দেখা হবে
তারপর আমি সূর্যকে দেখলাম
যাকে দেখে আমার বয়ঃসন্ধির কথা মনে হল!

***

নাম
সফলতা পাওয়ার নেশায়
যখন এতদূর এলাম
তখন বুঝতে পারলাম
যে প্রতিটা নাম হল এমন পাখির বাসা
যেখানে কোনো পাখিই তাঁর শিশুদের জন্ম দেয় না।

কবি পরিচিতি:

কেদারনাথ সিং-এর জন্ম ১৯৩৪ সালে উত্তরপ্রদেশের বাল্লিয়া জেলায়। তিনি বারাণসীর উদয় প্রতাপ কলেজ থেকে স্নাতক এবং পরবর্তীতে কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং পি. এইচ. ডি করেন। কিছু সময়ের জন্য গোরখপুরে হিন্দি ভাষার শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন, তারপর নয়া দিল্লির জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটিতে হিন্দি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তাঁর কবিতার মূল মেরুদন্ড হল সরলতা আর এই সরলতার দ্বারাই তিনি সব জটিল বিষয়কে প্রকাশ করতেন বা রূপ দিতেন তাঁর কবিতায়। তিনি কবি হলেও একাধারে ছিলেন সমালোচক ও গদ্যকার। একাধিক পুরস্কারে তিনি পুরস্কৃত। যাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— জ্ঞানপীঠ পুরস্কার, সাহিত্য আকাদেমি, জীবন ভারতী সম্মান, দিনকর পুরস্কার ইত্যাদি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার বইগুলো হল— অভি বিলকুল অভি, জমিন পাক রহি হে, আকাল মে সারাস, তলস্তয় অউর সাইকেল আরও নানান সৃষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর কাব্যভাষা। এছাড়াও কল্পনা অউর ছায়াবাদ, মেরে সময় কা শাব্দ প্রভৃতি বইতে ধরা আছে তাঁর গদ্যের জাদু। আমার করা ভাবানুবাদ চারটি তাঁর ‘জমিন পাক রহি হে’ কবিতার বই থেকে করা। এই হিন্দি সাহিত্যের খ্যাতনামা কবি ২০১৮ সালের ১৯ শে মার্চ পরলোক যাত্রা করেন।

Spread the love

8 Comments

  • বাহ। খুব সুন্দর অনুবাদগুলি

    jatiswarofficial,
  • দারুণ কবিতাগুলো

    স্বরূপ সুপান্থ,
  • খুব ভালো অনুবাদ।

    শীর্ষা মণ্ডল,
  • খুব সুন্দর অনুবাদ।

    শতানীক রায়,
  • ভালো লাগল।
    প্রথম কবিতার শেষ শব্দ ‘তর্কসংগত’। এখানে, এই কবিতায় যার মানে ন্যায়সংগত বা যুক্তিসঙ্গত।
    কবি উত্তরপ্রদেশের বলিয়া জেলায় জন্ম গ্ৰহণ করেন। বাল্লিয়া নয়।
    হিন্দি থেকে ভালো কবিতা বাংলায় আরও অনুবাদ হয় দরকার।

    সঞ্জীব নিয়োগী,
  • কি সুন্দর ও সাবলীল অনুবাদ।

    Bodhisattya Pal,
  • ভালো লাগল অনুবাদ❤

    SOU,
  • অসাধারণ অনুবাদ

    শুভঙ্কর রায়,
  • Your email address will not be published. Required fields are marked *