Categories
অনুবাদ কবিতা

জুলিও পাভানেত্তির কবিতা

ভাষান্তর: বিপ্লব মাজী

[১৯৫৪, জুলিও পাভানেত্তি উরুগুয়ের মন্টেভিডিও-তে জন্মগ্রহণ করেন। কবিতার আন্তর্জাতিক মানচিত্রে তিনি সুপরিচিত কবি ও সংস্কৃতি কর্মী। ১৯৭৭ থেকে স্পেনে বসবাস করেন। পৃথিবীর অসংখ্য দেশে কবিতা উৎসবে যোগ দিয়েছেন। ১০টির বেশি কবিতা বই আছে। ৪০টির বেশি আন্তর্জাতিক কবিতা সংকলনে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। নানা পুরস্কারের মালা তাঁর গলায়। ইতিমধ্যে পৃথিবীর ১৭/১৮টি ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত। ২০১৯-এ কলকাতায় অনুষ্ঠিত ইসিসার-এর বিশ্ব চিন্তাবিদ ও লেখক সম্মেলনে সস্ত্রীক এসেছিলেন। কবি দম্পতির সঙ্গে পরিচয় হয়। ‘Hidden Word’ কবিতা বইটি উপহার দেন। এখানে অনূদিত কবিতাগুলি তাঁর প্রকাশিতব্য ‘Exile Hurts’ বই থেকে নেওয়া।]

ভোর
[Aurora]

যেমন অনিঃশেষ সন্ধ্যা
গ্রাস করেছে
আমার অশ্রু সংগ্রহ

তোমার আবির্ভাব…

আর সবকিছু হয়ে উঠল আলোকিত।

নিশাচর
[Nocturnal]

জোনাকির আলো অনুসন্ধান করার সময়
নিরপরাধ অক্ষাংশের বাইরে
তুমি আমার হাতের ভাঁজ আবিষ্কার করেছ
যখন জোনাকিরা বিকেলের গোলাপি রঙে পালিয়ে গেছে
শিলাবৃষ্টি সাদা টুকরোর মতো
স্ফটিক পাত্রে নেচে নেচে।

আমি তোমার ছিদ্রগুলির গোপনীয়তা গ্রাস করেছি।
আমি তোমার দেহের গোপনে উঁকি মেরেছি
তীব্র আকাঙ্ক্ষার নিয়ে,
তোমার ত্বকের দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে
তোমার ঠোঁটের চুম্বনে পরাজিত,
রাতের ফেনায়িত স্বচ্ছতায়।

যখন ফিঞ্চটি তার বিজয়ী সুরটি তোলে,
আমরা দিগন্তের মধ্যে ডুবে যাই।

তোমার চোখ
[Your Eyes]

বিকেল তার অনন্ত থেকে পড়ে
মহান নদীর পিছনে আজ নিঃশব্দে নেমেছে।

তোমার চোখ আমাকে চুবিয়ে ডুবেছে
আর তার রোদভরা জলাধারে শান্তি।

পাল তুলে ভেসে যেতে যেতে, ঢেউ গুনে গুনে ক্লান্ত
তোমার বাঁকানো চোখের পাতায় নিশ্বাস ফেলি,
তোমাকে আমার স্বপ্নে খুঁজে পেতে চোখ বন্ধ করি।

উদ্ধার পেয়ে বেঁচে যাও
যখন আলো এক কোণে নীরব
আর সিবা গাছটি ঘুমায়
জলের বহুরূপী চুম্বকের ভেতরে।

এর ধোঁয়াশা সাম্রাজ্য ছিন্ন করো,
এর আয়নার নাচে ডুবে
তোমার মধ্যে থাকা তারাগুলির দৃষ্টিকে আরও গভীর করো।

এর মুক্তোগুলি বের করে,
আমার চোখে তোমার চোখ চিরায়ত করো,
সেগুলির মধ্যে নিমগ্ন হও আর অনুভব করো
আমি তো… তুমি।

শুধু আমরা দু-জন
[Just the Two of Us]

শুধু বৃষ্টি
আমাদের বিশ্বের বাইরে
শুধু আমরা দু-জন
অন্তরঙ্গ মহাবিশ্বের মধ্যে
যা আমাদের ছাতা।

জেগে ওঠার পরে
[Upon Waking Up]

ঘুম থেকে ওঠার পরে
আমি তোমাকে আমার কাছাকাছি আবিষ্কার করতে চাই,
তুমি ধীরে ধীরে দেহটা মোচড়ালে
আমার পায়ের মাঝে
অলসতা ঝেড়ে ফেলতে।
তারপরে, কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়াই,
তোমার পাপপূর্ণ গোপনাঙ্গের নেটওয়ার্কে
এবং প্রতিটি বাঁকে পিছলে পিছলে
কয়েক কিলোমিটার ভ্রমণ
যখন সূর্য দেখছে
জানালার ফাঁক গলে।

নির্বাসন আঘাত করে
[Exile Hurts]

দূরে, স্বাধীনতা ডাকে
আর এখানে নির্বাসন ক্ষত তৈরি করে,
আমাদের ভয় দেখায়, আমাদের ঢেকে ফ্যালে,
অনুপ্রবেশ করে আর ছুরিকাঘাত করে
যেন ছিনতাইকারী

নির্বাসন আত্মার গভীরে প্রবেশ করে
এবং বেদনা,
এত কিছু, যেন তার সামনে কেউ একজন
যে নারীকে তিনি ভালোবাসেন,
তবু চুমু খাওয়ার অনুমতি নেই।

আমি চাই…
[I Would Like]

আমি ভোর ভাঙতে চাই
আর এটিকে নিঃশব্দ সূর্যোদয়ে রূপান্তরিত করতে চাই
নিদ্রাহীন চোখে দেখতে চাই
কীভাবে মহাবিশ্ব তোমার মধ্যে স্পন্দিত।

আমি দিগন্ত আঁকতে চাই
তোমার ছড়িয়ে পড়া অক্ষিপটে
(আলোর পাপড়ি যা রাতের আগাছা জ্বালায়)
আমাদের চিরকালের স্বপ্ন যাতে হয়ে ওঠে।

বিশ্রাম
[Repose]

কবি বিশ্রামে আছেন

স্তব্ধ কলম শুয়ে আছে নিশ্চুপ
আকাশ ছাড়া
শূন্য কাগজে
টেবিলের কথা ভুলে গেছে

প্রকল্পিত যে-ছায়া
একটি কবিতার অভ্যন্তরীণ হৃৎস্পন্দন
যা এখনও ঘুমিয়ে আছে তার স্বপ্নে।

একটি কবিতাকে আলিঙ্গন
[Embrace of a Poem]

একটি কবিতাকে আলিঙ্গন
প্রজ্জ্বলিত করে আমার কবিতাগুচ্ছকে
আর যখন সূর্য ডুবে যায়
নিখুঁত পশ্চাদপসরণ।
আমি জিউসের নয় দেবকন্যার সাথে সংযুক্ত হয়েছি
আর তারপরে সময় থেমে গেছে।
আমি নিজেকে পৃথিবী থেকে আরও দূরে রাখি
আর আমি আমার স্মৃতিতে ডুব দিই।
একটি কবিতাকে আলিঙ্গন
নিখুঁত পশ্চাদপসরণ।

যুদ্ধসমূহ
[Battles]

আমাদের জীবন
একটি দুর্দান্ত সংগ্রহ
হারানো যুদ্ধের।
কখনো কখনো একটি জয়
অজ্ঞান এবং অল্পকালীন,
একটি ছোটো আনন্দ,
আমাদের এক মুহূর্তের জন্য ভুলে যেতে দিন,
যা সর্বদা প্রাধান্য পায় তা হল
পিছু হটা
যা ঘটে, একের পর এক,
একটি দীর্ঘ প্রস্তাবনা
সর্বশেষ পরাজয় পর্যন্ত,
চূড়ান্ত এবং অসীম।

One reply on “জুলিও পাভানেত্তির কবিতা”

কবিতা ও অনুবাদ, দুই-ই ভালো. সমৃদ্ধ হলাম.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *