Categories
কবিতা

তনুজের কবিতা

নাইটশিফট

পূর্ণিমার রাত বলতে
পুন্নিমা দাসের কথা বলছ?

পোস্ট কেমো, এক খিলি পান মুখে, চাঁদ চাঁদ,
এছাড়া কৈবর্ত, সে সূত্রে মাছ-মাছ

যার স্বামী আসে না, এলে মনে করিয়ে যায়,
মেরেকেটে আর একমাস টানতে পারবে?

কত রাইত কেমনে বুঝি?
রাইত বাড়লেই বুকের ভিত্রে মুড়ির ডিব্বা বাইজ্যা উঠে।

অধুনালুপ্ত কাট-আপ পদ্ধতিতে
এই দীর্ঘ কবিতাটি লিখেছেন কার্সিনোমা লাং, স্টেজ ফোর খ্যাত

স্বপ্না শীল, রাণী ঋষিদাস, পিঙ্কি যোসেফ।

দ্য এম্পারার অফ সাইনস বললেন:

নারী ও পুরুষ বড়ো সরলতা, যদ্দিন
ওয়ার্ডবয়-ওয়ার্ডগার্ল, মারি ও ময়ূর, শীত ও পাপোষ,
পাখির লালাভ পাখনা ও গান
রয়েছে এই পঞ্চভূতে

বিলীন হয়ে, প্রকাশিত হয়ে।

মরফিন, মরফিন?
অর্ফিউস, অর্ফিউস?

গুলাবকে যে নামেই ডাকো,
ঠুংরি শুনিয়ে যাবে।

আর কোনো ভয় নেই, ছেলেটিও বলে
আর কোনো ভয় নেই, মেয়েটিও বলল

এই চলে যাওয়া ড্রিল নয়, সন্তানতুল্য।

ক্যান্সার ওয়ার্ডের বাইরে যত মৃত সৈনিক, স-ব পুরুষ,
শুধু তাদের ভেতরের নারীরা শাহীনবাগস্য জেগে আছে।

যার পেচ্ছাপের রং বস্তার কিংবা কাশ্মীর হয়ে গেছে,

সেই মানুষের মুখের প্রতি, ধার-দেনা করে বলছি, বিশ্বাস হারানো পাপ।

নার্সেরা সাদা জামা পরে মেল ওয়ার্ডে দাঁড়ানো,
রোগীরা খয়েরি চামড়া গায়ে বসে।

তবে তারও অনেক আগে, তাদেরকে ঘিরে

একটা পুরোনো খয়েরি বেল্টের গল্প ছিল।

মোমেন্টো মরি—

ঐরাবতকে ঘুমোতে বললে এতদিন সে ঘুমোতে যেত,
নালন্দা ও পাহাড় ভেঙে।

১০

সকাল সাতটার খবরের কাগজ, সজলদার বৌয়ের
লাল চায়ের ফ্লাস্ক ও
আয়নার এই কুকুরটাকে আমি চিনি।

১১

অথচ যেই তার রিসার আঁচলকে
স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ভেবে ভুল করেছিলাম

হেরাক্লিটাস, ইউ নো!

তখনই বিস্তীর্ণ তাঁর রিসার আঁচলকে
উত্তর ত্রিপুরার কোনো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ভেবে
ভুল করেছিলাম

ডেমোক্রিটাস, ইউ নো!

অথচ একটা ঘরোয়া ইয়ার্কি ছিল, বনহোমি ছিল,
গ্রিক সাহিত্য, তার কমেডি, ট্রাজেডি, এইসব

অথচ এই দেখো আমি, আমিই লিখতে বসেছিলাম—
সোমবার : এসেছে লেটুসের দিন, চিত্রপরিমিতি, শাসকের শৈশব।

১২

পূর্বজয় রিয়াং—

রোগীর বয়স সাড়ে চার, রোগের তিন,
দশ ইউনিট রক্ত দেয়ার পরেও
ফ্যাসফেসে তেত্রিশ আরপিএম রেকর্ড বাজছে

প্লেটলেট কাউন্ট ছ-হাজার…
প্লেটলেট কাউন্ট ছ-হাজার

সুতরাং আরও চার ইউনিট চাই,এক্ষুনি

প্রতীচীন বিশ্বাসে হাতে বিন্দুমাত্র সময় নেই আর,
হতে পারে, তবে আমাদের বিশ্বাস, আমাদের সময়
ঝুলির একটি একক ব্রক্ষভূক বেড়ালের
লেজের শিখর যেন, বিন্দুবৎ, উড্ডীন
এবং বাতায়নে ফিরে ফিরে আসে

প্রাচ্যের কোনো হাসপাতালে, রাতে, এইরকম সন্দর্ভে
সেই সর্বানুভূ ঈশ্বরের কথা ভাবি

যে ঈশ্বর স্বগত কলা ও কলহ,
প্রকারান্তরে ব্লাড ব্যাঙ্কের ইনচার্জ,
যিনি অর্থের দোক্তা ও দ্যোতনা মুখে বসে থাকেন,
ঘন ঘন বাথরুমে যান (ডায়াবিটিক? নিশ্চিত)

তিনিই আমাকে দিয়ে লেখান রক্তের মৌ, আবার নিজেই
কুটি কুটি করে ছিঁড়ে ফেলে দেন

যার নিখিল আগ্রহ এই—
পূর্বজয় ফুল হয়ে ফিরে আসবে
বাগানের দক্ষিণে, করমচা গাছে।

লোকজ ধারণা হল পূর্বজয় সেই থেকে ফুল।

7 replies on “তনুজের কবিতা”

ভাষার ডিসকোর্স নিজস্বতা তৈরি করেছে অনেকটাই

একদম ভিন্ন জাতের ভাষা। ভিন্ন জীবনের স্বাদ। দারুণ।

তনুজের কবিতা সবসময় অন্যরকম কথা বলে, অন্যরকম ছায়া ফ্যালে…

এভাবে প্রফেশনাল এক্সপেরিয়েন্সকে, প্রফেশনাল ইম্পালসে ট্র্যান্সফর্ম করানো যায়, এ সিরিজটা নে পড়লে সে অভিজ্ঞতা অনর্জিতই থেকে যেত । ধন্যবাদ তনুজ । যে কাব্যভাষা আবিষ্কার করে নিলে, আরও কিছুদিন তাকে বহন করে চলো । শুভেচ্ছা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *