Categories
কবিতা

বিপ্লব চক্রবর্তীর কবিতা

রা ষ্ট্র কো নো বি ষ য় না

শোনো
রাষ্ট্র কোনো বিষয় না
‘কৃষ্ণ কোথা গেল’ উড়ে যায়
সোনার জল করা তোমার মুখ

আর কী শূন্য খুঁজছ তুমি

জানো
যেখানে আমাকে নির্বাসন দিলে
এক রূপসী দোকানদার
জিলিপিপম ও কী বানায়
আমি একটা কিনে খাই
আমার মায়ের কথা মনে পড়ে
আরও একটা কিনি
ছয় টাকা দাম হয়
আমি দু পাঁচ কয়েন দিই
রূপসী আর এক ফেরত
দিতে পারে না
পাশে যে আর এক
সুন্দরী দোকান
আর এক রূপসী যেখানে হোমিওপ্যাথি ওষুধ বেচে
মনে পড়ে
ওষুধ কিনেছিলাম কোনোদিনে
টাকা এক বাকি আছে
বলি
পাশের জনকে দিয়ে দিও
রূপসী উত্তর করে না
কী এক জিলিপিপম
তৈরি করে যায়
পাশাপাশি দু দোকানি
পাশাপাশি দু রূপসী
ওষুধ আর মিষ্টি বেচে
পাশাপাশি দু জন
দু জনা এক রূপে

এ সব শুনে তুমি আশ্চর্য হও

না

আমি যে রূপসীদের দেশে

জেনো
রাষ্ট্র বলে কিছু নেই

আকাশে আলপনা দিয়ে
কীভাবে ঘরে ফেরে
পাখিরা
তুমি দেখনি

দেখো
সোনার জল করা তোমার মুখ

শোনো
রাষ্ট্র কোনো বিষয় না


রাত ফেলে রেখে মাটিতে
আর দুপুরকে পকেটে নিয়ে
ঝুলে ছিলে

মুহূর্তে পিঁপিড়ার সারি
তোমার শরীর বেয়ে উঠে আসলে
অকারণ লিখে গেলে
যাদের ইতিহাস

পুলিন্দ শব্দের মানে ভুলে ছিলে
জোর করে
উদকের বদলে এঁকে দিলে স্তন
ভ্রমণ বলতে ভাবলে প্রেমিকার বান্ধবী
একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের খোঁজ পাওয়া যাবে জেনে

জেনো
রাষ্ট্র কোনো বিষয় না

মুহূর্তে পিঁপিড়ার সারি
তোমার শরীর বেয়ে উঠে এলো
আর
অকারণ লিখে দিলে তুমি
তাদের ইতিহাস

স্বাধীন রাষ্টের লোভ খুব তোমার

রাষ্ট্র কোনো বিষয় না

জেনো
রাষ্ট্র কোনো বিষয় না


শোনো

রাষ্ট্র কোনো বিষয় না

দেখো

কেউ মুখোশ খোলেনি
একটা পাল্টে আর একটা পরার ফাঁকে
উচুঁ দাঁত ফাটা ঠোঁট ট্যারা চোখ
চোখে পড়েনি কারও

শোনো

স্মৃতি শব্দ বড় পুরোনো এখন কবিতায়
তলপেটে জমা করা দলাপাকানো যে রাষ্ট্রের স্মৃতি
তোমার
সফল অস্ত্রপচার হোক এবার
স্মৃতি শব্দ বড় পুরোনো এখন কবিতায়

কোথায় মেলে জানো বাতাবির হৃদয়

শোনো

রাষ্ট্র কোনো বিষয় না


জিরাফদের হত্যা করা হলে
তোমার পাতে গলাকাটা মাছেরা ভিড় জমায়

গাছেদের যৌনাঙ্গ
লোকটা চিরকাল খুঁজে বেড়িয়েছে

মৃত জিরাফ আর শোষিত ঘোড়াদের সমর্থক আমি
আমাকে নাকি একটা কৌটোর ভিতর পুড়ে রাখা হবে

বেশ তো

মূর্খ জানে না
বাতাসী নৌকোয় সেখানে রোজ
ভোর থেকে সকাল বা রাতেদের গতায়ত
তখন রাষ্ট্র কোনো বিষয়ই না

জেনো রাষ্ট্র বলে তোমার কিছুই নেই
শুয়ে থাকে রোজ
রাষ্ট্রের শিশ্ন
ভাঙা চাঁদেদের পাশে

জোর করে ডানা ভেঙে
মাথা মুড়িয়ে দিলে যে কাকেদের
শুনো
তারা চিৎকার করে

রা ষ্ ট্র কো নো বি ষ য় না আ আ আ

4 replies on “বিপ্লব চক্রবর্তীর কবিতা”

মজাটা হল এই এইমাত্র আমি একটা পোস্ট করলাম এরকম- “শরীর শরীর তোমার মন নাই রাষ্ট্র”। সত্যি রাষ্ট্র যে কত বড় বিষয় টের পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে। প্রথম কবিতাটা পড়িয়েছিলে। আমি লিখেছিলাম এর স্পিরিট আর অ্যান্টিপোয়েট্রির গুণের কথা। খুব খুব ভালো লেখা। সাবালক ও সাবলীল ।

তোমার কবিতার কাছে পৌঁছাতে পাঠকের হয়তো সময় লাগবে। আমি ভালো খারাপ বলার কেউ নই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *