বিশ্বজিৎ লায়েকের গুচ্ছকবিতা

খোয়াব

মুক ও বধির এক নদী পড়ে আছে বিছানায়
দু’পাশে ফুটেছে কাশ
ভাঙাচোরা এই সিঁড়ি ঘাট মাঝি জানে না নৌকার ইতিহাস
ভাবে বোবা হয়েই কাটিয়ে দেবে ইহকাল
এসো, আজ আর ঝিমোব না ঘুমোব
তুমি জেগে থাকো অনন্ত নরকে
আকাশে ফুটেছে চাঁদ, দেখো তার কঙ্কাল

আহা

বলো কী কী লিখব! ঈর্ষার পাশে হলুদ নাকচাবি। গুজবের পাশে ট্র্যাপিজের খেলা।তোমার কোনো ঘর নেই। পড়ে আছে শীত।নীল গামছা। নিংড়ে নেওয়া ভুলচুক। ইচ্ছেমতো প্যাজ পয়জার, প্রবল ঘাম আর ফেলে আসা শাঁখা-পলা-টিপ… তুমি এইভাবে সাজাতে চাওনি ঘর। রাতের ভিতর ছুঁড়ে দিতে চেয়েছ ঘুম, সংকলন, ক্ষেত ও ফসলের স্বপ্ন। বিছানা জুড়ে লিখতে চেয়েছ দ্রবীভূত সন্দেহ, বিপরীত নিদান।
জানালা থেকে এক-একটা পর্দা নামাতে নামাতে দেখলে ভাঙা দেওয়ালের গায়ে আবীর। আকাশে উড়ছে ঘুড়ি রং মেঘ। হা কিতকিত হা কিতকিত হা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানুষের গল্প নিয়ে ঈশ্বর এসে ডুব দিলেন গোপন জলে। শরীর তার খুশিতে ডগমগ।
ঈশ্বর নেচে উঠলেন, এইতো মুখে মুখে কবিতা বানানোর আসল মোড়। এইতো ফুটবল হাত, পা, মাথা, পেট, লিঙ্গ, নাভি…
আমি ভয় পেয়ে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিলাম কালরাত্রি।

শূন্য থেকে শুরু

ধীরে ধীরে হাওয়া লাগছে নিজস্ব আঘাতে
থাক না— এ আমারই অক্ষত নিরাময়, প্রিয় দুর্যোগ
ককর্টরেখা শোনো আমি আর কোথাও যাচ্ছি না
আমাকে নিবৃত্ত করো হে পূর্ণ বৃত্ত

আলোকবর্ষ দূরে ডুবে আছে যে-প্রেম ও বিয়োগ
আকাশে আজ তাঁর সোয়াবিন চাঁদ
তুমুল রাত্রি খুলে দেখব একা একা পড়ে আছে
না লেখা কবিতা
আমার দীর্ঘ জয়-পরাজয়

সবুজ পাতায় রান্না করেছে কারা
ভাত-ডাল মেখে কারা রেখে গেল পুর্নজন্ম
ভাষা নেই শুধু অতীত নিয়ে শান্ত খেলা ঘর, গর্তের ওম

গণিত


ব্যক্তিগত ঘুম মুড়ে
শালপাতায় লিখেছি উপেক্ষার শোক


খিদে নামছে হু হু
যতটা নামলে ভয় পাবে শুদ্ধ মফস্বল


দু’ফোঁটা দুঃখ
ঘুরে বেড়াচ্ছে আর্কিমিডিসের জলে


লন্ড্রির ভেতর জেগে আছেন
ফ্রয়েড ও ঈশ্বর


আমিই আমার পূর্বপুরুষের অ্যালজেব্রা

নীলরাত্রি

বলো কী কী লিখব! ঈর্ষার পাশে হলুদ নাকচাবি।
গুজবের পাশে ট্র্যাপিজের খেলা। তোমার কোনো ঘর নেই।
পড়ে আছে শীত। নীল গামছা। নিংড়ে নেওয়া ভুলচুক।
ইচ্ছেমতো প্যাজ পয়জার, প্রবল ঘাম আর ফেলে আসা শাঁখা-পলা-টিপ…
তুমি এইভাবে সাজাতে চাওনি ঘর।
রাতের ভিতর ছুঁড়ে দিতে চেয়েছ ঘুম, সংকলন, ক্ষেত ও ফসলের স্বপ্ন।
বিছানা জুড়ে লিখতে চেয়েছ দ্রবীভূত সন্দেহ, বিপরীত নিদান।
জানালা থেকে এক-একটা পর্দা নামাতে নামাতে দেখলে ভাঙা দেওয়ালের গায়ে আবীর।
আকাশে উড়ছে ঘুড়ি রঙ মেঘ।
হা কিতকিত হা কিতকিত হা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানুষের গল্প নিয়ে ঈশ্বর এসে ডুব দিলেন গোপন জলে।
শরীর তার খুশিতে ডগমগ।
ঈশ্বর নেচে উঠলেন, এইতো মুখে মুখে কবিতা বানানোর আসল মোড়।
এইতো ফুটবল হাত, পা, মাথা, পেট, লিঙ্গ, নাভি…
আমি ভয় পেয়ে ফু দিয়ে নিভিয়ে দিলাম কালরাত্রি।

খোয়াব

থুতু ছিটাতে আসিনি প্রভু
থুতু গিলতেও না
ইচ্ছেমতন শুয়ে থাকব
বাঁ পাশে কি ডান সেটা প্রশ্ন নয়রে বোকাচোদা
প্রশ্ন হল শুয়ে থেকেও কীভাবে গুলিয়ে দিচ্ছি মাথা

ক্লোন

বিষণ্ণ ফসলের ডিম নিয়ে
রান্নাঘরের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন
একটি মানুষ

শরীরে তার সর্বভূত, ডুব ও সাঁতার
শমিত জিহ্বার লবণ আর সঞ্চয়ে রেখো না
ক্রোমোজোম

সবক’টি জন্মদিন তোমাদের দিকে পাঠিয়ে দিলেন তিনি
আজ আবার উপচে পড়ছে গীতবিতান

Spread the love
By অ্যাডমিন কবিতা 1 Comment

1 Comment

  • অনবদ্য ! কী ভালো লেখো ভাই ! আহা ! বেঁচে থাকো !

    মধুসূদন দরিপা , বাঁকুড়া,
  • Your email address will not be published. Required fields are marked *