Categories
কবিতা

বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়ের গুচ্ছকবিতা

ঠাকুমা

হেমন্ত শেষের রোদ্দুর
ক্রমশ নরম হয়ে আসে।
বাতাসে শীতের মৃদু সুর
ভাসিয়ে ধুনুরি যায় আসে।

আকাশে মেঘের পেঁজা তুলো
ঢুকে যায় শালুর ওয়াড়ে।
পুবে ঘর। জানলার ধারে
ঠাকুমা লেপমুড়ি দিয়ে শুলো।

তারপর সেই চৈত্রমাসে
আমাদের গ্রামে সে কী ধুলো!

***

নান্দনিক

বীরভূম প্রত্যন্তে কিছু ছোটো ছোটো তালবৃত্তে ঘেরা
সান্ধ্য গন্ডগ্রাম—

বিশ্ব মানে তো এই?…

ট্রেনের বাইরে একা সাঁওতাল মেয়েটি তার চোখে
এই প্রশ্ন এঁকে
যখন উধাও… আমি জানলা দিয়ে পরের স্টেশনেই
বিশ্ব নয়
নন্দলাল বসুকে দেখলাম।

***

ধাঁধা

দরজা ভেতর থেকে হুড়কো দেওয়া
ঘরে কেউ নেই—

বাইরে দাওয়ায় বসে আকাশ পাতাল
ভেবে যাচ্ছে ঘরের মানুষ।

***

জ্বলন

ওলো পিদিমে দিস সলতে—
এই কথাটাই বলতে
সাঁঝ-আঁধারে দৌড়ে এলাম
নিজেই জ্বলতে জ্বলতে।

***

বনফুল

বনের ফুল
তুলনা সে তো নিজেই!
তুলো না, থাক্!

14 replies on “বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়ের গুচ্ছকবিতা”

প্রিয় কবি : বরাবরের মতো প্রিয় এই কবিতাবলী!

নান্দনিক আর ঠাকুমা এই দুটি কবিতা ভাবতে ভাবতে দিন মাস বছর এমনকি জীবনও কেটে যেতে পারে।
এতটুকু ঝংকার নেই শব্দের তবু কী অতল গভীরতা!
বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়ের কবিতা আমার কাছে এক মায়াময় টেক্সট।
চোখের সামনে ঝুপ ঝুপ করে সন্ধ্যা নামে।
কবিকে প্রণাম।

নান্দনিক আর ঠাকুমা এই দুটি কবিতা ভাবতে ভাবতে দিন মাস বছর এমনকি জীবনও কেটে যেতে পারে।
এতটুকু ঝংকার নেই শব্দের তবু কী অতল গভীরতা!
বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়ের কবিতা আমার কাছে এক মায়াময় টেক্সট।
চোখের সামনে ঝুপ ঝুপ করে সন্ধ্যা নামে।
কবিকে প্রণাম।

যথারীতি অসাধারণ সব কবিতা। এতো নিঁখুত আন্ডারস্টেটমেন্ট অথচ এমন বাঙ্ময়। আহা। কবিকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম ।

ঘরে বসে আকাশ পেরিয়ে যাই এসব কবিতা পড়তে পড়তে। অতি প্রিয় কবি। প্রিয় মানুষ।

বড্ড সত্যি সরল কিছু সংলাপ নিজের ছন্দে পড়লাম….. শুনলাম। প্রণাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *