Categories
কবিতা

ভাস্বতী গোস্বামীর কবিতা

ছেড়ে এসেছি মুঘলসরাই ১

বৃষ্টির কিনারে কিনারে পাখি
আর গানে যাচ্ছে দিগন্ত
কবিতা লিখবে বলে কাস্তেরা ঘুরে এসেছে শিশির
ধানের দুধে বুঁদ ফড়িং চাঁদের গায়ে লেপ্টে যাচ্ছে

এই পর্যন্ত লিখেই থামতে হল। তুমি এর মধ্যে দিগন্ত পেলে কোথায়? বৃষ্টিভেজা সে-ই যে— এখন এক অন্য আলোয় রুমাল পাতা থাকে

পেয়ারা গাছের ডাল দিয়ে সূর্য নেমে আসছে
কবিতা ডিজিট্যাল হতে চায় কেন?
মার্বেলে আমার কিউপিড জাগে
গ্র্যানাইট জাগে
হাত-পা-মাথা-কাঁধ-পেশি
আরও কী কী সব লাগে একটা মাঠ হয়ে যেতে

চাঁদকে টুকরো করে রেখে গেছে কেউ। তার স্রোত গড়িয়ে যাচ্ছে। এসো দিগন্ত। এবার মেলাই। কাঁঠালপাতার মণিপুরিতে বুলবুলি বাসা করতে চায়। পেন্সিলগুলো পরপর ‘এ’ লিখে যাচ্ছে। আমি হতাশ। ইশারা এত ডিজিট্যাল হয় কেন? কবিতা হবে বলে ওখানে একটা পাহাড় হয়েছিল, একটা চাঁদও টুকরো হল

ছেড়ে এসেছি মুঘলসরাই ২

শেষ বিকেল খুব শান্ত হলো। গোর্কির গাঁ একলা বরফের ডুবোপাহাড়। নাকের ওপর টুপি চাপিয়ে মেষপালকেরা নেমে যাচ্ছে। একটা শান্ত রাস্তা ধীরে ধীরে উঠে বসল। প্লেটের ওপর রেখে দেওয়া ছুরি চালিয়ে নিখুঁত মাপে কেটে নিল জঙ্গল। চোখের কোণে তখন অকারণ কুয়াশা। ঝাপসা নামছে। পাখিরা এক এক করে ভুলছে অপেক্ষা। দিকের শিকারী। তোমার হাতে একটা প্রতিবিম্ব রেখেছি। তাতে আয়না পড়ছে। ল্যাণ্টার্নের স্তিম পড়ছে। এ সবই শুরু হয়েছিল বৃষ্টিপাতা থেকে। মেঘ নির্মাণের কাঁচগুলো আজও বদলানো হল না।

নোনতা আলোয়…

ছ’ ফিট দূরত্ব মেপে
আমার আঙুল ঝাউবন
সাগর শিখে গেলে
কুয়াশা কেঁপে যায়

ইলিশ ধরতে লোনা হওয়া
মোহনায় মাপা অক্সিজেন
দীর্ঘ সময় নিয়ে জাল বুনে
বেঁধে রাখি দরজা-দেয়াল

নুনের সঙ্গে চাঁদ লেগে থাকে
গোসল যেমন
জালের সুতোয় জড়ানো খিদে
ইলিশ হয়ে যায়

আইসোলেশন বড় হয়ে যাচ্ছে
ঝাউবনে জোয়ার, গন্ধকে আঁশ ভাবে
ঘেমে ওঠা বালিয়াড়ি
মাস্ক ফেলে দেয়…

ফসফরাস

যাই ভাবলেই যাওয়া হয় না
দূরে কোথাও চিঙ্গারি
পমফ্রেট ভাজা হচ্ছে বালিতে
ভেজা খাম তাকিয়ে
হাতের ওঠা-পড়ায় ঠন্ পড়ে যায়
আঁশ-লঙ্কা-কাম
ঘ্রাণ ফিরে যাচ্ছে
লবণে সাগরে
যেখানে যেখানে হাতের ঢেউ
ভিজিয়ে দেয় আলো
ডুবজলে একটা সূর্য অপেক্ষা করে…

মরণোত্তর

স্ল্যাশ সুইশ…
মেঘ উড়ছিল গ্যাংগ্রিন ভ্যালির দিকে
নিঃশ্বাসে কাঁচ কাঁটা পেরেক
আলো খুলে ঝাপসা হয়ে যায় টর্চ

বুউউউম্…
সীমান্তে যে চিনি বেচেছিল
সে একটা আপেল গাছ বয়ে এনেছে
ওখানে বদলে গেছে আপেলরা
বেল্টপরা মানুষগুলোও
চোখ ফেলে দিয়েছে নদীর খামে
উড়ে গেছে
ব্রেইন কিডনি প্যানক্রিয়াসে
লেগে থাকা ফেরার গন্ধ
বমির দাগ

জিঁ ই ই ই উঁ জিঁ ই ই ই উঁ…
মনসুন জুড়ে বাষ্প ভিজলো
নদী বদলালো, ডাঙাও
ডিফিকাল্ট টেরেইনে
ট্রাক পৌঁছোয় নি এখনো
দুধওয়ালা প্যাকেটে প্যাকেটে
পৌঁছে দিয়েছে শিশুদের হাততালি

ক্লিক্ ক্লিক্ ক্ল্যাপ…
এখন ফোঁটা ফোঁটা রক্তফুলে সাজছে পাহাড়
ক্যামেরা বেরিয়েছে, ট্রেকিং শ্যু-ও
এক কনভয় মরণোত্তর ফিরে যাচ্ছে রাজধানীর খাতায়…

4 replies on “ভাস্বতী গোস্বামীর কবিতা”

ভাশ্বতী দি আমার বড় প্রিয় কবি। এই কবিতাগুলি ওনার অনবদ্য সিগনেচার স্টাইল বহন করে। দিদিকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *