Categories
কবিতা

শতদল মিত্রের গুচ্ছকবিতা

মাধুকরি


যখনই বৃষ্টি পড়ে, আমি
যমুনার চরে রাত বসত করাই
যমুনা ফকিরি জানে ভালো
আঁজলা ভরা মাধুকরি—
অন্ধকারের আলো!


যমুনা নদীটি জলহীন দিনমান
রাত্রি জাগলে তবে হড়পা বান
দেখ আমি ডুবছি, ভাসছি
ও সাঁই, তোমার ছন্দে মৃত্যুও আসান!


দু-হাত বাড়িয়ে ছুয়েছি ভোরাই
আকাশ জোড়া রং—রক্ত
মরে যাই, মরে যাই সে জেগে ওঠায়
ও সাই, আমার হৃদয় জোড়া আনন্দ—ক্ষত!


দেখ কেমন চাঁদপানা পুন্নিমে রাত
যমুনার চরে জেগেছে জলের মায়া
ও সাই, দেখ বাড়িয়েছি দুই হাত
এসো ডুবি, যদি পাই জাতকজন্মের ছায়া!


আমি স্বপ্নে পাই তাকে এখনও
বলো গোঁসাই, এর কি মানে হয় কোনো!


শুয়ে আছে যমুনে চাঁদবিহীন
যেন প্রলয়পয়োধিজল
আহা! ভেসে যায় কালও সে ছায়ায় নিঃসাড়।
গোঁসাই হে— জীবনের ছল
এসো, দোহে
মৃত্তিকা দাঁতে চেপে, মৃত্যুরে করি পারাপার!


মারা যমুনায় তবুও তো ছায়া ফেলে
কৃষ্ণ মেঘ
বর্ষার অভ্যাসে বারবার
আমিও তো বিষণ্ণতা রোপন করি প্রত্যহ
গোঁসাই, একবার শুনো সে সজল-সলাজ হাহাকার!


যমুনার বুকে দেখো চুমু খায় ভোর—
গোঁসাই-গোঁসাই !
এখনও ভাঙেনি তোমার ঘোর!


নিলাজ জ্যোত্স্না হেসেছে বসন্তে
যমুনে তবু রাত্রিবিলীন
কৃষ্ণলীন একাকী আমি
বুকে জাগাই ক্ষয়-ক্ষরণ—
ও সাই,
আর আমায় মাখাবে না রং!

১০
যমুনার দেহে আহা, একাঙ্গী
আজ চাঁদ ও তৃষ্ণা!
মরে যাই! মরে যাই!
আমার সর্বাঙ্গে কৃষ্ণ-যাতনা আঁকি
ও সাই, রাত্রি সাক্ষী—
এ সুন্দরে মরতে চাই না আমি।

3 replies on “শতদল মিত্রের গুচ্ছকবিতা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *