Categories
কবিতা

শাশ্বতী সরকারের কবিতা


আমার শিরাকে তুমি চেনো, মণিবন্ধের
কোথায় সাঁকোর মুখ খুলে গেলে জল তোড়ে বইবে
কোথায় মাতার দেহ, পার্শ্বে আরও পাঁচভাই
পুড়েছে,
সে রাত্রে আমি ছিলাম না
এ-ও এক ব্যাসকূট
আমার শিরাকে তুমি খুলে দাও মণিবন্ধের


মণিবন্ধে তবু জাগে ক্ষতের অলক্ষ্য কুসুম
দূরারোগ্য বিষক্ষত, পিতার শুশ্রূষা অনিবার
সমস্তই খেলা আর তার মিছে পুনরাভিনয়
দেহপট সনে নট সকলই হারাবে
খসবে পেরেক আর ঠুকে তাকে কে ফের বসাবে!

রাধা-রাধা কাল আর পড়ে পাওয়া উঠানের ছায়া
আমার এ অন্ধনদী, জেগে ওঠা কোটালের ভান
ভোরডাল হতে এই অনামিকা খসে পড়ে যাওয়া
আধো আলাপের ওই দূরটুকু মাধবীবিতান


রাঙী বাছুরকে বলে আসি “যাই”
তোমার জামার গন্ধ ছবির মধ্য থেকে নিয়ে বলে ফেলি, “আসি”
এলাম ও পুকুর, নদী, মাঠ, ঝরা বেলপাতা
গোপনে পদ্মিনী নারী ক্যালেন্ডার উলটে দাগ দিচ্ছেন মাংসগন্ধে
বকুল ঝরা আলোমাখা বিকেলবেলায়
বাইক উড়িয়ে ওই আস্তে নেমে গেলে নদ দ্বারকেশ্বরে
যাওয়া আর আসাকে মুছে দেখেছি
পুরাতন মন্দিরচাতালে রোদ আর বৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে একজোড়া শিয়ালের
তারা মুখ বাঁকিয়ে হেসে ফেলছে অসম্ভব
জানে চলে যাওয়া যায়
অকারণ মেঘলা হলে
জল ঝরা বিকেলবেলায়

পায়েসের গন্ধে একশো পাওয়ারের আলো ফুটে ওঠে
তুমি বাড়ি ফেরো
তোমার পদ্মিনী তিনি শার্টের পকেট থেকে ফেলে দেন ‘এলিন’-এর গন্ধমাখা চুল


অসময়ে জ্বলে ওঠে মাধবীবাগান
একবার ছুঁলে

একবার ছুঁলে কত রোদ
শত তার অথির বিদ্যুৎ

ত্রস্তদেশে সন্ধ্যা বুঝি কপাল তোমার, ঘন শ্যাম,
সবুজ তোমার দেশ নেভে, আলো এই পুষ্পগন্ধ পায়…


আলোর বৃন্তে দ্যাখো ফুটে আছে আলোর মুকুল
এইটুকু ভরসার জল,
এ জল দুয়ারে ঘটের
কে এসে দুয়ারে দাঁড়াবে?
কার জন্য খুলে রাখো সমস্ত প্রহর?

কে দাঁড়ায়, কে হাসে জানি না।
কে আসে, চৈত্রের শেষদিনে ঝড়৷
ঝড় থেমে যাবে।
আলোর বৃন্তে ফোটা আলোর মুকুল সেই কথা জানে।


সব শূন্য মনে হয়
বুকের বাঁদিকে জেগে থাকে গঙ্গার ধার
তুমি তো এখনই ছিলে
তুমি তো এখনই ছিলে
যতটুকু দূরে থাকবার

মাঝেমাঝে নীলাকাশ
আকাশের বড়ো কাছে ঘাসের জমিন
বিজোড় সংখ্যক পাখিরা সবুজ উড়ে আসে
আকাশের মাথা ছোঁবে বলে

কবে খসে গেছি ওই বরদাদক্ষিণ হতে
জলের দেবতা তুমি, শান্ত অনিমিখ
পাখির ঠোঁটের থেকে পড়ে যাওয়া বীজ
এতদিন যা ছিল
সংগত, গোপনে
পুকুরের ধারে বীজ পড়ে তার
আমি বৃক্ষ, বড়ো হই একা

2 replies on “শাশ্বতী সরকারের কবিতা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *