সেলিম মণ্ডলের গুচ্ছকবিতা

স্মৃতির মগজাস্ত্র থেকে


একদিন ঠিক হবে ভেবে ছেনে ফেলি মাথা ও বুক

দুপুরের গলা ভাত সঙ্গে ঘি
মুখেতে ওঠে না কিছু

একটা কুকুর তোমার আমার, কে পুষেছে?
বমি করে শুধু!


পারলে পারা যেত। লিখে রাখাই যেত আয়ু।

শরীরের রক্ত ছাড়া দেহে বলো বাঁচো…
তোমারও ভঙ্গুর অস্থি, মুচমুচ করে ভাঙে

এতটা দূরত্ব, কেবলই খিদে নয়। আসলে খননের ভুলে ঢুকে গেছে
তোমার চোখ আর আমার পরাগ শাশ্বত


কী হল? কী হবে? ভুলভাল অন্ধকার খামচে ধরে আয়ু
হননের পথ কতটা আত্ম?

বিভেদ, বিচ্ছেদ সুতোর পাক অনবরত সেলাই করে
স্মৃতির মগজাস্ত্র!


এ কোনো ভালো থাকা নয়। বিষ মুখে নিয়ে
বিশের জন্য
কাটাকুটি খেলা

গাছে দোলে লাল লাল থোকা থোকা কান্নাফুল
আর শিকড় উপড়ে ফেলছে মাটি


হয় তুমি না হয় আমি চেয়েছি
এই মাথার ব্যারামে বুকে ত্রিপল খাটিয়ে বসুক
বুনো শেয়াল

কাছাকাছি কেউ নেই; শুধু সময়, অন্ধকার
পথ পরিদর্শনে আসে খেলনাস্মৃতি
দ্যাখে: উবু হওয়া দুই খোলা কবর চিৎকার করছে
কী ভীষণ মিছিমিছি!


বাজি খেলায় কেউ জিতবে না, জেনেও
চলতে থাকে বারোমাস
আমাদের আঠারোর বছরে ওড়ে ভবিষ্যতের ধুলো
দু-জনেরই খালি পা
তবুও ছাপ নেই, পথ কোন দিকে বেঁকে গেছে কেউ জানে না
খেলার আনন্দ আসলেই এক পরমায়ু


ছুঁড়ে ফেলো জলে। তারপর ডুবে যাও।
সলিলসমাধির দিনে দেহ থেকে পাতারা খুলে খুলে আসে।
ভেসে যাও তুমি। ভেসে যাই আমি।
পাড়ে চিকচিক বালি। ঈষৎ উষ্ণ…


‘আবার আসিব ফিরে’ কেউ কাউকে বলে না
তবুও ফিরেই আসতে হয়— ঘৃণা, মায়া ও ত্যাগের দানে

ভিক্ষাপাত্রে এটুকুই সবার ধন
আমরা জেনেছি বলেই
ভিক্ষাপাত্র ভরাই আর নিজেদের চলার পথে
দু-জন দু-জনকে বার বার বাই বাই বলি


চলে গেলে যেতেই পারতাম
ঝুলে থাকা সিলিং গরমে ভীষণ প্রিয়

মাথাতে সিদ্ধ হয় আগামীর ভাত
বারবার তাতে ফুঁ দিই তবু

তৈরী থেকো: জলের গর্ভে
আমরা বড়ো হচ্ছি, দ্যাখো হাঁটিহাঁটি পা পা

আমাদের সন্তান, আমাদের শৈশব, আমাদের যৌবন
পথে পথে অনেক আগেই ঝুলিয়ে দিয়েছে দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড

১০
শিরা কেটে দেখলাম তুমি চেপে ধরেছ
গলা কেটে দেখলাম তুমি জড়িয়ে ধরেছ
বুক কেটে দেখলাম আস্ত তুমিই ভিতরে

আর কী করতে পারি? চোখ বন্ধ করে থাকব?
চোখের উপর তুমিই নাচছ!

Spread the love
By অ্যাডমিন কবিতা 3 Comments

3 Comments

  • অসামান্য একগুচ্ছ কবিতা আমায় মুগ্ধ করে রেখেছে ।যেন এক দিনলিপি ।আর আছে নিজস্ব পরিক্রমা ।এই লেখা বেঁচে থাকবে ।প্রকাশক সেলিমকে হারিয়ে দিক কবি সেলিম ।এমন নির্মেদ উদাসীন অসাধারণ কবিতার জন্য আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ।

    Pankaj Chakraborty,
  • কবিতার কাছে এভাবেই বাধ্য কবি। বদ্ধ কবি দায়বদ্ধ এমনই, খোলস খুললেই নতজানু শেখা যায়। কবিতার চরিত্রে কবির ব্যক্তিত্ব মিশে যায়। প্রতিটি কবিতা ব্যক্তিগত মনে হয় নিজের কাছেই। আত্ম খননের গভীরতা উঠে আসে
    মননের সফেদে বসতে কবিতা লক্ষ্মী আদ্যপান্ত ধবধবে
    মাত্রা যোগ পাঠকের নিজস্ব দর্শন। আরও আরও লেখা ভাই

    Anirban Batabyal,
  • কি বলবো সেলিম ভাই । কি ভালো কি ভালো । কি যে ভালো লাগলো । যদি না পড়তাম এক মস্ত বড়ো অপরাধ হয়ে যেতো । তোমার কলম শক্তিশালী হোক । কবিজীবন দীর্ঘজীবী হোক ।

    রঞ্জন ভট্টাচার্য,
  • Your email address will not be published. Required fields are marked *