সোহম চক্রবর্তীর গুচ্ছকবিতা

উদাসী হাওয়ার পথে পথে…

কোঁকড়ানো বিড়ালের মতো
চৌকাঠে শুয়ে আছে রোদ

এ কথা লিখতে গিয়েই মনে পড়ছে
আমাদের ঘেয়ো-গা বিড়ালটার দেখা নেই
আজ অনেকদিন

এদিক ওদিক থেকে খবর আসে
এর অসুখ, ও-ও খুব ভালো নেই আর

এখন বিকেল, তবু
গাছেদের ফাঁক গলে তীব্র তলোয়ারে
খোঁচা দেয় রোদ আজকাল
চৌকাঠে শুয়ে থাকে, যেন
এক সতর্ক শ্বাপদ

মনে পড়ে বিড়ালের কথা
মৎস্যগর্ভের মতো উষ্ণ শৈশব
মনে পড়ে

তুমি নেই, তবে
কার দিকে হেঁটে যাব
কার কাছেই বা ফিরে যাব
আমি?

***

ভ্রান্তজনের লেখা

পুরোনো ভুলের মতো পুরোনো লেখাটি
থেকে আমি তুলে আনি তোমাকে আবার…
যা-কিছু বিপদ ছিল সুনিবিড় পাঠে—
তোমার ছায়ার পাশে পুরুষের ছায়া,
তোমার দেহের পাশে পুরুষের দেহ
অযথা রূপক যেন, কাজলের দীঘি
যে-ঝাঁপ কামনা করে, তার থেকে দূর
কোথায়-বা যাব আমি… কোন্ ইশারায়
তোমাকে আপন ভেবে রেখে যেতে পারি
পুরোনো ভুলের মতো পুরোনো লেখায়!

***

ভুল হ’ল

ভুল হ’ল।

প্রেমিকার বিয়েতে ছিলেন
নহবতে বিসমিল্লা,
পাঁশুটে ঘরের পথে
পাশে পাশে মেহেদি হাসান…

ভুল হ’ল।

অতখানি যদি অপমান
গায়ে-হাতে মেখে তক্ষুনি
পালিয়ে যেতাম, তবে আমাদের

দেখতে হ’ত না এই দিন,

শুনতে হ’ত না কত
অপরূপ বেহালার সুরে
ঘরে ঘরে জ্বলে যাচ্ছে
বিবাহের প্রকৃত আগুন…

আমারই কামনা যেন
সারা দেশে আমাকে পোড়ায়।

ভুল হ’ল।
এভাবে পোড়ার আগে
আমারই উচিত ছিল
ছেড়ে চলে যাওয়া

ভিটেমাটি
ঘর
দেশকাল
অযাচিত
রাধিকাবিরহ
পাশে পাশে
মেহেদি হাসান…

ভুল হ’ল।
তবু
মৃত নগরীতে তুমি
সুখে থেকো,
রাজার মুকুট!

***

অনুভব

মাঝে মাঝে মনে হয় কোন্ পথ ভালো,
কোন্ পথে চলে যাওয়া সাজে…
অথচ ‘আসছি’ বলে এই উঠে আসা
একে একে মুছে দেয় অলিগলি সব,
যে ঝড় ‘আসব’ বলে মাঝপথে মন বদলায়,
আমরাও বাজি রাখি, অস্ত্র শানাই—
মাঝে মাঝে মনে হয় এই পথ ভালো,
‘আসছি’ বলে উঠে আসা ভুল অনুভব
‘ঝড়, ঝড়’ করে শুধু নিঃস্ব হয়ে যায়…

***

বিনয়

মানুষ নিকটে গেলে উড়ে যাবে প্রকৃত সারস
তাই
ব্যাধ হয়ে চেয়ে আছে
আমাদের বিপন্নতা, স্থির।

Spread the love
By Editor Editor কবিতা 2 Comments

2 Comments

  • প্রথম চারটে কবিতার চলন এবং দর্শন যে-ভাষা গড়ে তুলে তুলেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বেশ ভালো।

    শতানীক রায়,
    • অনেক অনেক ধন্যবাদ।

      সোহম চক্রবর্তী,
  • Your email address will not be published. Required fields are marked *