লেখক নয় , লেখাই মূলধন

কুণাল বিশ্বাসের গদ্য

বাজো গান, রাত্রিসহচর

“রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা, ধর্ম, সাহিত্য ও শিল্পের উন্নতি অর্থনৈতিক উন্নতির উপর নির্ভর করে। তবে সমাজের সার্বিক উন্নতির ক্ষেত্রে অর্থনীতি কোনো একক ভূমিকা নিতে পারে না।”

—সারকেনবার্গকে লেখা এঙ্গেলসের চিঠি (জানুয়ারি ২৫, ১৮৯৪)


অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রধান নিয়ামক, তবে একমাত্র নিয়ন্ত্রক নয়। আরও অনেক কিছুর মিথস্ক্রিয়ায় সভ্যতার রশিতে টান পড়ে— সে চলতে থাকে।

গ্রিক থিয়েটার শুরুর আগে মানুষের রসপিপাসা মেটাত এক ধরনের ‘ওরাল পোয়েট্রি’। মুখে মুখে ফিরত কত কাহিনি। এলেন হোমার। মহাকাব্য রচিত হল। ইলিয়াড আর ওডিসি ছেনে সংগ্রহ হল আরও কত নাটকের মশলা। মূলধারার পাশাপাশি ছিল যৌথনৃত্য বা ব্যালাড ডান্স, যার বিবর্তিত রূপ গ্রিক নাটকের বিখ্যাত কোরাস। যাঁকে অবলম্বন করে গড়ে উঠল এই কোরাস, তিনি ডায়োনিসাস— আঙুরের দেবতা— অন্ত্যজ মানুষের প্রতিনিধি, অনেকটা আমাদের দেশের মনসার মতো, প্রভূত লড়াইয়ের শেষে অধিষ্ঠিত হয়েছেন স্বর্গে।
আর্যপ্রতিম দোরিয়ান সংস্কৃতি (দেবতা আপোল্লো— রাশভারী, মুরুব্বি শ্রেণির) এবং অনার্যপ্রতিম আয়োনিয়ান সংস্কৃতি (দেবতা ডায়োনিসাস— আমোদপ্রিয়, গাঁজাভাঙ কিছুতেই আপত্তি নেই)— বিপরীতমুখী  দুই ধারাকে কোরাস গানের সুরে মেলালেন নাট্যকার আরিয়োন। ভ্রমণের নেশা তাঁর আশৈশব ছিল। বহু কিছুর সংস্পর্শে এসেছেন। কোরাস গানের সঙ্গে যুগপৎ দু’হাতে দুই যন্ত্র বাজিয়ে সকলকে বিস্মিত করে দিলেন। এক হাতে তারের লায়ার, অন্য হাতে রাখালের বাঁশি।

এসব খ্রিস্ট জন্মের ছ’শো বছর আগেকার কথা।

বাংলা কবিতায় কবি উৎপলকুমার বসু গ্রিক নাটকে নাট্যকার আরিয়োন সদৃশ। তিনি কখনো ধ্রুপদ— দান্তের ‘দি ডিভাইন কমেডি’-র আঙ্গিকে লিখছেন তেরজা রিমা, অথবা নেহাতই টান টান অক্ষরবৃত্ত, কখনো অলস পয়ার। আবার পাঁচ মাত্রার কলাবৃত্ত ছন্দে এমন দৃশ্যরূপ বুনে তুলছেন যা গদ্যেরই আত্মীয়।

এ তো গেল প্রকরণ।

‘আবার পুরী সিরিজ’-এর ‘দেবী’ কবিতাটি বিষয় ও নির্মাণে বাংলা কবিতায় স্বত্ববিলোপ নীতির এক যথার্থ নমুনা:

‘ঈশ্বরীর গর্ভ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়েছ তুমি ঈশ্বরীর কোমল সন্তান।
কালো কিন্তু জোড়া উরু— গর্ভ থেকে এনেছ কি কিছু
উপহার— আমাকে দেবে কি কিছু? অনেক মলিন আছি
সারাদিন— ঢাকা আছি পরচুলাময়
আতঙ্কজনক লোমে— দু’পায়ের ফাঁকে’

কবিতার শুরুতে ভাষা ছিল সম্ভ্রান্ত— যত শেষের দিকে, পরিণতির দিকে এগিয়েছে, ততই নিজের শৈলীকে নিজেই আক্রমণ করছেন উৎপল। একই কবিতার ভিতর একটা ভাষা থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন আরেকটা ভাষায়, আসলে যা ডি-ক্লাসড বা শ্রেণিচ্যুত হওয়ার নামান্তর। অথচ এখানেই তাঁর সিদ্ধি। অকল্পনীয় এই দুঃসাহস। যে পাঠক প্রথম লাইন পড়ে ইতিমধ্যে ভেবে নিয়েছে এই কবিতায় তার অধিকার জন্মে গেছে, তড়িৎস্পৃষ্টের মতো দেখল, সে অযাচিত পৌঁছে গেছে অন্য ভুবনে।

ভাষা কখনোই ব্যাকরণের অনুগত দাস নয়। তবুও কেমন করে ভালো নাটক লিখতে হয়, এই মর্মে ‘রাজা অয়দিপাউস’ নাটকের স্ক্রিপ্ট বিশ্লেষণ করে এ্যারিস্টটল এক প্রস্তাবনা তৈরি করেন, যার ছ’টা জরুরি উপাদান ছিল:

(ক) Agon বা দ্বন্দ্ব

(খ) Pathos, অর্থাৎ বিনাশ বা পরাজয় (করুণ রস নয়)

(গ) Messenger বা দূতের আবির্ভাব

(ঘ) Thernes বা বিলাপ

(ঙ) Anagnorsis, অর্থাৎ পুনরাবির্ভাব বা নতুন পরিচয় লাভ

(চ) Peripetia— সহসা বিমর্ষতা থেকে হর্ষে উত্তরণ

এই কাঠামোর বাইরে ছিল আরেক বিনীত উচ্চারণ— “ট্র্যাজেডির নায়ক অতি ভালো বা অতি মন্দ হইতে পারিবে না”।

বস্তুত, Thernes বা বিলাপ ব্যতীত আর সবক’টা বৈশিষ্ট্য উৎপলের কবিতায় কোনো-না-কোনোভাবে লক্ষণীয়। শুধু ওই বিলাপের পরিবর্তে তাঁর অস্ত্র ছদ্ম-বিলাপ, যা আসলে এক knife-sharp political satire-এর দ্যোতক। গ্রিক ট্র্যাজেডির নায়কের মতোই তাঁর কবিতার দর্শন ভালো-খারাপের ঊর্দ্ধে, তা প্রচলিত মূল্যবোধকে কিছুটা নাড়িয়ে দেয় বইকি! সর্বোপরি, বাবু সেজে বসে থাকে।

উৎপল মেধাবী। ‘অস্তি গোদাবরীতীরে…’ দিয়ে শুরু বহুশ্রুত মুখবন্ধ তাঁর প্রিয়। এরপরেই আসে একটি বহমান নদী এবং তীরে শাখাপ্রশাখাবিশিষ্ট বিশাল গাছের বর্ণনা। সেখানে অনেকের বাস। স্মৃতিনির্ভর এই দৃশ্য কালহীন হতে পারে, দেশহীন নয়। এবং আদ্যন্ত ভারতীয়।

‘And spring brought me the dreadful laugh of the idiot’ থেকে উৎপলের ‘বসন্তে এনেছি আমি হাবা যুবকের হাসি’ মামুলি অনুসৃজন নয়, এক মৌলিক আবিষ্কার। অথচ এই কবিতায় (উৎসর্গপত্র, পুরী সিরিজ) উল্লিখিত অংশ উদ্ধৃতির মধ্যে রেখেছেন কবি। হলফ করেই বলা যায়, উদ্ধৃতি না দিলেও তাঁর দিকে কেউ কুম্ভীলকবৃত্তির অভিযোগ তুলতে পারত না। তবুও এক কিশোরের বিস্ময় প্রতিভার প্রতি তাঁর সৌজন্য। প্রায় দেড়শো বছর আগে রচিত যুগন্ধর কবি আঁতুর খ্যাঁবো-র (Arthur Rimbaud) গদ্য ‘A Season in Hell’ (‘নরকে এক ঋতু’) থেকে উৎপল এইভাবে তুলে আনেন কবিতার বীজ।

উৎপলকুমার বসু-র কবিতা আপনার কেমন লাগে?
—এই প্রশ্নের আমি কী উত্তর দেব, ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ে নোবেল-পুরস্কার পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে পরপর দু’টো প্রশ্নের জবাবে রবীন্দ্রনাথের দু’টো ছোট্ট উত্তর।

আপনার সবচেয়ে বড়ো গুণ কী? —অস্থিরতা
আপনার সবচেয়ে বড়ো দোষ কী? —অস্থিরতা

উৎপলের প্রকৃত পাঠকও একজন কবি। তাকেও দিতে হয় সাক্ষ্য, সমধিক শ্রম। তারও আছে সংশোধন, বিন্যাস ও পুনর্লিখনের দায়িত্ব। উৎপলের প্রতিটি কবিতা, যতিচিহ্ন তো আসলে রচনা করে পাঠকেরও সেল্ফ-পোর্ট্রেট। সে পড়ে থাকে সরীসৃপ দ্বীপে, একাকী, স্পর্শাতুর বালির উপর।

উৎপলকুমার বসু

তাহলে উৎপল কে?
… সেই শিশু যে সারাদিন খালি দৌড়ঝাঁপ করে, খাট-পালঙ্কে দাপিয়ে বেড়ায়, এটা ভাঙে, ওটা ভাঙে, বড়োরা নাজেহাল হয়ে শেষমেশ হাল ছেড়ে দেয়। প্রবীণরা বলে, “এর দ্বারা কিস্যু হবে না। বখে গেছে। বড়োজোর খ্যামটা দলে ঢোল বাজাতে পারে। ধ্রুপদ এর দ্বারা কদাচ সম্ভব নয়।”…সেই কিশোর, দুপুরের রোদ ধরতে গিয়ে খুঁজে পায় ফড়িঙের ডানা। ওই ডানায় ন্যস্ত রামধনুর সূত্র ধরে চলে যায় মাদাগাস্কার রমণীর উল্কিতে। তার কটিতে আঁকা সাপ দেখে ভাবে পাড়াগাঁর বেদেনী লালির কথা। সেই মহাজ্ঞানী শিশু যে পানাপুকুরে ঢেউয়ের দোলা দেখে অনুমান করতে পারে অন্টারিওতে হাওয়া কত ডিগ্রি কোণে বহমান। আর সেই নিঃস্ব মহাজন, ত্যক্ত সেলাইমেশিন থেকেও যিনি বের করে আনেন সলমাজরির কাজ। অথবা সেই সরেস ঘুঘু, উত্তরাধুনিক জাঁ ফ্রাসোয়া লিওতারের বিবৃতি যিনি ফুটিয়ে তোলেন কবিতায়, একটি বাক্যে:

‘মনে হয় সত্য-মিথ্যার যমজজন্মের আগে গান ছিল।’

তিনিই উৎপল — মহাবীর ঘটোৎকচ, ভীষ্ম যাঁকে প্রপৌত্রজ্ঞানে জড়িয়ে ধরতে পারেন না সংকোচে, ভয়ে।

ছ’য়ের দশক। এক আশ্চর্য সময়। শিয়ালদহ স্টেশন হয়ে উঠেছে উদ্বাস্তু কলোনি। যোগেন চৌধুরী বসে ছবি আঁকছেন। চারিদিকে ঘাম, শব্দ আর ভয়। এরই মধ্যে স্নান করছে, পোশাক পরছে, খাবার খাচ্ছে, এমনকী সুযোগ খুঁজে যৌনতা সেরে নিচ্ছে একদল অস্তিত্ব, যারা ছিন্নমূল। উৎপল স্বয়ং এই ক্ষুৎকাতরতার সাক্ষী। তাঁর কবিতার শ্রেণিচরিত্র এই জনস্রোত, মিথুনবিপ্লব থেকেই তৈরি। আর এই পটভূমি থেকেই তিনি লেখেন:

‘চাঁদ দেখে মনে পড়ে কেন্দ্রীয় কৃষিসমবায়’

ক্রিয়াপদটি লক্ষণীয়। ‘মনে হয়’ নয়, অর্থাৎ কল্পনাজাত উপমা নয়, উৎপল লিখছেন ‘মনে পড়ে’, যেন আগে দেখা কৃষিসমবায়কে তিনি নতুন করে দেখতে পাচ্ছেন চাঁদের আলোয়। তাঁর কবিতার শৈলী এবং বিষয় তৈরি হয় বস্তুজগতে, আচরণে, স্মৃতিতে।

উৎপল উসকে দেন আমাদের দ্রোহ। তাঁর কবিতার কোনো দায় নেই সংস্কারের। যে পাঠক একাধারে শরদিন্দু-র শফরী চরিত্রে (গল্প: আদিম) মুগ্ধ হয় এবং ‘নিজেরই বোনের প্রতি যৌনতা ও উপদ্রব আমি লক্ষ্য করি’ (পুরী সিরিজ) পড়ে আঁতকে ওঠে, উৎপলের কবিতা তার জন্য নয়। তাঁর কবিতা তথাকথিত উত্তর-ভারতীয় ঐতিহ্যের অনুগত ভদ্রতা জানে না। তাঁর কবিতা মানব-প্রবৃত্তির কথা বলে, আর প্রবৃত্তি সততই প্রাগৈতিহাসিক। তাঁর কাব্যালোক পরখ করে দেখে সমাজস্বীকৃত নীতিবোধ, পরিবার ও সম্পর্কের ধারণাগুলো আদৌ কতটা সাদা আর কতটা উপদ্রুত। সূর্যের আলো যেখানে পৌঁছতে পারে না, সেই দুরূহ পরিসরে উৎপল আমাদের অন্ধকারের সঙ্গে কথা বলেন, হাসিঠাট্টা করেন।

শীতকাল। ব্রিসবেন, অথবা অ্যাডিলেড ওভাল। স্লিপে পাঁচজন দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন স্টিভ ওয়া। একটু পুরনো বল হাতে ছুটে আসছেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। ট্রেডমার্ক স্টান্সে ব্রায়ান চার্লস লারা। লেট আউটসুইং। সংযত লারা বলটি ছেড়ে দিয়ে মৃদু হাসলেন— যেন মোড়ের মাথায় মুদি-দোকানের ভোম্বল গোটা পঞ্চাশের বদলে খুচরো চাইছে। পরের বল ব্যাকফুট কাভার-ড্রাইভ। ডান হাত ঢেউয়ের মতো নাড়িয়ে বাউন্ডারি নির্দেশ করছেন ডেভিড শেপার্ড। মুহুর্মুহু হাততালি, আবহে রিচি বেনোর গলা— দ্যাট’স আ ক্র্যাকিং শাট!

ভয়ার্ত সীগালের দল উড়ে গেল আকাশে। বেলা তিনটের রোদ তাদের জড়িয়ে নিয়েছে। কিছুই হয়নি— এমন আশ্রয়— মায়ের হাসির মতো সরল, বাবার নীরবতার মতো জটিল। এই রোদের নাম ‘উৎপল’, যে মেসোপটেমিয়ায় ছিল মেষপালিকার ওম, পর্তুগিজ ব্যারাকে বাঁধাকপি ক্ষেতের আলো, আর একবিংশ শতকে রিফিউজি ভিখারির ত্বকের ভিটামিন। উৎপল প্রাগৈতিহাসিক, অনাধুনিক, উত্তর-আধুনিক… সব, অথবা কিছুই নন— কেবলই কবিতা, তাই অসংজ্ঞাত। তিনি ভারতীয় মার্গসঙ্গীত—পূরবীর সুর—বিড়িমুখে চিরকাল খেয়া পারাপার করেন। তিনিই ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো— ঠোঁটে পাইপ চেপে বলেন—

‘জেনো এসব রঙের খেলা তাৎক্ষণিক, তারপর নামবে বর্ণশ্রেষ্ঠ, কৃতান্ত রাত্রিরূপ, কালো, যা অননুকরণীয়…’

“Come forth, O Justice, come with sword in hand!”

—Euripides (The Bacche)

পথচলতি মানুষ পড়ে গেলে ‘আহা’ বলবার পাশাপাশি ‘হো হো’ করে হেসে ওঠার রেওয়াজ সর্বত্র প্রচলিত। অথচ ট্র্যাজেডি বিবর্তনের ইতিহাস যত স্পষ্ট, কমেডির নয়। এ এক ব্যাখ্যাতীত ধাঁধা।

ক্রীতদাস প্রথাকে যে দেশ বাস্তব করে তুলেছিল, সে দেশের সভ্যতা তরতর করে এগিয়েছিল। গ্রিস পেরেছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় যন্ত্রবৎ, তাই শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা ছিল তার। রঙ্গমঞ্চে একে একে এসেছিলেন আরিয়োন, থেসপিস, এসকাইলাস, সোফোক্লেস। আর অন্যদিকে ধর্মেরই ছায়ায় ট্র্যাজেডির উল্টোদিকে ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হয়ে উঠল কমেডি। আবির্ভূত হলেন এ্যারিস্টোফেনেস, ফোরমোস, দিনোলোকাস প্রমুখ। সভ্যতার তীর গাঁথা বুকে রক্তাপ্লুত জীবনের দিকে চেয়ে তাঁরা হেসেছেন। টিপ্পনি ছুঁড়ে দিয়েছেন সময় আর রাষ্ট্রের প্রতি।
উৎপল, এই দ্বিতীয় শ্রেণিরও প্রতিনিধি।

সবাইকে লুকিয়ে উৎপল উঠে বসেন আঁধারযানে। ত্রস্ত কবিকুল বিদায় জানাতে আসে। ভিতরে গ্যাঁট হয়ে বসে কৌটো খুলে সিগারেট ধরান তিনি— তখনো জানালা খোলা— হাওয়া এসে মুছে দেয় ঘাম। যন্ত্রটি ধীরে ধীরে চলতে শুরু করে। উৎপল ভাবেন এটি নিশ্চয়ই উটপাখি। সরল বাক্যে কথা বলেন নিজের সঙ্গে। কোন সে লেখা, যা সহজেই বাচ্যার্থ অতিক্রম করে, দুলেদুলে— ছড়ার মতো?
নিজের লেখা কবিতা সুর করে পড়ার চেষ্টা করেন উৎপল —

‘হ্যাঁ, তোমার কবিতাগুলি
পড়েছিলাম
     পাগল প্যান
       লাফিয়ে নামে
          জলে
বনের ভিতর শুনেছিলাম শিস
     বনের ভিতর রৌদ্রে খসে পড়ে
          কাঁচুলি
     আর শান্তিবেগম জামা
কবিতাগুলি বাংলা অক্ষরে…’

ঋণ:

১। কবিতা সংগ্রহ (প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড)— উৎপলকুমার বসু, দে’জ
২। সদাভ্রাম্যমাণ— উৎপলকুমার বসু, ভাষালিপি
৩। পশ্চিমের নাটকঃ থেসপিস থেকে গ্যারিক— শিব মুখোপাধ্যায়
৪। উৎপলকুমার বসু সংখ্যা, আদম

কুণাল বিশ্বাসের গদ্য

আমাদের নতুন বই