Categories
গল্প

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়ের গল্প

প্রত্যাশা নিরোধক

“For every hundred crimes committed in the name of love, only one is committed in the name of sex.”

এক বালতি উজালা জানলা দিয়ে কেউ ছুঁড়ে দিতে পারত আমার দিকে। কিংবা আমিও জানলা দিয়ে বাইরে ছুঁড়ে দিতে পারতাম… হালকা বেগুনি একরঙা মুহূর্ত পাওয়ার জন্য। ‘উজালা’ কি খুব মধ্যমেধার শোনাল? আসলে বিদেশি সিনেমায় দেখেছি, শুধু সাদাকালো বা সেপিয়া নয়… মোনোক্রোম মুহূর্ত কমলা, হলুদ… এমনকী বেগুনি রঙেরও হয়ে যায়।

আমার সাদা জামার কলার নীলচে হয়ে যায়। সিগারেট খেতে খেতে ঠোঁটে কালচে দাগ আসে। দেওয়াল জুড়ে রং করার যে ছোটোবেলার অভ্যেস, তা এখন বুদ্বুদ কেটে বেরিয়ে আসতে চাইলে মা বিরক্ত হয়। ঘরের দরজা বন্ধ করে কিছু করতে— নিজেকে চোর মনে হয়। সবাই ঘুমোলে ছাদে চলে যাই। সবাই বলতে… মা আর বোন। বাবা এখানে থাকে না। মানে, বেশ কয়েক বছর হল… থাকছে না।

বোন বলে, “একা অনেকক্ষণ ছাদে ধোঁয়া টানতে পারবি… তাই এত টব আর গাছ পোষার ঢং।”

পাত্তা দিই না। যে বড়ো, তাকে ছোটোর সব কথা কানে তুলতে নেই… দিদিমা বলতেন। আর শেষে সেই একসাথেই যখন থাকতে হবে…

অবতারদের মুখে সেলফ-ডিফেন্সের মতো সংলাপ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে— ঈশ্বর করলে যা সাজে, মানুষ করলে তা সাজে না। একটা সমাজ অথবা সিস্টেমের মাথার ওপর এইভাবে কেউ ঈশ্বর হয়ে বসতে পারে। সে করলে যেটা সাজে, নীচে থাকা কেউ তা করলে সাজে না। তাহলে আমরা কেমন হব? মা-র প্রত্যাশা আছে… বাবারও। আত্মীয়-প্রতিবেশী… এমনকী যারা সমবয়সী বা একটু বড়ো… সবাই নিজের মতো একটা ছাঁচ বানিয়ে রেখেছে। মিলিয়ে দেখে।

আমার প্রতিদিনের নিয়ম আর অনিয়ম, কথা-বার্তা, চাল-চলন, চান করা বা না করা, চুলের দৈর্ঘ্য, পছন্দের পোশাক… সব কিছুর মধ্যে প্রত্যাশা মিশে আছে।

কার সঙ্গে কোথায় তফাত, কতটা তফাত… মনে করিয়ে দেওয়ার মতো কেউ না কেউ ঠিক গজিয়ে ওঠে। আর হাঁড়িকাঠেরও একটা মাঝের আঙুল দেখানোর অধিকার জন্মায়।

আচমকা সামনের বাড়ির বারান্দাটা ঝাপসা হয়ে গেল। আবার মুখের কাছে সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে দিয়ে গেল বোন।

অন্যমনস্ক আছি দেখলেই এটা করে। চোর তো… দরজাটা ভেতর থেকে ছিটকিনি দিয়ে দেয়। মা ডাকলেও খোলে না।

হাতের কাছে একটা বই ছিল, সেটা সজোরে ওর গায়ে ছুঁড়ে মেরে বললাম, “বারণ করেছি এটা করতে… এর পর ধরে দেওয়ালে ঠুসে দেব!”

— দেওয়ালে ঠুসে কী দিবি?

— সেটা দিলে টের পাবি!

— আর মা জানতে পারলে?

— মাকেও বলে দেব!

— বিডিএসএমের কথা?

ইচ্ছে করছিল— দুটো চড় মেরে ঘর থেকে বার করে দিই। মাথা গরম হলে আমার পালস্ দ্রুত হয়ে যায়। ব্রিদিং ট্রাবল হয়। স্বাভাবিক হতেও সময় লাগে… ঘুমের সমস্যা হয়। এমন সময়ে দিদুনের মুখটা মনে করার চেষ্টা করি। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললাম, “কলেজে ঢুকেই বাঁদর হয়ে গেলি? ছিঃ!”

ভ্রূক্ষেপ নেই। সিগারেটটা জানলার বাইরে ট্যাপ করে আর একটা টান দিল। ধোঁয়াটা নাক দিয়ে ছাড়তে ছাড়তে বলল… “সতী সেজো না… তুমিও কলেজে ঢুকে অনেক কিছু শিখেছ। আমি জ্ঞান চোদাতে আসিনি। মাকেও বলিনি।”

কথা বলতে ভালো লাগছিল না। সিগারেটটা শেষ হলে ও জামা খুলে, ফ্যান চালিয়ে চিৎ হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকবে। ঘরের গন্ধ কাটলে বেরোবে। মোটামুটি পনেরো-কুড়ি মিনিটের ব্যাপার। ঘর থেকে ওর যাওয়ার অপেক্ষা করি আমি আজকাল।

মাঝে মাঝে নিজের ওপরই রাগ হয়… বোন ভেবে কিছু জিনিস শেয়ার করেছি, উচিত হয়নি। “তোর লাইফে অশেষ ভোগান্তি!” বলে কপাল আর চোখ হাতের তালুতে ঢেকে বসে রইলাম চেয়ারে। কিছুক্ষণ পর ও আবার বলে উঠল, “হাতে ব্যান্ড-এড কেন? কী হয়েছে?”

— বেড়াল আঁচড়েছে।

— মলি?

— হুঁ।

— মলি কীভাবে আঁচড়াতে পারে ভাই! কী করেছিস?

— খেলছিলাম, পেটে কুড়কুড়ি করতে গিয়ে…

— দেখি? সরা ব্যান্ড এড…

— না… রক্ত বেরিয়েছে। টেট-ভ্যাক নিতে হবে।

— আবার? এই তো গত বছরই…

— ব্যথা করছে আমার… ডাক্তার যেটা বলবে করব… এনি প্রবলেম?

— আচ্ছাআআআআ! ধ্রুব মালটার কাছে যাওয়ার ছক… কী ন্যাকাচোদামিটাই না জানিস!

— হোয়াট দ্য ফাক!

— শভ ইয়োর ‘দ্য ফাক’ আপ ইন ইয়োর অ্যাস! কিছু জানি না? হোয়াই ধ্রুব এভরি টাইম হাঁ?!

— নীচে যাচ্ছি। ইনাফ ইজ ইনাফ।

— এ! দাঁড়া… এটা শেষ করতে দে আগে!

বোন আমার মুখের ওপর সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ে। আমি মনে মনে হাতের মুঠো শক্ত করি।

একদিন এইভাবে অনেকের মুখে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে হবে আমাকে। দরকার।

“I shall be dumped where the weed decays, And the rest is rust and stardust”

— তোমার কি মেনস্ট্রুয়াল প্রবলেম হয়?

— মানে?

— মানে… পিরিয়ড… ইরেগুলার হয়?

এর আগেও অনেকবার দেখাতে এসেছি ডক্টর ধ্রুব মৈত্রকে। জেনারেল ফিজিশিয়ান, পাড়ার কাছে… ভালোই। কিন্তু কখনো এ-কথা জিজ্ঞেস করেননি। রিকশা থেকে নামতে গিয়ে পা মচকে গেছিল, সে ফুলে ওঠা গোড়ালি দেখতে দেখতে হঠাৎ পিরিয়ডের কথা কেন মনে হল… বুঝতে পারলাম না। বিরক্তিটা হয়তো মুখে ফুটে উঠেছিল। উনি পেনটা আঙুলে নাচিয়ে নিয়ে প্যাডে লিখতে লিখতে বললেন, “ডাক্তারের কাছে কিছু লুকোতে নেই… জানো তো?”

— কিন্তু আপনি তো গাইনি নন!

— সে তো আমি অর্থোপেডিকও নই।

যুক্তি মন্দ না, কিছু বলতে পারলাম না। প্রসঙ্গ ঘোরাতে জিজ্ঞেস করলাম, “এক্স-রে করতে হবে?”

ব্যাপারটা উড়িয়ে দেওয়ার মতো হাত নেড়ে বললেন, “লাগবে না… ক্রেপ ব্যান্ডেজ অবধিই থাক। খুব ব্যথা হলে পেনকিলার নিতে পারো। লিখে দিয়েছি।” চোখের ইঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন, “আর কিছু?” আমিও ঘাড় নেড়ে উঠে দাঁড়ালাম।

ফিজটা হাত থেকে নিয়েই উনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কি পিরিয়ড চলছে?”

এবারে সত্যিই বেশ বিরক্ত লাগল। উনি আমাকে নতুন দেখছেন না। আগে মা সঙ্গে আসতাম, এখন একা আসি। হঠাৎ আজ এই অনিয়ম কেন— বুঝতে পারলাম না। খুব যে সেজে এসেছি, বা অন্যরকম পোশাক পরে আছি… এমনও না। তাহলে? নতুন হেয়ার-কাট? চুলের সামনের দিকে হালকা বাদামি হাইলাইট?

একটু জোরেই বললাম, “ঠিক বুঝতে পারছি না… কোনো রিলেশন আছে পা মচকে যাওয়ার সঙ্গে?”

উনি বুঝতে পারলেন আমি অফেন্ডেড… কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই বললেন, “না, পা নয়… মন মচকে যাওয়ার সঙ্গে।”

— আগেও জয়েন্টের পেইনের সমস্যা নিয়ে আসতে… স্কুলে পড়তে তখন। হট-ব্যাগ দিতে হত… মনে আছে?

— সো?

— আই থিংক, আজও তেমনই হট ব্যাগের প্রয়োজন তোমার। জাস্ট টেক কেয়ার অফ ইয়োরসেলফ… নাথিং এলস।

শেষের কথাগুলোর মধ্যে একটা অদ্ভুত উষ্ণতা পেলাম। ফাদার-ফিগার? সংবেদনশীল চিকিৎসক? বুঝতে পারলাম না।

কেমন বেলাইনে চলা একটা দিন… সবকিছুই অপ্রত্যাশিত। অবাঞ্ছিত।

অন্যমনস্ক হয়ে রিকশা থেকে নামতে গিয়েই পা-টা ঘুরে গেছিল। পিরিয়ডের দ্বিতীয় দিন, তার সঙ্গে কোমর আর হাঁটুতে ব্যথাটা আরও বিরক্তিটা বাড়িয়ে তুলছে… নখকুনির মতো দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে তুলে দিতে ইচ্ছে করছে সব সমস্যাগুলোকে।

কিন্তু এগুলো আমি ধ্রুব মৈত্রর সঙ্গে শেয়ার করব কেন? কে উনি?

কাঁচা-পাকা জুলপির মানুষটাকে হঠাৎই আজ কেমন অচেনা ঠেকছিল। চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে নিজেই দরজাটা খুলে ঘাড় কাত করে বাইরের দিকে এগিয়ে যেতে ইশারা করলেন। ওই হাসিটার মানে ‘আবার এসো’। ডাক্তারের কাছে আবার আসব? এই প্রশ্রয় কেন চাইছি আমি নিঃশব্দ হাসির কাছে?

রাতে আয়নার সামনে হট-ব্যাগ নিয়ে বসে নিজেকে দেখে ধ্রুব মৈত্রের মতো ঘাড় কাত করে হাসার চেষ্টা করলাম।

বোন অন্য পাশ ফিরে ঘুমোচ্ছে। ঘর অন্ধকার… শুধু নাইট-ল্যাম্প জ্বলছে। মায়ের সঙ্গে অশান্তি করে এই লাল রঙের নাইট ল্যাম্প লাগিয়েছি।

ঘরটা লালচে, আর নীল দেওয়ালগুলো বেগুনি দেখায়। সেই আলোয় নিজেকে আয়নায় দেখেছি কয়েকবার, নাইটিটা খুলে।

হট-ব্যাগটা নিয়ে হাঁটু, থাই, কোমর… একটু একটু শেঁক নিয়ে আরাম পাচ্ছিলাম।

পুরুষ গাইনির কাছে যাওয়ার কথা বললে মা চড় মারবে… বাবার কলার ধরতে ধরতে ক্লান্ত হয়ে গেছে মানুষটা।

ধ্রুববাবু গাইনি নন… জেনারেল। এই হটব্যাগের মতো, আপাতত আমাকে আরাম দিলেন। নিরীহ ঘটনা। আলো নেভানোর পর স্বপ্নের প্রত্যাশা নেই। সব কনসার্নের কোনো লুকোনো কারণ থাকা কি জরুরি?

“It was not the thorn bending to the honeysuckles, but the honeysuckles embracing the thorn.”

“জানিয়ে আসতে পারতে… তোমাকে অপেক্ষা করাতে আমার ভালো লাগে না।”

ফাঁকা থাকবে জেনেই ইচ্ছে করে এমন সময়ে গেছিলাম, যেদিন ডঃ ধ্রুব মৈত্র দুপুরে রোগী দেখেন। একটা মিথ্যে ফলো আপ। বাড়িতে সবাই জানল কলেজে যাচ্ছি।

ক্লিনিকে অপেক্ষা করে বসে রইলাম। আরও তিন-জন এল। বসে রইল ডাক্তারের অপেক্ষায়। উনি এলেন একটার পর। আমাকে দেখে অবাক হলেন না খুশি হলেন বুঝতে পারলাম না। অ্যাটেন্ডান্ট মানিককে ডেকে চেম্বারে ঢুকে পড়লেন। একটু পরে মানিকদা বেরিয়ে এসে আমার নাম ধরে ডাকল। এতে কোনো কারচুপি নেই, আমিই প্রথমে এসেছিলাম। ভেতরে ঢুকতেই ওষুধের স্যাম্পেলগুলো দেখতে দেখতে ওই কথাগুলো বলে উঠলেন ধ্রুব মৈত্র।

ফ্লার্ট… মাঝে সাঝে ভালোই লাগে। গুরুত্ব পেতেও। কপালে আসা চুলটা আঙুল দিয়ে কানে পেছনে সরিয়ে পেশেন্ট বসার রিভলভিং সিটটায় বসলাম। স্যাম্পেলগুলো পাশে সরিয়ে এমনভাবে দু-হাতের আঙুল জড়ো করে টেবিলে রেখে উনি তাকালেন, মনে হল— “কী বলব? কফি না কোল্ড ড্রিংকস্?”

“ডাক্তারখানায় যারা ডাক্তারদের আগে এসে বসে থাকে, আমি তাদেরই একজন”… বলতে ইচ্ছে হলেও, মনে হল অপাত্রে দান।

অভিজ্ঞ ডাক্তার ঠিকই বুঝে যায়— “কিছুই হয়নি”। প্রেশার দেখলেন হাত ধরে। বুকে স্টেথোস্কোপ রাখতে জোরে নিঃশ্বাস নিলাম ওঁর দিকে তাকিয়ে। সিরিয়াস সাজলেন। বেরোনোর আগে বললেন, “একটা ফোন করে আসতে পারো তো… ওয়েট করতে হয় না এভাবে। কলেজ টলেজ থাকে…”

— মানিকদাকে বলে রাখব?

— মানিক কেন? আমার নাম্বার নেই?

প্রেসক্রিপশনটা চেয়ে নিয়ে মোবাইল নাম্বারটা লিখে দিলেন। বললেন, “পার্সোনাল… যাকে-তাকে দিয়ো না।”

এঁদো পুকুরের চুনো মাছের হঠাৎ অভিযান করতে ইচ্ছে হয়। ঘাটের খুব কাছাকাছি এসে নিজের আঁশে রোদের চমক লাগাতে চায়। তারপর এই করতে গিয়ে সর্বনাশ হতে হতে কোনোক্রমে শ্যাওলার আড়ালে গিয়ে বাঁচে… ওটাই রোমাঞ্চ। মরবে তো সেই এঁদো পুকুরেই… হয় আজ, নয়তো কাল। হয় শিকার হয়ে, না হলে ডিম পেড়ে, না হলে পচে।

ডাক্তারের চেম্বারটা ছিল সূর্য-শিশিরের মতো। আমরা কখনো ময়দানে হাঁটিনি, ফেরিঘাটে যাইনি, কফিহাউজ বা অন্য নাম করা ক্যাফে-রেস্তোরাঁতেও বসিনি। শুধু মাঝে মাঝে লং ড্রাইভ… সন্ধ্যের মধ্যে ফেরা। পুঁজি বলতে ছিল কলেজ-পালানো দুপুর, আর ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট।

প্রথম প্রেম, ক্রাশ… সব কিছুকে অ্যানেস্তেশিয়া দিয়ে এই সূর্য-শিশির আমার এক-একটা রোম-কূপে হুল ফুটিয়ে দিল।

মানিকদাকে ঠিক কী বলে কোন কাজে পাঠিয়ে দিত!… মানিকদা সরল, না সেয়ানা… ভাবারই ইচ্ছে হত না।

“I didn’t want any flowers, I only wanted
to lie with my hands turned up and be utterly empty.
How free it is, you have no idea how free.”

— আমাকে কখনো গিফট দিতে ইচ্ছে করে না?

— গিফট? তুই কি বাচ্চা নাকি?

— শুধু বাচ্চাদেরই গিফট দিতে হয়?

— গিফট জিনিসটাই ভোলানোর জন্য… নাহলে…

— না হলে?

— না হলে হাতে রাখার জন্য। তোকে ভোলাব না হাতে রাখব?

— আমার কিছু পাওয়ার ইচ্ছে হতে নেই?

আমাকে হালকা ঠেলা দিয়ে সরিয়ে কাত হয়ে উঠে বসল ধ্রুব। মাপার চেষ্টা করল আমার প্রশ্নটাকে। ও পরিণত, হালকা উত্তরে উড়িয়ে দেয় না কোনো কিছু। হার্শ মনে হতে পারে, কিন্তু প্র্যাক্টিকাল উত্তর। আমার দু-জনের সম্পর্কে ভণিতা বা ন্যাকামোর কোনো জায়গা হয়নি। কেন? হয়তো অবচেতনে দু-জনেই দু-জনের অবস্থানটা খুব ভালো করে জানি বলে।

— কী জানিস… তোকে ইমপ্রেস করার কথা বা ভোলানোর কথা… ভাবিইনি কখনো।

— ভালোই করেছ। আমিই বা কি এমন সারপ্রাইজ দিয়েছি তোমায়?

— না না, তোর মনটা ভালো। চকলেটের ভাগ দিস। কলেজ থেকে ফেরার পথে এটা-সেটা নিয়ে আসিস।

— যেমন তুমি নিয়ে যাও… বাড়ি ফেরার সময়ে। যাও তো?

ধ্রুব হাসল। কিছু একটা বলতে গিয়েও বলল না। বাচ্চা ভোলানোর মতো মাথার চুল ঘেঁটে দিয়ে বলল, “বুঝবি বাবু… আর একটু বড়ো হ, আমার মতো বয়সে আয়… বুঝতে পারবি।” আমার হঠাৎ কেমন কান্না পেল, ইচ্ছে হল একবার ধ্রুবর বুকে আছড়ে পড়ে বলি, “আমার জন্যেও মাঝে মাঝে হাতে করে কিছু এনো। সামান্য, সস্তা— যা হোক, কিন্তু এনো। আমারও পেতে ইচ্ছে হয়… বিশ্বাস করো!” কাঁদলাম না… কান্না সামলাতে সামলাতে রুমালটা নিয়ে ইচ্ছে করেই দু-বার হাঁচার অভিনয় করলাম। ‘ডাক্তার’ হাঁচি দেখেই সচেতন হয়ে বলল, “এ কি… আবার অ্যালার্জি?”

আমি পা দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিলাম। ওয়াশরুমে যেতে যেতে বললাম, “ফ্রেশ হয়ে আসি… তারপর একবার চেক-আপ করে নিয়ো।”

প্রত্যাশার কোনো নিরোধক হয়?

শেষ পাতা