ফ্রানৎন্স কাফকার গল্প

ভাষান্তর: শতানীক রায়

হঠাৎ হাঁটতে বেরোনো
[The Sudden Walk]

যখন দেখবে তুমি শেষ অবধি মন স্থির করে ফেলেছ সন্ধ্যাটা বাড়িতেই কাটাবে, যখন তুমি বাড়ির জ্যাকেট পরে নিয়েছ আর সান্ধ্যভোজন শেষে টেবিলে হাল্কা আলো জ্বেলে বসে টুকরো কাজ কিংবা সেই খেলা শুরু করেছ যেটা তুমি শুতে যাওয়ার আগে করে থাকো, যখন বাইরের আবহাওয়া একটু অস্বস্তিকর যার জন্য বাড়িতে থাকাই শ্রেয় মনে হয়, আর যখন তুমি টেবিলের সামনে অনেকক্ষণ বসেই কাটাচ্ছ যেখানে তোমার উঠে যাওয়া সবাইকে চমকে দিতে পারে, যখন, পাশেই, সিঁড়িটা অন্ধকারাচ্ছন্ন আর সামনের দরজাটা বন্ধ, আর এত কিছুর পরেও তুমি অশান্ত হয়ে পোশাক বদলাতে শুরু করলে, জ্যাকেট বদলালে, বিচ্ছিন্নভাবে পোশাক পরে রাস্তার উদ্দেশ্যে বেরোতে যাবে, বেরোনোর সময় আলগা রূঢ়ভাবে কথা বলে বাইরে ঠিকরে বেরিয়ে গিয়ে, দরজাটা জোরে সশব্দে বন্ধ করে নিজের অস্বস্তি প্রকাশ করে তুমি মনে করো সে-সব পেছনে ফেলে গেলে, আর যখন তুমি নিজেকে আবার রাস্তায় ফিরে পেয়ে হাত দুটোকে দু-পাশে একটু বেশি দুলিয়ে তাদের জন্য অকস্মাৎ এই মুক্তির সুরাহা করে দিলে, যখন তোমার এই মুক্তকর্মের ক্ষমতার জন্য নিজের ভেতর একাগ্র হলে, যখন তুমি নজর করলে তোমার এই অর্জিত শক্তি দরকারের থেকে বেশি স্ফূরিত হয়েছে আর এই দ্রুত বদল তোমাকে অপটুভাবে সামলে উঠতে হবে, যখন এই মনঃস্থিতির মধ্যে তুমি নিরলস হাঁটতে থাকলে লম্বা-রাস্তা দিয়ে এই সন্ধ্যায় তোমার পরিবার থেকে পুরোপুরি দূরে, যেটা আলগোছে মুছে গিয়ে, যেখানে তুমি নিজে, একজন দৃঢ়, সাহসী অকপট মানুষ, নিজের জঙ্ঘায় চাপর মেরে, নিজের মতো গড়ে উঠছ।

এইসব সন্ধ্যার এত পরেও তীব্র থাকে যদি না তুমি তাকিয়ে দেখো কোনো এক বন্ধু তোমার দিকে এগিয়ে আসছে।

একটি ছোট্ট লোককথা
[A Little Fable]

“হায়,” ইঁদুরটা বলে উঠল, “পৃথিবীটা প্রতিদিন ছোটো হয়ে আসছে। শুরুর দিকে ওটা এত বড়ো ছিল যে, আমি ভয় পেতাম, আমি দৌড়েছি ক্রমাগত দৌড়েছি, আর আমি আনন্দিত যখন সব শেষে দূরে ডান দিকে ও বাঁ-দিকে দেওয়াল লক্ষ করলাম, কিন্তু এই দেওয়ালগুলো এত তাড়াতাড়ি সরু হয়ে এল যে, তখন এমনিতেই শেষ কক্ষে এসে পড়েছি, আর সামনে কোণাতেই ফাঁদ আছে যেখানে আমাকে সমর্পণ করতে হবে।” “তোমাকে শুধু একটু দিশা পরিবর্তন করতে হবে,” এই বলে বেড়ালটি, ওকে খেয়ে ফেলল।