সুজয় পালের গল্প

মনশোকরহিতা

মেট্রো করে বাড়ি ফেরার পথে খেয়াল করলাম জনসংখ্যা অনেকটাই কম, সম্ভবত এই ভরদুপুর বলে, ইতিমধ্যে কানে এল ভাইরাস সংক্রমণের সতর্কীকরণ ঘোষণা। শরীরের সমতাপমাত্রা যুক্তজলে স্নান করলে যেমন শরীর বোঝে না ঘটনাটা, তেমনই আমিও বুঝতে পারছিলাম না কী করা উচিত বা না। বাড়ি এসে যথারীতি সবাই মশগুল পিসির বাড়ির পুজো নিয়ে গপ্প করতে, আমাদেরও গৃহদেবতা শীতলা আর তাই নিয়ে বাবা মা দু-জনেই গল্পের পসরা খুলল খেতে বসে। ঈশ্বর কী অদ্ভুত জিনিস, তার চিন্তাতে লোকে বাস্তব থেকে কতটাই না কল্পনার জগতে চলে যেতে পারে, এতক্ষণে কেউ প্রশ্ন করল না কেমন হয়েছে ইন্টার্ভিউ, যাকগে, যা হয় মঙ্গলের জন্যই হয়।

আমার কিন্তু একটা মঙ্গল হয়েছে, সরকার থেকে জানিয়েছে সামনের দুই সপ্তাহ ছুটি, বড়ো আপসোস হল দু-দিন আরও কাটিয়ে আসলে ভালো হত, আগামী রবিবার তো বন্ধই থাকবে সব; তারপরে আসলে ওই মূর্তিটা আবার খুঁটিয়ে দেখতাম। মূর্তির কথা মনে পরতেই মোবাইল খুলে ভালো করে দেখছিলাম, পোষাল না কম্পিউটারে ছবিটা বড়ো করে দেখলাম। ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে ছবিটা কিছু বিশিষ্ট লোকজনকেও পাঠালাম, যারা এইসব নিয়ে পড়াশোনা করে। নিউজ-ফিডে আবার সতর্কবার্তা ভেসে এল, সাথে মৃত্যুর সংখ্যাও।
এখন সারা ভারতবর্ষব্যাপী বনধ্ ঘোষণা হয়েছে, তবুও বিক্ষিপ্ত জনসংখ্যা চারদিকে বেরিয়ে পড়ছে ইতস্তত, পুলিশ নাজেহাল সামলাতে, সাধারণ মানুষ নির্বোধের মতো আচরণ করছে, দীর্ঘ কর্ম ব্যাস্ততার মাঝে হটাৎ করে একটা এত বড়ো শূন্য সময় পেয়ে বস্তুত সবাই গুলিয়ে ফেলেছেন রোজনামচার সূচিপত্র। এই সময়টা নিজের ঘরে থেকে খুব কাছ থেকে নিজেকে চেনার, এই সময়টা নিজের ঘরে থেকে নিজের অতীতকে আবার ফিরে পাওয়ার, এই সময়টা নিজের ঘরে থেকে যাবতীয় পূর্বত্রুটি সংশোধনের, একমাত্র; এই সময়টাই নিজের ঘরে থেকে সারা পৃথিবীর মানুষের মঙ্গলার্থে, খুব সাধারণ কথাগুলো কেউ বুঝতেই চাইছে না। চারদিকে বেড়ে চলেছে রাশি রাশি মৃত্যু, আমারা যেন এখন পালন করছি এক অদৃশ্য মৃত্যুচক্রের ব্রত। সত্তার দুই দিক; জন্ম ও অজন্ম, চিরকাল তারা হরিহর আত্মা হয়ে মিলে মিশে আছে; মৃত্যু শুধু তাদের মেলবন্ধন করে।

এখন বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় লাগছে। আবার বাইরের কেউ বাড়িতে এলেও ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকছি আমরা। সব যোগাযোগ বন্ধ, এই বুঝি সংক্রমিত হয়ে পড়লাম! এই আতঙ্কে কাটছে কিছুদিন ধরেই। কত রকম হোমিওপ্যাথি, ভেষজ, টোটকা, কবজ মাদুলি বা কোনো বিশিষ্ট জ্ঞানীদের বিশেষ নিরাময়য় পদ্ধতি দেখে খুব রাগ তারপর দুঃখ ও অন্তে মায়া হল, মনে মনে বললাম ‘মূর্খ ভারতবাসীও আমার ভাই’।
বিজ্ঞানের কি অগ্রগতি বা অজ্ঞগতি এইসবের আগে দরকার সামাজিক শিক্ষা; মানুষ মানুষকে মানুষ বলে চিনবে, থাকবে সামাজিক সাম্য। কোথায় এ-সব, এর মধ্যেই সাম্প্রদায়ীকতার তকমা লেগে গেল রোগের মধ্যে। আমাদের বাংলায় আমরা “যত মত তত পথ” শুনে বড়ো হলেও নিজেদের স্বাভাব, চরিত্র আর সংস্কৃতি বরাবর অপরেরটাই যেন অনুকরণ করতে পছন্দ করি, এরম বহু উদাহরণ জেনেও কালচারাল ফিউশন বলে আত্মতুষ্টি অনুভব করি, কিন্তু নির্বোধের মতো অপর ধর্মকে ছোটো করতে মন্তব্য করি এক দফা। কেউ পরেছিলেন কাঁটা মুকুট, কেউ নিয়েছিলেন বিষবান, খ্রীষ্ট আর ইষ্ট সবই তো সমান। প্রাচীন সাধুদের কথা গ্রন্থে পড়েছিলাম, ম্যাক্সমুলার যখন ঠাকুরের জীবনী লেখেন তখন প্রতাপ মজুমদার তাঁর সঙ্গে দেখা করে বলেন, “রামকৃষ্ণ ভালো লোক ছিলেন। কিন্তু শেষের দিকে তিনি prostitute ও drunkard-দের সঙ্গে মিশে mixed up হয়ে যান”। ম্যাক্সমুলার শুনে আনন্দে চেয়ার ছেড়ে উঠে বলেন, “এতেই প্রমাণিত হয় যে, তিনি অবতার। যীশুও ঐভাবে পতিতাদের উদ্ধার করেছেন”। কথাটা বুকে বেঁধেছিল, সত্যইতো যদি পাথর যোনিতে জন্মাতে হত তবে আকার কী হত? যদি জন্ম হতে বেজন্মা হতাম তবে ধর্ম কী হত?

বেশ কয়েক সপ্তাহ কেটে গেল, এই অবস্থায় নিজের আর পরিবারের সকলকে সুস্থ রাখতে আপমর প্রচেষ্টায় সারাবিশ্ব। ঘরে বসে সুস্থ স্বাভাবিক খাবার ও দৈনন্দিন অভ্যসের এক গাদা ফর্দ ধরিয়েছেন মানবকল্যাণে যা এই দুঃসময়ে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে তুলবে।সেই ফর্দে আছে কাঁচা হলুদের ও নাম, এতে ‘কারকিউমিন’ নামক একটি যৌগের গুণে সমৃদ্ধ। এটি নানা ধরনের প্রদাহ কমায়। আমরা ভারতীয়রা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হলুদ ব্যাবহার করে থাকি বিভিন্ন সংস্কার আর আচারে। প্রাচীন সমাজব্যাবস্থা কত সহজ আর সরল ছিল, অজানেতেই কত কিছু আরোপ করেছে মানবকল্যাণে, যেমনটা ধরুন এই শেতলার হাতে ঝ্যাঁটা আর জলভরা কলসি, ব্যাপারটা যদি এভাবে ভাবা যায় বসন্তকালে যদি সমাজ পরিষ্কার রাখা যায় তবে বসন্তরোগ থেকে মুক্তি। কী অদ্ভুত! এই করোনার জন্যও তো এরমই নির্দেশনা দিচ্ছে W.H.O। প্রাচীন কালের ভালো মানুষগুলো বিজ্ঞানী না হলেও দার্শনিক ছিলেন সে সন্দেহ নেই, দেশ বিদেশ থেকে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসতেন বহু বিদেশী, যেমনটা এখন আমরা যাই বিদেশে পড়তে। এই একটা প্রমাণই যথেষ্ট ভারতের আকরহানীর ও ভারতীয় সমাজের চরম অবমাননার। বহু যুগ ধরে ক্ষমতার শীর্ষে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপোষণ ও সহজে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতির মাশুল গুনছি, ঘরে বসে। যোগ্য পদে অযোগ্য প্রতিস্থাপনের ফলে সর্বত্র এক হাহাকার চলছে, মানুষ রোগের থেকে বেশি দারিদ্র্যতার ক্ষোভে মরছে। এই অতিমারি বিপদেও লোকে ধর্মের সংঘর্ষ, রাজনৈতিক কটুক্তি, চাল চুরি, আর্থিক সাহায্য লুট চালিয়ে যাচ্ছে, আর শ্রমিকশ্রেণির জন্য চুড়ান্ত অসহযোগিতা সর্বত্র দেখতে পাচ্ছি, খবরের মাধ্যমে আজ আর খবর নেই আছে একরাশ সত্যিকারের অজস্র সাজানো ঘটনা। আমরা আর মানুষনেই, ভগবান এবার এসে নিঃস্ব করুক সবাইকে, ধ্বংস হোক তোষণবাদী সমাজ।

যত ঘন কালো মেঘ তত বেশি বজ্রপাত, সারা পৃথিবীব্যাপী মৃত্যুহার ক্রমশ বেড়ে চলছে। খবরের কাগজে পড়লাম ‘প্রতিষেধক তৈরির প্রতিযোগিতায় প্রথম চারে আগেই নাম তুলেছে আমেরিকা, চিন, গ্রেটব্রিটেন ও জার্মানি। এবার নতুন সংযোজন ইটালি। তবে তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহের উপরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হতে আরও কিছুদিনের অপেক্ষা। ইটালির গবেষকদের দাবি, তাঁরা এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন, যা কিনা মানবকোষে নোভেল করোনা ভাইরাসের কার্যকলাপ নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। রোমে সংক্রামক ব্যাধির জন্য থাকা বিশেষ হাসপাতাল স্পাল্লানজ়ানিতে ইঁদুরের উপরে অ্যানিম্যাল ট্রায়াল সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। ভ্যাকসিন প্রয়োগে দেখা গিয়েছে, ইঁদুরের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশা, মানুষের শরীরেও একইভাবে কাজ দেবে প্রতিষেধকটি’। খুবই খুশির খবর, যখন আমাদের দেশে সবাই দাঙ্গা করে মরছে তখন করোনা রুখতে সম্ভাব্য চিকিৎসার তালিকায় রয়েছে আমেরিকার ওষুধ ‘রেমডেসিভিয়ার’, ব্রিটেনের ‘চ্যাডক্স ১’ ভ্যাকসিন। ‘ইটালির গবেষক দলটির সঙ্গে যুক্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার সিইও লুইজি আউরিজ়িক্কিয়ো-র কথায়, ‘‘সম্ভাব্য প্রতিষেধক আরও রয়েছে। কিন্তু আমাদের মতো এতটা অগ্রগতি মনে হয় না আর কেউ করেছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার কাজটা আমরাই প্রথম করে দেখালাম। আশা করছি, মানুষের দেহেও এটি একইভাবে কাজ করবে।’’ আউরিজ়িক্কিয়ো জানান, এই গরমের পরেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে। সেই জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন তাঁরা। ইটালির নিজস্ব গবেষকদল ও প্রযুক্তির সাহায্যে ভ্যাকসিনটি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও ইটালিতে দেশের মানুষের উপরেই করা হবে। তবে তিনি জানা নেই, তাঁদের গবেষণা সম্পূর্ণ সফল হলে, গোটা বিশ্বকেই ব্যবহার করতে দেওয়া হবে তা’।

তবে এর থেকেও বেশি খুশি হয়েছি প্রকৃতির পরিবর্তনের জন্য, দীর্ঘকাল ধরে মানব সভ্যতার অসভ্যতার গ্রাসে যে-বন্যপ্রাণ তটস্থ ছিল; তারা এখন স্বাধীন আর মুক্তহয়ে সর্বত্র ঘুরে বেরাচ্ছে, বায়ুর দূষণকনা মুক্ত হয়ে আকাশ নিযুত নক্ষত্রের রাজবেশ পরেছে, মেরুপ্রদেশের ওজন গহ্বর লোপ পেয়েছে, পশ্চিমের সন্ধ্যাতারা যেন শতগুণে উজ্জ্বল হয়ে প্রকৃতির বিজয়কেতন ওড়াচ্ছে। প্রকৃতি সংরক্ষণের কাজে জীবজগৎ ও উদ্ভিদ জগতের পরিবেশের সামঞ্জস্য বাস্তববিদ্যার প্রয়োজনে বাস্তব্যবিদ্যা-বিশেষজ্ঞগণ ২০০৭ সালে ‘Earth Hour’ মডেলের কথা বলেছিলেন। এটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলন যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার (WWF) দ্বারা আয়োজিত হয়। এই ইভেন্টটি প্রতিবছর মার্চ মাসের শেষ শনিবারে রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার জন্য অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ করতে উৎসাহিত করে গ্রহের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক নির্দেশ করাবে মানবসমাজকে। আমরা এইসব ভাবধারা কতজনে জানি তা সন্দেহ, আর জানলেও মানি না, মানতে পারি না, মানতে দেওয়া হয় না। আমাদের দেশে সেইসবই মানা হয় যা ভোট বাক্স বাড়াবে, ভাবতেও অবাক লাগে স্বয়ং বুদ্ধদেব সঙ্ঘের অধ্যক্ষ নির্বাচণের জন্য নাকি এই ভোট ব্যবস্থা করেছিলেন। আর আজ দেখো কী হাল! আমাদের আবার উচিত বিজ্ঞানের সাথে আবার দর্শনশাস্ত্রের পড়াশোনা শুরু করা, ১৯৭০ নাগাদ রসায়নবিদ জেমস লাভলক ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট লিন মারগুলিস এক দর্শনতত্ত্ব শিখিয়েছিলেন বিশ্বকে— ‘The Gaia hypothesis’। বলা হয়েছিল, জীবিত উদ্ভিদ ও প্রাণীরা পৃথিবীতে তাদের অজৈবপরিবেশের সাথে যোগাযোগ করে একটি অতিক্রিয়া এবং স্ব-নিয়ন্ত্রক, জটিল ব্যবস্থা তৈরি করে যা গ্রহের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অবস্থাকে বজায় রাখতে এবং স্থায়ী করতে সহায়তা করে। প্রকৃতি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিজস্ব মতামতে চলে, পৃথিবীতে সমস্ত ঘটনা স্বাধীন ও স্বতন্ত্র যা প্রকৃতির ইচ্ছানুযায়ী চলে; এর ওপর কারো কোনো হাত নেই। টেকনোলজির মোহমায়ায় অন্ধ হয়ে আমরা বলেছিলাম, বিজ্ঞানের সর্বোচ্চস্থিতিবাদ, সমস্ত দার্শনিকদের চিন্তায় বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছিলাম স্বেচ্ছাচারে, আজ তার অভিশাপে আমরা আছাড় খেয়ে পরেছি, এখনও সংযত না হলে হয়তো আরও রুদ্রমূর্তি দেখাবে প্রকৃতি।

তেমন কোনো কাজ না থাকায় আত্মীয়পরিজন ও প্রিয়জনদের ফোন করে খবর নিচ্ছি, সদ্য ফেলে আসা গৌড়ের কথা মনে করে পিসির বাড়ি ফোন করলাম, সব কিছুই কুশল মঙ্গল ওদের, তেমন নাকি রোগ ছড়ায়নি কিন্তু ওই মূর্তিটাকে নিয়ে নাকি অল্পবিস্তর সাম্প্রদায়িক কুটিলভাব ছরিয়েছে, অনেকে দাবিও করেছে মসজিদের গর্ভ খুঁড়ে মন্দিরটা বার করতে। তবে পুলিশের সুচারু পদক্ষেপে সব তুষের আগুনের মতো চাপা পরেগেছে। আবার ওই মূর্তিটার কথা মাথায় এলো, যাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম কেউই তেমন স্পষ্ট বলতে পারল না বা বলতে চাইল না। এবার নিজেই বসলাম দেখতে, প্রথমে মূর্তিটার ভাঙাটা দৃষ্টি আকর্ষন করেছিল, তারপর যখন দেখেছিলাম সেটা শুধু তাকানো ছিল, তার সাথে মন বা মস্তিষ্কের সংযোগ ছিল না। কোনো কিছুকে দেখতে গেলে মনের সংযোগ খুবই প্রয়োজন, এখন অনেক সময় নিয়ে দেখতে হবে, পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দেবী মূর্তি নাচের ভঙ্গিমাতে পদ্মমণ্ডলের ওপর একটা ছোট্ট মানুষের অবয়বের ওপর দাঁড়ানো, কোমরে যে কাপর পরানো তাতে ময়ূরের পালকের মতো কিছু রেখা বোঝা যাচ্ছে, অধিকাংশ হাত ভাঙা, বুকের কাছে সম্ভবত দুটো হাত ছিল; ভগ্নসংযুক্তি স্পষ্ট, ডানদিকের দুটো হাতের নীচেরটা গোটা তাতে কুঠার ধরা, ওপরটা তির ধরা ছিল কারণ, বামদিকের নীচের এক হাতে ধনুক ধরা, অপরটা কব্জির পর থেকে নেই, সাথে চালের অনেকটা ভাঙা। কাঁধ থেকে আবার ওই ময়ূরের পালকের মতো রেখা, কাদামাটির জন্য সূক্ষ্ম রেখাগুলো প্রায় অস্পষ্ট কিন্তু দেবীর ভ্রূকুটি কুটিল ত্রিনেত্র আর দেবীর তিনটি মুখ যার বামদিকেরটা ভাঙা, মাথার মুকুটে অলঙ্করণ স্পষ্ট আর তাতে ফল, ফুল, একজন যোগীমূর্তি, আর আবার ওই ময়ূরের পালক। মূর্তির পিছনে কিছু লেখা; লেখাটা সংস্কৃত না, ভালো করে দেখলাম সেটা কুটিল লিপি। মূর্তির আদলতা দেখে স্পষ্ট হলাম এটা কোনো তান্ত্রিক দেবীমূর্তি। কিন্তু বাংলায় তান্ত্রিক দেবীমূর্তির এরম কোনো রূপ দেখেছি বলে মনে পড়ে না, তার ওপর কুটিলাক্ষর বহুল প্রচলিত ছিল দক্ষিণপূর্ব বাংলার নাথ, রাত ও খর্গ রাজাদের লিপিতে এবং ভাস্করবর্মার নিধানপুর-তাম্রশাসনে কুটিল লিপির প্রচলন ঘটে কামরূপ প্রদেশেও, আর সেই সময়ে তান্ত্রিক মূর্তির ততটা বিকাশ লাভ হয়নি।

শেষ পাতা

সুজয় পালের গল্প

আমাদের নতুন বই