সোমনাথ ঘোষের প্রবন্ধ

আই, ড্যানিয়েল ব্লেক— ইংল্যান্ডের চলচ্চিত্র (২০১৬)

ব্রিটেনের প্রখ্যাত পরিচালক কেন লোচ চলচ্চিত্র মহলে পরিচিত মূলত social realist হিসেবে। বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে বরাবর ছবি বানিয়ে এসেছেন লোচ। পাঁচ দশকেরও বেশি চলচ্চিত্র জীবনে লোচের প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্যের সিনেমা ‘Poor Cow’ বিষয়বস্তু প্রথম বিশ্বের দেশ ইংল্যান্ডের দরিদ্র মানুষদের নিয়ে। বস্তুত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে লোচ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের কষ্ট এবং দলমত নির্বিশেষে ক্ষমতায় বসে থাকা রাজনীতিবিদদের শ্রমজীবী মানুষের কষ্টের প্রতি ঔদাসীন্যের উপর।

পঞ্চাশের দশকে ব্রিটেনে kitchen sink realism নামক এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। kitchen sink শব্দবন্ধটি ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী John Bratby-এর একটি পেইন্টিং থেকে এসেছে। সামাজিক বাস্তবতা নির্ভর এই আন্দোলন মূলত সে-সময়ের ব্রিটেনের শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবন, এবং তাদের সমস্যা ও জটিলতা নিয়ে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে থিয়েটার, সিনেমা, সাহিত্য ও টেলিভিশনে এই বাস্তববাদী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রভাব দেখা যায়। প্রসঙ্গত এই সময়ই লোচের চলচিত্র জীবনের শুরু। তার প্রথম দিককার কাজগুলি, যেমন ‘Cathy Come Home’ (টেলিনাটক, 1965, দরিদ্র গৃহহীন যুগলের কাহিনি), ‘Up the Junction’ (টেলিনাটক, ১৯৬৫, কারখানার শ্রমিক তিন বান্ধবী ও তাদের জীবন-যৌনতার কাহিনি), ‘Poor Cow’ (1967) কিচেন সিঙ্ক রিয়ালিসম দ্বারা প্রভাবিত। বস্তত লোচের সুদীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনে এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রভাব থেকে গিয়েছে।

রাজনীতিতে রাষ্ট্রনীতির কথা উঠলে আমরা প্রায়শই ‘welfare state’ কথাটি শুনতে পাই। Welfare state বা কল্যানব্রতী রাষ্ট্র বলতে আমরা বুঝি এমন এক রাষ্ট্রীয় কাঠামো যেখানে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৃদ্ধ, বেকার, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বা অসুস্থতার কারণে কর্ম করতে অপারগ নাগরিকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করা welfare state-এর মূল উদ্দেশ্য। প্রথম বিশ্বের অনেক দেশ এবং তৃতীয় বিশ্বেরও বেশ কিছু দেশ, যেমন আমাদের ভারত, নিজ সাধ্যমতো এ-ধরনের সুরক্ষা প্রদানের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্তু এই welfare state-এর নীতি এবং তা বাস্তবায়িত করার মাঝে যে-বিপুল ফাঁক থেকে যায় তা হয়তো তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক হিসেবে আমরা সকলেই জানি, কিন্তু প্রথম বিশ্বের দেশেও এর বলি হন সাধারণ মানুষ। কেন লোচের সাম্প্রতিক ছবি ‘I, Daniel Blake’ এমনই এক মানুষকে নিয়ে। প্রসঙ্গত, ছবিটি ২০১৬ সালে Cannes চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘Palme d’Or’-এ ভূষিত হয়।

ড্যানিয়েল ব্লেক একজন ৫৯ বছর বয়স্ক বিপত্নীক মানুষ, পেশায় ছুতোরমিস্ত্রি, নিজের কাজে দক্ষ, কিন্তু ডিজিটাল কাজে একেবারেই অপারগ। ড্যানিয়েল হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হবার পর চিকিৎসক তাকে শারীরিক সমস্যার কারণে কাজে যোগদানের অনুমতি দেননি। ফলে তাকে ব্রিটেনের welfare scheme-এর অন্তর্গত ‘employment and social allowance’-এর জন্য আবেদন করতে হয়। কিন্তু চিকিৎসকের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও ব্রিটেনের সরকারি সংস্থা সরকারি পরিভাষায় ড্যানিয়েলের ‘work capability assessment’ করে জানায় যে, ড্যানিয়েল এই ভাতার উপযুক্ত নন এবং তিনি যেন কাজে যোগদান করেন। সিনেমার শুরুতে ব্যাকগ্রাউন্ডে আমরা শুনতে পাই কথোপকথন যেখানে ড্যানিয়েলকে কিছু অনাবশ্যক প্রশ্ন করা হয় যার উত্তর পেয়ে সরকারি কর্মচারি সিদ্ধান্ত নেন যে, সরকারি পয়েন্ট সিস্টেমে নির্দিষ্ট নম্বর না পাওয়ার জন্য তিনি আপাতত ভাতা পাবেন না। প্রশ্নোত্তর পর্বটি আমাদের বেশ কমিকাল লাগে। বস্তুত এই সিরিয়াস ছবিটিতে অনেক সময়ই কিছু কমিক রিলিফ পাওয়া যায়। ড্যানিয়েল ব্লেকের চরিত্রে অভিনয় করা Dave Johns একজন stand-up কমেডিয়ানও বটে। ধীরে ধীরে ছবি এগোতে থাকলে কুশলী পরিচালক লোচ আমাদের সরকারি ব্যবস্থার যে-হৃদয়হীনতা দেখান, এবং ড্যানিয়েলের লড়াই ও তার বন্ধুসমা কেটির জীবনযুদ্ধের যে কাহিনি আমাদের সামনে তুলে ধরেন, তাতে আমরা হতচকিত হই, রাগান্বিত হই, ক্ষুব্ধ হই, এবং একইসাথে মনে হয় এ যেন আমাদেরই চেনা কোনো মানুষের কাহিনি।

কোনো রোজগার না থাকায় ড্যানিয়েলকে সরকারি ভাতা জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘক্ষণ সরকারি সংস্থার customer care-এ ফোন করেও যখন কোনো সুরাহা হয় না, তখন তাকে অগত্যা welfare office-এ যেতে হয়। পরিচালক এখানে আমাদের ছবির দ্বিতীয় মুখ্য চরিত্র কেটির সাথে পরিচয় করান। কেটি একজন উপার্জনহীনা মহিলা, দুই সন্তানের মা, লন্ডনের ব্যায়বহুল জীবনযাত্রায় টিকে থাকা সম্ভব নয় বলে Newcastle শহরে আগমন। ভুল বাসে উঠে পড়ার জন্য welfare office-এ পৌঁছতে যৎসামান্য দেরি হয়ে যায় কেটির। অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও কেটিকে মিটিংয়ে বসতে দেওয়া হয় না। কেটির কাতর অনুনয় এবং সরকারি কর্মচারির নিয়মের দোহাই দিয়ে হৃদয়হীন ব্যবহার দেখে ওখানে উপস্থিত ড্যানিয়েল প্রতিবাদ করে ওঠেন। ফলে কেটি ও ড্যানিয়েল দু-জনকেই অফিসে থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। ছবিতে এরপর আমরা ড্যানিয়েল এবং কেটি ও তার পরিবারের মধ্যে এক গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে দেখি। অসহায় কেটি, যার জন্য হৃদয়হীন আমলাতান্ত্রিক সরকারি ব্যবস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে অপারগ, ড্যানিয়েল এক পিতৃসুলভ দৃষ্টিতে তার দায়িত্ব নেন, পরিবারের সমস্যায়, সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেন।

ব্রিটেনের welfare system নিয়ে সে-দেশে ইদানীং প্রচুর চর্চা ও প্রতিবাদ হয়ে থাকে। Guardian পত্রিকাকে দেওয়া একটি ইন্টারভিউতে কেন লোচ বলেছেন যে, ব্রিটেনের job centre-গুলির কর্মপদ্ধতি আগে যদিও অনেক স্বচ্ছ ছিল, ইদানীং কাজের গোপনীয়তা অনেক বেড়ে গিয়েছে। Job centre তথা welfare office-গুলি আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর দ্বারা এতটাই নিয়ন্ত্রিত যে ওখানে কোনো আবেদনকারী গেলে তাকে সর্বদাই সন্দেহের চোখে দেখা হয়, এবং তার সমস্যা লাঘব করার জন্য যতটা সম্ভব কম সাহায্য করা হয়। ছবিটি ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টেও আলোচিত হয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তদানীন্তন বিরোধী দলনেতা লেবার পার্টির Jeremy Corbyn ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ছবিটি দেখতে অনুরোধ করেন এবং সরকারি welfare system-এর সমালোচনা করে বলেন, “It is time that we ended this institutionalized barbarity against often very vulnerable people.”

ছবিতে লোচ কেটি ও ড্যানিয়েলের জীবনযুদ্ধ একইসাথে দেখাতে থাকেন। ড্যানিয়েলকে পুনর্বার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জানাতে বলা হয়। কম্পিউটারে অশিক্ষিত ছুতোরমিস্ত্রি ড্যানিয়েল, যাকে সাহায্য করার মতো পরম বন্ধু বা আত্মীয় বলতে তেমন কেউ নেই, তার কাছে এই কাজ অসম্ভব লাগে। বারংবার সরকারি অফিসে গেলে প্রত্যেকবারই তাকে ভিন্ন ভিন্ন উপদেশ দেওয়া হয়, কখনো অনলাইনে আবেদন জানাতে বলা হয়, কখনো নিজের CV বানিয়ে কাজ খোঁজার প্রমাণ দিতে বলা হয়, কখনো-বা CV সঠিকভাবে বানানোর জন্য প্রশিক্ষণ নিতে বলা হয়। সঙ্গে এও বলা হয় যে, এ-সব না করলে ড্যানিয়েল কোনো সরকারি অনুদানই পাবেন না। অতএব অসুস্থ ড্যানিয়েলকে ছুটে বেড়াতে হয় এ অফিস থেকে ও অফিস, এ দরজা থেকে ও দরজা।

প্রথম বিশ্বের সম্পর্কে আমাদের ভারতের মানুষদের এমন কিছু স্বপ্নিল ধারণা আছে যাতে মনে হয় একবার প্রথম বিশ্বের কোনো দেশে গিয়ে পৌঁছোতে পারলেই জীবন সার্থক। এই মানসিকতার পিছনে অনেক কারণ রয়েছে, যেমন ঔপনিবেশিকতার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না পারা, বা গণমাধ্যমগুলিতে (সোশ্যাল মিডিয়াকেও গণমাধ্যমের অন্তর্ভুক্ত করছি) সর্বক্ষণ পশ্চিমী ভোগবাদী লালসার নগ্ন বিজ্ঞাপন। যাইহোক, সে এক অন্য প্রসঙ্গ। বরাবরের বামপন্থী মানসিকতার লোচ কিন্তু তার ছবিতে অন্য এক ইংল্যান্ড আমাদের দেখিয়ে এসেছেন। আমরা দেখি উপার্জনহীনা কেটি অর্থাভাবের জন্য নিজে অভুক্ত থেকে সন্তানদের পেট ভরায়, আমরা দেখি ফুড ব্যাঙ্কের সামনে খাবারের জন্য মানুষের লম্বা লাইন, আমরা দেখি ফুড ব্যাঙ্কে ক্ষুধার তাড়নায় কেটির ভেঙে পড়ার হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ক্রন্দনরতা কেটিকে ড্যানিয়েল সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, “You will get through this, it is not your fault.” আমরা জানি নিজের এই পরিস্থিতির জন্য কেটির কোনো দোষ নেই, কিন্তু আমরা জানি না কেটি আবার ঘুরে দাঁড়াবে কিনা।

অভাবের তাড়নায় বেশ্যাবৃত্তি পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া বিশ্বের অনেক গরিব দেশেই আমরা দেখতে পাই। সুবর্ণরেখার সেই বিখ্যাত দৃশ্য, বেশ্যা বোনের প্রথম খদ্দের তার দাদা, এবং দাদাকে দেখে বোন তৎক্ষণাৎ আত্মহত্যা করে, সেই দৃশ্য আজও দেখলে আমরা শিহরিত হই। Realist লোচ ঋত্বিকের মতো অত নাটকীয় নন, তার চরিত্রেরা অনেক সোজাসাপ্টা। সুপারমার্কেটে কেটি যখন নিজের জন্য স্যানিটারি প্যাড চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে, তখন সেখানকার নিরাপত্তারক্ষী তাকে বেশ্যাবৃত্তিতে আসার প্রস্তাব দেয়। সম্ভবত সিনেমার সবথেকে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হল যখন ড্যানিয়েল কেটিকে বেশ্যালয় থেকে খুঁজে বার করেন, কিন্তু কেটি ড্যানিয়েলের সাথে ফিরে আসে না, অভাবের তাগিদে আবার বেশ্যালয়ই ফেরত যায়।

বারবার সরকারি ব্যবস্থার কাছে হেনস্থা হতে হতে একদিন ড্যানিয়েলের ধৈর্য্যের বাধ ভাঙে। হতাশ ও ক্রুদ্ধ ড্যানিয়েল সরকারি অফিসের দেওয়ালে রং দিয়ে graffitti বানিয়ে নিজের প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন। সত্তরের দশকের এক শিক্ষিত বেকার যুবক সিদ্ধার্থ ইন্টারভিউ বোর্ডের টেবিল উলটে দিয়ে নিজের রাগ ব্যক্ত করেছিল (প্রতিদ্বন্দ্বী-সত্যজিৎ রায়)। যুবক সিদ্ধার্থ যদিও জীবনযুদ্ধে হেরে যায়নি, কিন্তু বার্ধক্যের কাছে চলে আসা ড্যানিয়েল তার জীবনে নেমে আসা এই অকস্মাৎ ক্রাইসিসের সাথে লড়তে লড়তে হেরে গেলেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে ড্যানিয়েলের মৃত্যু হয়।

ড্যানিয়েল ব্লেক ও কেটির কাহিনি দেখলে মনে হবে এ যেন আমাদেরই চেনা পরিচিত মানুষদের কাহিনি, যে-মানুষ নিজের অধিকার রক্ষার্থে এবং নিজের পরিবার, সন্তানের জন্য প্রতিনিয়ত লড়ে চলেছে ভঙ্গুর সিস্টেমের সাথে। তাই ব্রিটেনের ছবি হলেও ছবির বিষয় আমাদের কাছে খুবই চেনা ঠেকে, কারণ এ-ধরনের মুখহীন সরকারি ব্যবস্থার সম্মুখীন আমাদের দেশের মানুষও প্রতিনিয়ত হয়, যেখানে মানুষ কম্পিউটারে ডেটাবেসে এন্ট্রি করা সংখ্যা ব্যতীত আর কিছুই নয়। (প্রসঙ্গত কিছু দিন আগেই একটি খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, ওড়িশার এক গ্রামে এক ষাট বছর বয়স্ক মহিলা তার আশি বছরের বৃদ্ধা অসক্ত মাকে খাটিয়াতে শুইয়ে তা টেনে ব্যাঙ্কে নিয়ে যান কারণ ব্যাঙ্ক থেকে বলা হয় জন-ধন খাতা থেকে টাকা তুলতে হলে গ্রাহককে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।) রিয়ালিস্ট লোচের এই ছবি কোনো রাজনৈতিক propaganda হয়ে ওঠেনি, কারণ, লোচ ছবির মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য রাখার চেষ্টা করেননি, বরং ছবিটি বর্তমান সময়ের গণতান্ত্রিক সরকারি কাঠামোয় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের সমস্যার এক জ্বলন্ত দলিল। বস্তুত ড্যানিয়েলের কাহিনি একজন হেরে যাওয়া মানুষের কাহিনি। ড্যানিয়েলের মতো অনেক বিপন্ন মানুষ এভাবে প্রতিনিয়ত লড়তে লড়তে হেরে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে, তাদের আমরা মনে রাখি না। আমরা জানি না কেটি আবার জীবনের মুলস্রোতে ফিরতে পারল কিনা, নাকি বেশ্যাবৃত্তির অন্ধকারে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাবার ইচ্ছা চিরকালের মতো হারিয়ে গেল।

আগামী সময় বড়োই কঠিন। মহামারি এবং lockdown-এর কারণে গোটা পৃথিবীতেই প্রচুর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কাজ হারিয়েছেন কোটি কোটি মানুষ। lockdown-এর ফলে ব্যবসার চরিত্রগত পরিবর্তন ঘটছে, ব্যবসায়িক মডেলে artificial intelligence ও automation-এর খুব দ্রুত প্রয়োগ ঘটছে, ফলে আগামীদিনে রুটিন কাজগুলোতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র ক্রমশ সঙ্কুচিত হবে। বিখ্যাত ঐতিহাসিক Yuval Noah Harari তাঁর সাম্প্রতিকতম বই ‘21 lessons for 21st century’-তে এই বিষয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছেন যে, ভবিষ্যতে প্রত্যেক রাষ্ট্রকে তার নাগরিকের জন্য ‘Universal Basic Income’ সুরক্ষা প্রদান করতে হতে পারে। না হলে সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন স্বল্পশিক্ষিত এবং গরিব শ্রমজীবী মানুষেরা। একটি ইন্টারভিউতে লোচ যথার্থই বলেছেন, “I think we all need to be angry at the way we have allowed our society to be run that the most vulnerable people are the ones who are hurt the most”. প্রকৃত অর্থে বাস্তবধর্মী এই সিনেমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে না, কারণ, বিদ্রোহ করা শিল্পীর কাজ নয়। বরং এই সিনেমাটি এক হৃদয়হীন সিস্টেমের কাছে সাধারণ মানুষের অসহায়তার করুণ ছবি তুলে ধরে আমাদের সামনে এবং অনেক প্রশ্ন রেখে যায়, যার উত্তর সমাজের দুর্বল মানুষের স্বার্থে আমাদের খুঁজতে হবে।

অফিশিয়াল ট্রেলার: 

Spread the love

2 Comments

  • Ken Loach er ai cinemati dekha, khube bhalo cinema.Lekhak sathik bhabe chobitir gurutto purno jayga guli niye o tar bibhinno dik niye alochona korechen.Ai dharoner lekha aro ber hok.

    Krishanu Patra,
  • Khub bhalo laglo. Socio political point of view theke cinema tar alochona otyonto manograhi hoyeche.

    Ritam Dey,
  • Your email address will not be published. Required fields are marked *