লেখক নয় , লেখাই মূলধন

অনিন্দ্য রায়ের ধারাবাহিক: ফর্মায়েসি

নবম পর্ব

লুক ভাত
(Lục bát)

ভিয়েতনামের পম্পরাগত আঙ্গিক ‘লুক বাত’। সে দেশে সমাজের সব স্তরে জনপ্রিয় এই কবিতা। লুক বাতের সিনো-ভিয়েতনামী শব্দার্থ ‘ছয় আট’। ছয় ও আট সিলেবলের পর্যায়ক্রমিক দু-লাইন জুড়ে জুড়ে রচিত হয় এই কবিতা। আর অনন্য মিলকাঠামো এই ফর্মটিকে বিশিষ্টতা দিয়েছে। একটি লাইনের শেষ (ষষ্ঠ বা অষ্টম) সিলেবলের সঙ্গে মিল থাকে পরবর্তী লাইনের যষ্ঠ সিলেবলের।

মিমবিন্যাস এইরকম:

x x x x x ক
x x x x x ক x খ
x x x x x খ
x x x x x খ x গ
x x x x x গ
x x x x x গ x ঘ

লুক রাতের কোনও নির্দিষ্ট লাইন সংখ্যা নেই। হাজার লাইনের থেকেও বড়ো হতে পারে। কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ও নেই।
পরম্পরাগত ভিয়েতনামী কবিতায় সিলেবলের ‘টোন’ হয় দুরকম কড়ি (শার্প) বা কোমল (ফ্ল্যাট)। লুক বাতের সিলেবলগুলি নির্দিষ্ট টোনে বিন্যস্ত হয়।
ফরাসিরা মাধ্যমে ইওরোপে পরিচিতি পায়। ইদানীং ইংরেজিতে লুক বাত লেখা হচ্ছে অনেক, সেখানে টোনের এই নিয়ম মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলা কবিতা এই ফর্ম, এর মিলকাঠামো ও বাংলার মিলের শৈলী নিয়ে আগ্রহী হয়ে-ওঠার সম্ভাবনা আছে।

স্পর্শ

চাঁদ ভুলভাল রাত ভাঙচুর
চুপ চোখ তার ঘুমপথ দূর হাঁটলাম
কেউ ডাক দেয় ভুল ডাকনাম
সাড় নেই কেউ আর নিষ্কাম হোক চায়
সাধ যাইহোক মন আবছায়
তাও ঠিক ছোঁয় এই প্রেম হায় গান কোন

লুক বাতের আরেকটি কম-ব্যবহৃত মিলকাঠামো আছে। তাতে ছয়-সিলেবলের লাইনটির ষষ্ঠ সিলেবলের সঙ্গে পরের লাইনের চতুর্থ সিলেবলের মিল হয়।

সঙ থ্যাট লুক বাত
(Song Thất Lục Bát)

ভিয়েতনামের আরেকটি আঙ্গিক হল ‘সঙ থ্যাট লুক বাত’, এর মানে ‘দোকা সাত ছয় আট’। প্রথম দুটি লাইন সাত সিলেবলের, তৃতীয় লাইন ছয় সিলেবলের, চতুর্থ লাইন আট সিলেবলের— এইরকম চৌপদী পরপর লিখে রচিত হয় সঙ থ্যাট লুক বাত। এরও মিলকাঠামো চিত্তাকর্ষক। প্রথম লাইনের শেষ সিলেবলের সঙ্গে দ্বিতীয় সিলেবলের পঞ্চম সিলেবলের মিল থাকে, দ্বিতীয় লাইনের শেষ সিলেবলের সঙ্গে পারের লাইনের শেষ সিলেবলের। আর শেষ লাইনদুটির মিল লুক বাতের নিয়মানুসারে:

x x x x x x ক
x x x x ক x খ
x x x x x খ
x x x x খ x গ

x x x x গ x ঘ
x x x x ঘ x ঙ
x x x x x ঙ
x x x x ঙ x চ

এই কবিতাতেও সিলেবলগুলি নির্দিষ্ট টোনে বিন্যস্ত হয়। ভিয়েতনামী ছাড়া অন্যান্য ভাষায় অবশ্য টোনের ব্যাপার মানা হয় না।
বাংলায় আমরা এই ফর্মে চেষ্টা করতে পারি:

আশ্বিন

আজ রোদ নীল আর মেঘ দোলদোল
গাছ নিশ্চুপ জঙ্গল থমথম
পথ ভিড় নেই লোকজন কম
তার এক হাত আজ প্রথম ধরলাম

ডানদিক স্থির আর বাম উসখুস
তিন চার পাঁচ বক হুস ওই দূর
জলছাপ আশপাশ ভরপুর
ঠিক কেউ বাজায় সন্তুর খুব ভোর

সিলেবলগুলি সিলেবলের নির্দিষ্ট টোনে বিন্যস্ত হয়। ইংরেজিতে যে লুক বাত লেখা হচ্ছে সেখানে টোনের এই নিয়ম মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনটি সঙ থ্যাট লুক বাত চৌপদীর পরে সাত সিলেবলের দুটি লাইন (মিলবিন্যাসসঙ থ্যাট লুক বাতের প্রথম দুলাইনের মতো) নিয়ে চৌদ্দ লাইনে লেখা হয় ‘সঙ থ্যাট লুক বাত সনেট’।

প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব

তৃতীয় পর্ব

চতুর্থ পর্ব

পঞ্চম পর্ব

ষষ্ঠ পর্ব

সপ্তম পর্ব

অষ্টম পর্ব

অনিন্দ্য রায়ের ধারাবাহিক: ফর্মায়েসি

আমাদের নতুন বই