পার্থজিৎ চন্দের ধারাবাহিক গদ্য: সোনালি, হরিণ-শস্য

সপ্তম পর্ব

ব্যাসদেব গণেশ ও সরলবর্গীয় বনের কিছু কথা

দুর্বোধ্য অসংলগ্ন মণীন্দ্র গুপ্ত কথিত স্তন্যপায়ীর ডিমের মতো আজব অথবা গ্রটেস্ক নানা ‘প্রায়-স্বপ্ন’ আজকাল আমাকে ঘিরে ধরে মাঝে মাঝেই। ‘তামাকু সেবনের অপকারিতা’য় অজিতেশ বন্দোপাধ্যায় যেমন ‘প্রায়-গানের স্কুল’-এর কথা বলেছিলেন অনেকটা তেমনই এই ‘প্রায়-স্বপ্নগুলি’। স্বপ্নের উপর মানুষের সচেতনভাবে কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আবার খোয়াবের মতো পূর্বনির্ধারিত বা ইচ্ছেধারী কল্পণাও নয় এগুলি। খোয়াব ও স্বপ্নের মাঝামাঝি এক অবস্থানে দুলতে থাকে এইসব ‘প্রায়-স্বপ্ন’-গুলি।

এই প্রায়-স্বপ্নগুলির মধ্যে একটি আমার খুব প্রিয়, বারবার ফিরে আসে সেটি। ফ্যাকাসে চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে সরলবর্গীয় গাছের সার। অথচ কুয়াশার একটি হালকা আস্তরণ শরীর পেতে রেখেছে বনের মধ্যে। এই সিল্যুয়েট’-টি নিজেই শরীর ধারণ করে ভাসতে ভাসতে স্নায়ুর মধ্যে ঢুকে পড়ে। আমি শুধু কখনো কখনো কুয়াশা-ঘনত্বের মাত্রা বাড়িয়ে-কমিয়ে দিই। এই সিল্যুয়েট’-টির উপর ক্রমশ নেমে আসতে থাকে সাদাটে এক অতিকায় ক্যাপসুল… যার ভিতর এক মহাকাশচারী বসে রয়েছেন। একটি চিল পাক খাচ্ছে তাঁর মাথার উপর। শিরস্ত্রাণে ঢাকা মহাকাশচারীর মুখের সঙ্গে ভারবি-সংস্করণে ব্যবহৃত জীবনানন্দ দাশের আলোকচিত্রের অদ্ভুত সাদৃশ্য। সেই ঠোঁট-চাপা এক রহস্যময় হাসি, সে-হাসি গ্রহণের না প্রত্যাখ্যানের সে-বিষয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অসম্ভব।

স্পেসশিপ থেকে নেমে আসেন একজন মানুষ, সরলবর্গীয় গাছের অরণ্যের মধ্যে… কুয়াশার মধ্যে তিনি টেবিলের সামনে টেনে নেন একটি চেয়ার। তারপর ঘাড়-গুঁজে পাতার পর পাতা লিখে চলেন, পবিত্র দানবের শক্তি ভর করে তাঁর শরীরে। ক্রমশ তাঁর হাতের আঙুলগুলি একে একে হয়ে ওঠে এক-একটি সরলবর্গীয় গাছ।

আমি নিদ্রা-ঘোরের মধ্যে বহুবার সে-লেখার পাঠোদ্ধার করতে চেয়েছি, পারিনি। শুধু দেখতে পেয়েছি পাতার পর পাতা লেখা ছড়িয়ে রয়েছে টেবিলের উপর।

প্রায়-স্বপ্নের মধ্যে আমি বারবার আবিষ্কার করি পাঠক-ভূমিকায় আমার অসহায়তা ও অক্ষমতা।

যে-ভাষা মহাকাশ-ভ্রমণ করে ফিরে আসে সে-ভাষা… সে-প্রকাশ কি ক্রমশ দুর্বোধ্য ও অচেনা হয়ে আসে পাঠকের কাছে, এভাবেই?

ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেয়া এই প্রায়-স্বপ্নের মধ্যে জেগে উঠে আমি অবধারিতভাবে আবিষ্কার করি সরলবর্গীয় গাছের বনে অস্থিরভাবে পায়চারি করছেন নীৎশে। ক্রমাগত তাঁর লেখক ও পাঠক ভূমিকার অদলবদল ঘটে চলেছে। নিজের লেখক ও পাঠক-সত্তাকে একটি লাল-বলের মতো লোফালুকি করতে করতে তিনি মিলিয়ে যাচ্ছেন বনের আরও গভীরে। এবং দিগন্তের কাছে ফুটে উঠছে এক সমুদ্রের ইশারা, একটি ডলফিন। মাথার উপর সেই লাল-বলটিকে নিয়ে ফিরে আসছে ডলফিনটি। বালুতটে কাফকা অথবা আইডেনটিক্যাল-ট্যুইনের ছায়া। তাদের মাঝখানে বলটিকে রেখে ঢেউয়ের মধ্যে শরীর ডুবিয়ে অপেক্ষারত ডলফিন, চাঁদের ফ্যাকাসে আলোয় ডলফিনের হাসি অসম্ভব উজ্জ্বল ও পবিত্র-প্রতারণাময়। বলের দু-দিক থেকে থেকে ছুটে আসা আইডেনটিক্যাল-ট্যুইনের মাঝখানে ঢেউয়ের মাথায় দোলে বলটি। যখনই দুই যমজ-শিশু বলটির খুব কাছে চলে আসে তখনই সে-ডলফিন বলটিকে নিয়ে আবার ফিরে যায় গভীরতর সমুদ্রে। নিখুঁত ট্রাপিজের খেলার মতো এই খেলা চলতে থাকে, পাই-এর মতো অমীমাংসিত অনিবার্যের পথে বলটি থেকে সমদূরত্বে এসে থমকে যায় দুই শিশু অথবা বৃদ্ধের ছায়া। মুঠো ভরে বালি নিয়ে আবার তারা ফিরে যায় যে যার স্থানে, আবার প্রস্তুতি নেয় ঢেউয়ের মাথায় ডলফিনের বল নিয়ে ফিরে আসবার প্রহরের।

শুধু প্রায়-স্বপ্নেই নয়, নীৎশের একটি লেখায় খুঁজে পেয়েছিলাম এই রহস্যময় বালুতট ও আইডেনটিক্যাল-ট্যুইনের ছায়াকে।

নীৎশে তাঁর ‘Thus Spoke Zarathustra’ গ্রন্থে লিখেছিলেন: “Of all that is written, I love only what a person hath written with his blood. Write with blood, and thou wilt find that blood is spirit.
It is no easy task to understand unfamiliar blood; I hate the reading idlers.”

সব মহৎ লেখাই রক্তে কলম ডুবিয়ে লেখা। নীৎশে লিখিত তিনটি বাক্যের মধ্যে প্রথম বাক্যের প্রথম অংশটি তাই প্রেডিকটেবল। দ্বিতীয় বাক্যটির শেষ অংশে এসে চোখ আটকে থাকে বহুক্ষণ— রক্তই সেই ‘স্পিরিট’। কিন্তু তৃতীয় লাইনটি এক অকল্পণীয় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয়, ‘অচেনা’ রক্তকে চিনে নেওয়া ও হৃদয়ঙ্গম করা সহজ নয়। ‘আনফ্যামিলিয়ার ব্লড’— এই দু-টি শব্দের ভিতর থেকে লেখক ও পাঠকের মধ্যে সম্পর্ক বিষয়ক এক ডিসকোর্স গড়ে উঠতে পারে।

আপাতভাবে এই লাইনটিকে শব্দের উৎকৃষ্ট জাগলারি বলে মনে হলেও অবাক হবার কিছু নেই। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে— “It is not easy to understand unfamiliar blood”— অংশটিতে নীৎশে এক মাইন পুঁতে দিয়ে গেছেন। লেখক ও পাঠকের মধ্যে সম্পর্ক আসলে একে-অপরকে ক্ষতবিক্ষত করার, এক পবিত্র সন্ত্রাসের মধ্যে দিয়ে একে-অপরের মধ্যে প্রবেশ করবার সম্পর্ক।

লেখক যে-মুহূর্ত থেকে লিখনে লিপ্ত হয়ে পড়লেন সে-মুহূর্ত থেকে তিনি তাঁর রক্তে কলম ডোবাতে শুরু করলেন। এই প্রক্রিয়াটির সময়ে তাঁর রক্তে এক রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে যায়, তিনি হয়ে উঠতে থাকেন ভিতরে ভিতরে অচেনা এক প্রাণী… তাঁর রক্তের গন্ধ-স্বাদ-রংও হয়তো পরিবর্তিত হয়ে যায়।

এবার দ্বিতীয় একটি স্তরে প্রবেশ করে গোটা প্রক্রিয়াটি। পাঠকের পক্ষে কি আদৌ বোঝা সম্ভব, পৌঁছানো সম্ভব সেই অচেনা-রক্ত-ঝরিয়ে-লেখা সৃষ্টির ভিতর?

নীৎশে না-বলেও এক ঈঙ্গিত রেখে দিলেন বলেই মনে হয়, আনফ্যামিলিয়ার ব্লড-কে আত্মস্থ করতে গেলে ক্রমশ সিঁড়ির পর সিঁড়ি পেরিয়ে নিজের ভিতরেও এক জাদু-ঝরনার জন্ম দিতে হয়… সেখানে আনফ্যামিলিয়ার ব্লডের উৎসমুখটিকে আবিষ্কার করতে হয়। খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে প্রত্ন-অন্ধকারে ঢাকা সে-উৎসমুখ থেকে চুঁইয়ে পড়া অচেনা রক্তকে ধারণ করতে হয়।

লেখকের রক্তের ভেতর যে-আত্মভ্রূণের কান্নার শব্দ, পাঠকেরও সেই আত্মভ্রূণের কান্নাকে প্রথমে আবিষ্কার ও পরে আত্মস্থ করা জরুরি। একমাত্র তখনই এক উভমুখী খেলা যথাযথভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

যে-সরলবর্গীয় বৃক্ষের বনে নীৎশে অস্থিরভাবে পায়চারি করেন সেই বনেরই সব থেকে গহন গভীর জায়গাটিতে স্থিরভাবে বসে থাকেন ব্যাসদেব। স্বয়ং ব্রহ্মা এসেছেন তাঁর কাছে।

ব্যাসদেব ব্রহ্মাকে সবিনয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন তাঁর মহাকাব্যের সকল কাহিনি সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু তিনি “এই বিশাল বিশ্বক্ষেত্রে একজন ইহার উপযুক্ত লেখক” দেখিতেছেন না।

এই পথ ধরে ব্রহ্মার পরামর্শ মেনে ব্যাসদেব গণেশকে স্মরণ করেছিলেন, “হে গণনায়ক! মনঃসঙ্কল্পিত মহাভারতাখ্য আমি গ্রন্থ আমি অবিকল বলিতেছি, আপনি আমার লেখক হউন”।

বিঘ্ননাশক গণেশ বেদব্যাসের এই কথা শুনিয়া কহিলেন, “মুনে! যদি লিখিতে লেখনী ক্ষণমাত্র বিশ্রাম লাভ না করে, তাহা হইলে আমি আপনার লেখক হইতে পারি”।

পালটা শর্ত দিলেন ব্যাসদেবও, বললেন, তিনি যা বলবেন তার যর্থার্থ অর্থবোধ না করে গণেশও লিখতে পারবেন না। এরপরই ব্যাসদেব শ্লোক রচনার অবসর খুঁজে নেবার জন্য আট হাজার আটশো ‘কূট-শ্লোক’ রচনা করেছিলেন। এই শ্লোকগুলি ব্যাসকূট নামে পরিচিত। ব্যাসদেব সদম্ভে ঘোষণা করেছিলেন এইসব শ্লোকের পাঠোদ্ধার করতে একমাত্র তিনি ও শুক পারেন। সঞ্জয়ের ক্ষমতা সম্পর্কে স্বয়ং ব্যাসদেবেরই সন্দেহ ছিল। এমনকী সর্বজ্ঞ গণেশ সময় নিতেন এ-সব শ্লোকের অর্থোদ্ধার করতে।

মহাকাব্যের মিথ-জনিত বিষয়টিকে একটু সরিয়ে রেখে এ-কথা বলাই যায়, গণেশ শুধুমাত্র শ্রুতিলিখনের কাজটুকুই করেননি, তিনি এই কাব্যের প্রথম ‘পাঠক’ও বটে। কিন্তু একজন স্রষ্টার অহং পুরোমাত্রায় ছেয়ে আছে ব্যাসদেবকে। লক্ষ করার বিষয়, তিনি পুরোমাত্রায় সচেতন তাঁর কাব্যের কূট-শ্লোকগুলিকে কে বা কারা কতদূর পর্যন্ত অনুধাবন করতে সক্ষম। হয়তো কিছুটা গূঢ় স্বরে এটিও বলে দেওয়া যায়, গণেশই নির্ধারিত করেছেন তাঁর কাব্যের অন্দরমহলে কে বা কারা কতটা প্রবেশ করবেন। ‘পাঠক’-কে কিছুটা বিমূঢ় করে রেখে তিনি মেতে থেকেছেন নতুন নতুন শ্লোক নির্মাণের কাজে। লেখক ও পাঠকের মধ্যে এ এক সন্ত্রাসী মেধার খেলা।

লেখকের সৃষ্ট যে-মহাদেশ সেখানে প্রবেশ করতে গেলে পাঠককে শুধু যে পরিণত ও প্রস্তুত হতে হবে তাই নয়, হয়ে উঠতে হবে এক ঐশ্বরিক উন্মাদ। কারণ, যে-উন্মাদ লিখে চলেছেন অরণ্যের ভিতর, যে-উন্মাদের রক্ত ঝরে পড়ছে কুয়াশার মধ্যে সে-রক্তের গন্ধ চিনে নেবার জন্য পাঠকের ঘ্রাণশক্তির যোগ্য হয়ে ওঠা জরুরি।

লেখক ও পাঠকের এই দিব্যোন্মাদ অবস্থাকে অনেকেই আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করে ভুল করতে পারেন। এটি অবশ্যই উন্মাদের পাঠক্রম; কিন্তু তা আমাদের সময় ও মাত্রা-ধারণার পৃথিবী ছাড়িয়ে অন্য এক মহাদেশের বাস্তবতা। এখানে আরেকবার নীৎশের স্মরণ নেওয়া যেতে পারে, “There is always some madness in love. But there is always, also, some method in madness.” ম্যাডনেসের মধ্যে লুকিয়ে থাকা এই মেথড ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় লেখক ও পাঠক— উভয়ের কাছেই। এই মেথডটি যতক্ষণ পর্যন্ত না-উন্মোচিত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত একটি টেক্সট পাঠকের সাপেক্ষে খণ্ডিত ও লেখকের সাপেক্ষে অসম্পূর্ণ।

পাঠক ও লেখকের মধ্যে সম্পর্কের রসায়ন খুঁজতে গিয়ে অন্য প্রসঙ্গে কাহলিল জিব্রানের একটি লাইন মনে পড়ে যেতে পারে, “The astronomer may speak to you of his understanding, but he cannot give you his understanding.” একজন মহাকাশচারী স্পেস নিয়ে তার অনূভুতি আমাদের কাছে ব্যক্ত করতে পারেন, কিন্তু তিনি স্পেস নিয়ে তাঁর অনুধাবন আমাদের হাতে আপেলের মতো তুলে দিতে পারেন না। এবং এখানে এসেই পাঠকের ভূমিকা ও দায়িত্ব অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। সেই স্পেস-এর ধারণার কাছাকাছি পৌঁছাতে গেলে, মহাকাশচারীর ‘understanding’-টিকে ছুঁতে গেলে তার নিজের শরীরে নিজেকেই জন্ম দিতে হবে হাজার হাজার আকর্ষের। যে-আকর্ষগুলি ক্রমশ শুষে নেবে মহাকাশচারীর প্রতিটি শব্দ।

মহাকাব্য লেখার শুরুতেই গণেশ ও ব্যাসদেবের মধ্যে যে-সন্ত্রাসের বীজ রোপণ হয়েছিল লেখক ও পাঠকের মধ্যে সম্পর্ক আসলে সেই সন্ত্রাসের থেকে একবিন্দুও বেশি বা কম নয়। দু-জনের মধ্যে এই সন্ত্রাসের হাওয়া ঘুরে ঘুরে ফেরে, দু-জন দু-জনকেই সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ করেন। লেখক তার মহাদেশে কাকে কতটা প্রবেশাধিকার দেবেন বা দেবেন না, সেটা তিনিই ঠিক করেন। সেখানে তিনি সম্রাট। সেখানে তিনি পা থেকে মাথা পর্যন্ত এক পবিত্র ও সৎ অহং-এ মোড়া, হয়তো সব লেখকই সে-মুহূর্তে বলেন, “I no longer feel in common with you; the very cloud which I see beneath me, the blackness and heaviness at which I laugh…that is your thunder-cloud” (Thus Spoke Zarathustra)

এক মহাকাশচারীর পায়ের নীচে কালো ঘন ভারী মেঘের দল। তিনি হেসে উঠছেন সে-মেঘের দিকে তাকিয়ে। এই হাসিটুকু ঈশ্বরের হাসি।

বজ্রগর্ভ মেঘের ভিতর থেকে সে-হাসি বিদ্যুৎ আর বিদ্যু্তের শরীর নিয়ে আছড়ে পড়ছে পাঠকের মাথার উপর।

এক পাঠক মাথা তুলে সমস্ত বিদ্যুৎ ঝলকের মধ্যে সেই ঈশ্বরের হাসিকে আবিষ্কার করতে পারল। তার স্নায়ু সহ্য করতে পেরেছে বিদ্যুতের ছোবল।

তখন সেই পাঠকও তো ঈশ্বর… তার হাসিও তো ঈশ্বরের হাসি।

প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব

তৃতীয় পর্ব

চতুর্থ পর্ব

পঞ্চম পর্ব

ষষ্ঠ পর্ব

Spread the love

2 Comments

  • চমৎকার লেখা।

    Samiran Ghosh,
  • এ লেখার জন্য আমি সাগ্রহে অপেক্ষায় থাকি.

    শতদল মিত্র,
  • Your email address will not be published. Required fields are marked *