Categories
প্রবন্ধ

বিপ্লব চক্রবর্তীর প্রবন্ধ

ফ্যাতাড়ুর চোখে নবারুণ

২০১০ সালের মে মাসের কোনো এক দিনে এক অধ্যাপক আমাকে ভয় দেখিয়ে বলে, ‘তোমাকে পিষে মেরে ফেলব’… যেহেতু তার নেপোটিজম আমি সমর্থন করছিলাম না… আমার পাশে সেদিন ছিল কেবল নবারুণের হারবার্ট। আমার বন্ধু হারবার্ট। বলেছিল, ‘ভয় পাসনি। দোবেড়ের চ্যাং দেকাব…’ আমি সেদিন ভয় পাইনি। লড়ে গেছি… হারবার্ট-এর মতো (মৃতের সহিত কথপোকথন) আমারও তাই ‘তখন থামার সময় ছিল না’ আর… ওর সঙ্গে বন্ধুতার সূত্রেই তো কমরেড বিনুর সঙ্গে আলাপ…

… রাত। দেওয়ালে স্টেনসিল থেকে মাও-এর মুখ আঁকছে বিনু। উলটো দিকের ফুটপাতে চাদরে মুখ ঢেকে লুকিয়ে থাকা রাষ্ট্রের পোষা দুষ্কৃতী বিনুকে গুলি করে। লাংফিল্ড পাংচার হয়ে যায়। রাস্তায় এবং পুলিস ভ্যানে শরীরের সেন্ট পারসেন্ট রক্ত ঢেলে আসা বিনু দু-দিন অদম্য প্রাণশক্তিতে বেঁচে ছিল…

… বিনু। আমার নকশাল বন্ধু বিনু। হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। মারা যাচ্ছে… ওর বুক পর্যন্ত কম্বলে ঢাকা। ‘পায়ের দিক থেকে কম্বলের তলা দিয়ে একটা শেকল বেরিয়েছে।… লোহার খাটের সঙ্গে দুপাক জড়িয়ে তালা আটকানো। গলায় ট্র্যাকশন লাগানো…’ বিনু মরে যাচ্ছে… বারাসাতের শহিদ কবি সমীর মিত্রের কবিতা… ঠিক কবিতা বলার মতো করে নয়… বলার চেষ্টা করছে— ‘আমি দেখতে পাচ্ছি,/আমার চোখের সামনে, আমার এতকালের দেখা/পুরনো দুনিয়াটা পাল্টে যাচ্ছে,/… ভেঙে চুরে, তছনছ হয়ে গুঁড়ো গুঁড়ো/হয়ে ঝরে পড়ছে/পুরনো দিনগুলো।/ঝড় আসছে একটা’… ‘ঝড় আসছে একটা’— জীবনে ঝড় আসছে একটা। আমি বিনু না। আমি অনুভব করছি একটা কিছু ওলোট-পালোটের দারুণ খেলা চলছে… আয়োজন শুরু হয়ে গেছে… বিনুর মতো লড়াই করে করে, মরে মরে যেতে হবে এবার… প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে, প্রেমিকার পাড়ার ছেলেদের দ্বারা চরম অপমানিত খোড়ো রবির মতো জলে ডুবে আত্মঘাতী হওয়া নয়… আমার জীবনে, আমাকে অপমান করছে যারা, এবার লড়ে শেষ করে দিয়ে যেতে হবে তাদের… দারুণ শক্তি পাচ্ছি! নবারুণ-পাঠ চলতে লাগল তাই আরও… আরও সম্পর্ক নিবিড় হল। ধীরে ধীরে পরিচয় হতে লাগল ফ্যাতাড়ু, চোক্তার, কালমন্‌, মোগলাই, পাঁচুগোপাল, পারিজাত, বেবি কে-দের সঙ্গে…

এরই মাঝে ২০১৪-এর ৩১ জুলাই ফেসবুকে দেখলাম নবারুণ ভট্টাচার্য আর নেই। পরদিন ছিল আমার একটা কলেজে চুক্তিভিত্তিক পোস্টের জন্য ইন্টারভিউ… নবারুণ ভট্টাচার্য মারা গেলেন, আর ওই দিন রাতে আমিও জানতে পারলাম আমাকেও শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। একটা সামান্য চুক্তিভিত্তিক পদের জন্য যে এত নোংরামির আয়োজন হয় জানা ছিল না। যাদের বন্ধু ভেবেছিলাম তারাই বিশ্বাসঘাতক! আমি মরে যাইনি। শেষ হয়ে যাইনি। হেরে যাইনি। লড়ে গেলাম… ফ্যাতাড়ুদের মতো প্রতিজ্ঞা করলাম প্রতিশোধ নেওয়ার… এই নবারুণের চরিত্ররাই আমাকে শেখাল জীবনকে ভালোবাসতে… বেঁচে থাকতে… লড়ে… মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকতে…

যেমন ধরো পাঁচুগোপাল। নবারুণের পাঁচুগোপাল। আমার সেই নিরীহ পাঁচুগোপাল। ঠাকুরের নামে রিকশা চালায়, কাউকে খারাপ ভাষায় কথা, মিথ্যে কথা বলে না। রাত শেষ হতে না হতেই ভোর চারটে থেকে ও আর ওর স্ত্রী মৌরির প্রতিদিনের জীবনের লড়াই শুরু হয়ে যায়… পাঁচুগোপালের স্ত্রী ডালকলে কাজ করে… আপাত নিরীহ-ঈশ্বর বিশ্বাসী-অতি সাধারণ এই রিকশাচালক পাঁচুগোপালের জীবনে আবার গোপন কয়েকটি অ্যাডভেঞ্চার আছে, যা প্রায় রূপকথার মতো— আর সেই কারণে গল্পের কথকের মতো আমিও ওকে ভালোবেসে-শ্রদ্ধা না করে থাকতে পারি না!

আমার পাঁচুগোপাল প্রায় সত্তরের দশক থেকেই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খল পরিবেশ-খুন এইসব কিছুর সাক্ষী। পাঁচুগোপালের ‘সিভিক কারেজ আছে।’ সে ওই ধরনের খুনে কেসের মৃতদেহের সাথে শ্মশানেও গেছে বহুবার। এই পাঁচুগোপাল-ই আবার বেপরোয়া রাজনীতির সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে কখনো। বিশেষ একটি কাজের জন্য এই গল্পের (‘পাঁচুগোপাল’) কথকের চেনা এক লোকের বাড়িতে রিকশার সিটের তলায় গামছায় জড়িয়ে একটি দেশি রিভলভার নিয়ে গিয়েছিল। পাঁচুগোপাল চেয়েছিল এই বন্দুক গর্জে উঠবে গরিবের স্বার্থে। আবার বোমা বাঁধার কারবারে মেছোকালীর হাতে বোমা ফেটে গেলে, পাঁচুগোপাল খবর পেয়ে দোকান থেকে দেশি মদ হাতিয়ে তা মেছকালীর মুখে ঢেলে প্রাণ বাঁচিয়ে প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের পরিচয় রাখে।

বিভিন্ন নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লোক দেখানো সমাজবিরোধী কর্মসূচির ভণ্ডামি চলে… এক চোলাই বিক্রয়কারী ছেলে ধরা পড়ে। ছেলেটিকে স্টেশনে উলঙ্গ করেপেটান হচ্ছে… পাঁচুগোপাল ছেলেটিকে বাঁচানোর জন্য এলাকার নেতাদের কাছে যায়— এদিকে মহান নেতারা পাঁচিলে পা ঝুলিয়ে বসে চোলাই খাচ্ছে…

আমাদের পাঁচুগোপাল রিকশা চালায়। সমাজে যার কোনো মূল্য নেই। দেখো ও পয়সাওলাদের মতো স্বার্থপর নয়। মানুষের প্রতি ভালোবাসা-সমাজের প্রতি তার একটি দায়িত্ববোধ আছে। অনেক পড়াশোনা জানা শিক্ষিতদেরও এই সজীব গুণ থাকে না। পাঁচুগোপাল আমাকে জীবনে সৎভাবে বেঁচে থাকতে শিখায়… আমার কখনো ইচ্ছে হয় পাঁচুগোপাল হতে… ‘পাঁচুগোপাল’ গল্পে যে-ঘটনাটি আমাকে চমৎকৃত করে তা হল কথককে বলা ওর মৃত্যু ইচ্ছা সংক্রান্ত বিষয়টি— ‘একটা খাল আছে। কানাখাল হলেও তাতে জল টলটল করত। মাছ হত। এখন তার গোটা জল নষ্ট, কালো। তার দুপাড় দিয়ে বিরাট চোলাই তৈরির কারখানা গমগম করছে। মালিক আছে, পুলিশ আসে। পুলিশ আসে, অনেক লোক কাজ করে।… চোলাই এখন ক্যাপচার করছে বাজার।… ওই কানাখালে ডিস্টিল করারপর বাতিল নানারকম জিনিস ফেলা হয়। খালের জল এখন কালো হয়ে গেছে। ওপরে বিষের সর ভাসে। সেই নষ্ট জলে সূর্যের ছায়া গ্রহণের মতো দেখায়।’ পাঁচুগোপাল একদিন সেই খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে নোংরা ফেলতে বারণ করবে। তাকে ধরে মালিকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে মালিক জানতে চাইবে সে চোলাইয়ের কারখানায় কাজ চায় কিনা। পাঁচুগোপাল ভ্যাটের জালায় থান ইট মারবে। এরপর ওখানকার লোকজন পাঁচুগোপালকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে… — পাঁচুগোপাল মতো আমিও এইভাবে মরে যেতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে কনভকেশনের নামে ছাত্রদের কাছ থেকে সার্টিফিকেটের বিনিময়ে টাকা আদায় করা হয়েছে… অধ্যাপকদের পিকনিক চলছে… পার্টির ছেলেদের ফুর্তি চলছে… আমি আর এই তো তুমি— পাঠক— ধরো গিয়ে ঝামেলা পাকাচ্ছি… ওরা জানতে চাইছে আমি ইলিশ মাছ চাই কিনা… পিইচডি চাই কিনা… চাকরি চাই কিনা… তারপর গুণ্ডা ডেকে আমাকে আর তোমাকে মারতে মারতে… রাস্তায় ফেলে মেরে মেরে… তারপর লাত্থি মারতে মারতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটের বাইরে করে দিচ্ছে কুকুরের মতো… আমি আর তুমি তো আত্মকেন্দ্রিক-পদকধারী ছাত্র হতে চাইনি… পাঁচুগোপাল হতে চেয়েছি বারবার…

বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকে কিছু অধ্যাপক। এরা যোগ্য সহকর্মীদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে ক্লাসে, ক্লাসের বাইরে তাদের হাড় মাংস বেচে… প্রতিদ্বন্দ্বী সহকর্মীকে বিপদে ফেলার জন্য কিছু স্তাবক ছাত্র তৈরি করতে হয় তাদের। বেশি বেশি নম্বর পাইয়ে দিয়ে তাদের পুষে রাখা… পরে এই স্তাবকরা তার হয়ে কাজ করবে। সহকর্মীর মর্যাদাহানির ফাংশন মঞ্চে এরা প্রিয় স্যারের হয়ে জয়ধ্বনি আর বিভাগেরই প্রকৃত শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে যাবে… একসময় এদের এমফিল পিএইচডি এমনকী স্কুল কলেজে চাকরিও জুটে যায়… আমার মনে হয়, নবারুণের ‘ফোয়ারার সেই মানুষজন’, ‘পাঁচুগোপাল’, ‘ফোয়ারার জন্য দুশ্চিন্তা’— এই তিনটি গল্পের সেই হেকড়বাজ [‘হেকড়’ শব্দটির অর্থ হল— বদমায়েশ, অভদ্র, দেমাক, মেজাজ বা গোঁয়ার (সূত্র: অভ্র বসু, বাংলা স্ল্যাং সমীক্ষা ও অভিধান)] কথক… যে স্টেশনের পাশে তোলা আদায় করত। চোলাই বা ট্যাবলেটের ব্যবসার লাইসেন্স দিত। কান্ট্রি বা ফরেনের বামাল সাপ্লাই করত। ডাকাতির গাড়ি চালাবার উলটোপালটা কেস নিত— এককথায় একটা অ্যান্টি-সোশ্যাল। তাই তো? এই বদমাইশ লোকটা এই আকাডেমিক-ক্রিমিনালদের থেকে হাজারগুণে আমার কাছে আপন। পাঠক তুমি পড়েছ বা নিশ্চয় পড়বে—

প্রচণ্ড বৃষ্টি। কথক এক দেশি মদের ঠেকে বসে পাঁইট খাচ্ছে। মদের ঠেকটির কাছেই এক বেশ্যাখানা। সেখানে ফোয়ারা বলে একটা মেয়েকে ওর খুব ভালো লাগে। মদের ঠেকে এক বেঁটে লোকের আবির্ভাব ঘটে। লোকটি বৃষ্টির দরুন জমা জলকে ডাঙা ভেবে ড্রেনের জলে পড়ে গেলে, কথক লোকটিকে সহায়তা করে। ঠেকের মালিকের ছেলেকে ডেকে চুন আনিয়ে লোকটির ক্ষতস্থানে তা লাগিয়ে দেয়।

লোকটির বাড়ি বোড়াল, প্রতি মাসের চার তারিখে বেতন পায়। মাসের ওই দিনই সে কেবল মদ্যপান করে। লোকটির কথাবার্তা অসংলগ্ন। কথক যখন তার ক্ষতস্থানে চুন লাগিয়ে দিচ্ছিল তখন তার কথাগুলি— ‘সবকিছু এইভাবে সাইজ হয়ে যায়। বুঝলেন?… মাইনের দিন আমাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। কেমন সাইজ হয়ে গেল দেখলেন? পড়ে গেলাম, আপনি তুলে দিলেন। কিছুই পড়ে থাকে না। আমি না। খুকী না। কেউ না। সব সাইজ হয়ে যায়।’ (‘ফোয়ারার সেই মানুষজন’) লোকটির স্ত্রী বিগত হয়েছে এক বা দেড় বছর আগে। সে স্ত্রীকে খুব ভালোবাসত। লেক, দমদম, ময়দান, যাদুঘর, দীঘা সে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরেছে— স্মৃতির রোমন্থন করেছে সে কথকের সাথে। কথককে আবার সে পকেট থেকে একটা রেস্কিনের ধার ছেঁড়া ব্যাগে রাখা ময়লা ফটো বের করে দেখায়। সে তার রোগা বউ আর রোগা মেয়ে।— এই স্মৃতিসম্বলটুকু নিয়ে সে ঘুরে বেড়ায়… লোকটির মেয়ে খুকী। সে আবার বোবা। কথক তাকে তড়কা রুটি খেয়ে যেতে বললে সে জানায়— ‘খুকী ছাড়া আমি খাব না। না ভাই আমি গিয়ে ভাত ফোটাব।’— বুঝতে অসুবিধা হয় না সন্তানের প্রতি তার পরম ভালোবাসাটি।

এইভাবেই বেঁটে লোকটির জীবনের ট্র্যাজিডি হৃদয়কে বিদ্ধ করে। পূর্ব-কথিত ক্রিমিনাল কথক চরিত্রটিও— যার নামে লোকে পুলিশ পোষে— আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না সে সাংঘাতিক দাগি কেসের আসামী বা সমাজবিরোধী। কিন্তু এক অচেনা বেঁটে লোকের প্রতি গল্পের কথকের সেবা-লোকটির দুঃখে সমব্যথী হওয়া বা জহর, কাশেম, পরেশ, বিনোদকে দিয়ে তড়কা রুটি এবং খুকীর জন্যে মিষ্টিসহ ন্যাবার রিকশায় তুলে দেওয়া আমাদের কথকের প্রতি ভালোলাগা তৈরি করে। এইভাবেই নবারুণ সেই পাঁচুগোপালের মতোই সমাজের অনালোকিত মানুষদের উপর আলো ফেলে আমাদের চিনিয়ে দেন জীবন এবং মানবের প্রতি তাদের ভালোবাসার সজীব সুন্দর দিকগুলিকে… সমাজের যাদের কোনো মূল্য নেই…

আবার একদা দাপুটে এই ক্রিমিনাল কথকের বয়েসের সাথে সাথে ভয় বৃদ্ধি পেয়েছে… এই ভয় ফোয়ারার জন্য। কথকের কথায়— ‘ফোয়ারা বেশ্যা কিন্তু সে যদি মরে যায় আমি পুরো নিলাম হয়ে যাব।’ (‘ফোয়ারার জন্য দুশ্চিন্তা’) ফোয়ারার অসুখ। আমেরিকান জাহাজীরা ফোওয়ারাদের পাড়ায় আসার পর থেকেই ফোয়ারার অসুখ। ফোয়ারার রোগমুক্তির জন্য কথক বড়ো ডাক্তার-ও দেখাচ্ছে। বস্তুত মৃত স্ত্রীর জন্য বেঁটে লোকটার সেই যন্ত্রণা আর এই কথকের ফোয়ারার সম্ভাব্য মৃত্যু ভয়, অন্তরের বেদনা প্রায় এক হয়ে যায়। লোকটির বেদনাও কথককে বিদ্ধ করেছিল।

— ‘ফোয়ারাদের হাসিতে বাসটা উল্টে যেত।’ বা ‘ফোয়ারা যখন ঠমক দিয়ে গলির মুখে এসে দাঁড়াত তখন রিকশায় বউ-পাশে ভদ্দরলোকেরা হাঁদা বনে গরমে যেত। বাসে, লড়িতে টুকটাক ঠেকে যেত।’

— ‘যে কোনো রাতের চেয়ে ওর চোখের কাজল আমার দেখা সব থেকে পালিশ করা অন্ধকার।’

— ‘রঙের আলো পড়লে ফোয়ারাও রঙ ধরে। আলোর গুঁড়ো ওড়ে। পাউডারের মতো।’

ফোয়ারার রূপ এইভাবেই এক শৈল্পিক উচ্চতায় উত্তীর্ণ হয়ে যায়। কথক ফোয়ারাকে কেবল পতিতার চোখেই দেখেনি বা শরীরসর্বস্ব করে পেতে চায়নি। রূপ নষ্ট হয়ে গেলেও পরম মমতায় সে পাশে থেকেছে, বা ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার সময় পাশ থেকে ফোয়ারার পুরোনো রূপ আবিষ্কারের চেষ্টা করেছে।

আর এই ফোয়ারাও কেবল বারাঙ্গনা না, আশ্রয়দাত্রীও। অনেক পার্টির ক্যাডার গুলি খেয়ে, কখনো বা কথকও পিঠে বোমা ফাটা অবস্থায় ফোয়ারার ঘরে আশ্রয় পেয়েছে; সাহচর্যও পেয়েছে তারা ফোয়ারার। এইভাবেই আপাত দৃষ্টিতে বেশ্যা বা ক্রিমিনাল দু-টি চরিত্রের পজেটিভ দিকগুলির উপর লেখক নবারুণ ভট্টাচার্য আলোকসম্পাত করেছেন। সমাজের চোখে এরা ব্রাত্য-প্রান্তিক, কিন্তু এরাই সমাজকে আলো দেখাতে পারে।

দল পাকানো ছাড়া
চুকলিবাজি ছাড়া
হলুদ সাংবাদিকতা ছাড়া
ভণ্ড সবাজসেবী সেজে থাকা ছাড়া
ভাটের সম্পাদক তুমি
সাহিত্যের দালালি ছাড়া তোমার কী অবদান হে?

তাই এই ক্রিমিনাল কথক হোক বা ফোয়ারা বেশ্যা আর রিক্সাওয়ালা পাঁচুগোপাল… এরাই আমার পরম আত্মীয়…
নানা সেক্টরে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইনটেলেকচুয়াল ক্রিমিনাল, মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো লড়াই থাকবে না… প্রতিরোধ থাকবে না? থাকবে। থাকবেই। শক্তি তো পাই ‘হালাল ঝাণ্ডা’ পড়ে…

শেষ পাতা