প্রবন্ধ

সোমা মুখোপাধ্যায়

বাংলার পুতুল ও লোকপ্রযুক্তি

বাংলার পুতুল নিয়ে অনেকেই গবেষণালব্ধ সুন্দর কাজ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন তারাপদ সাঁতরা, আশিস বশু থেকে সাম্প্রতিক সময়ের বিধান বিশ্বাসের মতো নামিদামি মানুষেরা। পুতুল নিয়ে বই লিখতে গিয়ে আর শিল্পীদের জীবনচর্চা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লক্ষ করেছি এই পুতুলের মধ্যেই রয়েছে বাংলার লোক প্রযুক্তির এক মূল্যবান দলিল যা অন্তঃসলিলা ফল্গুধারার মতোই এক যুগ থেকে অন্য যুগে প্রবাহিত হয়েছে।

আগুনের ব্যবহার থেকেই মানুষের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন শুরু হয়। একসময় অরণ্যচারী যাযাবর মানুষ কৃষি আবিষ্কার করে স্থায়ী বসতি বিস্তার করে। বাংলার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। পাণ্ডুরাজার ঢিপি থেকে আবিষ্কৃত খৃপূ আনুমানিক ১২০০ অব্দের মাটির টেপা পুতুল আর একসার জালবন্দি মাছ ও মুখে সাপ ধরা ময়ূরের চিত্রায়িত মাটির তৈজসপত্রের ভাঙা টুকরো থেকেই প্রমাণ হয় যে, সেই সময় এই অঞ্চলে মনুষ্য বসতি গড়ে উঠেছিল।

চাষের সঙ্গে বাসের যে একটা সম্পর্ক তা সমাজবিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখিয়েছেন। অর্থাৎ, মানুষ যাযাবর জীবন থেকে চাষের বা কৃষিকাজের মাধ্যমেই স্থায়ী জীবনে থিতু হয়ে বসে। নিপুণ হাতে গড়ে তার গৃহস্থালী আর সেই গৃহস্থালির নানা কিছু বা চারপাশটাকে সুন্দর করে তোলে তার নান্দনিক ভাবনার দ্বারা। নব্য প্রস্তর যুগ থেকেই মানুষের মনে কৃষি কাজের সঙ্গে সঙ্গে এই নান্দনিক ভাবনার আগমন হয়েছিল এ-কথা জানা যায় ব্রতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট গবেষকদের রচনায়। মানুষ তার জীবনের তাগিদে নানা প্রযুক্তিকে নিজের মতো করে আবিষ্কার করতে শুরু করেছিল। ঠিক যেমন অরণ্যচারী মানুষ শিকারের তাগিদে পাথরের হাতিয়ার বানিয়েছিল আর কৃষিকার্যের ফলে মানুষ তার কৃষিকাজের নানা সরঞ্জামের সঙ্গে সঙ্গে ঘর-গৃহস্থলির নানারকম সরঞ্জাম তৈরির জন্য নানা প্রযুক্তির আবিষ্কার করেছিল। তেমনি তার নান্দনিক ভাবনার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি অদ্ভুতভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

কৃষিজীবী মানুষ তার ঘর গৃহস্থালীকে সাজাতে প্রথমে এই নান্দনিক ভাবনার রূপায়ণ করেছিল ছবি আঁকার মধ্যে দিয়ে। এরই সঙ্গে সমান্তরালভাবে প্রবাহিত হয়েছিল ধর্মাচরণ যেখানে বিভিন্ন ব্রত কথাতে আলপনা তার মনোভাবকে ফুটিয়ে তুলেছিল। প্রকৃতির চারপাশের বিভিন্ন উপাদান ছিল তার এই ভাবনার মূল বিষয়। এর পর এসেছিল নিজের অবয়বকে ফুটিয়ে তোলার প্রচেষ্টা। মানুষ তার নিজের অবয়বকে ফুটিয়েছে ব্রত আলপনার বিভিন্ন রেখার মাধ্যমে। দশ‌ পুতুল ব্রতের আলপনায় বা সেঁজুতি ব্রতের আলপনায় কয়েকটি রেখার মাধ্যমে মনুষ্য শরীরের একটা অবয়ব আমরা দেখি। এর থেকেই ধীরে ধীরে তা মাটির পুতুলের মাধ্যমে একটা মূর্তির রূপ নিতে পেরেছিল।

একখণ্ড নরম মাটির তাল থেকে হাতের সাহায্যে টিপে টিপে প্রথমে মাতৃকা মূর্তি রচনা করেছিল মানুষ। এই মাতৃকামূর্তিগুলোর শুধু বাংলায় নয় সারা পৃথিবীতেই বহু বছর ধরেই খোঁজ পাওয়া যায়। লক্ষ করলে দেখা যায় প্রথমে এগুলোর কোনো চোখ নাক মুখ ছিল না। প্রকটিত স্ত্রীঅঙ্গ, অর্ধ সমাপ্ত দু-টি হাতের অংশ আর নীচের অংশটা বসানোর জন্য একটু ঘাগড়ার মতন করা। এরপর কাঠি দিয়ে তাতে অলংকরণ করা হয়েছিল। পেছনে থাকত একটা খোঁপার মতো বস্তু আরও পরে দু-টি ছোট্ট মাটির অংশ দিয়ে তৈরি হয়েছিল চোখ। হাতের ওপর জুড়ে দেওয়া হয়েছিল বা কোলে দেওয়া হত ছোটো ছোটো একইরকম প্রতিকৃতি যা তার শিশু বলে মনে করা হত। সারা বাংলার নানা জায়গাতেই এই মাটির টেপা পুতুল তৈরি হতে দেখা যায়।

কিন্তু কাঁচা মাটি তো বেশি দিন স্থায়ী হয় না। তাই মানুষই আবিষ্কার করেছিল তাকে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করতে। প্রথমে এখনকার কুমোরদের যে-ভাটি বা পোন‌ বলি তা ছিল না। একটা ছোটো জায়গায় বিভিন্ন জ্বালানির মধ্যে দিয়ে এই পুতুলগুলো পোড়ানো হত। এখনও পশ্চিম মেদিনীপুরে পটুয়ারা ছোটো মালশায় বিভিন্ন জ্বালানি খরকুটো ও তুষের আগুনে এই পুতুলগুলো পোড়ান। এছাড়াও প্রত্যন্ত গ্ৰামাঞ্চলে অনেক গৃহস্থবাড়িতে নাতি-নাতনিদের জন্য মা ঠাকুরমারা রান্না শেষে পরন্ত উনুনের আঁচে এই মাটির পুতুল পুড়িয়ে থাকেন। মানুষ নিজেই নিজের নান্দনিক ভাবনাকে যথাযথ রূপ দেয়ার জন্য নিজের মতো করে তার প্রযুক্তিগত কৌশল আবিষ্কার করেছিল এ-কথা বলা যেতে পারে।

টেপা পুতুলগুলো হাতে করে করতে অনেক সময় লাগত। তাই একটা সময় পর দেখা যায় যে, কীভাবে একইসঙ্গে অনেকগুলো পুতুল তৈরি করা যেতে পারে। সেই ভাবনার প্রতিফলনে তৈরি হয়েছিল মাটির ছাঁচ। প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখননে এমন ছাঁচের সন্ধান মিলেছে। প্রথমে একখোল পরে দু-খোল ছাঁচে এই পুতুল তৈরি এখনও পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায় বিভিন্ন কুমোরপাড়ায় বা কুমোরপরিবারের বাড়িগুলোতে গেলে।

সংখ্যায় যখন অধিক এই পুতুলগুলো তৈরি হতে থাকে তখন কুমোররা আর ছোটোখাটো জায়গায় তাদের পোড়ানোর জন্য রেখে দিত না। মাটির অন্যান্য সরঞ্জাম পোড়ানোর জন্য যে-ভাটি ব্যবহার করা হয় সেখানে এই পুতুলগুলোকে পোড়ানোর প্রচলন হতে থাকে। এতে একসঙ্গে অনেক পুতুল অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি করা যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের পটুয়াদের মধ্যে এইরকম ছাঁচের পুতুল দেখা যায়। আবার হাওড়ার নরেন্দ্রপুর এর রানী পুতুল বা বিভিন্ন দেবদেবীর যে-পুতুল সেগুলো এই একখোল ছাঁচে তৈরি হয়। অনেক পুতুলে চাকের ব্যবহার দেখা যায়। যেমন এখনও উত্তর দিনাজপুরের কুনুরে রাজবংশী মেয়েরা যে-ষষ্ঠী পুতুল করেন তার নীচের অংশটা তৈরি হয় তাকে বাকিটা হাত দিয়ে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেক প্রযুক্তির ছাপ পড়ে এই পুতুল নির্মাণে একইসঙ্গে হাত, চাক আর ছাঁচের ব্যবহারে সুন্দর নান্দনিক পুতুল তৈরি দেখা যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের মির্জা বাজারে দেওয়ালি পুতুলের ক্ষেত্রে। পুতুলের মুখ আর দেহের নীচের অংশটা তৈরি হয় চাকে, মুখটা ছাঁচে আর বাকি অংশটা এবং চক্রাকারে লাগানো প্রদীপ সবটাই তৈরি হয় হাতে। মুর্শিদাবাদের কাঁঠালিয়ার পুতুল এই একই পদ্ধতিতে তৈরি হয়।

এবার আসা যাক পুতুলের রঙের প্রসঙ্গে। মানুষ দীর্ঘদিন কিন্তু বিবর্ণ পুতুল তার খেলার সামগ্রী হোক বা পুজোর উপকরণ তা দেখতে পছন্দ করেনি। সেই কারণেই ভেষজে রঙে রাঙিয়ে নিতে শুরু করে এই মাটির পুতুল। আতপ চালের গুঁড়ো দিয়ে সাদা রং, শিম পাতা থেকে সবুজ, হাঁড়ির ভুসো থেকে কালো তেলাকুচ ফল থেকে লাল, হলুদ বেটে হলদে এমন সমস্ত রং দিয়ে পুতুলকে রাঙাতে থাকেন শিল্পী। তবে এরও একটা পদ্ধতি আছে। খড়িমাটির সঙ্গে তেতুল বিচির আঠা মিশিয়ে তার একটা প্রলেপ দেওয়া হয় প্রথমে। তারপর তাতে এই রংগুলো ধরানো হয়। বর্তমানে অবশ্য অনেকেই বাজারি রং ব্যবহার করে থাকেন, কারণ, ভেষজ রং দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

তবে একেবারে প্রাথমিক দিকে এই পুতুলের রংটা কেমন ছিল তা বোঝা যায় কাঠালিয়ার পুতুলের ক্ষেত্রে। এখানে মূলত তিনটি প্রাথমিক রং লাল সাদা কালো এই দিয়েই পুতুলকে রাঙিয়ে নেন শিল্পী দুধের সঙ্গে মাটি মিশিয়ে তাকে মোলায়েম করা হয় আর সাদা রঙের সঙ্গে অভ্র দিয়ে তার একটা চকচকে ভাব আনা হয়। ডোরাকাটা অলংকরণ যা পৃথিবীর সর্বত্রই একেবারে প্রাথমিক অলংকরণ হিসেবে আমরা জানি তা এই কাঁঠালিয়ার পুতুলেও দেখা যায়। একসময় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের একেবারে পারদ এর খনিজ হিঙ্গুল নামের এক লাল পদার্থ মেশা মাটি দিয়ে পুতুল তৈরি হত সেই পুতুল পুতুল যদিও এখন তাতে নানা রঙের ব্যবহার হতে দেখা যায়।

এর পাশাপাশি শুধু মাটির রংকে মজবুত করে তাকে পুরোপুরি পুতুল তৈরি চল রয়েছে বাঁকুড়া জেলার পাঁচমুড়া-সহ বিবরদা উলিয়ারা আর নানা জায়গায়। এইখানে এক বিশেষ বনক রং তৈরি করেন শিল্পী। জঙ্গল থেকে আনা বিশেষ মাটি থেকে এক পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে এই হলুদ রং তৈরি হয়। পুতুলের অবয়ব কাঁচা মাটিতে তৈরি করে তার ওপরে এই বনক লাগিয়ে রোদে শুকিয়ে ভাটিতে পোড়ালে এক অদ্ভুত চকচকে রং ধারণ করে পুতুলগুলো। শিল্পী নিজেই এক আবিষ্কারে এই ভাটির ধোঁয়া বেরোনোর জায়গাটি বন্ধ করে দিয়ে তৈরি করেন কালো রঙের মাটির পুতুল। পাঁচমুড়ার ঘোড়া ষষ্ঠী পুতুল-সহ বর্তমানে আরও নানারকম পুতুল বিশ্বের বাজারেও বাংলার মুখ উজ্জ্বল করে চলেছে। যদিও আশপাশের পূর্বোল্লিখিত কেন্দ্রগুলোতেও ওই একইরকমভাবে এইসব পুতুল তৈরি হয়। পাঁচমুড়ায় বিশাল বিশাল ভাটিতে যৌথভাবে কুমোররা তাদের সমস্ত মাটির পুতুলগুলো একসঙ্গে পুড়িয়ে থাকেন। অর্থাৎ এটি যে একসময় গ্রামীণ কৌম জীবনের যৌথ প্রযুক্তি ছিল তা বলতে আর দ্বিধা বোধ হয় না।

ডোকরা

মাটির পুতুলের পাশাপাশি শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য ধীরে ধীরে আরও অনেক মাধ্যমে পুতুল তৈরি হয় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তালপাতার সেপাই। তালপাতা কেটে তাকে মানুষের আকৃতি বা পশুপাখির আকৃতি দিয়ে সুতা দিয়ে সেলাই করে একটা বাঁশের কঞ্চিতে এমনভাবে আটকে দেয়া হয় যাতে কঞ্চিটি নাড়ালেই সেই পুতুলটির হাত পা ছুঁড়তে থাকে। এছাড়া মাটির মূল অবয়বের ওপর ধাতুর ঢালাই করে তৈরি হয় ডোকরা শিল্প। যদিও তার খুবই জটিল মাধ্যম তবুও একেবারে খাঁটি লোকায়ত প্রযুক্তিতে তা তৈরি হয়। পুরোনো কাপড় দিয়ে তার ভেতরে পুরে সুঁচ সুতো দিয়ে সেলাই করে মা দিদি মায়েরা অবসরে বানাতেন কাপড়ের পুতুল। তোমার নেট তাকেই আধুনিকভাবে রূপ দান করা হয়। তেমনি পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘা অঞ্চলে সমুদ্র ধার থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ঝিনুককে বাক্যটিকে আঠা দিয়ে জুরে তাতে সামান্য বাজারি রং লাগিয়ে সুন্দর পুতুল তৈরি করেন ওইসব অঞ্চলের শিল্পীরা।

মাটির পরেই নমনীয় মাধ্যম হল কাঠ। এই কাঠ দিয়েও কিন্তু বাংলার নানা অঞ্চলের শিল্পীরা সুন্দর পুতুল তৈরি করে থাকেন বর্ধমানের নতুনগ্রাম কাঠের গৌরনিতাই রাজা-রানি পুতুলের জন্য বিশ্ববিখ্যাত তেমনি হাওড়া তো একসময় থোরের রস পড়ে এইরকম পুতুল হত। পুরুলিয়া বাঁকুড়া প্রতি জেলাতে আঞ্চলিকভাবে বিভিন্ন উৎসবে এই কাঠের পুতুলের সন্ধান মেলে। খুব সামান্য যন্ত্রের মাধ্যমে এই পুতুলগুলো তৈরি করেন শিল্পীরা আর একসময় ভেশজ রং ব্যবহার হত তাকে রাঙানোর জন্য পরে এসেছে বাজারি রং।

পুতুল নির্মাণশৈলীর প্রযুক্তি যদি লক্ষ করা যায় তাহলে সেখানে যুগের ক্রমবিবর্তন আমরা লক্ষ করতে পারি কীভাবে মানুষ নিজের জীবনযাপনের মান উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে তা তার ব্যবহারিক জীবনেও কাজে লাগিয়েছে তা এই পুতুলগুলো বিবর্তনের মধ্য দিয়ে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। বিষয়ে বৃষ্টিতেও গবেষণায় ভবিষ্যতে আরও অনেক তথ্যই সামনে নিয়ে আসতে পারবে।

তথ্যসূত্র:
১। তারাপদ সাঁতরা, পশ্চিমবঙ্গের লোকশিল্প ও শিল্পীসমাজ, লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্র কলকাতা ২০০২।
২। সোমা মুখোপাধ্যায়, বাংলার পুতুল, প্রতিক্ষণ, কলকাতা, ২০১৮।

সোমা মুখোপাধ্যায়

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের থেকে পিএইচডি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্রে কর্মরত। চর্চার বিষয় লোকসংস্কৃতি, আঞ্চলিক ইতিহাস, শিল্পকলা, নারী ক্ষমতায়ন। উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা বাংলার দাই, বাংলার পুতুল, বাংলার গোখরা, রাঢ়বঙ্গের লোক মাতৃকা। একাধিক নামী পত্রিকায় বিভিন্ন প্রবন্ধ আছে। আন্তর্জাতিক মিডওয়াফ্রি টু ডে ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। রোটারি ক্লাবের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের দাইমা ও সমাজসেবার জন্য মান্যবর পুরস্কার পেয়েছেন।

আমাদের নতুন বই