বিশ্বজিৎ মাহাতর কবিতা
দুঃখ সাঁতার
আমি একা একটি শব্দ
প্রেমিকাকে মনে রাখতে হয়
ভেজানো আগুনের শীর্ষদেশে…
যে দুয়ার দিয়ে পথক্লান্ত হাঁসেরা ফিরে
কাদা মাখা ঠোঁটে,
কিন্তু, সে আর ফিরে না!
অনিশ্চিত খোঁয়াড়ে বসে
মা হাঁস পৃথিবীর সুখ ও অসুখের খবর নেয়…
আমার বিরহ ব্যথা শুনে
সাত সাতটি ফুটফুটে শিশু জন্ম নেয় নিজে থেকেই,
আর উপহার দেয় আমার বিনম্র দুঃখ
আমি সাবধানে কোলে তুলি
গুঁড়ি জল খাওয়ায়,
মিষ্টি মিষ্টি ছড়া বলে ওরা, যে ছড়া হয়তো
কোনো কবি লিখতে পারেনি… কোনো কালে পারবে বলেও বিশ্বাস হয় না?
বালতির জলে সাঁতার কাটে আমার দুঃখ একা হিম শৈল হয়ে
পৃথিবী ও আমি আজীবন “দুঃখ” শব্দে সাঁতার কেটেছি
জানতাম না কত গভীর ও দীর্ঘ এই পথ
নিজে থেকেই নেমেছি
যৌবনা সাগরের মধ্য পাতায়…
ফড়িং হতে পারলে হয়তো রোদ ও শিশির নিয়ে উড়ে যেতাম
জীবনের আগুন নেভানো অমরাবতীতে
কেউ কি জানো… কোথায়
শর্তহীন
ওভাবে হেঁটো না আর, বিরতির আরোগ্য হাওয়ায়
প্রেম শুধু ছলোচ্ছল! আরো রাখি গোপন ছায়ায়?
জীবনকে ভাগ করি, ভাজকের বিরহ দহনে
শরীরকে ভাগ করো, ফলহীন পিপাসা ব্যতীত
ভাগশেষে কেউ আসে কাটাছেঁড়া অরুচি মেটাতে
একটি
ঈদের চাঁদ
এক হয়,
আঁতিপাঁতি প্রেমিকা শরীরে
গাছের হাত ধরো
গাছের বাবা নেই, মা আকাশ
বুক চিরে কিরণ কুয়াশা. . .
চুমু দেয় আজ অবধি
পথ্য সন্ধান ব্যর্থ মুখে
অনাথিনি মায়ের যে কাকুতি, তাকে বলি
বজ্রবিদ্যুৎ
ইত্যাদি ইত্যাদি ।
একাকিত্ব ছেদের লক্ষ্যে এক আঁচল পাখি
কোল থেকে নামিয়ে! শাখা গায়ে রাখে
অতিথি যাপনে বালিকা যৌবনে পরিণত হতেই. . .
বাস্তুহারা পাখিরা কেউ ফিরে, কেউ মরে
ভূগোলে আরটুকু সবুজ পরিষ্কার
আর, প্রাণ আয়ু অক্সিজেন
সহজ প্রেম
পাই না বলার লোক, তাকে রাখি মনের কুসুমে
স্মৃতি পুড়ে লোলা লাল ঘুমজ্বরে পরিসীমা ভিজ্লে
মাছরাঙা টুপ করে এক কুচি আলো নিয়ে বসে।
সে আলোতে এত তেজ! জোনাকিরা আজানে পালায়
পাই না বলার লোক, টাকা জোড়া বেলুন নিয়েই
ফিরে আসে মেঘলা দিন। পকেটেও ধূ ধূ বালুচর
আরব প্রেমিকা বলো : বালুচরে প্রেম বাঁচা থাকে?
ক্ষত কি খিদের খিদে নাকি কোনো ষোড়শীর মন?
বোধহয় জানে কেউ, কোকিলের প্রেমিকা কোথায়. . .
এ্যাম্বুলেন্স
ট্র্যাফিকের আলো শুধু অসুখ সাজায়
দিক্ভ্রম মানচিত্রে,
পুলিশ ঘোলাটে হাতে ভিটামিন-D মুড়ে নিয়েছে
সে হাতে, প্রেমীরা স্থির
বিবিধ মনের রং, ব্যস্ততার গলি দিয়ে
ভবিষ্যে এগোয়,
এ্যাম্বুলেন্স অসুস্থ পূজারি
