লেখক নয় , লেখাই মূলধন

কবিতা

অমিতাভ মৈত্র

সহ্যের সীমা

নৈতিকভাবেই একজন দাঁড় মাঝিকে টানতে টানতে
অনেক ভেতর পর্যন্ত নিয়ে যায়
আর সে চায় না এ-জন্য তাকে বিখ্যাত করে দেওয়া হোক

কিন্তু খাঁচার পাশে পেট্রোলভরতি টিন আনতে দেখে
যখন কান্না পায় সন্ধ্যেবেলার পাখিদের
ঈশ্বর জর্জরিত দাঁড় নিশপিশ করে ওঠে
তার বয়ান বদলানোর জন্য

কূটনীতি

বিকেল পর্যন্ত চুপচাপ শুয়ে থাকার পর,
একটা সাদা টিকটিকি কূটনৈতিক আশ্রয় নিচ্ছে মরুভূমির কাছে
যেখানে, সে বিশ্বাস করে, কোনো রাস্তার দরকার হয় না
আর ঘুরে বেড়ানো যায় অবাধে।

ভর্ৎসনা

একশো শব্দের সংক্রমণ
যার মাঝখানে দুটো কুকুরের নীরবতা নেই।

সাদা ভর্ৎসনা করছে সাদাকে
আত্মহননের জায়গা খুঁজে না পাওয়ার জন্য।

দু-জন অন্ধ হাড় বেরোনো মৃতদেহ মুখোমুখি বসে
চোখ বুজে চা খাওয়ার অভিনয় করে যাচ্ছে।

এবং ভর্ৎসনা করছে দু-জনকে
নেলকাটার ছাড়াই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবার জন্য।

শক্তি

তার চারপাশে এমন অনেক কিছুই বিলিয়ার্ড বল দেখে
যা সে নিজে তৈরি করেনি
তবু তাদের শক্তিতেই সে গড়িয়ে চলে, থামে
বেদনা অনুভব করে

সেই তারাও আবার নিজের শক্তির কাছে
এক সূক্ষ্ম যন্ত্রব্যবস্থায় অসহায়ভাবে বাঁধা—
বিলিয়ার্ড বল গড়িয়ে দেওয়া বা থামানোর
বিন্দুমাত্র শক্তি তাদের নেই।

চাবি

বাবা মা বেরিয়ে যাবার পরে
ঘরের আনুপাতিক শূন্যতাকে
প্রতিদিনের মতো ধন্যবাদ জানায় শিশুটি
সে এখন এক পা দু-পা করে হাঁটতে শিখেছে

এবার পিঁপড়ে ডাকতে আসবে তাকে
একটি অন্ধ মেয়ের আঙুলের নখ
কাঠবাদাম গাছের পাতায় ঢেকে রাখার জন্য

অমিতাভ মৈত্র

জন্ম ১৯৫২ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজি সাহিত্যে স্নাতক। রাজ্য সিভিল সার্ভিসে চাকরির সূত্রে বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ২০১২ সালে যুগ্মসচিব হিসেবে অবসর নিয়েছেন। কবিতা, গদ্য দুই-ই নিয়মিত লেখেন। এর পাশাপাশি অনুবাদও নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে থাকে নানা পত্র-পত্রিকায়। ‘তবুও প্রয়াস’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ‘কবিতা সংগ্রহ’।

পছন্দের বই