Categories
গদ্য জলসাঘর ধারাবাহিক

অরূপ চক্রবর্তীর ধারাবাহিক: জলসাঘর

তৃতীয় পর্ব

মোহর-কণিকা

প্রাক্কথন

“শিশুকাল থেকেই আমাকে শান্তিনিকেতনের পরিবেশ এবং রবীন্দ্রসংগীতের আবেশ আছন্ন করে রেখেছে।

Categories
প্রবন্ধ

গৌতম গুহ রায়ের প্রবন্ধ

জহর সেনমজুমদারের কবিতা, কবিতার অন্তর্ঘাত

গত নভেম্বরে আমরা একসঙ্গে ঢাকা লিট ফেস্টে, তারপর আমাদের বন্ধু কবি শামীম রেজার উদ্যোগে ঢাকা হয়ে কক্সবাজার। সাথী তরুণ ও প্রাণ-উন্মাদনায় ভরপুর কবি জাহিদ সোহাগ, বাংলা কবিতার নতুন বাতাস। এক সন্ধ্যায়, তখন সূর্য ডুবে গেলেও সেই রক্ত আভা সাগরের ঢেউ ধরে রেখেছে। আমরা সেই ক্রমশ ম্লান হয়ে আসা আলো ও সাগরের জলের অদ্ভুত রূপের দিকে তাকিয়ে শুনছিলাম জহরদার কবিতার কথা, কবিতা, সেই সময় বাস্তবিকই এক পরাবাস্তব জগতে হাজির হয়েছিলাম আমরা তিন প্রজন্মের তিনজন, হয়তো বৃষ্টি হয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগেই, ভেজা ভেজা চারদিক। জহরদা পড়ছেন,

“সমুদ্রের ঠোঁটের দিকে এইমাত্র সন্দেহবাতিক সূর্য ঝাঁপ দিয়েছে। তোমরা কি
দেখতে পেয়েছ? সবুজ লন্ঠন হাতে উদ্ভ্রান্ত এক প্রেমিক আজও
প্রেমিকার পিঠ থেকে রিপুর দাগ তুলছে তো তুলছেই। এসব কথাই
বলতে চাই আজ। এসব কথাই যেন আত্মজীবনী, দেহের ভেতর
বৃষ্টির যৌন আকুতি ধরে রাখে। মায়ের যোনিতে নীল অপরাজিতা রেখে
তান্ত্রিক বাবা সাধনা করে। আর বালকবৃন্দ সেই অপরাজিতার আদলে
ঘুড়ি তৈরিতে মন দেয়। আমরাও দেব। কিন্তু কোথায় দেব?…”

এক আধোভেজা আলো অন্ধকারে তিন প্রজন্মের তিন অনার্য সন্তান তাঁদের দলপতিকে কেন্দ্রে রেখে শুনছে কীভাবে রচিত হয় কল্পবাস্তবের ভাষ্য। খুব আত্মগত উচ্চারণে দলপতি আক্ষেপে মাথা নাড়ছেন, না, না, কিচ্ছু হচ্ছে না, আমাদের সেই ‘ক্রৌঞ্চদ্বীপ’-এর ছবি আঁকা হচ্ছে না, সেই ভাষ্যের কাছে কোথায় আর পৌছাতে পারছি? এই আক্ষেপ জহর সেনমজুমদারের চালিকাশক্তি, এই অতৃপ্তিই তাঁকে করে তোলে ভিন্ন রকমের। তাই দেখি আশির দশকে প্রকাশিত একাধিক কবিতার বই তাঁর কবিতাযাত্রা থেকে তুলে নিতে। তার থেকে কিছু কবিতার দু-একলাইন পরে রেখে দিলেও প্রায় নতুন করেই পুরোনো কবিতাগুলো আবার পুনর্লিখনে তৃপ্তি খোঁজেন কবি। আবার তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতার ‘অন্তর্গত রচনা’ থেকে উদ্ধৃতি দিতে হয়, “লিখবার পর, লেখা হয়ে যাবার পর, প্রথম প্রথম বেশ কিছুদিন, মনে হয়, দারুণ লিখলাম, জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা লিখলাম; কয়েক সপ্তাহ পর, আরও আরও কয়েক পর, যখন কবিতাগুলো আবার পড়লাম, তৎক্ষণাৎ মনে হল— খুব একটা মারাত্মক কিছু নয়, ভালো— তবে ততখানি যেন অন্তর্গত সংরচনায় খুব বেশি ভালো বলে মন যেন মানতে পারছে না; সুতরাং পরিমার্জন দরকার; বেশ কিছুদিন পর, আরও আরও বেশ কিছুদিন পর, পরিমার্জন করতে গিয়েই চৈতন্যে আঘাত নেমে আসে; ঝুঁটি বাধা মন ঝুঁটি নেড়ে বলতে থাকে, না, কিচ্ছুটি হয়নি, কিচ্ছু না;… কালে যাকে লিখিত মুগ্ধতায় শ্রেষ্ঠ কবিতা মনে হয়েছিল, সময়ের পর্বে পর্বান্তরে একসময় শূন্য মনে হয়; সব শূন্য মনে হয়…”। এই অতৃপ্তিই জীবন্ত রাখে কবিকে। জহর সেনমজুমদার তাই জীবন্ত কবি, যে ক্রমাগত লিখে যান এবং সেই লেখাগুলোর মুখোমুখি হন। নিজের মুখোমুখি যে-কবি হন না তিনি পাঠকের মুখোমুখি হতেও ভয় পান, জহর সেনমজুমদার তাঁর কবিতার পাঠকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগে থাকেন। তাই প্রতিটি পাঠক হয়ে ওঠেন তাঁর আত্মীয়স্বজন, কবির ‘আমি’-র সঙ্গে থাকেন পাঠক ‘আমরা’। এক বিষাদ তাকে জড়িয়ে রাখে তাই, ‘আত্মকথা’-য় তাই লেখেন,

“তুমি ভুবনেশ্বরী, আমাকে চন্দ্রত্বক দাও আমাদের চন্দ্রত্বক দাও,
… নুন আর দংশন নিয়ে আমরা প্রতিদিন স্বপ্নের ভেতর শব যাত্রা করি
আঁধার অতৃপ্ত আমাদের ষষ্ঠ আঙ্গুল একদিন আমাদের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ছেড়ে
ঘুমন্ত লেখকের হাতে চলে যায়, আমাদের আত্মকথা কোনোদিন লেখা হয় না
ব্যর্থ এই জীবনের কুহু ও কেকায় আমরা শুধু উথালপাথাল করি
চিরদিন উথালপাথাল করি”

কবিতা যতটুকু উন্মোচিত হয়, কবি যতটা উন্মোচন করেন, তার সমান্তরালে একটা বৃহত্তর উন্মোচনহীন পরিসর রয়েও যায়। এই উন্মোচন না করা পরাজগৎ পাঠকের জন্যে উন্মুক্ত থাকে। এই শব্দ ও নৈঃশব্দ্যের দ্বিবাচনিকতা; এর ক্রমন্মোচনের রহস্য সমাধানের চাবিকাঠি কবির আদি বয়ানে রয়ে যায়। কবিতা বা কবির গদ্যের মধ্যে প্রচ্ছন্ন অন্তর্নাট্য একাধিক স্তরে ব্যক্ত হয়ে থাকে। আমরা জহর সেনমজুমদারের ‘হৃল্লেখবীজ’ থেকে যে-কোনো যায়গা তুলে আনতে পারি:

“দুর্মর জীবনাবেগে, মানুষ হিসাবে, যখনই কান্না ও ক্রোধের ভেতর দিয়ে নানা সময় পারাপার করি, তখনই মনে পড়ে যায় পাগলা দিলীপকে; কুমোরপাড়া ছাড়িয়ে, বেণুদের বাড়ির পথেই ওর বাড়ি; মাঝে মাঝেই দেখতাম হাঁটতে হাঁটতে ওর পাজামার দড়ি ছিঁড়ে গেছে আর ও জিভ কেটে দাঁড়িয়ে আছে;…
এই দিলীপ, কোথায় গিয়েছিলি?/— অজু মুখার্জির বাড়ি;/— কেন?/কান্না আনতে;/মানে?/— অজু মুখার্জি কাল রাতে মারা গেছে তো… গোপাল গোবিন্দ সক্কলে খুব কাঁদছে… কান্নায় ঘর ভরে গেছে… কান্না আনতে সকাল সকাল ওখানেই গিয়েছিলাম…”

“একবার নয়, দু-বার নয়, পাগলা দিলীপের কাছে থেকে বহুবারই এই একই কথামালার নিঃসংকোচ পুনরাবৃত্তি শুনেছি; যতবার শুনেছি— ততবারই স্তম্ভিত বিস্ময়ে শুধু চমকে চমকে উঠেছি; দরকারে অদরকারে মানুষমাত্রই মানুষের বাড়ি যায় নানা জিনিস আনতে; কিন্তু কোনো মানুষ যে অন্য কোনো মানুষের বাড়ি শুধু কান্না আনতে যায়, যেতে পারে— কোনোদিনও ভাবতে পারিনি;…

আমিও ভেবেছি পাগলা দিলীপের মতো আমিও যদি এইভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কান্না একজায়গায় জড়ো করে আনতে পারতাম, আমিও যদি সাড়ে চুয়াল্লিশ লক্ষ কান্না এক জায়গায় জড়ো করে একান্তে নিজের কাছে রাখতে পারতাম;…” — এখানেও আমরা উল্লেখিত পাঠকৃতির মধ্যে অনবরত এই আত্মবিভাজিত সত্তার দর্পনে যুযুধান জগৎ ও জীবনের ফেনিল ও তীব্র ‘অপরতা’-র উন্মোচন লক্ষ করি। এই যে উন্মোচন ঘটল সেটাই আসলে পাঠকের স্বতন্ত্র স্বেচ্ছা নির্মিত ‘ক্রৌঞ্চদ্বীপ’। রুদ্ধ প্রতিবেদন থেকে মুক্ত প্রতিবেদনে উত্তরণের এই যাত্রা পাঠকের একক নয়, অনুঘটকের ভূমিকায় থাকেন কবি স্বয়ং। পিয়ের মাশারের মতো পাঠকেরও জিজ্ঞাসা থাকে: what it tacitily implies, what it does not say, এই জিজ্ঞাসা থেকেই নিজস্ব পাঠকৃতি গড়ে তোলার অবকাশ পেয়ে যান পাঠক, অবকাশ করে দেন কবি।

জহর সেনমজুমদারের কবিতায় আমরা দেখেছি যে, তিনি কুহকের বাস্তবতা, রহস্যের পরাবাস্তবতার জগৎ তৈরি করলেও সমাজ ও সময়ের গর্ভকেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর নাড়ীর বন্ধনকে ছিন্ন করে ‘তুরীয় নির্মাণে’ ব্রতী হন না, এই বন্ধনকে অস্বীকারও করেন না তিনি। তাঁর কবিতা ও গদ্য জুড়ে তাই রক্তমাংসের, স্নায়ুতন্ত্রের স্পন্দন পাওয়া যায়, নিসর্গ নির্মিতির ক্ষণেও তাই তিনি অনুভব করেন গর্ভযন্ত্রণার কান্না ও খুশী।

আমরা জানি যে, কবিতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যুগে যুগে নানা ফতোয়া জারি হয়েছে। নানা তত্ত্ব নানা ফ্রেমে ও ফ্রেমহীনতার বন্ধনে তাকে বাঁধনে বাঁধতে চেয়েছে ক্ষমতা, কিন্তু মজার ব্যাপার হল এইসব মৌলবাদী ফতোয়া সত্ত্বেও কবিতা কিন্তু নিজের মতো করে টিকে থাকে এবং সেই টিকে থাকা স্বতন্ত্র, নিজস্বতায় ঋদ্ধ। ভাষা যেমন চলমান বলেই বেঁচে থাকে, স্থবির হলেই তার মৃত্যু, কবিতাও স্বাভাবিকভাবেই এই চলমানতাকে বহন করেই বাঁচে। কবিতার ভাষা চলনের শক্তিতে হয়ে ওঠে কখনো উচ্চকিত কখনো নিজেই সংকেত লিপির মতো সংহত। অস্তিত্ব ও অনস্তিস্ত্বের সেতু বন্ধন করে কবিতা। কবিতা টিকে থাকে মাতব্বরদের ছুড়ি কাঁচির পরোয়া না করে। সে কাউকে রেয়াত না করেই নিজের মতো হেসে ওঠে, বা কেঁদে ওঠে নিঃশব্দে বা সশব্দে। জহর সেনমজুমদারের কবিতা এই ‘ফতোয়া’ উপেক্ষা করে নির্মিত স্বাতন্ত্র্যের উজ্জ্বল পতাকা। তাই তিনি অনায়েসে লিখে ফেলেন,

“…
স্কুল কাকে বলে? স্কুল তো মরা মথ, মরা সাপ, মরা
হৃৎপিণ্ডকে গীটারের মতো বাজায়। অথচ এইতো কদিন আগে
পুকুর থেকে লাফ দিয়ে উঠে এসে একটা মাগুর মাছ
স্কুলের মধ্যে ঢুকলো এবং চোখ উলটে মরে গেলো।
আমি সেই মাগুর মাছটার দুটো সাক্ষাৎকার নিয়েছি।
একটি জীবিত অবস্থায়। অপরটি মৃত অবস্থার।

মৃত অবস্থায় সে প্রথমে কিছু বলতে চায় নি। তারপর
অনেক অনুরোধ-উপরোধের পর মাগুর মাছ বলল:
এ-পৃথিবী আবহমান গাধাদের, ভাঁড়েদের …
স্ত্রীপাখিদের মৃতদেহ থেকে এ-পৃথিবীর জন্ম…
গাধাদের তৈরি হারমোনিয়ামে ফুল ফোটে…
এ-পৃথিবী জামাপ্যান্ট পড়ে কিন্তু আসলে সে মড়া…”

ঋত্বিকের কথামতো, আমাদের সমাজ সঠিক অর্থেই অপ্রেসিভ, ব্রুটাল ও মস্তিষ্কহীন। ব্যবসায়ী, দালাল, পুলিশ, বেশ্যা, মিথাবাদী রাজনীতিক, ষড়যন্ত্রকারী গুপ্তচর বাহিনী ও খবরের কাগজের তুলে আনা প্রাতিষ্ঠানিক কবি-লেখক দ্বারা ধর্ষিত এই অনড় এস্টাব্লিশমেন্ট। তবে গত কয়েক দশকে পশ্চিমের বাংলার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা কবিতা বা সাহিত্যচর্চার কলকাতাকেন্দ্রিক প্রভাব ও প্রতাপশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণরেখার বাইরে বা সমান্তরালে গোটা বাংলা থেকেই অজস্র লিট্‌ল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হচ্ছে। এর একটা বিরাট অংশের লেখকই কলকাতার ওই প্রাতিষ্ঠানিক দাদাগিরিকে অগ্রাহ্য করার সাহস রেখেছে, এক্ষেত্রে উল্লেখ করছি যে, অনেকেই কলকাতার ভৌগলিক বৃত্তের অধিবাসী হলেও এই ‘কলকাতার’ বাসিন্দা নন, তাদের মনন ও যাপনে বাংলার মুক্ত পরিসর রয়ে গেছে। বর্তমানের এই প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের সমান্তরাল প্রতিবাদের ভাষা মুখ্যত কবিতার সম্পূর্ণ জগৎ। প্রতিবাদের এই উচ্চারণ যেন জীবনানন্দ ঘোষিত পথ, “মরণের পরপারে বড় অন্ধকার/এই সব আলো প্রেম ও নির্জনতার মতো” বলেই তাঁর কাছে সমস্ত সৃষ্টির চিৎকারকে মনে হয়েছিল “শত শত শূকরীর প্রসব বেদনার আড়ম্বর”। নাম, যশ, খ্যাতি, অর্থের দাপটই যে কবির মোক্ষ নয় এ-সময়ের নতুন কবিতার ভাষা অন্বেষণে থাকা পাঠকের কাছে স্বীকৃত জহর সেনমজুমদার বা নির্মল হালদারেরা তার উদাহরণ। যেমন তাঁদের বুকে বুক দিয়ে রয়েছেন শামশের আনোয়ার, তুষার রায়, ভাস্কর চক্রবর্তী, অনন্য রায়েরা।

কবিতার মধ্যে দৈনন্দিন বাস্তবতার সঙ্গে সমান্তরাল অথচ বাস্তবতা থেকে উৎসারিত এক নতুন ও পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পুনর্গঠিত পরাজগতের সঙ্গে এই কবিরা আমাদের পরিচয় করান। “ব্যক্তিচেতন ও যৌথ নিশ্চেতনার দ্বিবাচনিকতায় কর্ষিত কবিতার পরিসর কার্যত স্থাপত্যের প্রতিস্পর্ধী হয়ে ওঠে। যথাপ্রাপ্ত জগতের আলোআঁধারিতে মধ্যস্থতা করে শব্দ ও নৈঃশব্দ্যের অন্যান্য নির্ভরতাকে এবং অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির পারম্পর্যকে অভ্যাসের ঘেরাটোপ থেকে মুক্তি দিচ্ছেন ইদানীন্তন কবিরা” (তপোধীর ভট্টাচার্য)। একদিকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রাতিষ্ঠানিকতার নিরন্তর প্রতিরোধ এবং অন্য দিকে অপ্রাতিষ্ঠানিক চেতনার প্রতিস্পর্ধী অবস্থান ও ধারাবাহিকতার সন্ধান— এই দুই দ্বান্দ্বিকতা জহর সেনমজুমদারের মতো কবিদের কবিতায় বিচিত্র উচ্চাবচতা ও কৌণিকতা যুক্ত করেছে। জহরের কবিতার নিরন্তর পাঠ ও পুনঃপাঠের মধ্য দিয়েই চলমান বাংলা কবিতার অনেকান্তিকতাকে অনুভব করতে পারি। বুঝতে পারি কতটা বিপজ্জ্বনক এই কবি, স্থিতাবস্থার পক্ষে। তাঁর ‘বিপজ্জনক ব্রহ্ম বালিকাবিদ্যালয়’-এর শেষ পর্বে পড়ি: “২১ জন ছাত্রী— পেছনে লাল বৃষ্টি। পিছনে পাঁজরপঞ্জিকার খোলা পথ, খোলা বিশ্ব। মায়ের দোকান থেকে ক্রমাগত ঋতু কিনতে কিনতে ক্লান্ত। বলছে— আর কিনবো না। হোক। ঋতুবন্ধ হোক। নেংটি ও ধাড়ির মাঝখানে ক্রমশ ব্যাপ্ত হয়ে যায় বিপজ্জনক গর্ভস্তব্ধ টাইমটেবিল। কেউটে ও হেলের মাঝখানে নিজের শরীরে ডানা লাগায় ব্রহ্ম বিদ্যালয়। সম্ভোগসংক্রান্ত মোম ফেটে যাচ্ছে লকলকে চ্যানেলগুলোর ভেতরে। মহাকাশ চুইয়ে আবার নামছে ছোট ছোট অন্ধকার। ঘুমন্ত অন্ধকার।” এই অন্ধকার ঘিরে থেকে কবিতাকে মুক্ত করার, আলোকিত কবিতায় দ্বান্দিকতায় আমরা খুঁজে পাব কবিকে। এখান থেকেই আমরা প্রাবন্ধিক, সাহিত্য সমালোচক জহর সেনমজুমদারের কাছে যেতে পারব।

কবি জহর সেনমজুমদারের বাইরেও স্বতন্ত্র ব্যাপ্তি নিয়ে আছেন প্রাবন্ধিক জহর সেনমজুমদার, অধ্যাপক JSM, খোলা মনের ও অন্তর থেকে পাশে থাকা এক স্বজ্জন মানুষ, বন্ধু জহরদা। ব্যক্তি ও স্রষ্টার এখানে কোনো সংঘাত নেই। জীবনানন্দের কবিতা আলোচনায় তিনি লিখেছেন, “জীবনানন্দ তো সেই জাতের কবি, যিনি স্বয়ং জানেন— একজন কবিকে সব সময় পৃথিবীর সমস্ত দীপ ছেড়ে দিয়ে এক নতুন প্রদীপের কল্পনা করতেই হয়, কবিতাকে ‘নতুন সংস্থানের ভিতর নিয়ে গিয়ে’ প্রদীপকেই পরিবর্তন করে দিতে হয়। যিনি ‘স্বয়ং’ জানেন— ‘কবিও সঞ্চয়ী’। আর সেই সঞ্চয় প্রবণতাই একজন কবিকে পাখির ডানায় ভাসমান করে নিয়ে যায় দূর দেশের কোনো কবির কাছে, কবিহৃদয়ের কাছে।” এই সঞ্চয় কবিকে প্রবল আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, যে ‘আত্ম’-বিশ্বাস আক্রমণের ও বিজয়ের শক্তি দেয়:

“দূর থেকে দেখলাম, তোমার শান্ত জল তোমাতেই সারারাত অবলীন হয়ে আছে
তোমার জল, আমি শুধু তার কিয়দংশ ব্যবহার করি, ক্রমশ অন্ধকার
জলে ভরে যায়, একদিন আমিও দেখলাম ভাঙা নৌকায় তোমারই চাঁদকে
লুকিয়ে রেখে আমাদের গ্রামের বোবা বালিকাটি দুই হাত দিয়ে স্তব্ধ এই
বনপথ ক্রমাগত পবিত্র করছে, একটি বনপথ আরও আরও বনপথে পরিণত হয়
তোমার জল তোমার বালিকা তোমার বনপথ দেখতে দেখতে মনে হয়, মৃত্যু এলেও
আমাদের জীবন কোথাও কক্ষনো পালিয়ে যাবে না, চরাচর আমাদের, শুধু আমাদের
চরাচর আমাদের, শুধু আমাদের”

প্রথম পাতা

Categories
প্রবন্ধ

গৌতম গুহ রায়ের প্রবন্ধ

জহর সেনমজুমদারের কবিতা, কবিতার অন্তর্ঘাত

“এই কবিতাগুলি যেন ডানা ভাঙা, বন্ধ্যা ফুসফুসের ভেতর সারারাত জেগে আছে চারদিকে ভাঙা রিক্সা, চারিদিকে ভাঙা চাঁদ, দুইজন অজ্ঞ নারী রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে একটি কুকুরের সঙ্গে কথা বলছে;

Categories
গল্প

সুজয় পালের গল্প

মনশোকরহিতা

“প্রত্নকীর্তিমপাবৃনু” এটি আমাদের ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের মোটো বা নীতিবাক্য; আপাবৃনু অর্থে উন্মোচন বোঝায়, আর আমি ঘরে বসে বসে এইসব ‘আগডুম বাগডুম’ ভাবছি। এই শব্দটার সাথে মনে পরে গেলো ছেলে ভোলানো ছড়াটার কথা— “আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে, ঢাল মৃদঙ্গ ঘাগর বাজে। বাজতে বাজতে চলল ঢুলি, ঢুলি গেল ওই কমলাফুলি”… তারপর কিছু একটা ‘বিয়েটা’ ছিল মনে পরছিল না, আর সাথে সাথে মনে পড়ল ভারতীয় জাদুঘরের গ্রন্থ বিভাগের গ্রন্থাগারিক সচিব ডঃ দেবনাথ স্যারের কথা। তিনি আমাকে এই ছড়াটার ব্যাখ্যা করেছিলেন।
শাশাঙ্কের পরে গৌড়ের দায়িত্ব নেন পুষ্যভূতি বংশীয় রাজা হর্ষবর্ধন ও কামরূপের বর্মনরাজ শ্রীকুমার ভাস্করবর্মন কিন্তু রাজধানী কর্ণসুবর্ণ থেকে তাঁদের নিজস্ব রাজধানী অনেক দূরে থাকায় সম্পূর্ণ শাসন ব্যাবস্থা শিথিল হয়ে পড়ে, এই মাৎস্যন্যায় কালে প্রথমে বঙ্গ অধিকার করে খর্গরাজারা তারপর শক্তভাবে সিংহাসনে বসেন পালরাজা গোপাল আনুমানিক ৭৫০ সালে, ধর্মপাল ও দেবপালের সময় কীভাবে কনৌজ অধিকার করে পাল রাজারা সেটা আমরা সবাই খুব ভালো মতোই জানি। পরবর্তী সময়ে বংশ গৌরব ক্রমশ শিথিল হয় আর অন্তর্দ্বন্দ্ব তুমুলে ওঠে দ্বিতীয় মহীপালের সময় আনুমানিক ১০৭২ সালে। পশ্চিমের বারেন্দ্রভূমী দখলের সাথে মল্ল রাজাদের চাপ ও বাড়তে থাকে তাই রাজধানী কানসোনা থেকে কামরূপের কাছে আত্রেয়ী ও তিস্তা নিদী ঘেরা দোয়াব অঞ্চলে ডোমনে স্থানান্তরিত করেন, ইতিমধ্যে কামরূপে বর্মণ রাজাদের সরিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছে পৌরাণিক নরকাসুর বংশভূত ম্লেচ্ছ বংশীয় রাজারা অর্থাৎ এই অঞ্চলে রাজধানী অনেক বেশি সুরক্ষিত। বর্তমান বাংলাদেশের আসাম লাগোয়া উত্তরের জেলায় নীলফামারীর একটি উপজেলার নাম ডোমার, এরই আগের নাম ছিল ডোমন নগর। সন্ধাকর নন্দীর ‘রামচরিতম’ গ্রন্থে দেখতে পাই কীভাবে দ্বিতীয় মহীপাল সামরিক গৌরবে স্বল্পকালীন রাজত্ব করেছিলেন; ডোমন রাজ্যের সৈন্যদের বলা হতে ডোম সৈন্য যার বলে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন নিজেরই ভাই রামপালের বিরুদ্ধে, কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি পরাজিত ও নিহত হন। সমগ্র পালবংশের রাজা হন রামপাল। এই ডোম সৈন্যদের সাহায্যে তিনি মল্লরাজ প্রকাশমল্ল ও সেনরাজ বিজয়সেনকে বহুবার পরাজিত করেছিলেন। কোনো কোনো গবেষক অনুমান করেন ছড়াটিতে ওই ডোম সৈন্যদের শোভাযাত্রা বা যুদ্ধযাত্রার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ‘আগডুম’ অর্থাৎ যে ডোমসৈন্য বাহিনী সবার আগে যায়, ‘বাগডুম’ হল যুদ্ধ কৌশলে সহজে বাগ মানাতে পারা সৈন্যদল, আর ‘ঘোড়াডুম’ হলে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার ডোমসৈন্য। সঙ্গে বাজে তিন ধরনের যুদ্ধবাদ্য—ঢাক, মৃদঙ্গ এবং ঘাগর বা ঝাঁঝর। মধ্যযুগের ধর্মমঙ্গলেও ডোম সৈন্যদের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।

ছেলে ভোলানো ছড়াতে প্রথম ছত্র দু-টিতে বেশ একটা বীরত্বের ছোঁয়া লেগে আছে, কিন্তু পরের ছত্রগুলো কিছু উৎসবমুখর পরিবেশ। মনে হয় দুটো পৃথক ছবিকে কেটে একসঙ্গে জোড়া দেওয়া হয়েছে ছায়াচ্ছন্ন মোহময় এক পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে, তবেই না ছেলে ভুলবে। পালরাজাদের কীর্তির কথা চিন্তা করতে গিয়ে মনে পড়ল; পাল রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ আর তাঁদের সুবর্নযুগে তৈরিহয়েছিল অসংখ্য বৌদ্ধবিহার ও মঠ। রাজা ধর্মপাল বৌদ্ধধর্মের এক মহান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, তিনি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং ওদন্তপুরী মঠ ও বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীকালে বৌদ্ধ ধর্মের একটি মহান শিক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে বিকশিত হয়েছিল। তাঁর সময়েই প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বিখ্যাত সোমপুরা মহাবিহার যা ভারত ভূখণ্ডের সর্ব বৃহৎ বিহার হিসাবে আজও অধুনা বাংলাদেশের নওগাঁ জেলা পাহাড়পুরে বর্তমান। এই সময়ে আমরা পেয়েছিলাম বিখ্যাত বৌদ্ধ মহাগুরু চুরাশী-মাহাসিদ্ধগণকে যাঁদের সান্ধ্য ভাষায় লেখা চর্যাচর্যবিনিশ্চয় ও ডাকার্ণব আমরা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে পড়েছিলাম। আনুমানিক অষ্টম শতাব্দীতে বঙ্গপ্রদেশে মাহাসিদ্ধ মহাগুরু সরহ পা নালন্দা থেকে শিক্ষা সম্পূর্ণ করে এক অভিনব বৌদ্ধদর্শন মতবাদ প্রবর্তন করেন যা বর্তমানে বজ্রযানদের মাহামুদ্রা হিসাবে বহুল প্রসিদ্ধ।

ইত্যাদি চিন্তনের মাধ্যমে বজ্রের ন্যায় প্রত্যুৎপন্নমতিতে মাথায় এল দেবী মূর্তির মুকুটে ওই যোগীমূর্তির কথা, একহাত কোলে রেখে অন্য হাতে তিনি বরমুদ্রা প্রদর্শন করছেন, তিনি যে কোন সাধারণ যোগী নন; স্বয়ং ধ্যানীবুদ্ধ আমোঘসিদ্ধি। কথাটা মনে পড়তেই আমার মানসপটে এক এক করে সব পরিষ্কার হতে থাকল। দেবী মূর্তির সামনের মুখ্য দুই হাতে বজ্রহুংকার মুদ্রায় অবশ্যই ছিল বজ্র ও পাশ, আর অন্য ভগ্ন হাতে ছিল মন ও দেহ শোক হরণকারী অশোকমঞ্জরী, দেবীর পোষাকের ওইগুলো ময়ূরের পালক নয় বরং গভীর শিরাবিন্যাসযুক্ত পাতা, দেবীর পদতলে থাকা ওই মানুষের অবয়ব হল বিঘ্ন-মারি, তিনি বহুল প্রসিদ্ধ আমোঘসিদ্ধি কুলজাত দেবী পর্ণশবরী।
তৎকালীন সময়ে দুরারোগ্য ব্যাধি হতে মুক্তিপেতে সঙ্ঘে দেবীর উচ্চাঙ্গ মন্ত্রপাঠ ও বহুল ভেষজ সমিধ-সহ হোম করা হত, মনে করা হয় মন্ত্রের কম্পাঙ্ক ও হোমের ধোঁয়াতে পরিশুদ্ধ হত বায়ুমণ্ডল। বয্রযানের গঠনমূলক সময়ে বহু বৌদ্ধতান্ত্রিক দেবতার বিকাশ হয় বঙ্গভুমে সাথে অজস্রও মূর্তিও খোদাই হয় বিভিন্ন বিহারের উপাসনা ও সৌন্দর্যায়নের নিমিত্তে। আর সাথে এটাও সিদ্ধান্তে এলাম ওই লিপি কূটাক্ষর না বরং বৌদ্ধআদি লিপি-সিদ্ধমাতৃকা, যার প্রচলন সুদূর সময়ে চলেছিল শুধু জ্ঞানসিদ্ধ সংরক্ষণের জন্য। অচিরেই মানচিত্র দেখে বুঝলাম প্রাপ্তিস্থল থেকে খুব কাছে আছে সেই বিখ্যাত সোমপুর মহাবিহার। নির্বিঘ্নে পায় হেঁটে দু-দিনেই চলে আসার মতো পথ, তৎকালীন যুগে খুব একটা অসুবিধার ছিল বলে মনে হয় না। তবে কি সেখান থেকেই দেবিমূর্তিকে কেউ নিয়ে এসেছে? যা অতি গোপনে পূজিতা হয়েছিলেন কোনো গুপ্তসিদ্ধগণ দ্বারা। অনুমান করতে দ্বিধা হয় না যে আনুমানিক ১১৬০ সালের দিকে বল্লাল সেন পালরাজাদের সম্পূর্ণ পরাস্ত করেছিলেন হিন্দুদের সাহায্যে, আর সাথে চলেছিল বৌদ্ধবিহারের সাথে অসহিস্নুতা, সম্ভবত এরম কোন সময়ে ওই মূর্তি কালের গ্রাসে চলে যায়। অনেক বিশেষজ্ঞ হিন্দু শীতলা দেবীর সাথে দেবী পর্ণশবরীর সামঞ্জস্যতা খুঁজে পান, মহামারির কালে শীতলাপুজার লগ্নে অপ্সরা রূপে দেবীর আগমন কি শুভ হেতু?

আজ এই অতিমারির দিনে যখন মানুষ তাঁর স্বাবাবিক সত্তাকে অস্বীকার করে ক্রমশ নিম্নপথে সমাজস্রোতের বিপক্ষে ছুটে চলেছে, শিক্ষার তকমা অশিক্ষিতদের কাছে হার মানছে, বিজ্ঞান যখন অজ্ঞতার বশীভূত, অযোগ্য যখন যোগ্যপদে আভিষিক্ত, সামাজিক দায়িত্ব যাঁদের হাতে তাঁরা নাট্যমঞ্চের কুশীলব সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের কি? উচিত না নতুন করে পৃথিবীটাকে নতুন চিন্তায় সুন্দর করে তুলি! কিন্তু সেই আমি নির্বিকার— ক্রমশ নিজের অস্তিত্বকে আলোকভেদী জলের মতো মনে করি; প্রদত্তপাত্রের আধারের আকৃতি ধারণ করি, আর বিশেষ আধারের অনুপস্থিতিতে ঘনীভূত হয়ে আত্মকেন্দ্রিক গোলক রচনা করি।

প্রথম পাতা

Categories
গল্প

সুজয় পালের গল্প

মনশোকরহিতা

মেট্রো করে বাড়ি ফেরার পথে খেয়াল করলাম জনসংখ্যা অনেকটাই কম, সম্ভবত এই ভরদুপুর বলে, ইতিমধ্যে কানে এল ভাইরাস সংক্রমণের সতর্কীকরণ ঘোষণা। শরীরের সমতাপমাত্রা যুক্তজলে স্নান করলে যেমন শরীর বোঝে না ঘটনাটা, তেমনই আমিও বুঝতে পারছিলাম না কী করা উচিত বা না। বাড়ি এসে যথারীতি সবাই মশগুল পিসির বাড়ির পুজো নিয়ে গপ্প করতে, আমাদেরও গৃহদেবতা শীতলা আর তাই নিয়ে বাবা মা দু-জনেই গল্পের পসরা খুলল খেতে বসে। ঈশ্বর কী অদ্ভুত জিনিস, তার চিন্তাতে লোকে বাস্তব থেকে কতটাই না কল্পনার জগতে চলে যেতে পারে, এতক্ষণে কেউ প্রশ্ন করল না কেমন হয়েছে ইন্টার্ভিউ, যাকগে, যা হয় মঙ্গলের জন্যই হয়।

আমার কিন্তু একটা মঙ্গল হয়েছে, সরকার থেকে জানিয়েছে সামনের দুই সপ্তাহ ছুটি, বড়ো আপসোস হল দু-দিন আরও কাটিয়ে আসলে ভালো হত, আগামী রবিবার তো বন্ধই থাকবে সব; তারপরে আসলে ওই মূর্তিটা আবার খুঁটিয়ে দেখতাম। মূর্তির কথা মনে পরতেই মোবাইল খুলে ভালো করে দেখছিলাম, পোষাল না কম্পিউটারে ছবিটা বড়ো করে দেখলাম। ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে ছবিটা কিছু বিশিষ্ট লোকজনকেও পাঠালাম, যারা এইসব নিয়ে পড়াশোনা করে। নিউজ-ফিডে আবার সতর্কবার্তা ভেসে এল, সাথে মৃত্যুর সংখ্যাও।
এখন সারা ভারতবর্ষব্যাপী বনধ্ ঘোষণা হয়েছে, তবুও বিক্ষিপ্ত জনসংখ্যা চারদিকে বেরিয়ে পড়ছে ইতস্তত, পুলিশ নাজেহাল সামলাতে, সাধারণ মানুষ নির্বোধের মতো আচরণ করছে, দীর্ঘ কর্ম ব্যাস্ততার মাঝে হটাৎ করে একটা এত বড়ো শূন্য সময় পেয়ে বস্তুত সবাই গুলিয়ে ফেলেছেন রোজনামচার সূচিপত্র। এই সময়টা নিজের ঘরে থেকে খুব কাছ থেকে নিজেকে চেনার, এই সময়টা নিজের ঘরে থেকে নিজের অতীতকে আবার ফিরে পাওয়ার, এই সময়টা নিজের ঘরে থেকে যাবতীয় পূর্বত্রুটি সংশোধনের, একমাত্র; এই সময়টাই নিজের ঘরে থেকে সারা পৃথিবীর মানুষের মঙ্গলার্থে, খুব সাধারণ কথাগুলো কেউ বুঝতেই চাইছে না। চারদিকে বেড়ে চলেছে রাশি রাশি মৃত্যু, আমারা যেন এখন পালন করছি এক অদৃশ্য মৃত্যুচক্রের ব্রত। সত্তার দুই দিক; জন্ম ও অজন্ম, চিরকাল তারা হরিহর আত্মা হয়ে মিলে মিশে আছে; মৃত্যু শুধু তাদের মেলবন্ধন করে।

এখন বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় লাগছে। আবার বাইরের কেউ বাড়িতে এলেও ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকছি আমরা। সব যোগাযোগ বন্ধ, এই বুঝি সংক্রমিত হয়ে পড়লাম! এই আতঙ্কে কাটছে কিছুদিন ধরেই। কত রকম হোমিওপ্যাথি, ভেষজ, টোটকা, কবজ মাদুলি বা কোনো বিশিষ্ট জ্ঞানীদের বিশেষ নিরাময়য় পদ্ধতি দেখে খুব রাগ তারপর দুঃখ ও অন্তে মায়া হল, মনে মনে বললাম ‘মূর্খ ভারতবাসীও আমার ভাই’।
বিজ্ঞানের কি অগ্রগতি বা অজ্ঞগতি এইসবের আগে দরকার সামাজিক শিক্ষা; মানুষ মানুষকে মানুষ বলে চিনবে, থাকবে সামাজিক সাম্য। কোথায় এ-সব, এর মধ্যেই সাম্প্রদায়ীকতার তকমা লেগে গেল রোগের মধ্যে। আমাদের বাংলায় আমরা “যত মত তত পথ” শুনে বড়ো হলেও নিজেদের স্বাভাব, চরিত্র আর সংস্কৃতি বরাবর অপরেরটাই যেন অনুকরণ করতে পছন্দ করি, এরম বহু উদাহরণ জেনেও কালচারাল ফিউশন বলে আত্মতুষ্টি অনুভব করি, কিন্তু নির্বোধের মতো অপর ধর্মকে ছোটো করতে মন্তব্য করি এক দফা। কেউ পরেছিলেন কাঁটা মুকুট, কেউ নিয়েছিলেন বিষবান, খ্রীষ্ট আর ইষ্ট সবই তো সমান। প্রাচীন সাধুদের কথা গ্রন্থে পড়েছিলাম, ম্যাক্সমুলার যখন ঠাকুরের জীবনী লেখেন তখন প্রতাপ মজুমদার তাঁর সঙ্গে দেখা করে বলেন, “রামকৃষ্ণ ভালো লোক ছিলেন। কিন্তু শেষের দিকে তিনি prostitute ও drunkard-দের সঙ্গে মিশে mixed up হয়ে যান”। ম্যাক্সমুলার শুনে আনন্দে চেয়ার ছেড়ে উঠে বলেন, “এতেই প্রমাণিত হয় যে, তিনি অবতার। যীশুও ঐভাবে পতিতাদের উদ্ধার করেছেন”। কথাটা বুকে বেঁধেছিল, সত্যইতো যদি পাথর যোনিতে জন্মাতে হত তবে আকার কী হত? যদি জন্ম হতে বেজন্মা হতাম তবে ধর্ম কী হত?

বেশ কয়েক সপ্তাহ কেটে গেল, এই অবস্থায় নিজের আর পরিবারের সকলকে সুস্থ রাখতে আপমর প্রচেষ্টায় সারাবিশ্ব। ঘরে বসে সুস্থ স্বাভাবিক খাবার ও দৈনন্দিন অভ্যসের এক গাদা ফর্দ ধরিয়েছেন মানবকল্যাণে যা এই দুঃসময়ে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে তুলবে।সেই ফর্দে আছে কাঁচা হলুদের ও নাম, এতে ‘কারকিউমিন’ নামক একটি যৌগের গুণে সমৃদ্ধ। এটি নানা ধরনের প্রদাহ কমায়। আমরা ভারতীয়রা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হলুদ ব্যাবহার করে থাকি বিভিন্ন সংস্কার আর আচারে। প্রাচীন সমাজব্যাবস্থা কত সহজ আর সরল ছিল, অজানেতেই কত কিছু আরোপ করেছে মানবকল্যাণে, যেমনটা ধরুন এই শেতলার হাতে ঝ্যাঁটা আর জলভরা কলসি, ব্যাপারটা যদি এভাবে ভাবা যায় বসন্তকালে যদি সমাজ পরিষ্কার রাখা যায় তবে বসন্তরোগ থেকে মুক্তি। কী অদ্ভুত! এই করোনার জন্যও তো এরমই নির্দেশনা দিচ্ছে W.H.O। প্রাচীন কালের ভালো মানুষগুলো বিজ্ঞানী না হলেও দার্শনিক ছিলেন সে সন্দেহ নেই, দেশ বিদেশ থেকে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসতেন বহু বিদেশী, যেমনটা এখন আমরা যাই বিদেশে পড়তে। এই একটা প্রমাণই যথেষ্ট ভারতের আকরহানীর ও ভারতীয় সমাজের চরম অবমাননার। বহু যুগ ধরে ক্ষমতার শীর্ষে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপোষণ ও সহজে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতির মাশুল গুনছি, ঘরে বসে। যোগ্য পদে অযোগ্য প্রতিস্থাপনের ফলে সর্বত্র এক হাহাকার চলছে, মানুষ রোগের থেকে বেশি দারিদ্র্যতার ক্ষোভে মরছে। এই অতিমারি বিপদেও লোকে ধর্মের সংঘর্ষ, রাজনৈতিক কটুক্তি, চাল চুরি, আর্থিক সাহায্য লুট চালিয়ে যাচ্ছে, আর শ্রমিকশ্রেণির জন্য চুড়ান্ত অসহযোগিতা সর্বত্র দেখতে পাচ্ছি, খবরের মাধ্যমে আজ আর খবর নেই আছে একরাশ সত্যিকারের অজস্র সাজানো ঘটনা। আমরা আর মানুষনেই, ভগবান এবার এসে নিঃস্ব করুক সবাইকে, ধ্বংস হোক তোষণবাদী সমাজ।

যত ঘন কালো মেঘ তত বেশি বজ্রপাত, সারা পৃথিবীব্যাপী মৃত্যুহার ক্রমশ বেড়ে চলছে। খবরের কাগজে পড়লাম ‘প্রতিষেধক তৈরির প্রতিযোগিতায় প্রথম চারে আগেই নাম তুলেছে আমেরিকা, চিন, গ্রেটব্রিটেন ও জার্মানি। এবার নতুন সংযোজন ইটালি। তবে তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহের উপরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হতে আরও কিছুদিনের অপেক্ষা। ইটালির গবেষকদের দাবি, তাঁরা এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন, যা কিনা মানবকোষে নোভেল করোনা ভাইরাসের কার্যকলাপ নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। রোমে সংক্রামক ব্যাধির জন্য থাকা বিশেষ হাসপাতাল স্পাল্লানজ়ানিতে ইঁদুরের উপরে অ্যানিম্যাল ট্রায়াল সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। ভ্যাকসিন প্রয়োগে দেখা গিয়েছে, ইঁদুরের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশা, মানুষের শরীরেও একইভাবে কাজ দেবে প্রতিষেধকটি’। খুবই খুশির খবর, যখন আমাদের দেশে সবাই দাঙ্গা করে মরছে তখন করোনা রুখতে সম্ভাব্য চিকিৎসার তালিকায় রয়েছে আমেরিকার ওষুধ ‘রেমডেসিভিয়ার’, ব্রিটেনের ‘চ্যাডক্স ১’ ভ্যাকসিন। ‘ইটালির গবেষক দলটির সঙ্গে যুক্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার সিইও লুইজি আউরিজ়িক্কিয়ো-র কথায়, ‘‘সম্ভাব্য প্রতিষেধক আরও রয়েছে। কিন্তু আমাদের মতো এতটা অগ্রগতি মনে হয় না আর কেউ করেছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার কাজটা আমরাই প্রথম করে দেখালাম। আশা করছি, মানুষের দেহেও এটি একইভাবে কাজ করবে।’’ আউরিজ়িক্কিয়ো জানান, এই গরমের পরেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে। সেই জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন তাঁরা। ইটালির নিজস্ব গবেষকদল ও প্রযুক্তির সাহায্যে ভ্যাকসিনটি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও ইটালিতে দেশের মানুষের উপরেই করা হবে। তবে তিনি জানা নেই, তাঁদের গবেষণা সম্পূর্ণ সফল হলে, গোটা বিশ্বকেই ব্যবহার করতে দেওয়া হবে তা’।

তবে এর থেকেও বেশি খুশি হয়েছি প্রকৃতির পরিবর্তনের জন্য, দীর্ঘকাল ধরে মানব সভ্যতার অসভ্যতার গ্রাসে যে-বন্যপ্রাণ তটস্থ ছিল; তারা এখন স্বাধীন আর মুক্তহয়ে সর্বত্র ঘুরে বেরাচ্ছে, বায়ুর দূষণকনা মুক্ত হয়ে আকাশ নিযুত নক্ষত্রের রাজবেশ পরেছে, মেরুপ্রদেশের ওজন গহ্বর লোপ পেয়েছে, পশ্চিমের সন্ধ্যাতারা যেন শতগুণে উজ্জ্বল হয়ে প্রকৃতির বিজয়কেতন ওড়াচ্ছে। প্রকৃতি সংরক্ষণের কাজে জীবজগৎ ও উদ্ভিদ জগতের পরিবেশের সামঞ্জস্য বাস্তববিদ্যার প্রয়োজনে বাস্তব্যবিদ্যা-বিশেষজ্ঞগণ ২০০৭ সালে ‘Earth Hour’ মডেলের কথা বলেছিলেন। এটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলন যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার (WWF) দ্বারা আয়োজিত হয়। এই ইভেন্টটি প্রতিবছর মার্চ মাসের শেষ শনিবারে রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার জন্য অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ করতে উৎসাহিত করে গ্রহের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক নির্দেশ করাবে মানবসমাজকে। আমরা এইসব ভাবধারা কতজনে জানি তা সন্দেহ, আর জানলেও মানি না, মানতে পারি না, মানতে দেওয়া হয় না। আমাদের দেশে সেইসবই মানা হয় যা ভোট বাক্স বাড়াবে, ভাবতেও অবাক লাগে স্বয়ং বুদ্ধদেব সঙ্ঘের অধ্যক্ষ নির্বাচণের জন্য নাকি এই ভোট ব্যবস্থা করেছিলেন। আর আজ দেখো কী হাল! আমাদের আবার উচিত বিজ্ঞানের সাথে আবার দর্শনশাস্ত্রের পড়াশোনা শুরু করা, ১৯৭০ নাগাদ রসায়নবিদ জেমস লাভলক ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট লিন মারগুলিস এক দর্শনতত্ত্ব শিখিয়েছিলেন বিশ্বকে— ‘The Gaia hypothesis’। বলা হয়েছিল, জীবিত উদ্ভিদ ও প্রাণীরা পৃথিবীতে তাদের অজৈবপরিবেশের সাথে যোগাযোগ করে একটি অতিক্রিয়া এবং স্ব-নিয়ন্ত্রক, জটিল ব্যবস্থা তৈরি করে যা গ্রহের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অবস্থাকে বজায় রাখতে এবং স্থায়ী করতে সহায়তা করে। প্রকৃতি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিজস্ব মতামতে চলে, পৃথিবীতে সমস্ত ঘটনা স্বাধীন ও স্বতন্ত্র যা প্রকৃতির ইচ্ছানুযায়ী চলে; এর ওপর কারো কোনো হাত নেই। টেকনোলজির মোহমায়ায় অন্ধ হয়ে আমরা বলেছিলাম, বিজ্ঞানের সর্বোচ্চস্থিতিবাদ, সমস্ত দার্শনিকদের চিন্তায় বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছিলাম স্বেচ্ছাচারে, আজ তার অভিশাপে আমরা আছাড় খেয়ে পরেছি, এখনও সংযত না হলে হয়তো আরও রুদ্রমূর্তি দেখাবে প্রকৃতি।

তেমন কোনো কাজ না থাকায় আত্মীয়পরিজন ও প্রিয়জনদের ফোন করে খবর নিচ্ছি, সদ্য ফেলে আসা গৌড়ের কথা মনে করে পিসির বাড়ি ফোন করলাম, সব কিছুই কুশল মঙ্গল ওদের, তেমন নাকি রোগ ছড়ায়নি কিন্তু ওই মূর্তিটাকে নিয়ে নাকি অল্পবিস্তর সাম্প্রদায়িক কুটিলভাব ছরিয়েছে, অনেকে দাবিও করেছে মসজিদের গর্ভ খুঁড়ে মন্দিরটা বার করতে। তবে পুলিশের সুচারু পদক্ষেপে সব তুষের আগুনের মতো চাপা পরেগেছে। আবার ওই মূর্তিটার কথা মাথায় এলো, যাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম কেউই তেমন স্পষ্ট বলতে পারল না বা বলতে চাইল না। এবার নিজেই বসলাম দেখতে, প্রথমে মূর্তিটার ভাঙাটা দৃষ্টি আকর্ষন করেছিল, তারপর যখন দেখেছিলাম সেটা শুধু তাকানো ছিল, তার সাথে মন বা মস্তিষ্কের সংযোগ ছিল না। কোনো কিছুকে দেখতে গেলে মনের সংযোগ খুবই প্রয়োজন, এখন অনেক সময় নিয়ে দেখতে হবে, পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দেবী মূর্তি নাচের ভঙ্গিমাতে পদ্মমণ্ডলের ওপর একটা ছোট্ট মানুষের অবয়বের ওপর দাঁড়ানো, কোমরে যে কাপর পরানো তাতে ময়ূরের পালকের মতো কিছু রেখা বোঝা যাচ্ছে, অধিকাংশ হাত ভাঙা, বুকের কাছে সম্ভবত দুটো হাত ছিল; ভগ্নসংযুক্তি স্পষ্ট, ডানদিকের দুটো হাতের নীচেরটা গোটা তাতে কুঠার ধরা, ওপরটা তির ধরা ছিল কারণ, বামদিকের নীচের এক হাতে ধনুক ধরা, অপরটা কব্জির পর থেকে নেই, সাথে চালের অনেকটা ভাঙা। কাঁধ থেকে আবার ওই ময়ূরের পালকের মতো রেখা, কাদামাটির জন্য সূক্ষ্ম রেখাগুলো প্রায় অস্পষ্ট কিন্তু দেবীর ভ্রূকুটি কুটিল ত্রিনেত্র আর দেবীর তিনটি মুখ যার বামদিকেরটা ভাঙা, মাথার মুকুটে অলঙ্করণ স্পষ্ট আর তাতে ফল, ফুল, একজন যোগীমূর্তি, আর আবার ওই ময়ূরের পালক। মূর্তির পিছনে কিছু লেখা; লেখাটা সংস্কৃত না, ভালো করে দেখলাম সেটা কুটিল লিপি। মূর্তির আদলতা দেখে স্পষ্ট হলাম এটা কোনো তান্ত্রিক দেবীমূর্তি। কিন্তু বাংলায় তান্ত্রিক দেবীমূর্তির এরম কোনো রূপ দেখেছি বলে মনে পড়ে না, তার ওপর কুটিলাক্ষর বহুল প্রচলিত ছিল দক্ষিণপূর্ব বাংলার নাথ, রাত ও খর্গ রাজাদের লিপিতে এবং ভাস্করবর্মার নিধানপুর-তাম্রশাসনে কুটিল লিপির প্রচলন ঘটে কামরূপ প্রদেশেও, আর সেই সময়ে তান্ত্রিক মূর্তির ততটা বিকাশ লাভ হয়নি।

শেষ পাতা

Categories
গল্প

সুজয় পালের গল্প

মনশোকরহিতা

সারাদিন পর ঢাকঢোল বাজিয়ে পূর্ণাহুতির মাধ্যমে শীতলাপূজা শেষ হল, ঠাকুরমশাই বেশ গর্বের সাথে বললেন, “লিন, এ বসরের মতো শেতলাষ্টমীর মায়ের পুজো নির্ভিগ্নে শেষ হোলো,

Categories
প্রবন্ধ

ঝিলিক কর্মকারের প্রবন্ধ

বাংলা পুঁথি সংগ্রহে বিশ্বভারতীর অবদান

পুঁথিভিত্তিক গবেষণার জন্য বিশ্বভারতীর পুঁথি বিভাগের কাজের সূচনা হয় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের প্রারম্ভে। ঘটনাক্রমে বিশ্বভারতীতে বৈজ্ঞানিকভাবে পুঁথি সম্পাদনা শিক্ষার

Categories
কবিতা

কৌশিক সেনের কবিতা

মহাবিদ্যা

গেরি গুগলি তুলতে তুলতে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে পুকুরের জল। পায়ের নীচে ভাঙা শামুক বেঁধে। পুকুরের গর্ভে মহাপ্রলয় তখন! কোচ রে নরমুণ্ড। খড়গ হাতে কালো মেয়েটি উঠে আসে পানাপুকুর থেকে…

Categories
গদ্য ধারাবাহিক সোনালি হরিণ-শস্য

পার্থজিৎ চন্দের ধারাবাহিক গদ্য: সোনালি, হরিণ-শস্য

তৃতীয় পর্ব

চক্রব্যূহ অর্থশাস্ত্র ও তিমি-শিকারীর দল

“…এত যদি ব্যুহ চক্র তীর তীরন্দাজ, তবে কেন
শরীর দিয়েছ শুধু, বর্মখানি ভুলে গেছ দিতে?”

Categories
কবিতা

রবিন বণিকের কবিতা

আয়ুর গমক

যে–চিঠি সেতু নয়
যে–মাটি খুঁড়ে জারি হয় ধারা ১৪৪