Categories
কবিতা

সঞ্জয় মৌলিকের কবিতা

প্রচার

‘তিনটে আপেলে যা নেই, দুটো পেয়ারাতে আছে’

আমি অবাক বিস্ময়ে সেই অল্পবয়সি ফলওয়ালার সহস্র ভ্রূভঙ্গির দিকে তাকিয়ে থাকি।

ছোট্ট একটা আপেলের দুটো গোলার্ধ দু-হাতে ধরে সে অনর্গল বলে যাচ্ছে—

Categories
কবিতা

মানিক সাহার গুচ্ছকবিতা

ভ্রম

আমাদের বিষন্নতা মানে ভেঙে যাওয়া চশমার কাচ।
মেঝেভর্তি ছড়িয়ে থাকা রুমাল-চুরির স্মৃতি।
এই অস্তগামী সূর্যের পৃথিবীতে তুমি আর কার কাছে যাবে!
যে সীমান্ত দিয়ে নদী বয়ে যায়, যার ছায়ায় ধানের

Categories
কবিতা

অরিত্র চ্যাটার্জি’র কবিতা

ডাইরি ৪৯

আমি ভেবে ছিলাম একটা ছিমছাম কবিতা লিখব
নারকেল পাতার ওপর যেমন নিপুণভাবে কেটেকুটে যায়
বিকেলের ফালি রোদ, অনেকটা সেরকম

Categories
কবিতা

রাহুল গাঙ্গুলীর শব্দরূপ

দৃশ্যকল্পনের নি|রাকার কাঠামো ~ কিছু উপলব্ধি

ভাষাবিদদের গবেষণা ও মতামত অনুযায়ী: ভাষার কেন্দ্রচরিত্রে থাকা শব্দের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য মূলত দুটি। প্রথমটি হল ধ্বনি এবং দ্বিতীয়টি হল দৃশ্য। ধ্বনি হল, যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাথমিক এবং আদিমতম রূপ। যাকে বিশ্লেষণ করে, সম্ভাব্য দ্বিমাত্রিকতায় রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা থেকে অক্ষর এবং যাকে আবার জোড়া লাগিয়ে শব্দ তৈরি করার প্রচেষ্টা থেকে দৃশ্য।

Categories
কবিতা

সঞ্চিতা দাসের কবিতা

সময়

মাথার ওপর কালো আকাশ
অসংখ্য গ্রহ,
কোথাও কোনো শব্দ নেই,
গাছের পাতার দোলা নেই
যতদূর চোখ যায় নেই কোনো প্রাণ

Categories
অনুবাদ গল্প

সাদাত হাসান মান্টোর গল্প

খোলো

মূল উর্দু থেকে অনুবাদ: কাজী মোহাঃ মাকীন

অমৃতসর স্টেশন থেকে স্পেশাল ট্রেনটা দুপুর দু-টোয় ছেড়েছিল। আট ঘণ্টার দুঃসহ যাত্রার শেষে সেটি মোগলপুরা স্টেশনে পৌঁছোয়। দাঙ্গাকারীদের আক্রমণে পথেই বেশ কিছু মানুষের প্রাণ যায়, অনেকে আহত-ক্ষতবিক্ষত হয় আর বহু মানুষ প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছিটকে যায়।

Categories
কবিতা

সৌমনা দাশগুপ্তের কবিতা

ছায়াশলাকার ঘর

অ্যাসিডবৃষ্টি। ভিজে যাচ্ছে মহাফেজখানা। দেহ এক হাড়ের দলিল। দেহ এক অস্থাবর ভূর্জপত্র। সেঁকে নাও। তুলো উড়িয়ে দিতে দিতে হাসিতে ভেঙে পড়ছে বালিশ।

Categories
কবিতা

অমরশঙ্কর দত্তের কবিতা

লবণ

লবন একটি হ্রদের নাম
লবন একটি সূত্রের নাম
তবু
‘লবণ-রাজত্ব’
মাঝের হাইফেন তুলে নিলে

Categories
গল্প

জব্বার আল নাঈমের গল্প

জীবনের ছুটি নেই

টানা দুই দিন দুই রাত ধরে হাঁটছি। শরীর এখন সামনের দিকে কিছুতেই এগুতে চাইছে না। তখনও সূর্যকে ক্লান্ত অবিশ্রান্ত লাগেনি। কিন্তু ক্লান্ত-অবিশ্রান্ত আমার চোখে রাজ্যের ঘুম। নিজেকে মাটিতে বিছিয়ে দিলাম। সূর্য বিশ্রাম শেষ করে কপালে আলোর স্ফুরণ ফেলে। আড়মোড় ভেঙে হাঁটতে শুরু করি আবার। পলক ঘুরতেই দেখি একটি বিড়াল আমার ছায়ায় হাঁটছে। বিষণ্নতা কাঁটিয়ে, কৌতূহল থমকে দেয়; দাঁড়াই।

Categories
কবিতা

সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

উন্মাদের দিনলিপি


শীতঘুমের ভেতর জোর করে ঢুকে যাচ্ছে বিষণ্ণ সানাই। আবহে কেউ কোথাও নেই। জলে ভিজে যাওয়া কয়েকটা দীর্ঘশ্বাস— হাতড়ে হাতড়ে তুলে আনছে মৃত নদীটির যোনিরোম। এ সবই চিত্রকল্প। বালিহাঁসদের পালক দিয়ে তুমিও নিশানা করেছ দিগন্তের রং।