Categories
প্রবন্ধ

রণজিৎ অধিকারীর প্রবন্ধ

হিরণ্ময় শিল্পজগৎ ও রং তুলি হাতে এক দেবদূত

নাটকের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শিল্পী হিরণ মিত্র বলেছিলেন, ‘যা তাৎক্ষণিক, যা পুনরাবৃত্ত করা যায় না। যা কালেই ভেসে যায়।’ তা-ই হয়তো শ্রেষ্ঠ শিল্প। যা আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই, তা-ই আসলে হারাই। এই প্রবন্ধের লেখক হিসেবে আমারই এ-কথাটা আরও একটু স্পষ্ট করা উচিত। শিল্পকে কীভাবে আমরা পাই কিংবা আমরা আবিষ্কার করি? এটা অনেকটা মোকাবিলা করার মতো।

Categories
কবিতা

সমীরণ ঘোষের গুচ্ছকবিতা

সন্দেহ

লোহার পৃষ্ঠা থেকে পাহারা করছে বেড়ালের মাথার সামান্য

একটু ঘুমের মাছ। কাঁটাপোঁতা গলির সন্ধে। নলিকাটা
নদীর পাথর সূর্যাস্ত কাটছে যাঁতি খুলে

বেড়ালের মাথার কিছুটা সন্দেহপ্রবণ কোনো ছায়ার পিস্টন

Categories
অনুবাদ কবিতা

লরেন্স ক্যারাদিনি’র কবিতা

ভাষান্তর: অনিমেষ সাউ

এবং আবার

সেই পাখিটা ফিরে গেছে।
আমি অপেক্ষা করছি,
আমি তার অভিলাষ,
সে আলের ওপর বসে আছে ,

Categories
গল্প

সঞ্জীব নিয়োগীর গল্প

পাঠান্তর বিষয়ক প্রস্তাব ও অনুমোদিত ক্রীড়াসমূহ

।। প্রস্তাবনা।।

হাত রেখে দ্যাখো, যেভাবে অনুবাদের আগে হাত রাখো শিল্পটির গায়ে। মমতা কিনা সে পরের কথা, তবে সেটা যে বোঝাপড়ার একটা প্রাথমিক শর্ত, প্রয়াস, এ-কথা ঠিক।

Categories
কবিতা

সঙ্গীতা মাইতির গুচ্ছকবিতা

কোকিল

অতটা আত্মহত্যা চায়নি লক্ষ্মণরেখাটিও—
কেন তবে দোলালে ঈগলের চোখ?
আমাকে সযত্নে বাজিয়ে বাজিয়ে মেঘমল্লার!

তোমাকে আয়না ভাবলে পুড়ে যায় তামাম রক্ত

Categories
কবিতা

সৌমাল্য গরাই-এর গুচ্ছকবিতা

আকাশ

নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের মতো বসেছেন একা
এত বিষ নীলে নীল সমগ্র শরীর
অথচ উজ্জ্বল চোখ দশদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে
পাগল মানুষ যেন শূন্য থেকে শুরু করে

Categories
কবিতা

অরিন চক্রবর্তীর গুচ্ছকবিতা


এক সন্ধ্যায় পুরোনো জামাকে নিজের আয়তনে সেলাই করছি। আঙুলের ডগায় ছুঁচ ফুটল। রক্তমাখা সাপটা শিরাকে পেঁচিয়ে রাখলো। অদৃশ্য তলোয়ার এসে আমূলে গেঁথে গেল খোলসে। উঠে দাঁড়ালাম আয়নার সামনে। দেখছি, মুখোশ খসে পড়ে উড়ে গেল নীরবতায়। গরাদে কালো রাত নামলে আমরা ঘুমিয়ে যাই। জেগে থাকে নগ্ন বিছানা। পরাঙ্মুখ চেতনাকে দিলাম শেষ বসন। ছাই ছাড়া আর কিছুই নেই।

Categories
চিত্রকলা

সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিত্রকর্ম ‘ইন ডার্ক টাইমস্‌’

সৌরভ বন্দোপাধ্যায় ভিজুয়াল আর্ট নিয়ে স্নাতক স্তরের ফাইনাল ইয়ারে শিক্ষারত। ওঁর কাজের মূল বিষয় মানুষ ও তাঁর মন।

Categories
গল্প

অনির্বাণ বসুর গল্প

শ্মশানসম্ভব

কিংবদন্তী ভেসে বেড়ায় হাওয়ায়-হাওয়ায়: এই শ্মশানে চিতার আগুন কখনো নেভে না। এই ঘাট মণিকর্ণিকার। এই জনপদ বহু প্রাচীন বললে আদতে কিছুই বলা হয় না; বস্তুত, এখানে মানুষের সভ্যতার ইতিহাস, প্রথমাবধি, বিচ্ছেদবিহীন। সতীর মৃতদেহের একান্ন খণ্ডের শেষে, বেঁচে থাকা অবশিষ্টাংশ, এখানেই দাহ করেছিল মহাদেব, তাই এই মহাশ্মশানের আগুন জ্বলে চলে অনির্বাণ— এমন কত-না গল্প এখনও ভেসে বেড়ায় এখানকার বায়ুমণ্ডলে।

Categories
গদ্য

রুদ্রদীপ চন্দের গদ্য

ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়

দিবানিদ্রার শেষে শ্মশান ডেকেছে তাকে। একঘুমে কত অনন্ত পার হয়ে গেছে। সকালের প্রাইমারি স্কুল, সবুজ পাতার দল তারপর… ফিরে আসা শস্যক্ষেত, খাল পাশে রেখে। একসময় নদী নেই বলে আপশোষ হতো তার। অবশ্য কত আপশোস সন্ধ্যের মতো ঝুলে আছে জীবনে। ওরা থাকে, যেভাবে স্বর্ণলতা। যেভাবে চাঁদ ঝুলে থাকে চন্দ্রাহতের জীবনে।