Categories
গদ্য

সেলিম মণ্ডলের গদ্য

কৌতূহলের জানালায়: পাগলাখালি

পাগলাখালি আশ্রম

‘উঠল বাই তো কটক যাই’, ক-দিন আগে হঠাৎ এমনই বাই উঠেছিল আমাদের। বহুদিন ধরে পরিকল্পনা চলছিল, যাওয়া হয়ে ওঠেনি। কতটাই বা দূর? চাপড়া থেকে বড়োজোর ২৫ কিলোমিটার। মুশকিল হল, ডিরেক্ট যাওয়া যায় না। বাস, ম্যাজিক, টোটো সব ভেঙে ভেঙে যেতে হয়। এটা বেশ হ্যাপার। কথায় বলে ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর’, কোনো বিশ্বাস বা তর্কের খাতিরে নয়, স্রেফ কৌতূহলেই যাওয়া।

Categories
গদ্য ধারাবাহিক হাটগঞ্জকোরাস: সুবীর সরকারের

সুবীর সরকারের গদ্য: হাটগঞ্জকোরাস (চতুর্থ পর্ব)

হাটগঞ্জকোরাস (চতুর্থ পর্ব)

৮।

উত্তরবাংলা। এক বর্ণময় ভূখন্ড। আমি উত্তরবাংলাকে দুইভাগে বিভক্ত করি। তিস্তাবঙ্গ আর গৌড়বঙ্গ। আমি তিস্তাবঙ্গের মানুষ। আমি তোরসাদেশের মানুষ। গানভরা নাচভরা উৎসবঘেরা হাটগঞ্জঘেরা সবুজে ভরা এক বহুমাত্রিক জনপদ।

Categories
গদ্য

সেলিম মণ্ডলের গদ্য

রাস্তা কারো একার নয়

কলেজ স্ট্রিটে কাজ সেরে আমহার্স্ট স্ট্রিট থেকে রাজা রামমোহন সরণি ধরে হাঁটছি। মাথাটা ভীষণ ভার। শরীরটা ম্যাজম্যাজ করছে। মাঝরাত্রিরে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর আর ঘুম ধরেনি। সকালে থেকে চুয়া বমি। শরীরটা ভালো না। কয়েকবার গলায় আঙুল দিয়েও বমি হল না।

Categories
গদ্য

ভাইরাল গায়িকা রাণু (মারিয়া) মণ্ডল

গৌতম চট্টোপাধ্যায়

“রাণু কোনোদিন কারোর কাছেই গান শেখেননি। তার হারমোনিয়াম ছিল না, বাজাতেও শেখেননি। শুধুমাত্র মেধা, স্মৃতি, কর্ণ ও কন্ঠ সম্বল করে তিনি রেডিও-রেকর্ড-টেপে পরিবেশিত গান পড়শিদের বাড়িতে অথবা পথচলতি শুনে শুনে শিখেছেন। রাণুর মাসি বলেছেন সে নাকি রাস্তার ছুটে যেত মাইকে বাজানো গান শুনতে।”

 

রানুর ব্যাপ্টিজমের নাম হয় মারিয়া। সেটা সম্ভবত কৃষ্ণনগর চার্চ-এ কারণ, সেখানেই জন্মেছিল রাণু সম্ভবত ১৯৬৫ সালে। অনুসন্ধানে জানা যায় যে, রাণুর ঠাকুরদার নাম ছিল বসন্ত রায়, বাড়ি ছিল ফরিদপুরে।

Categories
গদ্য হাটগঞ্জকোরাস: সুবীর সরকারের

সুবীর সরকারের গদ্য: হাটগঞ্জকোরাস (তৃতীয় পর্ব)

হাটগঞ্জকোরাসের (তৃতীয় পর্ব)


উড়ে যাওয়া মেঘের নীচে মেঘদলের খণ্ডবিখণ্ডের নীচে বহুব্যপ্ত জনপদখিলান। মেঘের ছায়ায় ছায়ায় সে দেখে হেঁটে যেতে থাকা নদীরাম বর্মণকে। শ্যাওলামাখা আস্ত একটা শরীর নিয়ে নদীরাম হেঁটে যেতে থাকে। নদীরাম কখনও কখনও নিজেকে লুকিয়ে ফেলে। তখন সে হয়ে ওঠে নদীরাম জালুয়া নদীরাম হালুয়া নদীরাম হাটুয়া। কিংবা— ‘বাচ্চা বাপই সোনার চাঁন/গরু দুইটা আইলত বান্ধ’ এমনতর গান কন্ঠে ধারণ করে নদীরাম গীদালই বা যেন।

Categories
গদ্য

তন্ময় ভট্টাচার্যের গদ্য

খেলাপের রং

আর এ-সমস্ত ঘিরেই আছে এক আশ্চর্য লাল, দোকান-বাজারে যার হদিশ পাওয়া যায় না। উঁকি দিলে একমাত্র বোঝা যায়, খেলা হয়েছিল। এমন খেলা, যা শুধু মাখিয়েই শেষ নয়। উড়িয়েও দিতে হয়। রাশি রাশি রং উড়ছে জানলার পাশে।

Categories
গদ্য

নারী দিবসের গদ্য: রিম্পি

মেয়ে হয়েও মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি কখনো
মেয়ে হয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা খুব সহজ। হ্যাঁ, ‘সহজ’ শব্দটা সচেতনভাবেই রাখলাম। আসলে যেকোনো কঠিনকে সহজ করে নেওয়াটা নিজের উপর নির্ভর করে। এ’জন্য শক্তি প্রয়োজন, ইচ্ছে প্রয়োজন, প্রয়োজন জেদের। হ্যাঁ, তর্ক করতে হবে। পালটা উত্তর দিয়ে, কারো কারো কাছে অপছন্দের মানুষ হয়েও উঠতে হবে। কিন্তু তাতে খুব কি কিছু এসে যায়? আমার তো আসে না। কিচ্ছুটি আসে না।
Categories
গদ্য

শিবাশিস দত্তের স্মৃতিগদ্য

স্কুলজীবনেই যাকে আধুনিক মনের মানুষ বলে জেনেছিলাম 

প্রাবন্ধিক, বাংলা ভাষার সাহিত্যের ক্রিটিক পার্থপ্রতিম বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত হলেন। তিনি ছিলেন পাকা হাতের সমালোচক। তাঁকে চিনতাম নৈহাটির সেই স্কুলজীবন থেকে। আমাদের বাংলা ক্লাস নিতেন। পরবর্তীতে তাঁকে নিয়মিত ব্রিজ পেরিয়ে নৈহাটি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজে আসতে দেখতাম, তখন তিনি কলেজ-শিক্ষক। তাঁর পোশাক, পথচলা, ধারালো দৃষ্টি, কথা বলার ঢং— সবই আমাদের কাছে ছিল আকর্ষণের বিষয়বস্তু। মনে মনে ভেবে নিতাম— যেন সাহিত্য জগতের উত্তমকুমার। গ্রাম্য স্বভাবের লোকজনেরা পার্থবাবুকে আঁতেল বলে  ঠাট্টা করতেন বটে, কিন্তু  সে আঁতলামিতেই আমরা জীবনভাবনার দিশা পেতাম। স্মার্টনেস কথাটা নিয়ে তখন আমরা প্রায় লোফালুফি খেলার স্বভাবে মজে থাকতাম। স্মার্ট কথার ব্যাখ্যা জানতাম না। উত্তমকুমার বলতে বুঝতাম স্মার্টনেস। রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’ তখনও পড়িনি, স্টাইল আর ফ্যাশনের পার্থক্য জানব কেমন করে? তবে বেশভূষা কিংবা চালচলন বুদ্ধিদীপ্ত হলে তাকে স্মার্ট  ভেবে নিতাম।

Categories
গদ্য

তন্ময় ভট্টাচার্যের গদ্য

ধ্বস্ত


দরজা খুলে ঢুকলেই বারান্দা, ইদানীং যার মানে খুঁজে পাচ্ছ না। এতদিন যা ছাদ বলে চিনতে, অনেক দূরের একটা আকাশ আজ ভরাট করছে তা। ছাদ অর্থে অ্যাজবেসটজ, যার খাত বেয়ে বৃষ্টি নেমে আসত সামান্য হলেই।

Categories
গদ্য

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাসের গদ্য

 ডায়েরি 

ওই যে বাড়িটা! চিনতে পারছেন? জলের মতো সহজ সরল??
কবেকার পুরানো চালার নীচে দাঁড়িয়ে আছে, একা একাই!!
চারটে পা আছে বলে ওকে কেউ মানুষ ভাবেনি কোনোদিন!