Categories
আত্মপ্রকাশ সংখ্যা গল্প

সুজন ভট্টাচার্যের গল্প

ধরিত্রী

– কিচ্ছু খাবার নাই ঘরে? মেঝেতে বসে সুবল একবার মিনমিন করে মিনতির দিকে তাকিয়ে বলে। মিনতি ফিরেও তাকায় না ওর দিকে। তার মানে নেই। নেই মানে তো নেই। কেন নেই, সে গল্প আর নতুন করে পেড়ে কী হবে! কাজেই সুবলকে বেরোতেই হবে। যদি না বেরোয়, দুপুরেও নেই, রাতেও। কিন্তু বেরোতে পারবে কী? এমনিতে বৃষ্টি ধরার নামগন্ধ নেই। তার উপর আজ যেন কেমন খিমচে খিমচে ধরছে বুক আর পেটের ভিতরে। শেষ খেয়েছিল কাল দুপুরে। দুটো পাউরুটি। তার থেকে আবার খানিকটা দিতে হয়েছিল মিনতিকে। বড়ো ছেলেটা ওর ভাগের থেকে খাবলা মেরে পালিয়েছিল। কাজেই খিদের আর দোষ কী!

Categories
আত্মপ্রকাশ সংখ্যা গল্প

শুভংকর গুহর গল্প

লেনিন

কিছুটা এগিয়ে গেলে, বাঁ দিকে সামান্য বাঁক নিলে, হাটখোলার মোড়। স্থায়ী দোকানপাট। ঝিমানো। কখনও কখনও লোকজন আর টুকটুকি অটো আর ক্লান্ত বিষণ্ণ রাতজাগা গরুযান। আরও একটু এগিয়ে গেলে পাকা রাস্তা। হাইরোড। বাস স্ট্যান্ড। শত প্রাচীন একটি নিম গাছ। নিম গাছের নীচে কুড়িয়ে নেওয়া পাথরের থান, সিন্দুরের বৈভব ছড়ানো, তেলচিটে। পাশে মাটির পুতুলের দোকান। বাসযাত্রীরা বাসে ওঠা ও নামার আগে মাটির পুতুলের দোকানের দিকে একবার তাকাবে, কেউ কেউ পুতুলের দোকানের সামনে এসে দাঁড়াবে। পরের পর কাঠের পাটাতনের ওপরে সারি সারি মাটির পুতুল। কত ধরনের পুতুল।

Categories
আত্মপ্রকাশ সংখ্যা গল্প

রিপন হালদারের গল্প

দ্য বয় উইথ দ্য বাই-সাইকেল

যত এগোচ্ছে গল্পটা ততই যেন গোলক ধাঁধায় আটকে পড়ছে। ট্যুইস্টের পর ট্যুইস্ট গল্পটাকে ওঠালো বাস্তব থেকে অনেক উপরে, যেখানে গোরুর চার পা হাতের আবেষ্টনী হয়ে ধীরে ধীরে উঠে যায় গাছে।

Categories
আত্মপ্রকাশ সংখ্যা গল্প

সেলিম মণ্ডলের গল্প

কুকুর

মেঘলা আকাশ। বৃষ্টি যেকোনো সময় তেড়ে আসতে পারে। আসলে মন্দ হয় না। ক-দিন ধরে গুমোট আবহাওয়া। শরীর হাঁসফাঁস করছে। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় যাইহোক অনি নিয়ম করেই বইপাড়ায় আসে। কাজ থাকুক বা না-থাকুক। কফিহাউস ঢুকতে ওর বিরক্ত লাগে। কলেজ স্কোয়ারের ভিতরটাতেই বসে। অনির ভালোলাগে মানুষজন পর্যবেক্ষণ করতে। তিন থেকে তিরাশির কত মানুষজন! কেউ কেউ আসে পাঁচ থেকে পনেরোর ছেলেমেয়েকে নিয়ে সাঁতার শেখানোর জন্য। অবসারপ্রাপ্ত বুড়ো-বুড়িরাও আসে সান্ধ্যআড্ডায়। আর প্রেমিক-প্রেমিকা বা বন্ধু-বান্ধবী? শহরের এমন একটা পার্ক থাকলে কেউ কি পারে তা অবহেলা করতে?

Categories
অনুবাদ আত্মপ্রকাশ সংখ্যা গল্প

হাঁসদা সৌভেন্দ্র শেখরের গল্প

ভয়ের অন্ধকার

ভাষান্তর: কবির দেব

একটা ব্যস্ত দিন — সকাল আটটা থেকে দুপুর দুটো অবদি— সদর হাসপাতালে, যখন আমার চারটে বিভাগ একসঙ্গে দেখতে হচ্ছিল, ঠিক তখনই হাসপাতালের সুপার আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমার কেবিনের সামনে একটা বেস ভালো ভিড় জমেছে— একটা অবশ ভিড় যা আমাদের কোনো অনুরোধ মানতে পারছে না অথবা চাইছে না যাতে এই হাসপাতালে একটা শান্তি বজায় থাকে। আমি তাদের কে বললাম যে আমি খুব শিগগিরই আসছি। এই বলে আমি ও.পি.ডি থেকে বেড়িয়ে চলে গেলাম।