Categories
প্রবন্ধ

রুদ্র কিংশুকের প্রবন্ধ

র‍্যাচেল কারসন ও নীরব বসন্ত

পৃথিবীর পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে র‍্যাচেল কারসন (Rachel Carson, 1907-1964) ও তাঁর ‘সাইলেন্ট স্প্রিং’ (Silent Spring, 1962) বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী। এই গ্রন্থ আধুনিক কৃষির রাসায়নিক নির্ভরতার বিপলগুলিকে চিহ্নিত করেই ক্ষান্ত থাকে না চিহ্নিত করে ক্ষান্ত থাকে না, বিকল্প পথ ও বিকল্প জীবনচর্চার দিশা উদ্‌ঘাটন করে।

Categories
প্রবন্ধ

শুভম চক্রবর্তীর শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপন

দেবেশ রায়: চিন্তা-ভাস্কর্যের নির্মাতা

বিশিষ্ট গদ্যশিল্পী কমলকুমার মজুমদার নিজের গদ্যভাষা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছিলেন— দৈনন্দিন বহু ব্যবহারে জীর্ণ ভাষা তাঁর গদ্যের মাধ্যম নয়, ভাবপ্রকাশের প্রয়োজনে তাই স্বতন্ত্র ভাষা নির্মাণ করেছেন। বাংলা ভাষায় হাতে গোনা যে-কয়েকজনের গদ্য পাঠ করে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে যে তিনি নিজস্ব ভাষা প্রণেতা, তাঁর দ্যোতনা পূর্বাপররহিত, তাঁদের মধ্যে দেবেশ রায় অন্যতম।

Categories
প্রবন্ধ

রণজিৎ অধিকারীর প্রবন্ধ

হিরণ্ময় শিল্পজগৎ ও রং তুলি হাতে এক দেবদূত

নাটকের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শিল্পী হিরণ মিত্র বলেছিলেন, ‘যা তাৎক্ষণিক, যা পুনরাবৃত্ত করা যায় না। যা কালেই ভেসে যায়।’ তা-ই হয়তো শ্রেষ্ঠ শিল্প। যা আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই, তা-ই আসলে হারাই। এই প্রবন্ধের লেখক হিসেবে আমারই এ-কথাটা আরও একটু স্পষ্ট করা উচিত। শিল্পকে কীভাবে আমরা পাই কিংবা আমরা আবিষ্কার করি? এটা অনেকটা মোকাবিলা করার মতো।

Categories
প্রবন্ধ

রবিউল ইসলামের প্রবন্ধ

তিরুকুরল: আদর্শ জীবন চর্যার এক পাঠ

তামিল সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ‘দক্ষিণ ভারতের বেদ’ বলে পরিচিত ‘তিরুকুরল’ আনুমানিক খ্রীঃ পূঃ চতুর্থ শতাব্দীর পূর্বে তিরুবল্লুবর রচনা করেছিলেন। এই নিবন্ধের মূল বিষয়ে যাবার পূর্বে ‘তিরুকুরল’ সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। ‘তিরুকুরল’-এ ১৩৩০টি শ্লোক ধর্ম, অর্থ ও কামকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে।

Categories
প্রবন্ধ

অনিন্দ্য রায়ের প্রবন্ধ

প্রমথ চৌধুরীর ট্রিওলেট

[আমরা জানি, ট্রিওলেট বা ত্রিওলে হল মূলত আট লাইনের (যদিও ইতিহাসে সাত বা নয় লাইনের ট্রিওলেটের সন্ধান মেলে) এক স্তবকের কবিতা, যার প্রথম লাইনটির চতুর্থ আর সপ্তম লাইনে আর দ্বিতীয়টির অষ্টম লাইনে পুনরাবৃত্তি ঘটে।

Categories
প্রবন্ধ

সম্পর্ক মণ্ডলের প্রবন্ধ

গ্রামীণ বাংলার শিল্পসত্তা ও নারীমননের সুচারু দিকটি উঠে আসে ‘কাঁথা’-র গায়ে

পল্লিকবি জসীমউদ্দিনের বিখ্যাত ‘নকশি কাঁথার মাঠ’ কবিতায় সাজু ও রুপাইয়ের অমর প্রেমকাহিনির মাঝে রুপাইয়ের নিরুদ্দেশের উদ্দেশে সাজু যখন বলে— ‘মা, আমার মরণের পরে যেখানে কবর দেওয়া হবে, সেই কবরের ওপরে যেন এই নকশি কাঁথাখানা বিছিয়ে দেওয়া হয়।

Categories
প্রবন্ধ

শতানীক রায়ের প্রবন্ধ

সমর সেন: bird of passage

অনেক বছর ঘুমিয়ে থাকলাম আর নয়। যে-কাজটা করতে চেয়েছিলাম সমর সেনকে কেন্দ্র করে তা মূল থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছে। মাছি মিষ্টির ওপর থেকে অনেকক্ষণ ভন ভন করার পর দূরে বহু দূরে সরে যায় যেমন। তারপর লিখব এই তাগিদ বোধ করলেও নানাভাবে আমার নিজের ব্যক্তিবিভ্রান্তি জুড়ে অগোছালো ভাবনাগুলো এসে বসেছে। বরং বলব এরকম নির্নিমেষ দূরে থাকার ভেতর ফিরে আসার এক অনাবিল আনন্দ আছে।

Categories
আত্মপ্রকাশ সংখ্যা প্রবন্ধ

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ

উনিশ শতকের কলকাতার বারাঙ্গনা কন্যারা ও তাদের আলোয় ফেরার কিছু কথা

নগরসভ্যতা আর পতিতাবৃত্তি প্রায় সমবয়সি। মধ্যযুগে নগরসভ্যতার অন্যতম ভূষণ ছিল বারাঙ্গনা পল্লি। বারাঙ্গনা সংসর্গ ছিল মধ্যযুগীয় পৌরুষ ও আভিজাত্যের প্রতীক। সে-সব অন্য প্রসঙ্গ। আমি বুঝতে চাইছি আঠেরো/ উনিশ শতকের কলকাতার বারাঙ্গনা সমস্যার উদ্ভব ও তাদের আলোয় ফেরার কথা।
আধুনিক শহরের সমস্ত কদর্যতাকে সঙ্গে নিয়ে নগর কলকাতার ক্রমবিকাশ হয়েছিল আর এদেশে বারাঙ্গনা বৃত্তির উদ্ভব বৃটিশ শাসনের হাত ধরেই। কলকাতার নগরায়ন শুরু হয় পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে। সংবাদপত্র দূরের কথা ছাপার যন্ত্রের কথাও তখন কল্পনায় ছিল না। শৈশবের কলকাতায় লোকসংখ্যাই বা কত! ১৭১০ সালে কলকাতা, গোবিন্দপুর ও সুতানুটি যে তিনটি গণ্ডগ্রাম নিয়ে কলকাতা নগরীর পত্তন হয়েছিল সাকুল্যে তার লোকসংখ্যা ছিল দশ হাজার।

Categories
আত্মপ্রকাশ সংখ্যা প্রবন্ধ

মলয় রায়চৌধুরীর প্রবন্ধ

মাতৃত্বের সংজ্ঞায় কুয়াশা

মুম্বাইয়ে প্রতিদিনই সংবাদপত্রে পড়ি, একটি নবজাতককে সমুদ্রের ধারে বা ট্রেনলাইনের পাশে বা বাইপাসের ভেতরে, যে জায়গাগুলো রাতের বেলায় অন্ধকার, কাপড়ে মোড়া পাওয়া গেছে।
এক বা দুই দিনের সেই শিশু ছেলেও হতে পারে বা মেয়েও হতে পারে।
চিনের মতন বা বহু খ্রিস্টধর্মী দেশের গির্জার মতন, আমাদের দেশে অবাঞ্ছিত, অপ্রার্থিত, অনাবশ্যক সন্তানকে লুকিয়ে রেখে যাবার বন্দোবস্ত নেই, যে সন্তানটিকে রাষ্ট্র বা গীর্জা পালন করার দায়িত্ব নেবে।

Categories
আত্মপ্রকাশ সংখ্যা প্রবন্ধ

শতানীক রায়ের প্রবন্ধ

সেই আমি-র মৃত্যু

মৃত্যু হল সেই চরম শূন্যতা যা আমাদের চেতনার ওপরের অন্য স্রোত। সেখানে অসম্ভব এক দোলন, দেহের চারপাশে বহমান সে-শূন্য কেবলই অজানা থেকে যায়। মঙ্গল চিহ্নে যাকে বাঁধা যায় না, আবার অমঙ্গল বলেও তাকে দাগিয়ে দেওয়া স্পর্ধার হয়ে ওঠে। আমার দেহ আছে সে আমার বোধের আয়তনের মধ্যে পড়ছে তবে যবে আমি থাকব না তখন!! আমার দেহের বিনষ্টকরণের পর আমি কী করে জানব আমি নেই ? আমি যে দেহে মনে সংযুক্ত ছিলাম পৃথিবীতে, সমাজে, মহাবিশ্বে, ব্রহ্মাণ্ডে আর দেহের ক্ষয় হওয়ার পর সমস্ত বোধ দেহহীন হওয়ার পর আমি কি আদতেও জানব যে আমি আর নেই?