Categories
কবিতা

গৌরাঙ্গ মণ্ডলের কবিতা

সমঝোতা

একঘাটে যতদিন স্নান করা যায়
তার চেয়ে দীর্ঘ না সময়

নিঙড়ে নেওয়ার জন্য হাত কি
জলের আজ্ঞা শোনে?

উদ্বাস্তু শ্যাওলায় আমাদের সূর্যোদয়
পিছলে যাওয়ার আগে শক্ত করে বাঁধো আলিঙ্গন

রাজা নই, চন্দ্র নই, কর্তৃকারকের দায়
এখনও পারি না

খুচরো মাংসের দিকে জিভডগা সাপের ফকিরি

ঘর বড়ো, ধড় বড়ো, হাঁড়ি, শূন্য, কাঁধ…
বয়স বেশির মেয়ে, পারাপার দেবে বলে
তুমিও তো নিয়ে চলো
কায়াভীতিতলে

বাংলা ভাষার থেকে সরে যাও
ব্যাকরণ বড়ো বেশি নিষ্ঠুর প্রেরণা

পদটির অনিচ্ছা জেনেও
ব্যাস বাক্য
ভেঙে ভেঙে রাখছ

এই বিচ্ছেদের দায় নাও। যত পারো দুঃখ করো। শোনো, কসাই হইয়ো না

আমার যা পছন্দের, তার
বাইরে তোমাকে খুঁজি
যা অপছন্দের, তার ভেতরেও…

বিস্তৃত সিঁথির মাঝে
বালকেচ্ছা তীব্র হয়ে ওঠে

সমস্ত রৌদ্রকে আজ স্তনের মাদুলি করে নাও
বৃক্ষহীন এ জীবনে বিদ্ধ হোক অপ্রস্তুত ছায়া

সময়

চিহ্ন দেখে নির্ধারণ
বিশ্বাস রাখিনি এই প্রাচীন প্রথায়

কাদা কি পায়ের কেউ!
সে কেন, সে কেন
নির্মাণে ভুলেছে বৃষ্টিকে

দৃশ্যেও গোপন থাকে, রঙের আড়ালও
ছুরির লাগে না কোনো সাজঘর, ব্যাধি

যা বলার, বলে নাও দ্রুত
তুমি তো চন্দন না যে, ক্ষয়ে গিয়ে ছড়াবে সুখ্যাতি

Categories
কবিতা

তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায়ের কবিতা

খিদে

হরিণ লাফাক, তুমি সাপের গর্ভের কথা বলো। আমাদের মাঠে বসে গুণিন ছিলিম টানে ভোরে। ফের কিছু লোক এসে কোকুনের ছাল রেখে যাবে। নদীতে যে মড়া এসে কাল রাতে ঠেকেছে শ্মশানে, তার কোনো নাভি নেই, শুধু কিছু কুচো মাছ খুঁটে খুঁটে শ্যাওলা খেয়ে যায়। গুণিন জমিয়ে বসে, সাপের রভস ব্যাখ্যা করে। কীভাবে নক্ষত্র থাকে শঙ্খ হলে কৃষ্ণা প্রতিপদে… কীভাবে সাপের শুক্র উচাটনে স্থির হয়ে যায়… ফের ঘুম, ফের কিছু উপোসের বাটি নড়ে ওঠে। হরিণ শিথিল হয়ে মুচড়ে গেছে ছোটার আগেই।

একা বুড়ো গুণিনের ঘরের উনুনে ছাই ছুঁড়ে
মড়ার কণ্ঠার হাড় মাছ ভেবে ছিঁড়েছে সারস।

চাষ

মধ্যযামে রমণ। প্রতিবার ক্লান্ত স্ত্রী আরও যেন কুহক, আগামী।
প্রবেশ সংযম ধরে বীভৎস ঝাঁকিয়ে দিল,
যেন নিচে বিছানা নেই, মাধ্যাকর্ষণ নেই।

গতি তো ধ্রুবক নয়; ধীরে ধীরে নিভে যায় আয়ু।

যত চেনা ঘামগন্ধ, সিঁদুরগন্ধ, গৃহগন্ধ—
হাড় তত আগন্তুক শামুক।

সারাদিন বীজ পেটে ভাত রাঁধছে দানে পাওয়া গাছ।

অন্দরে মানতের জ্যান্ত, গাঢ় সুতো

ন’মাস

সুজাতা হয়ে ভাসে।

Categories
কবিতা

নির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

ছায়ামানুষের খেলনাগাড়ি

১৬

আলো-না আলোয় বোনা পাতার পোশাক তারে মেলা

ফাঁকে ফাঁকে বাজনা থেমে আছে

নেভানো ঘরের জানলা উগরে দিচ্ছে দ্রাক্ষারস, ময়ূরের কেকা

পাড় ভাঙছে মাটির পেয়ালা

বারান্দা হারিয়ে যাচ্ছে দুপুরের নীরব মুঠোয়

জলরঙে আঁকা শূন্য থেকে

যা কখনও লাল নয় তবু তার লালের গভীরে
অস্থির প্যাডেল ঠেলে নেমে যাচ্ছে কাঙাল সেলাই

১৭

নিজেকে পিছন থেকে ধাওয়া করে ব্রহ্মবীজে ফিরেছে কুসুম

ভিতরে তারের বাজনা, বাজনার ভিতরে ডালপালা

ঘুঘু ডাকছে পাতার আড়ালে

দেউটির পিরান থেকে খসে পড়ছে গুলঞ্চ, টগর

কব্জি থেকে কাটা বালিঘড়ির জখমচিহ্ন শুষে
হাওয়া উঠছে ঘুরে ঘুরে ঘুরে

টলমলে গর্ভের ঘুম ভেঙে
গোলকের মুঠো খুলে ভেসে যাচ্ছে মাটির শাবক

Categories
কবিতা

প্রীতম বসাকের কবিতা

স্থিত হও। মধুর যে আলোক—চক্ষু মুদিয়া তাহার সংহিতা বুঝিয়া লও। প্রবীণ বাক্যের পার্শ্বে আমাদিগের সারল্য রাখিয়া দিয়াছি। ওলো কৃষাণীর দেহের কাঁচা লাবণি ভাসিয়া যায় স্রোতে! অধর ফাটিয়া জীবমণ্ডল প্রস্ফুটিত হইতে থাকে। একটি মানুষের দিনলিপির ভেতর ঢুকিয়া পড়ে ভিন্ন মানুষ। দুঃখের সনাতন কাঁপিয়া ওঠে। তুমি ধারণ করিও উহার সজল বায়ু। মেঘ নামাইয়ো আশার ছলনে। দুদণ্ড দাঁড়াইয়ো হে পথিন৷ নিকটে ঘুমাইয়া আছে আমাদিগের দীন সফলতা !

অতঃপর তাহারা পাখির উচ্চতায় আসিয়া বসিল। দেখিল কুঞ্জবনে ছড়াইয়া আছে কাহার নোলক। একটি অসম্পূর্ণ আত্মজীবনীর অংশ ভাবিল কেহ। কেহ কেহ নদীর নিকট রাখিল দুঃখের তরজমা। একটি সহজ রচিত হইতে হইতে সহসা বাঁক লইয়া মানুষের পাড়ায় আসিয়া পড়িল। দেখিল ফুলের প্রতি সন্দেহ! শুশ্রূষা কেন্দ্রের নিকটে পথ হারাইয়াছে একাধিক ছোটোগল্প। একটি শিশুর দাঁতে আমি দেখিলাম চাঁদের টুকরো লাগিয়া আছে। তাহাকে একটি সরলরেখা উপহার দিতে গিয়া আমার হাসি হাসিগুলোর অপমৃত্যু হইল।

Categories
কবিতা

প্রবীর মজুমদারের কবিতা

আজীবন

তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে
যাইনি বহুদিন।
অথচ জানালা থেকে উঁকি মারলেই
ঝুরঝুর করে তোমার খেলাঘর
ভেঙে যেতে দেখি
ধুলোবালিতে এতদূর থেকেও
শ্বাসকষ্ট টের পাই।

যেন আজীবন দু’জনেই
জানালায় মুখ রেখে বসে আছি।

চিঠি লেখার দিন

চিঠি লেখার দিন ফিরে আসুক আবার। স্কুল থেকে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ফাজিল ছেলেরা মেয়েদের দিকে ছুঁড়ে দিক লাল-নীল-হলুদ রঙের অজস্র সব চিরকুট। গভীর রাতে জলতেষ্টা পেলে গোপন স্রোতের মতো সুধারসে ভিজে যাক সমস্ত হৃদয়। আর কোন এক বিকেলে কেটে যাওয়া ঘুড়ির সাথে কচি কলাপাতার খাম হয়ে খসে পড়ি তোমার ছাদে। দুড়াদাড় করে ছুটে এসে আমাকে তুলে নিতেই ব্জ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত।

জলসাঘর

তোমাকে একটা দরকারি কথা বলতে গিয়ে বারবার অন্য প্রসঙ্গে চলে যাই। কিছুতেই বলা হয় না। আজ হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়াতে বলছি শোন— যেদিন তোমার খুব মন খারাপ, মনে হবে আশেপাশে কোথাও কেউ নেই। সেদিন চোখ বুজলেই দেখতে পাবে মনের ভিতরেও এক জলসাঘর। সে ঘর জুড়ে দীন হয়ে আছে কত রংবেরঙের লতাপাতা। আর এমন দুপুরে তার আড়ালে বেজে ওঠে দিলরুবা।

Categories
কবিতা

শাশ্বতী সরকারের কবিতা

প্রবাস


ওই দেখো পড়ে আছে উল্কাখণ্ড, মৃত
অভিকর্ষ হারানোর কিছু নেই তার
ফিরে গেলে মনে হয়
সমস্তই জলপ্রিয়, সবই আজ শোকাকুল
পৃথিবীর মাটি থেকে এইহেতু কিছুটা উপরে ওঠা তার

বৃষ্টি আজ তোমার যাওয়াকে ঘিরে মহৎ হয়েছে


মেঘ শুধু দেবে অবিদ্যার পাঠ, ভুলশেখা
পাঠশালা হতে প্রত্যাগত নীচু মাথা বালকের দল
রোদ্দুরে তোমার মুখ পালংশাকের মতো
তরতাজা, এই দেখে তারা বিরহ শিখেছে

কতকাল কেটে গেল বিরহ অধীন
কেবল জলের দিকে চেয়ে থাকি
কিছু পুণ্যফল— তোমাকে চাওয়ার
ওই দূরে ফড়িংয়ের দেহ থেকে
বিচ্ছুরিত আলো, সে-ও জানে

মহর্ষির ঘর, সরযু নদীর তীর, কালো

Categories
কবিতা

শুভম চক্রবর্তীর কবিতা

অস্তিত্বের কথা

দেওয়ালে, উৎকর্ণ কেউ অপেক্ষায় রত। ধ্বনি, প্রতিধ্বনি, আর সমূহ বুড়বুড়ি কাটার শব্দ তার শোনা চাই৷ শুনে তিনি জাবর কাটবেন। আঁশে, বিদ্যুতে চলকে চলকে যাবে গণ্ডদেশ। স্থলনহীন অথচ মধুর জাবর কাটার শ্রান্তিতে চোখ বন্ধ হয়ে আসবে। গোয়ালে বাঁধা এঁড়ে যেন। ক্লান্ত, গাভিন হবে না । হরপ্পা, মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসস্তূপের ওপর চরে বেড়ানো ভাইবেরাদর সকল। নিউট্রনই মূলত তোমাদের শক্তি। এবং তা থেকেই তো হ্যাঁ আর না-এর প্রোটন, ইলেকট্রন হ’ল হে। অস্বীকার খুব গুরুত্বপূর্ণ যদিও। কিন্তু আমার দেহপটাশ্রিত অস্তিত্ব বুড়বুড়ি কাটছিল, ক্ষণকাল, আর শ্রান্তিতে নিভে আসা আমি শ্রাবণীপূর্ণিমার দোদুল চিদাকাশের দেওয়ালে কান পেতে শুনছিলাম সে বুড়বুড়ির শব্দ। নিভু, অস্তিত্ব ভাবনায় ভীত নিতান্ত বুড়বুড়ি। বৃত্তাকার ডিম্বানু প্লাসেন্টার অন্ধকার রক্তমাখানো স্বস্থানে শুয়ে ঘুমোচ্ছিল। আমার জন্মমুহূর্ত মনে পড়ছে। মুখে চুল গুঁজে শুয়ে থাকা ভদ্রমহিলার হাত-পা ছোঁড়ার দৃশ্য মনে পড়ছে। হাসপাতালের বেডে রক্ত চলকে ওঠা মনে পড়ছে সেদিনের মতো। চাদরে ছোপছোপ রক্ত, আকাশে ছোপছোপ তারাই যেন। দেওয়ালে কান পেতে আছি, বুড়বুড়ির শব্দ আসছে। আমি আমার থেকে আলাদা। আমি আমার থেকে আলাদা নই। আমি আমার থেকে আলাদা।

অযোধ্যার দিকে তাকিয়ে

নিহত শম্বুক পাথরের চাতালে থেঁতলে পড়ে আছে । ইক্ষ্বাকু বংশের সূর্য আপনার, আপনাদের দাবদাহ ছেলেটার সহ্য হ’ল না। পাথরের গায়ে কালো ক্লট ক্লট রক্ত। হাঁদা শম্বুক বোকা শম্বুক তার আরাধনাকে প্রত্যয়িত করতে চেয়েছিল আপনাদের কাছে। সমগ্র আর্যাবর্তের হল্লারব সে তো শোনেনি। সে তো জানে না চিরসময়ের ভেতর কিছুক্ষণ পিছিয়ে শোননদের ধারে ছলছল করছিল আপনার মুখ। যেন প্রতিবিম্ব, যেন তার ভেতর আশফাক বিম্বিত, যেন তার ভেতর ছুঁয়ে ফেলার সুমহৎ পাপে থেঁতলে থেঁতলে মারা হচ্ছে দলিত যুবকদের আর তাদের রক্ত কী শীতল! কী নরম! কী সান্দ্র ! সূর্যাস্তের মতো। সিদ্ধাশ্রম কত দূর প্রভু? আপনাকে সোনা জহরতের চৌদোলায় চড়িয়ে চামর দোলাতে দোলাতে নিয়ে যাবে পেটমোটা ব্রাহ্মণেরা। আর কোনো বনবাস নেই, সীতা নেই, রাবণের চিতা কেউ পেচ্ছাপ ক’রে ঠিক নিভিয়ে দেবে। সূর্যাস্তের দৃশ্যে আমরা দশরথকে আনব, ওঁর মুখে মাঝে মাঝে নিহত দলিতের বাপমায়ের মিশকালো ছায়া ঘনিয়ে তুলব। বেশ হবে। প্লট জমে ক্ষীর। রক্ত থইথই ভারতবর্ষের বুকে কাড়ানাগড়া বাজাতে বাজাতে, আপনার জয়ধ্বনি দিতে দিতে, কাঁদতে কাঁদতে, কাঁদাতে কাঁদাতে এক কলঙ্কিত ধূসরতার দিকে যাব আমরা, রক্ত সাঁতরে সাঁতরে।

Categories
কবিতা

সঞ্চিতা দাসের কবিতা

অঙ্ক

মশারির অনেক ফাঁক থেকে আমি সাদা আকাশকে দেখছি, আকাশ আমাকে উপহার দিয়েছে একখণ্ড মেঘ। মেঘ বলল— তুমি নিজেকে ভাঙো। খানিকটা ভাঙা শুরুতেই আয়নাতে দেখলাম একটা জলকাদার জীবন পড়ে আছে, ওর ভেতর আমি কবে থেকে ডুবে আছি জানি না…! এবং তার মধ্যে ঘিরে আছে কয়েকটি গ্রাম, ছোটো ছোটো টিনের চালার ঘর, দূরে তালগাছ, বাঁশবনের সারি, খোলা মাঠ, সরু পথের দু-পাশে ঘাস হাঁটলে পরে পা ছুঁয়ে মাথা নত করে রাখে, জীবজন্তুর বিষ্ঠা, পশুপাখির কোলাহল, আরও কত কী… গ্রাম আমাকে প্রদীপের নীচের অন্ধকার আর আলোর শতকরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়। শহর কংক্রিটের শৌখিন আলো সারারাত জ্বালিয়ে রেখে অঙ্কের লাভ ক্ষতি শেখায়, বোঝাতে চায়। দু-জনেই ডাকছে। ওরা ব্যাকুল হয়ে ডাকছে।

তৃষ্ণা মেটাতে গিয়ে

অনেক দিন ধরেই ভিতরে ভিতরে একটা কামড় চিনচিন করে, ধরা পড়েছে গভীর সমুদ্রে ক্ষয় চলছে, ভারী হয়ে উঠছে বাতাস। অনেক নিঃশ্বাস ফেলার ধাপ থেকে নেমে আসে ভাঙা গল্প, যারা মাটির পাত্রের মতো অবহেলায় পথের দু-পাশে ধুলোয় লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারিয়েছে। ওদের চোখের জলের ওপর সত্যের নতদৃষ্টি গড়িয়ে পড়ছে আর চকচক করে জ্বলে উঠল সেই আলো।

অনন্তকাল ধরে অভিশাপের গহ্বরে হাত ডুবিয়ে ভালোবাসা ভেবে একরাশ তেষ্টা নিবারণ করতে করতে এই অবধি আসা… শাবল, কোদাল দিয়ে খুঁড়েও প্রয়োজনের জলোচ্ছ্বাস আসে না!

আসে শুধু একটা ভাঙনের পদধ্বনি… থপ্ থপ্ থপ্।

Categories
কবিতা

সুদীপ্ত মাজির কবিতা

অসমাপ্ত গানের খাতা : ১৮

গানে গানে বজ্রপাত—
এরকমও হয়?

যখন বিকেল ভেঙে সন্ধ্যা হয়!
খুব সন্ধ্যা হয়!

নিজের বাইরে যেতে ভয় করে, ভয় করে খুব!

বাইরে বিদ্যুৎগর্ভ মেঘ নামে
অসি হাতে
সন্ধ্যার সময়!

অসমাপ্ত গানের খাতা : ২০

সুর যাকে স্পর্শ করে গোধূলিতে
জেনো তার ব্রহ্মলাভ হয়

সমুদ্রস্নানে যাওয়া পুত্তলিকা
সন্ধ্যার সময়
বাড়িতে ফেরে না আর
কোজাগরী আলো হয়ে জ্বলে

কার্তিকের মাঠে ঘাটে জেগে থাকা
মানুষের
নির্জন ফসলে…

অসমাপ্ত গানের খাতা : ৩৫

অসীমের থেকে দূরে বসে আছে সীমা।

সুর সে আয়ুধ, যার লম্বচ্ছেদের দ্বারা
দু-জনের সম্পর্ক পরিমাপ করে
সীমা অসীমের যত ঝগড়াঝাটি পরিমাপ চলে।

এই চিররহস্যের ঠিক মাঝখানে একদিন
অনন্তও আবির্ভূত হলে
আরও দ্রবীভূত হয় গান— আর তন্দ্রার ভুবন
ঘেরাবারান্দার মধ্যে আরও কিছু স্বপ্নের আয়ুধ
সংগ্রহ করে যাতে আয়ুষ্কাল কিছু দূরব্যাপী
নতুন পেখম মেলে সঞ্চারী ও আভোগের
                          ডালে বসতে পারে !

Categories
কবিতা

ইন্দ্রনীল ঘোষের কবিতা

বাদল দিনে…

কী সমস্ত মেঘে
কী সমস্ত হরফ বাদলায়…

ইহ দিন কেটে কেটে সুগন্ধি রক্ত জমানো—
রক্ত ইলিশ করে
              আঁশ নড়ে
              কানকো নড়ে
হাল্লা হাকিম পীরে মোহনা ফেটে যায়…

তারপর, বেতার-তরঙ্গটুকু আঁকা
         ছোট্ট বিড়ালটিও আঁকা
দৃশ্য থেকে ক্লান্ত ফিরছে রং…
দু-এক পশলা তেল ফুটছে তখনো
সামান্য নুন লাগছে—
ছেতড়ে থাকা অপরাহ্ণ ডিমে

ভিলেইন

জলে ডুব দিতেই
জল, কুরে কুরে খেয়ে নিল আমার শরীর
হাড়গোড় টুকে লেখা হল
সূর্যাস্তের যৌন অপার

শেষ যেদিন ভিলেইনকে দেখি
মাছ কিনছিলাম বাজারে—
অনেক দূরে স্থির হয়ে আছে শত্রুতা…
পলিপ্যাক নিশপিশ করছে তার চোখে