অনুপম মণ্ডলের গুচ্ছকবিতা

গন্ধর্ব-নগরের জন্য লেখা

মৌরির গন্ধের মতো, রক্তিম, তাঁর আভোগ, ঢলে পড়ে কোথাও বাতাসে। বাসকলতার পাশে, ঘুমের শাখাগুলো নুয়ে আছে। গিয়েছে ঝরে বটের বুড়ি পাতা। কারা, ওই থোকা থোকা আঁধার নিঙড়ায়ে, মধুকূপি ঘাসের পরে রেখে যায়।

*
পাঁচিলের পুরনো কোনো এক কোণ থেকে ঝিঁঝিঁ ডাকে— তখন, রাত্রির ছোট্ট ডালি ভরে, কুয়াশার অস্পষ্ট কল্লোল। আর মেহেদি পাতার ফাঁক দিয়ে নেমে, প্রায় নিঝুম কোনো গান্ধার, যেন, আরও একটু গভীর হয়েছ— হয়তো-বা শিরীষের পাপড়ির মতো, মায়ের হাতের পুঁই-মাচা, ঝরঝর শব্দ করে কাঁপছে। অইখানে— নির্ঘুম—  ঘুমের দীঘির পারে—

*
সন্ধ্যার তিমিরতলে, রাহুগ্রস্ত ডানাটিকে মুখোমুখি জিজ্ঞেস করি—আমরা কী সেইসব মৃত ঝরনার ভাষা গেঁথে নেয়ার জন্য অপেক্ষা করেছি— যারা নিভে গেছে, সারি সারি দোলনার কবর ঠেলে, বয়ে যেতে যেতে?ঝরাপাতার কোল থেকে মুছে যাওয়া কোনো স্বর, শুধু প্রান্তরের অপরিমেয় নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে, জ্যোৎস্নার আলোছায়ার জালে জড়িয়ে গিয়েছে।

*
পুরনো, নোনা ধরা দেয়ালের কোণে শুয়ে থাকা তারার নিষাদ, শিরীষের নশ্বর পাতার পাশে, টলতে টলতে এসে দাঁড়ায়। আরও আস্তে মুছে যায়, নিশীথের গোপন ঝরোকা। বুঝি, যে নৈঃশব্দ্য ধুলো থেকে জেগে, পুনরায়, ধুলোতেই মিশে যায়,  সেই পথেই চলেছি— ধীরে— একটি নিঃসঙ্গ সুরের লহর, পিয়াল-শাখার ফাঁকে নিভে আসে।

*
দূর আকাশে, এখনো শুকতারা উঠেছে কী জানিনে। প্রায়-গোধূলির ভেতর হেঁটে যাওয়া কোনো ক্লান্ত রাস্তা। আর ক্রমশ রক্তিম সূর্য, ওই শান্ত কলস্বর পেরিয়ে, দিগন্তের দিকে নিবিয়া গিয়েছে— পক্ষীগন এই ক্ষণে অধিক নীরব; যেন কতকাল পরে, তোমার বক্ষদেশে, বসুধা, আরও একবার ক্লান্ত সন্ধ্যা নামিতেছে।

অনুপম মণ্ডলের গুচ্ছকবিতা

আমাদের নতুন বই