লেখক নয় , লেখাই মূলধন

অভিমন্যু মাহাত’র গুচ্ছকবিতা

দানাপানি

ঝিরিহিরি পানিয়া বরষে, মধু মাসে
বঁধু, ফুল মরিলে মহক নাহি আসে।।

উতলা হয় সাঁঝ,
মন পাতালি নাই রাতে—
এক পয়সার পুঁটি মাছ, লিলি নাই পাতে।।

উপবাসের রাতি, নিভল সভে বাতি
ঘরের বাদি ননদি, গেল কুল জাতি।।

আগু পিছু পঞ্চ মেঘ,
দেহেক বল উজাড়
চাকোলতোড়ের ইঁদ ছাতা, উঠল রাজার।।

***

নয়নপথগামী

কদম গাছটি রচেছিল ব্রজবালা
ধূলামাটি প্রহরী,
মাজারে আসিয়া গীত গায় ডালপালা।।

কাঁসাইদেশে দু’আনা সাত আনা দামে
যদি গীত বেচে পাখি,
বাঘমুণ্ডি বাজারে লাজশরম লাগে।।

সড়পে সড়পে কেরিয়া ছায়া ঘনায়
বাছলি গিরিপথটি,

রচিত কদমতলে হে মেঘ অনায়।।

***

আসমান

এসেছি গো বিধি ভুলে
বসে আছি নদী কুলে
কড়া রোদে খরা লাগে, ছাতা কিনে দে!

শুন অহে বনমালি
কানাকড়ি নাই পালি
ওপারে চরণ দুটি, পার কৈরে দে!

লিরনে বরষা গুনি
মুসুর পাহাড়ে বুনি
সেই মুসুর গাছ খাল্য বলদে!

শুন অহে বনমালি
তুমি না করিলে দয়া
কে করিবে আর? কে দিবে অঙ্গার?

***

মাথুর

বাগালিয়া বাঁশিটায় দিল টান
বঁধু একা হামি পাত্যে ছিলি কান
ভিজা শাড়ি, বাঁধের ঘাটলে যাব সঙ্গে
ঘরে থাক কুটা ধান, পরশিব রঙ্গে।।

বহালে কাঁশি, মন যে আনচান
ভাদর মাসে আইল লয়াবান
রিঝরঙে সেই কাঁশি ফুল ফুটে যায়
সিঁদুর পরা বঁধুর, কুল রাখা দায়।।

আয়না লিব, চিরুণ লিব, মাঘে
সখি গো, বাঁকা সিঁথা কাটব আগে
ফুলের মালা গাঁথব আঁজির তলায়
দিব মালা লউতন শ্যামের গলায়।।

***

নগর-কীর্তন

ভিজা চুল, ভিজা গাত
কেমনে রাঁধিব ভাত,
মনে পড়ে, পুরাতন পিরিতিয়া
ঝিঙা ফুল রঙ লেই পরবাসে।।

ছুটু মরিচ গাছটি
কত যতন কৈরব?
মনে পড়ে, পুরাতন পিরিতিয়া
তকেই ওগো সাঁঘা কৈরে মৈরব।।

ছুটু-মুটুক নাচনী
পিঠ ভর্তি চুল রে,
হামর হাতে শাঁখা, নয়ন বাঁকা
বাজারে উড়ু-উড়ু গেঁদা ফুল রে

অভিমন্যু মাহাত’র গুচ্ছকবিতা

আমাদের নতুন বই