অরিত্র চ্যাটার্জির কবিতা

সার্কিস পারজানিয়ার ডায়েরি


নাও, ফলেদের অন্তরালে রাখা যে শানিত তরবারি
তাকে এইবার তুলে ধর , প্রবল আশ্লেষে
খণ্ড খণ্ড হয়ে যাক পরিবেষ্টিত ভারী বাষ্পের বলয়
বায়ুপতনের শব্দে স্বপ্নের ভেতর সচকিত হয়ে
খুর ঝাপটাক অপস্রিয়মাণ ঘোড়াদল
জাদুজানলা ও তার শার্সি স্বল্প ফাঁক করে দেখ
পবিত্র গালচের ওপর আরোহণ করছে দিব্য খচ্চর
দিকচক্রবালে টাঙানো যে নীলচে সামিয়ানার ওপর
এইসব দৃশ্য উপর্যুপরি ফুটে ওঠে
তার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রাক্‌পুরুষের প্রত্যন্ত কেল্লা
আরও কিছুটা দ্রবীভূত হয়ে যায়


ইওসিন শিঙাখানি সশব্দে ফুঁকে নিলে
যেটুকু নিস্তব্ধতা অবশিষ্ট থাকে
পীচ ও মাখন সহযোগে
তা চেটেপুটে নিতে নিতে তুমি দেখো
ভোজটেবিলে সকৌতুকে তোমায় নিরীক্ষণ করছে
রাংতাসর্বস্ব একটি ময়ূর
ও তার পলকবিহীন চোখে
ক্রমবিলীয়মান তোমার ছায়া


অথচ কতই না ঘোরতর খুঁজে দেখেছি
পীতাভ মানুষের ভিড়ে ঈষৎ নীলচেমতন নারী
আমারও তো ইচ্ছেবিশেষ ছিল নাকি
গুলানশারো থেকে আন্দাজ পঁয়ত্রিশ মাইল পথ
ঘোড়া ডিঙিয়ে হপ্তাবাবদ জাদুকরী বাড়ি যাই
কী অসম্ভব দুর্বিষহ এইসব ফিরতিপথ বরাবর
নিরুত্তাপ মুখোশধারীরা অনায়াস জাগলিং দেখায়
সেটা শেষ শীতকাল,
পেলিক্যানে পেলিক্যানে পরিবৃত বন্দরে
একে একে ভেড়ানো হচ্ছে ভাসমান জাহাজ
সার বেঁধে নেমে আসছে ফ্যাকাশে মানুষেরা
এহেন রক্তশূন্যতার ভিড়ে বিন্দুমাত্র ছুরিকাঘাত ছাড়াই
কীভাবে নিজস্ব নীলচে নারীটিকে চিনে নেব তা তোমরাই আমায় বল


কাচ প্রজাপতিরা ঝুলে আছে শিলীভূত বাগানে
সময়যন্ত্রে আরও কিছু চকচকে ধাতুমুদ্রা ফেললে
কাঁটার গতিবেগ মন্থর করা সম্ভব
অস্পষ্ট ধ্বনি সহযোগে একটা শোভাযাত্রা এগিয়ে আসছে
তার পুরোভাগে লাল নীল কাপড়ের শবদেহ
তুলাযন্ত্রে দ্রুত পরিমাপ সেরে নিচ্ছে গ্যাব্রিয়েল ও আস্‌মোদিউস
বেলাতটে পুরোপুরি ভারী পর্দা নেমে এলেই
কখন অবশিষ্ট মগজ ও সময়বোধ খেয়ে ফেলবে
তারই অপেক্ষমান এখন ব্যাপৃত সমুদ্রমাকড়শার দল

পাবে আমাকেও, যদি খুঁজে দেখ এই ইমাগোর শেষে
রূপান্তরিত যে গল্পের শুরু আমাদের সামসা-জন্মের সাথে
অনতিদূর প্রত্নবালিয়াড়ি ও বিক্ষিপ্ত কাঁটাঝোপের জঙ্গলে
তার পরিণতিটুকু ছড়িয়ে ছিটিয়ে ইতস্তত, মরুসঙ্কেতের মাঝে
সাজানো সুড়ঙ্গসমাধি, সেসব আগলাচ্ছে হাবসি উটের দল
কথা ছিল দুর্মিশ-খাঁ, আমার এ গল্পে এখনও বিশ্বাস রাখো যদি
কীর্তিনাশার দিক থেকে এক তারালোকিত নারী ফিরে এলে
এইসব সুড়ঙ্গ থেকে পুনরায় উঠে আসবে ডোডো পাখির দল
তিন শতাব্দীব্যাপী লার্ভাবস্থা মুহূর্তে কাটিয়ে লণ্ডভণ্ড করব আমি
ততদিন পাহারা দাও, শোন নৈশ উতরোল, ভূগর্ভস্থিত ডানাঝাপটানি শোন,
তারার মেয়েরা তার নভোজাত গোলাপ রেখে গেলে, জেনো সেইদিন
পৃথিবীর শেষ ডোডোপাখি সব, একে একে উড়ে যাবে নক্ষত্রনিচোলে

অরিত্র চ্যাটার্জির কবিতা

আমাদের নতুন বই