অরিন চক্রবর্তীর গুচ্ছকবিতা


এক সন্ধ্যায় পুরোনো জামাকে নিজের আয়তনে সেলাই করছি। আঙুলের ডগায় ছুঁচ ফুটল। রক্তমাখা সাপটা শিরাকে পেঁচিয়ে রাখলো। অদৃশ্য তলোয়ার এসে আমূলে গেঁথে গেল খোলসে। উঠে দাঁড়ালাম আয়নার সামনে। দেখছি, মুখোশ খসে পড়ে উড়ে গেল নীরবতায়। গরাদে কালো রাত নামলে আমরা ঘুমিয়ে যাই। জেগে থাকে নগ্ন বিছানা। পরাঙ্মুখ চেতনাকে দিলাম শেষ বসন। ছাই ছাড়া আর কিছুই নেই।


ছাই খুঁটে দেখছি যোনির অন্ধকার। জন্ম অথবা মৃত্যু। নঞর্থক একটা যাত্রা ছাড়া আর কিছুই নয়। মাঝখানে পোশাক পালটানো শিল্পের ব্যবহার। একটা পাপী ছুরির দাগ লেগে আছে আমার পিঠে। ঘুমহীন চোখের কোটর থেকে বেরিয়ে আসছে লকলকে জিভ। আমার গ্রীবায় বেড়ে উঠছে পরজীবী প্রজাতি। হারিয়ে যাচ্ছি থাবার অরণ্যে। নখদন্তহীন প্রণয়িনী শেষ রাতে ফিরে গেছে উঠোন থেকে। আমার উপর ঝরে গেছে অদৃশ্য নিমছায়া।


অদৃশ্য একটা পাটাতনে ভেসে চলছি। দু’টুকরো করে দিল অন্ধকার। আত্মাকে শামুক ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। খোলস গুটিয়ে ঢুকে গেলাম শীতার্ত পাতার রেখায়। শিশির ঝরছে। খালি পায়ে বাবা হেঁটে গেছে আলপথ ধরে। আমি এক চুম্বক সুতোর টানে পেরিয়ে যাচ্ছি পুকুর, সে নিঃসার অনন্ত জার্নি। আমি যেন ছুটছি, মাথার চুলগুলো উড়ছে কোনো এক ঘুর্ণীবেগে। সম্ভাব্য ঘুমের চারিদিকে ধূপের গন্ধ…


কয়েকটি রক্তবীজ জেগে আছে আমার ঘুমের ভিতর। চোখে ঢেলে দিচ্ছে অবিরাম কাতর। আড়চোখে মেপে নিলে বুকের উপর চেপে বসে অন্ধকার হয়ে।উঠে দাঁড়ালে ছুঁড়ে দেয় দু-একটি পুঁজের ক্লোন। ওরা কারা? কয়েকটি তীক্ষ্ণ হারামি ছাড়া কেউ নয়। স্খলিত বীর্যের শেষ ফোঁটায় ওদের নাম লেখা থাকে। এক যুগান্তকারী পাতালে সেঁধিয়ে যাওয়ার আগে শো-কেস সেজে উঠছে তীব্র শোকের পুতুলে…


পাতাল থেকে ভেসে আসছে কীসের চিৎকার? মা যেন উঠোনে অলকানন্দার টব জড়িয়ে কাঁদছে। ফেরার তো পথ নেই। খুঁজছি সেই পুরোনো আর্টিস্টকে, যে এঁকেছিল আমার জন্মমুহূর্ত। সেই আর্টিষ্ট আসুক এখন, চিতাকাঠ গুনে দেখুক, আর এঁকে দিক কঙ্কালসর্বস্ব দেহভূমি। আমি সন্তর্পণে, কালো বিড়ালের গতিতে মায়ের কোলে রেখে আসব সেই শেষোক্ত পোর্ট্রেট। যা আমার আয়না ছাড়া আর কিছুই নয়।

অরিন চক্রবর্তীর গুচ্ছকবিতা

আমাদের নতুন বই