লেখক নয় , লেখাই মূলধন

অশোক দেবের গুচ্ছকবিতা

মৃৎবন্ধ্যা


কিছুই বেচতে পারেনি সে।
হাটের অন্ধকারে
ফেলে এসেছে মাটির তৈরি
বেহুলা লখিন্দর।

‘সুন্দর, সুন্দর’ বলে
একজন একটি পাখি
তুলে নিয়ে গেল,
মূল্য দিল না।

কিছুই বেচতে পারেনি সে
হাটের অন্ধকারে
ফেলে এসেছে মাটির তৈরি
শ্যাম ও রাধিকা।

এখন খালি পেটে
তৃষ্ণার্ত সেই শিল্পী
কোমরে গোঁজা বাঁশিটি
বাজাতে বাজাতে

বাড়ি ফিরে আসছে

তার সুরের দিকে
চোখ ফেলে বসে আছে
এক নারী

কিছুই ধরেনি সে, সেই বাঁশির
ধ্বনিটি ছাড়া।

শিল্পী তাকে লক্ষ্মী বলে ডাকে
বন্ধ্যা বলে ডাকে সারা পাড়া


একবার গিয়েছিল সে
গর্ভে, অন্দরে।
কানেকানে ফিসফিসিয়ে
বলেছে লক্ষ্মী,
‘আছে, কেউ আছে? নেই’?

দেখেছে সে
বাঁশিটির সুরে সুরে
ভরে আছে অসীম জরায়ু

জানতে পেরেছে পরে
জরায়ুতে আর কিছু থাকলে
সন্তান এসে বসে না সেখানে।


জল দিলে শুকনো মাটি
মা হয়ে যায়
কিংবা
হয়ে যায় ভীরু আর
জরায়ুর মতন নরম।

তার থেকে ছেনে
লক্ষ্মী গড়ে তোলে গৌরাঙ্গ নিমাই

সেদিন বাঁশি হাতে ফিরে আসে
পুরুষ, তার পুরুষ —
‘শচী, শচীমাতা’ বলে
ডাকতে ডাকতে
ঘরের ছায়ায় এসে দাঁড়ায়।


‘রাধাও আমার মত? শ্রীরাধিকা?
রাসের জোছনা তার
ভেতরের জলে
জোয়ার আনেনি, না?’

‘আমি তো জানি না বউ,
অত কি ভাবতে আছে’?

দুজনে শুয়েছে তারা পাশাপাশি
মাটির মেঝেতে।
শীতল পাটির মত তাদের সংলাপ

একমনে শুনে যান
শ্রীকৃষ্ণ রাধিকা আর
উদ্বাহু নিমাই

ঠাকুর-আসনে আজ
তাঁরাও রাত্রি জাগেন।


সাদা সাদা খই আর আরও সাদা দুধ
এই নিয়ে সুপ্রভাত আসে এদের উঠোনে

একমনে রোদ খায়
বর আর বধূ, কার্তিক গণেশ,
মাটির মেয়েরা।
শিল্পী তার কালো গাত্রবর্ণ
মেলে ধরে তাদের জ্বলনে
অতিরোদে দেহটি রেখে
আড়াল তুলে দেয়।

তার বউ এসে ঢেকে রাখে তাঁকে

এ বাড়িতে কোকিল
বসন্ত বাজাতে আসে।

অশোক দেবের গুচ্ছকবিতা

আমাদের নতুন বই