লেখক নয় , লেখাই মূলধন

আলিউজ্জামানের কবিতা

শরীর


যতটুকু বঁড়শি বিঁধলে,
ফাতনা সহ ডুবে যায় ছিপ
জলের ভিতরে।
ততটুকুই যাতায়াত
জামার ভিতর শরীরের।


কোনো কপটতা নেই জেনেও !
চুড়ি কাজলের গন্ধে ,
মানুষের মুখ দেখে বোঝা যায়
কতটা মুখ বাসি হলে
চাঁদ ডুবে যায় সকালের শরীরে।


আজ ঘরে ঢুকে মনে হলো
এক টাকা— দুটাকা
দু টাকা— একটাকা করে !
না কেনা অঙ্কের খাতায়
একটা কাগজ নৌকা ভেসে যাচ্ছে ,
দূরে …
ওই দূরে…
যত দূরে গেলে
তোমাকে আর আমাকে
বিচ্ছিন্ন দ্বীপ বলে মনে হয়।

সংসার

অতএব শীতকাতুরে প্রেসক্রিপশনে ফিরে আসে প্যারাসিটামলের গন্ধ। আমাদের রোদ বাঁচানো ছায়া। সাবান গোলা জলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে এখানে সেখানে। যেন মাংস চেনে না তার উৎস শরীর। আর এভাবেই কড়াই লঙ্কায় লাফিয়ে উঠে আমাদের ঘাসনির্ভর সংসার।

পথ

তুমি আসলে দাঁড়িপাল্লায় ওজন হওয়া,
আইনের পথ। আর কে না জানে!
ফিরতি পথ অনেক লম্বা।
ভুলবে বলেই ক্যামেরা রাখো বাঁ-পকেটে।
কিন্তু যতদূর মনে পড়ে!
তুমিওতো বলেছিলে,
জাল ফেলে আস্ত পুকুর নিয়ে যাবে।

আশ্চর্য গমন

বাবা- মা’র প্রত্যেক বিবাহবার্ষিকীতে,
বিনামূল্যে পাল্টে ফেলি,
মোড়ে মোড়ে গেয়ে যাওয়া গানের ক্লাস।
কেননা আকাশে মেঘ করলে,
বিনা রেনকোটে মানুষও হেঁটে যেতে পারে
বৃষ্টির ভিতরে।

ব্যাটসম্যান

কথা দিয়ে যে কথা জানা যায়নি!
তাকে আমি স্নান ছেড়ে গামছা পড়তে
দেখি।
ভিন্ন ভিন্ন দেশের সমীকরণেও আমাদেরই
নামতা থাকে।
বুঝি না বলেই,
একেকটা ফুল ফুলদানি হয়ে যায়
টেবিলের উপরে।
এমন সময় ছাতা কুড়ানোর বদলে প্রতিমায়
চোখ বসাতে গিয়ে বুঝতে পারি!
এসবই আসলে উড়ে আসা ক্রিকেট বল,
যা ফস্কালেই ব্যাটসম্যান এগোতে থাকে
সেঞ্চুরির দিকে।

মা

এমব্রয়ডারির উল্টো পিঠের নকশায়
চক দিয়ে ঘষা বেঞ্চের নামে ।
ভরে যায় আমাদের অমনোযোগী
ক্লাসরুম।
এদিকে শুকনো শাড়ি সায়া ব্লাউজ
ছাদ থেকে নেমে হেঁটে যায় ফুলবনের দিকে।
তার পর চায়ে ডোবানো বিস্কুট বাঁচানো
প্রক্রিয়া শেষে।
চূড়ান্ত গ্যাসস্টোভে সাদা ভাতের গন্ধে
মা ঘুমিয়ে পড়ে গভীর যৌনতত্ত্বের,
ভিতরে।

আলিউজ্জামানের কবিতা

আমাদের নতুন বই