কমলকুমার দত্তের কবিতা

বয়েস সাজিয়ে দিচ্ছে—
কত তার জোগাড়যন্তর
হাড় ঠুনকো করার, পেশি আলগা করার
চামড়া কোঁচকানোর যন্ত্রটা চিনতে পারলাম
ছোটোবেলায় দেখেছি— লন্ড্রিতে ওটা দিয়ে
পাঞ্জাবির হাতা গিলে করত প্রভাতজেঠু
এদিকে রঙের বাটিতে রং মোটে দুটো
সাদা ও ধূসর
বলি— লাল, গোলাপি, বাসন্তী, সবুজ, নীল
এসব লাগে না?
উত্তর দেয় না, একমনে সাজাতে থাকে
সাদা ও ধূসর— তার এই যথাসর্বস্ব দিয়ে
আমি তার নির্দেশমতো হাত মেলে ধরি
পা ছাড়িয়ে দিই
চোখ বন্ধ করি— আর
সি-গ্রিন, স্কাই-ব্লু, ফ্লেমিংগো পিঙ্ক, সিলভার গ্রে, ওয়াইন রেড
ঝাঁপিয়ে পড়ে
কানে কানে বলে— চোখ খুলো না, চোখ বন্ধ করে রাখো।

পথের গন্তব্য যেন বেয়াড়া সন্তান
আজ মুখে মুখে তর্ক করবে
আজ তাকে কিছু দিয়ে ভোলানো যাবে না
পথের নগন্য ফুল— সেও আজ মজা মারবে, বুঝে
আমি গলিপথ ধরি
গলির বাঁ-ধারে মন্টুর চায়ের দোকান
দু-দণ্ড সেখানে বসি, দেখি
দূর থেকে পথের গন্তব্য আসছে, খুঁজছে আমাকে
উঠে পড়ি
আর তো সময় নেই, নিজেকেই বলি
পথ শেষ হল আজ এবারের মতো
এই অনাথ বিকেলে খুঁজে নিতে হবে কানাগলি!

কমলকুমার দত্তের কবিতা

আমাদের নতুন বই