কৌশিক সেনের কবিতা

সেতার

যেদিন ছোলা ক্ষেতে আগুন লাগল, আমি সেদিন ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করছিলাম। শাওয়ারে স্নান করেছিলাম অনেকক্ষণ ধরে, যখন জানতে পারলাম আগুন লেগেছে কচি ছোলার ক্ষেতে। শাওয়ারের জলে পোড়া ক্ষেতের গন্ধ পেলাম সাত সকালেই!

***

ছোটোবেলায় রথের মেলায় বড়ো বড়ো গোল গোল পাঁপরভাজা দেখলেই আস্ত একটা পৃথিবী মনে হত আমার। ঠাকুমা যখন এক টাকা দিয়ে পাঁপরভাজা কিনে দিত, আমি অবাক হয়ে দেখতাম, ইউরোপ থেকে গরম তেল গড়িয়ে পরছে আফ্রিকায়!

***

পিয়ানোয় লেগে আছে রক্তছাপ। টুংটাং শব্দে বেজে ওঠে হিমোগ্লোবিন। রক্তে শর্করা থাকলে বেজে উঠবে মধ্যরাতের ক্যারল। আর এইচ ফ্যাক্টরে লিপিবদ্ধ হবে সাদা কালো স্বরলিপি। প্যাথলজিস্টরা ভালোই জানে এসব!

***

হ্যারিকেনের চিমনির ওপরটায় কালি পরে যেত রোজ। আমি ভগ্নাংশের অঙ্ক কষতে কষতে দেখতাম, তিন পয়সার যাত্রাপালার মা ভবতারিণী নেমে আসছেন হ্যারিকেনের চিমনি থেকে। কপালে হাত ঠেকিয়ে লব আর হর চিনতাম ভগ্নাংশের!

***

আমার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক রাত শীৎকার। গ্লোসাইন বোর্ড থেকে রাতের সুইমিং পুলে ঝাঁপ দিল যে সব নায়িকারা, তাদের আমি চিনি না কখনও। তবু ভোর হবার আগেই অজ্ঞাত উত্তাপে শুকিয়ে নিতে হবে ওদের ভিজে যাওয়া লজাঁরে!

***

পাপিয়া বলে যে মেয়েটিকে আমার মনে ধরেছিল, শুনেছিলাম ওর নাভির নীচে নাকি মাছের উল্কি আঁকা। একথা ভাবতে ভাবতে গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেল। বউ জল আনতেই ওর খোলা নাভিটা চোখে পড়ল আমার। খেয়ে যাওয়া মাছের মেরুদণ্ড পরে আছে নাভির নীচে, আড়াআড়ি!

***

কবর খুড়তে গিয়ে দেখলাম মাটির ভেতর সোনার বীজের অঙ্কুরোদ্গম হয়েছে। ধীরে ধীরে বিরুৎ, গুল্ম, বৃক্ষ। ডালে ডালে পাখি। ফুল, ফল। আমি কবর খুড়তে খুড়তে দেখছি এইসব। ভুলেই গেছি এপিটাফে নিজের নাম লিখবার সময় পেড়িয়ে যাচ্ছে!

কৌশিক সেনের কবিতা

আমাদের নতুন বই