গৌতম দাসের ‘অন্তর আলির নামচা’ থেকে কবিতাগুচ্ছ

লন্ড্রি

কাজে যাওয়ার সময় দেখি—
হচ্ছে
ঘরে ফেরার সময় দেখি—
হচ্ছে
এত ভিড়, আমি সুযোগ পাই না
কেচে, আয়রন করিয়ে নেব ভাবি

বড্ড কুঁচকে গেছে
গন্ধ উঠছে

খনিজ

খালি পেট
কালি পড়া
দু’চোখের
হ্রদ—
বিশেষজ্ঞ
দেখে বলে,
মারহাব্বা—

খনিজ সম্পদ।

২২-শে শ্রাবণ

একটি মরা পয়সা কুড়িয়ে নিচ্ছে ভোট
একটি মরা জুগিয়ে গেছে সকল রসের ধারা

অমুক মরা বলছে আমি বাঁচতে ভালোবাসি
তমুক মরা বেঁচে থেকেও জ্বালিয়ে মারে পাড়া

একটি মরা ভীষণ ভীরু নখরে জড়— হায়
এ-মরাটির হৃদিপুষ্পে পোকা কটকটায়

ও-মরাটি মারিয়ে গেছে রাজার উত্তরীয়
সেই মরাটি সবার কাছে প্রাতঃস্মরণীয়

রূপ-রস-গন্ধের মানুষটা

তার যখন দেখতে কষ্ট হচ্ছিল সে আঙুল ঢুকিয়ে দু’চোখ খুলে নিল
আর পরিষ্কার করল তেঁতুল জল দিয়ে ঘষে ঘষে।
সে পাগল নয়। কে কী ভাবছে তার ওপরে তো তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বটে
কিন্তু কে কী ভাবছে তার ওপরে তার আনন্দ খুব। তার
আনন্দের সঙ্গে একটা জীবন, সে একটাই মানুষ গুণে চলেছে।
গুণতে অসুবিধা হচ্ছিল বলে সে চোখ দুটো ধুয়ে মুছে নিয়ে
নিজের মগজে মাদুর বিছিয়ে বসে গুণে চলল রূপ-রস-গন্ধের মানুষটাকে
জীবন্ত ও জটিল গণনা।
কেউ কেউ নিজের অজ্ঞতার পিঠে নিজে হাত বোলায় আর দেয়ালেরা পরস্পর
পরস্পরের সঙ্গে গুজুর গুজুর ফুসুর ফুসুর চালিয়ে যায়।

বিধিবদ্ধ শতর্কীকরণ

এত যে গোপন তবু
কিছু কথা কেন প্রকাশ্যে চলে আসেই?
রাজা সাজার এটাই মজা, প্রভু
রাজা সাজার মজাটা এই

আমি আমি আমি

আমিই তো সেই কর্মকার
যে একটা মোটা লোহার খণ্ডকে ঘষে ঘষে সরু সরু সূচ বানাতে চেয়েছি

আমি তো সেই-ই চিত্রকর
যে ঘরে রোদ ঢোকে না বলে সামনের টিলাটাকে রাবার দিয়ে
ঘষে ঘষে মুছে ফেলতে লেগে গেছি

আমিই সেই পথিক
যে রাস্তায় গাড়ি চাপা পড়ে পঙ্গু কুকুরটার মুখে
তুলে দিয়েছি একটা পা আর জিভ দিয়েছি তার ক্ষতে

লোকেরা আমাকে বারংবার ঘিরে ধরে ঢিল ছুঁড়ে মেরে ফেলেছে

এই যে আমি, আমি, আমি
কতরকম ব্ল্যাকহোল মারিয়ে আপনার দরজায় ধর্না দিয়ে আছি
যে আমি কর্মকার, চেয়ে এসেছি ধৈর্য, যা গাছে ফলে না
যে আমি চিত্রকর, চেয়ে এসেছি রৌদ্রালোকিত প্রেক্ষিত হর্ষবর্ধনের
যে আমি পথিক, একে-অপরের নিবৃত্তির
প্রতীকী বাতাবরণ তৈরি করতে চেয়েছি কেবল মুক্তিবেগ পেতে

আপনি কোথায়, গৌতম
একটিবার বলে যান, আমার আমার আমার কী দোষ?

আপনিই বা কী চেয়ে রাজদ্বার ছেড়ে এসেছিলেন একদিন?

গৌতম দাসের ‘অন্তর আলির নামচা’ থেকে কবিতাগুচ্ছ

আমাদের নতুন বই