চার্লস বুকাওস্কির কবিতা।। ভাষান্তর: ঈশানী বসাক

[১৬ আগস্ট, ১৯২০-৯ মার্চ ১৯৯৪। জার্মান-আমেরিকান কবি, ঔপন্যাসিক এবং ছোটোগল্প লেখক। ‘ডার্টি রিয়ালিজম’ এবং ‘ট্রান্সগ্রেসিভ ফিকশন’ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর লেখায় যৌনতা ও ভায়োলেন্সের কথাচিত্র আমেরিকান সমাজ-ইতিহাসের এক বিচিত্র ছবিকে তুলে আনতে থাকে।]

একটা মনে রাখার মতো হাসি

আমাদের কয়েকটা গোল্ডফিশ ছিল টেবিলের ওপর একটা পাত্রে। তারা সেই পাত্রে গোল হয়ে ঘুরতো। টেবিলটা ছিল একটা জানালার ধারে। বাইরে যেন একটা ছবি ফুটে রয়েছে। আমার মা সবসময় হাসতেন। তিনি চাইতেন আমরা যেন সবসময় হাসিখুশি থাকি।

—হেনরি সবসময় আনন্দে থাকো!

মা ঠিকই বলতেন। যতক্ষণ পারো খুশি থাকো। কিন্তু আমার বাবা রোজ মাকে মারতেন। সপ্তাহের মধ্যে কতদিন যে মারতেন তার ইয়ত্তা নেই। তাঁর ছ’ফুট দুই ইঞ্চির শরীরে রাগ জমে থাকত। তিনি বুঝতেই পারতেন না তাঁর ভিতরে কী আক্রমণ চলছে।

আমার মা বেচারি মাছের মতো, সপ্তাহে দু’তিন দিন মার খেতেন আর বলতেন

—হেনরি কী হল তোমার মুখে হাসি নেই কেন? তোমায় বলেছি না আনন্দে থাকবে।

তারপর তিনি আমাকে হেসে দেখাতেন। এত দুঃখের হাসি পৃথিবীর আর কোথাও হয়তো নেই।

একদিন আমাদের পাঁচটা গোল্ডফিশ মরে জলে ভেসে উঠলো। ওদের চোখ খোলা তখনও। বাবা বাড়ি ফিরে রান্নাঘরে বসা বেড়ালকে মাছগুলো ছুঁড়ে দিলেন। আমার মা এককোণে দাঁড়িয়ে হাসছিলেন।

মা বেচারি খুশি থাকতে চেয়েছিলেন।

কাঁচা প্রেম

ছোট্ট কালো মেয়েটা
তার চোখে বড়ো মায়া
ছুরি ব্যবহার করার সময়
একটুও হাত কাঁপেনি।
তোমাকে আর দোষারোপ করব না
যখন সমুদ্রের ধারে পাম গাছের সারির
পাশ দিয়ে চলে যাব।
কারণ বেঁচে থাকা কখনও আসে না
মরে যাওয়া কাউকে ছেড়ে যায় না
তাই তোমাকে দোষ দেব না আর।
বরং তোমার চুমু মনে থাকবে
আমাদের ঠোঁটে তখন টাটকা প্রেম।
তুমি তোমার সবটা দিয়েছিলে
আমার কাছে যা যেটুকু ছিল আমিও তুলে দিয়েছিলাম।
মনে পড়ে সেই ছোটো ঘরে তোমাকে দেখার
জানলার আলো,
তোমার রেকর্ড,
তোমার বই,
আমাদের সকালের কফি
আমাদের দুপুর আর রাত
আমাদের শরীর উপচে পড়ে ঘুম
তোমার পা থেকে বিদ্যুত এসে হাজির আমার পায়ে
আমরা একে অপরের কাছে বসে
তোমার উষ্ণতা, হাসি আমাকে খুশি করে

ছোট্টো কালো মেয়েটা
তার চোখে বড়ো মায়া
তোমার কাছে কোনো ছুরি নেই
ছুরিটা আমার, ওটা ব্যবহার করব না।

হেমিংওয়ে কখনও এরকম করেননি

আমি শুনেছি উনি সুটকেসভরতি পাণ্ডুলিপি ট্রেনে হারিয়ে ফেলেছিলেন। সেগুলি আর উদ্ধার হয়নি। খুব ভয় পেয়ে যাই একথা শুনে। সেদিন রাতে তিন পাতার একটা কবিতা লিখি কম্পিউটারে। আমার খামখেয়ালি আর মাউজ নিয়ে খেলা করার ফল, কবিতাটা চিরতরে মুছে যায়। বিশ্বাস করো একজন আনাড়ির পক্ষে এ কাজ করা অসম্ভব। কিন্তু আমি পেরেছিলাম।

আমি এখন আর ওই তিন পাতা কবিতাকে অমর ভাবি না। তবে ওখানে কয়েকটা পাগল করা লাইন ছিল। সেটা একটা ছোঁয়ার থেকেও অস্বস্তিকর। যেন একটা দামিমদের বোতল ফেলে দিলাম।

তবে ওই হারানো লেখাটির ব্যাপারে লেখা কবিতাটা মোটেও ভালো হয়নি। তবু ভাবলাম তোমার জানতে ইচ্ছে করতে পারে ।

যদি তা না হয়, তবুও এতটা পড়েছ এই অনেক। এর থেকেও ভালো লাইন আসতে পারে। তাহলে তোমার আমার দু’জনের জন্যই ভালো হয়।

চার্লস বুকাওস্কির কবিতা।। ভাষান্তর: ঈশানী বসাক

আমাদের নতুন বই