দীপ্তেন্দু জানার গুচ্ছকবিতা

অবহেলা নামের ফুল


তেঁতুল পাতা ওড়া রোদ
রোদের ভেতর মুখ নীচু করে আছে কত প্রত্যাখ্যান

কত উপেক্ষা
ধুলো মেখে পথটি নিজেই যাযাবর হয়ে গেছে

বিস্কুটের ভেতর একা হেঁটে হেঁটে
কী খোঁজো স্মৃতি

দেশলাই বাক্সের মধ্যে অবহেলা নামের
একটি ফুল আজও ফুটে আছে


যার ফুল নেই
সে দরিদ্র
যার কান্না নেই
সে আরও দরিদ্র

ফুল আসলে সেই চিরকালীন অসুখ
যখন কান্নাকেও সুখ মনে হয়


স্মৃতির গভীরে স্মৃতিকে মনে হয়
পরিত্যক্ত গ্রাম
স্মৃতির গভীরে স্মৃতিকে মনে হয়
পরিত্যক্ত কুয়ো
স্মৃতির গভীরে স্মৃতিকে মনে হয়
হতভাগ্য কন্ডোম
ব্যাবহার না করেই যাকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে

কারো প্রগাঢ় ছায়া আজও সে গ্রামে যায়
কুয়ো টেনে জল খায়
পাছে কেউ দেখে ফ্যালে
সেহেতু কন্ডোমের ভেতর লুকিয়ে পড়ে লজ্জায়


হাতের চেটো যেভাবে আগলে রাখে সান্ধ্য
প্রদীপ হাওয়ার ঝাপটা থেকে
কান্নাটিকে সেভাবেই আগলে রেখো চশমা

অবহেলা নামের ফুলের চেয়ে
কোন পারিজাত দামি নয়

ভালোবাসার কাছে গেলে কোথাও
একটি মোমবাতির পতাকা জ্বলে ওঠে

ভালোবাসা চলে গেলে কোথাও
একটি মোমবাতির পতাকা জ্বলে ওঠে

আপেল জানে আপেলের ভেতর একটা বৃক্ষ
বাস করে

আসলে
ভালোবাসা সেই বৃক্ষ যার ডাল থেকে
মাংস উড়ে যায়

দীপ্তেন্দু জানার গুচ্ছকবিতা

আমাদের নতুন বই