লেখক নয় , লেখাই মূলধন

দেবাশিস বিশ্বাসের গুচ্ছকবিতা

মোমেন্ট অব ইনার্শিয়া


দেখা বেড়ে যাচ্ছে
চোখ খুলে রেখে স্বপ্ন ভেবো না

জলের দস্যুরাও বিকেলে
জাহাজের পাটাতন চিবিয়ে রাখে
এরকম রোগের ভরসায় তোমাকে গোলাকার দেব
অক্সিজেনের পোকা—
তার দাবানল তার স্বয়ংক্রিয় অক্ষিকোটর ধাতব জংশন পুঁতে রেখে বাঁচাব মোচড়
দীর্ঘতম সমুদ্রের লবন ভেঙে স্নানে যাব

মহাবিশ্বের কথা,
শব্দ শুনো জীবনী—
‘গ্লিসারিন চর্বি চুষে জ্বাল দিচ্ছেন রাঁধুনি’

দেখা তো হয়েছে অনেক—
ডিগবাজি ভলিবল চাঁদের ধাতু
টুকরো কাঠ চিড়ে রেখে দোকানের আসবাব

তোমার মানুষ আমি
একথা বলার পরে,
দূরে দূরে সরে যায়
অসতর্ক পরিমাপ—
পাশে থাকা, পাশে রাখার জবাব


সমস্ত বাসি মদ ঢেলে রেখে ছড়িয়ে পড়েছে ঘুম
জলের দস্যু বোঝে থালা বাজানো, রূপ রস অস্থায়ী জল
কোথায় দেখা ছিল, কথা ছিল হাড়ে হাড়ে
মানুষের বুদ্ধং পরম আঁতর।
অভাব সেই তো খুশি,
পাড়ায় ডুবছে দেখো—
শাঁখা-পলা-টিউমার-বাস্তু-সংসার

এ সাদায় ডুম জ্বেলে
হারিয়ে ফেলেছি পথ
রাতকানা ভিটামিন-এ

তোমাকে পাওয়ার থেকে দূরে যদি যাই
বস্তুত গুটিয়ে থাকে, বাঁশবন— হারানো চটি


এ চোখ তুলে ফেলে স্বপ্ন খোঁজো তারকার
হাঁটতে হাঁটতে
মুরগির পায়ে বিঁধা গু—
‘জন্মের তরল প্রসব’

সাপ এদিকেই, মন তার ফিরে যায় শ্যালো বনে নীরব চতুর
স্বাভাবিক স্বপ্ন সব— মা দাদা প্রেমিকার দুল
বিরাট ঘুমের নীচে চোখ খুলে রেখেছি
স্নানে যাওয়া হয়েছে বহু

দেখাটা মেমোরিগত।
বাজনা বাজনা শুধু ফেটে যায়

তোমার ক্লোরিন মেখে ধবধবে প্রিয়তম:

‘মানুষের হাড়ে চাই নুন ও শালীন’

কে কোথায় দেখেছিল— প্রয়োজনহীন
পায়ে বিঁধা মুরগির গু

বাবা-কে

কান থেকে নেশা ছিঁড়ে গেছে
শোনার বাতাবি বল বীজ ও ভ্রমর
কোনো খিদে নেই চকমকি পাথরের
হু হু একা জীবনের— সড়কের
উফারজাত
যতই মোমেন্ট অব পাতা আর বৃষ্টির পতন
খাটের তলায় খুঁজি বাবার হিংসে
কৌটো ভরা স্নেহের
তরল দ্রবণ
বিড়ির সংকোচ এই তামাকের গাঢ় রং
মাথা ভাঙা দেশভাগ আলুর গতর
কোথাও কষ্ট পেলে নিজেকেই গাই
সুতো টানি পুকুরে জলের আদর
সময় বড়ো ভাই চোখ তার পিপীলিকা
কিউবিক চিনি চাই চা চাই প্রবেশের
নতজানু স্বভাবের ইনার্শিয়া

হয়ত বিকেলে কেউ মাঠে মাঠে কেঁদে বেড়ায়
লম্বা উঠে যাওয়া গাছের শিরায়

দেবাশিস বিশ্বাসের গুচ্ছকবিতা

আমাদের নতুন বই