লেখক নয় , লেখাই মূলধন

দেবাশিস বিশ্বাসের দীর্ঘকবিতা

ওম

উচ্চ গভীরতায় ডুবে যায় এসমস্ত শিস

কী তুমি দেখেছ বা কীসে তুমি পিঠ ঘষে উঠিয়ে যাচ্ছ ছাল
গাছের বয়স বাড়ে। দেখে, মতিলাল ইলেকট্রিক করাত কিনেছে…
এরকমই বিকেলে, আমরা যখন এর ওর গাঁড় মারি, আর ভাবি দিনের অপর পাড়ে নৌকার ভাব
ভাবে ভাবে চ্যূত হয় দিনের আগুন।
ভুল করে ক্ষমা হবে,
কুকুরের চিৎকার হবে
এবং বিকেলে নকলের মতো পশুপ্রেমী

হাওয়ায় নড়ে ওঠে প্রজাপতি সব

বলিষ্ঠ নয় এরকম কচি মুসুরির ডালে ক্ষুধা নিবারণ করতেন তাঁরা
তারপর শ্যালো মেশিনের জলে লুটিয়ে থাকত প্যান্ট ও মাটি রঙের ঘড়ি।
এরকমও হয়েছে বুঝতে না পেরেই,
সরল রাস্তাগুলো গভীর চিহ্ন, ধঞ্চের বাগানে পিছলে যায়—।
শোঁ শোঁ দুপুরের ভিতর
কে যেন রেখে গিয়ে হারিয়ে গেছে এইসব অতিরিক্ত রিল

মানুষের সন্ধেহ তখনই প্রকট হয়। যার উত্তরে পর্বতমালা, অন্ধকারে বাষ্পীভূত হয়।
সরলের জন্যই জীবন, এ-কথা বহুবার জানিয়েছে, তাদের বাড়ির পথ প্রখর দুপুর…
বিষ মেশানো আকাশে, সরিষার চেতনায় স্বেত উঠে আসে

সংখ্যাতত্ত্বে ফেলে দেখো
অনন্ত গভীরেই ডুবে আছে মেষ
তার চর্বি জ্বলছে।
নেভানোর নদীগুলি পলিসঞ্চিত এরকম বর্ণনা দিয়েছিলে তুমি
তোমার নোটগ্রস্থ জীবন আর ফাঁকা প্রযুক্তি, সূর্যাস্তে বারবার দেখা দেয়
কী হবে কচি শস্যের দুধ খেয়ে?
কী হবে মধ্যিখানে শূন্য ব্যাগ রেখে?
হেরে যায় বাস্তুসাপ তেমন। হারাটাই দরজার ভিত সোজা করে।
উচ্চ লবণের স্বাদে পুড়ে যায় জীভ

পাগলের মতো বমি করে শ্যালো মেশিন। যেন এরকম জোর করে সন্তান প্রসবই ছিল তার যন্ত্রণা।

শসা চেবানোর ভঙ্গিতে
আমরা কি সরাবো না নীল পাতার দুপুর?
মোমগলা পাখিদের ওড়া?
কমতে কমতে তার জীবন-সায়াহ্নে স্বপ্নে দেখে মাদক সিঁধেল
সব চুরি হয়ে গেছে। অর্ধেক বিকেলে পা পর্যন্ত ডেবে গেছে অনন্ত পাঁকাল। স্পেস ছেঁড়ে যাব, ওই স্থানেই শ্বাসনালী খুলে রেখে জীবন্ত হেঁটে যাব।
মানুষ ছায়া বেশি চায়, জীবন বোঝার আগেই ঊর্ধ্বমুখী শব্দ চাই তার…

বহুকাল থেকেই লক্ষ করেছি আমি, আমাদের ভিতরে বোলভরতি টিউবওয়েল। খনিজ সম্পদ। খাঁচার শাবক ছানা। ঘাসভরতি খরগোশের জীবন পুড়ে রেখে সুতো বাঁধছেন দর্জি।
তাহার সেলাই মেশিন প্রচণ্ড মাশেল
কুটিরশিল্পে এভাবেই জামা গাঁথা হয়।

আমি নেমে যাচ্ছি আরেকটু বাঁ-দিকে, তারপর একে তাকে তাক লাগিয়ে দেখাচ্ছি—

ফাঁকা তুমি অতর্কিতে, কখনই খুঁজে পাওনি জীবন পরিধি

দর্জির সুতোগুলি শিক কাবাবের মতো হয়ে যায়… ম্যাজিক অজান্তে
কি ভাবছ ছায়ার নীচে? বিশ্রাম কি পাখিদের যৌন সচেতনা?
শস্যল ইউরিকে ভরা রাস্তা… পৃথিবীর প্রথম আলপনা!
যোগাযোগ পৃথিবীর বহুকাল পুরোনো, যেন মানুষের সাদা খুলি লিখে রেখে যাচ্ছেন কেউ… আমি তাঁকে দেখেছি, তাঁর গোপন পকেটে সাদা নোটবুক, পালি ভাষায় লিখেছেন কিছু…

গাছফাঁকাচোখহীন শূন্যতা…
ফায়ার ক্লে-তে তৈরি বিড়ালের পা
দ্যাখে বিস্ময় অবতার!
এই কিলোহার্টজ সঞ্চারণে মাঠ পেরোয় আদি ভ্রূণ!
রেডিয়োর ক্রমশ ঝিরঝিরি,
বেতার তরঙ্গের মতো সব কিছু মুছে যায়, মাংস ক্লেদ জীবনের আদিম বেলুন।

তাকে চামড়ার দাগ দেখাও অথবা রাস্তায় ফেলে ইঁদুর লেলিয়ে দাও… অদৃশ্য মাথায় চেপে বসুক সময়।

রাস্তা জুড়ে ছড়ানো তেমন সত্যের কাছে জিরোক তামামা!

একঝাঁক জীবপ্রণোদিত, মানুষ খুঁজছে তার প্রথম কয়লা
এবং কিছু হস্তিশাবকের হাড়… ভূগোলের আগ্নেয় লাভা
কত কত সূত্রের মেলায়। ভুল বোঝাবুঝি…
এখান থেকেই লাফ দেয় শিকারীর চোখ। আমি তাকে যতই দেখাই, প্রিয় জলবাহিত রোগে তুমি মিথ্যা ভালোবেসেছ সময়—

ও-সব আদি নয়, গোলাকার ব্রহ্মাণ্ডে গরম তরলের মশকরা। ঝাঁকে ঝাঁকে আঁতরের গন্ধ প্রেত!
তুমি আড়চোখে দেখো পশু কেমন বিকেলের থেকেও নেমে যায় ধুলোয়,
অগণিত চর্বির অন্তরে জ্বাল দেন ধ্রব সত্য রাশি!

তিঁত ফড়িঙের জন্যই, কারা তোমায় হাঁটু ভাঙা শিখিয়েছে?
কে বা কারা নষ্ট করে চলেছে জীবন।
সংগীতের হারোমোনিয়াম গ্রামের বারান্দায় মজেছে বড়োই!
শিশুদের দিকে চেয়ে থাকে লাল নীল ব্রা! চমকে ওঠে! সামনেই কাদের ঘরের ইঁদুর ছুটে যায় ও পাড়ায়… সব তছনছ সব জ্বালিয়ে দেওয়ার পরেও পাতা গজায় হাড়ে।

আমিও কি বন্ধ হব? এ অনাথ দুপুরের মতো রুপোলি আগুন থেকে নিষ্কাশিত করব মানুষ? তিনি এবং তাঁর হাড়ের দূরবীন জানে, সূর্যের বল ছিল পুকুরের জলে।

ডুবে থাকা গভীর খনিজ, হে—

ভেসে থাকা হালকা মিথেন

তুমিও কি চেন-করাতের শব্দে শুনতে পাও ভ্রমর?

এ আমার নক্ষত্রের দেহ, কানের প্রবাহে থামে সব চাওয়া লয়হীন ঘড়ি।

লিখে যাব দোষ, বুনো ভাল্লুকের রক্তমাখা দেহ! তার থাবার অন্ধকারে জড়সড় কাঠ!
মুখ ওদিকে করে নিয়েছে যে তার পিঠের সাক্ষী রেখে বিক্ষিপ্ত হয়ে যায় এমন দৃশ্যে —

ওম, জবাকুসুমের জলাঞ্জলি,

ষাঁড়ের তর্ক মাখা চর্চিত জীবন আধুলী

দেবাশিস বিশ্বাসের দীর্ঘকবিতা

আমাদের নতুন বই